📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 চুক্তির সাথে সম্পৃক্ত শর্তাবলি

📄 চুক্তির সাথে সম্পৃক্ত শর্তাবলি


‘চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত’ বলার দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের মাঝে যে সকল কথা আলোচিত হয়। তখন চুক্তির ফলাফল এ সকল শর্তে শর্তযুক্ত হয় অথবা চুক্তির মৌলিক বিষয়ের অতিরিক্ত ভবিষ্যতের কোনো বিষয়ের সঙ্গে চুক্তিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। অধিকাংশ ফকীহ চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত ও সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী দু ভাগে ভাগ করেছেন: ১. সহীহ ও বিশুদ্ধ শর্ত (شرط صحيح); ২. অশুদ্ধ শর্ত (شَرْطَ غَيْر صحيح)। হানাফী ফকীহগণ চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত শর্তাবলি তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: ১. বিশুদ্ধ শর্ত (الشرط الصحيহُ), ২. ফাসিদ শর্ত (الشَّرْطُ الْفَاسِد), ৩. বাতিল শর্ত (الشَّرْطُ الْبَاطِل)।

বিশুদ্ধ শর্তের নিয়ম হচ্ছে, চুক্তি সংঘটিত হওয়ার সময় তা চুক্তির সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকবে; অথবা শর্তটিকে চুক্তি কামনা করবে কিংবা শর্তটি চুক্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে। এর উদাহরণ হচ্ছে, বেচাকেনার চুক্তিতে কব্জা করার শর্ত, বাকি মূল্যের ক্ষেত্রে বন্ধক বা কাফালাতের শর্ত করা। বিশুদ্ধ শর্তগুলো এবং এ ধরনের যে কোনো বিশুদ্ধ শর্ত চুক্তিতে আরোপ করা যাবে। বাতিল বা ফাসিদ শর্ত হচ্ছে, এমন শর্ত যা চুক্তি কামনা করে না অথবা তা চুক্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় অথবা তার কারণে ধোঁকা সৃষ্টি হবে কিংবা শরীয়তে বর্ণিত হয়নি এমন শর্ত জুড়ে দেওয়া। এ ধরনের শর্তের মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা চুক্তিকে বাতিল করে দেয়। যেমন গর্ভবতী হওয়ার শর্তে জন্তু বিক্রি করা। এ প্রকারের উদাহরণ এমন শর্ত, যে শর্তের সাথে কৃত চুক্তি বৈধ; কিন্তু স্বয়ং শর্তটি অকার্যকর হয়ে যায়।

টিকাঃ
২০০. হাশিয়াতুল হামুয়ী, ইবনে নুজাইম-এর আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, খ. ২, পৃ. ২২৫; আয যারকাশী, আদ দুররুল মানছুর, খ. ১, পৃ. ৩৭০
২০১. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৭১; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ২৬৫; আন নববী, আল মাজমূ'উ, খ. ৯, পৃ. ৩৬৪; কাশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ১৮৯
২০২. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৮৬; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৫৮
২০৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৬৮-১৭১; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৩০৭-৩১০; শীরাজী, আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৭৫; কাশাফুল কিনা, খ. ৫, পৃ. ৯৭
২০৪. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৭০

‘চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত’ বলার দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের মাঝে যে সকল কথা আলোচিত হয়। তখন চুক্তির ফলাফল এ সকল শর্তে শর্তযুক্ত হয় অথবা চুক্তির মৌলিক বিষয়ের অতিরিক্ত ভবিষ্যতের কোনো বিষয়ের সঙ্গে চুক্তিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। অধিকাংশ ফকীহ চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত ও সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী দু ভাগে ভাগ করেছেন: ১. সহীহ ও বিশুদ্ধ শর্ত (شرط صحيح); ২. অশুদ্ধ শর্ত (شَرْطَ غَيْر صحيح)। হানাফী ফকীহগণ চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত শর্তাবলি তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: ১. বিশুদ্ধ শর্ত (الشرط الصحيহُ), ২. ফাসিদ শর্ত (الشَّرْطُ الْفَاسِد), ৩. বাতিল শর্ত (الشَّرْطُ الْبَاطِل)।

বিশুদ্ধ শর্তের নিয়ম হচ্ছে, চুক্তি সংঘটিত হওয়ার সময় তা চুক্তির সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকবে; অথবা শর্তটিকে চুক্তি কামনা করবে কিংবা শর্তটি চুক্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে। এর উদাহরণ হচ্ছে, বেচাকেনার চুক্তিতে কব্জা করার শর্ত, বাকি মূল্যের ক্ষেত্রে বন্ধক বা কাফালাতের শর্ত করা। বিশুদ্ধ শর্তগুলো এবং এ ধরনের যে কোনো বিশুদ্ধ শর্ত চুক্তিতে আরোপ করা যাবে। বাতিল বা ফাসিদ শর্ত হচ্ছে, এমন শর্ত যা চুক্তি কামনা করে না অথবা তা চুক্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় অথবা তার কারণে ধোঁকা সৃষ্টি হবে কিংবা শরীয়তে বর্ণিত হয়নি এমন শর্ত জুড়ে দেওয়া। এ ধরনের শর্তের মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা চুক্তিকে বাতিল করে দেয়। যেমন গর্ভবতী হওয়ার শর্তে জন্তু বিক্রি করা। এ প্রকারের উদাহরণ এমন শর্ত, যে শর্তের সাথে কৃত চুক্তি বৈধ; কিন্তু স্বয়ং শর্তটি অকার্যকর হয়ে যায়।

টিকাঃ
২০০. হাশিয়াতুল হামুয়ী, ইবনে নুজাইম-এর আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, খ. ২, পৃ. ২২৫; আয যারকাশী, আদ দুররুল মানছুর, খ. ১, পৃ. ৩৭০
২০১. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৭১; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ২৬৫; আন নববী, আল মাজমূ'উ, খ. ৯, পৃ. ৩৬৪; কাশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ১৮৯
২০২. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৮৬; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৫৮
২০৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৬৮-১৭১; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৩০৭-৩১০; শীরাজী, আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৭৫; কাশাফুল কিনা, খ. ৫, পৃ. ৯৭
২০৪. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৭০

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 চুক্তির প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব

📄 চুক্তির প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব


চুক্তির প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব হলো, চুক্তির পর যেসব বিষয় প্রকাশিত হয় বা দেখা দেয় এবং যা চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের লক্ষ্য হয়। আর এটাই হচ্ছে উভয়ের মাঝে চুক্তি সংঘটনের মূল উদ্দেশ্য। চুক্তির ভিন্নতার কারণে চুক্তির ফলাফল ও প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন হয়ে থাকে। মালিকানা অর্জনের উদ্দেশ্যে সংঘটিত চুক্তি; যেমন বেচাকেনা, হেবা, ঋণ—এসব চুক্তি চুক্তির রুকন ও শর্তসহ বিশুদ্ধভাবে সংঘটিত হলে চুক্তিসম্পাদনকারী এক জন থেকে অপর জনে মালিকানা স্থানান্তরের ফলাফল প্রকাশ করে। মুনাফা ও উপকারিতার চুক্তির ক্ষেত্রে চুক্তির ফলাফল হচ্ছে, চুক্তিবদ্ধ বস্তু হতে উপকারিতা স্থানান্তর করা অথবা উপকারিতা গ্রহণ বৈধ করা। আর নিশ্চয়তা বা নির্ভরতার জন্যে চুক্তি, যেমন কাফালা ও বন্ধকের চুক্তির ফলাফল হচ্ছে, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির দায়িত্বের সঙ্গে নতুন দায়িত্ব সংযোগের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধে নিশ্চয়তা প্রদান করে। কাজের চুক্তির ক্ষেত্রে ফলাফল হচ্ছে, চুক্তিবদ্ধ বিষয়ে কাজের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জন করা। আমানত চুক্তির ফলাফল হলো, আমানত গ্রহীতার হাতে আমানতের বস্তু সংরক্ষণে থাকা। বিয়ের চুক্তির ক্ষেত্রে, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরে উপভোগ করার বৈধতা পাওয়া।

চুক্তির প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব হলো, চুক্তির পর যেসব বিষয় প্রকাশিত হয় বা দেখা দেয় এবং যা চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের লক্ষ্য হয়। আর এটাই হচ্ছে উভয়ের মাঝে চুক্তি সংঘটনের মূল উদ্দেশ্য। চুক্তির ভিন্নতার কারণে চুক্তির ফলাফল ও প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন হয়ে থাকে। মালিকানা অর্জনের উদ্দেশ্যে সংঘটিত চুক্তি; যেমন বেচাকেনা, হেবা, ঋণ—এসব চুক্তি চুক্তির রুকন ও শর্তসহ বিশুদ্ধভাবে সংঘটিত হলে চুক্তিসম্পাদনকারী এক জন থেকে অপর জনে মালিকানা স্থানান্তরের ফলাফল প্রকাশ করে। মুনাফা ও উপকারিতার চুক্তির ক্ষেত্রে চুক্তির ফলাফল হচ্ছে, চুক্তিবদ্ধ বস্তু হতে উপকারিতা স্থানান্তর করা অথবা উপকারিতা গ্রহণ বৈধ করা। আর নিশ্চয়তা বা নির্ভরতার জন্যে চুক্তি, যেমন কাফালা ও বন্ধকের চুক্তির ফলাফল হচ্ছে, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির দায়িত্বের সঙ্গে নতুন দায়িত্ব সংযোগের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধে নিশ্চয়তা প্রদান করে। কাজের চুক্তির ক্ষেত্রে ফলাফল হচ্ছে, চুক্তিবদ্ধ বিষয়ে কাজের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জন করা। আমানত চুক্তির ফলাফল হলো, আমানত গ্রহীতার হাতে আমানতের বস্তু সংরক্ষণে থাকা। বিয়ের চুক্তির ক্ষেত্রে, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরে উপভোগ করার বৈধতা পাওয়া।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 চুক্তির সমাপ্তি এবং তার কারণ

📄 চুক্তির সমাপ্তি এবং তার কারণ


চুক্তির পরিসমাপ্তি দু'ভাবে হতে পারে: ইচ্ছাধীন বা অনিচ্ছাকৃত বাধ্যগত ক্ষেত্রে। প্রথম অবস্থায় আবার দুটো অবস্থা হতে পারে। চুক্তিতে আবদ্ধ দু'ব্যক্তির একজন অথবা দু'জনই চুক্তি ভঙ্গের ইচ্ছা করতে পারে। একজন চুক্তি ভঙ্গের ইচ্ছা করলে শরীয়তের পরিভাষায় এটিকে فسخ বা রহিতকরণ বলে। আর যদি উভয়ে রাজি থাকে তাহলে তাকে ইকালা বা অব্যাহতিকরণ বলা হয়। দ্বিতীয় অবস্থা অর্থাৎ বাধ্যগত ক্ষেত্রে চুক্তির পরিসমাপ্তি হয়তো সাময়িক চুক্তির ক্ষেত্রে হবে; যেমন ইজারা, ধারগ্রহণ, ওকালাত ইত্যাদি। অথবা তা সাধারণ কোনো চুক্তি হবে। যেমন: বন্ধক, বিবাহ, ব্যবসায় ইত্যাদি। চুক্তির এ পরিসমাপ্তির অবস্থাকে বলা হয় إنْفِساخٌ বা রহিত হওয়া।

টিকাঃ
২০৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২৯৮

চুক্তির পরিসমাপ্তি দু'ভাবে হতে পারে: ইচ্ছাধীন বা অনিচ্ছাকৃত বাধ্যগত ক্ষেত্রে। প্রথম অবস্থায় আবার দুটো অবস্থা হতে পারে। চুক্তিতে আবদ্ধ দু'ব্যক্তির একজন অথবা দু'জনই চুক্তি ভঙ্গের ইচ্ছা করতে পারে। একজন চুক্তি ভঙ্গের ইচ্ছা করলে শরীয়তের পরিভাষায় এটিকে فسخ বা রহিতকরণ বলে। আর যদি উভয়ে রাজি থাকে তাহলে তাকে ইকালা বা অব্যাহতিকরণ বলা হয়। দ্বিতীয় অবস্থা অর্থাৎ বাধ্যগত ক্ষেত্রে চুক্তির পরিসমাপ্তি হয়তো সাময়িক চুক্তির ক্ষেত্রে হবে; যেমন ইজারা, ধারগ্রহণ, ওকালাত ইত্যাদি। অথবা তা সাধারণ কোনো চুক্তি হবে। যেমন: বন্ধক, বিবাহ, ব্যবসায় ইত্যাদি। চুক্তির এ পরিসমাপ্তির অবস্থাকে বলা হয় إنْفِساخٌ বা রহিত হওয়া।

টিকাঃ
২০৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২৯৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 চুক্তি পরিসমাপ্তির ঐচ্ছিক কারণ সমূহ

📄 চুক্তি পরিসমাপ্তির ঐচ্ছিক কারণ সমূহ


ক. الْفَسْخُ : বিচ্ছিন্নকরণ বা রহিতকরণ
فسخ হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে চুক্তির বন্ধন খুলে দেওয়া এবং চুক্তির বিধান উঠিয়ে দেওয়া। অনাবশ্যকীয় চুক্তির ক্ষেত্রে স্বভাবগতভাবেই তা হতে পারে। যেমন ওকালাত, ওদীয়ত ও অংশীদারী চুক্তি। এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তেমনিভাবে যখন চুক্তি সম্পাদনকারীদের খিয়ার থাকে তখন সে নিজ ইচ্ছায় চুক্তি রহিত করতে পারে।

খ. إِقَالَة : অব্যাহতি দান
ইকালা বলা হয়: উভয় পক্ষের সন্তুষ্টিক্রমে চুক্তি উঠিয়ে ফেলা এবং চুক্তির বিধান ও প্রতিক্রিয়া রহিত করা। ইকালার ক্ষেত্র হচ্ছে উভয়ের পক্ষ হতে আবশ্যকীয় এমন চুক্তি যা খিয়ারের মাধ্যমে রহিত করা যায়। এ হিসেবে ইকালা বিশুদ্ধ হবে বেচাকেনা, ইজারা, বন্ধক, সালাম ও সন্ধিতে।

গ. নির্দিষ্ট সময় ও কাজের পরিসমাপ্তি: কতক চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে উভয়ের সম্মতিতে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে। অথবা যে কাজের উদ্দেশ্যে চুক্তি সংঘটিত হয়েছিল তা সমাপ্তির পর চুক্তিরও পরিসমাপ্তি হয়। সুতরাং নির্দিষ্ট মেয়াদের ইজারা-চুক্তি মেয়াদ শেষ হলে সমাপ্ত হয়ে যাবে।

টিকাঃ
২০৬. হাশিয়া কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৯৫ ও ২৮০
২০৭ আল-বাহরুর রায়েক, খ. ৬, পৃ. ১১০; আল-খিরাশী 'আলা মুখতাসার খালীল, খ. ৫, পৃ. ১৬৯; ইমাম শাফে'ঈ, আল-উম্মু, খ. ৩, পৃ. ৬৭; ইবনে কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১৩৫
২০৮. আল-মাবসূত, খ. ২৯, পৃ. ৫৫; আল-ইনায়া আলাল হিদায়া, খ. ৬, পৃ. ৪৯২; আল মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ৮৩; মুখতাসারুল মুযানী আলাল উম্ম, খ. ২, পৃ. ২৮; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৪৩৩; কাশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ২২৫
২০৯. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৪, পৃ. ৪১৪; আশ শীরাজী, আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪১০; ইবনে কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৬৭

ক. الْفَسْخُ : বিচ্ছিন্নকরণ বা রহিতকরণ
فسخ হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে চুক্তির বন্ধন খুলে দেওয়া এবং চুক্তির বিধান উঠিয়ে দেওয়া। অনাবশ্যকীয় চুক্তির ক্ষেত্রে স্বভাবগতভাবেই তা হতে পারে। যেমন ওকালাত, ওদীয়ত ও অংশীদারী চুক্তি। এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তেমনিভাবে যখন চুক্তি সম্পাদনকারীদের খিয়ার থাকে তখন সে নিজ ইচ্ছায় চুক্তি রহিত করতে পারে।

খ. إِقَالَة : অব্যাহতি দান
ইকালা বলা হয়: উভয় পক্ষের সন্তুষ্টিক্রমে চুক্তি উঠিয়ে ফেলা এবং চুক্তির বিধান ও প্রতিক্রিয়া রহিত করা। ইকালার ক্ষেত্র হচ্ছে উভয়ের পক্ষ হতে আবশ্যকীয় এমন চুক্তি যা খিয়ারের মাধ্যমে রহিত করা যায়। এ হিসেবে ইকালা বিশুদ্ধ হবে বেচাকেনা, ইজারা, বন্ধক, সালাম ও সন্ধিতে।

গ. নির্দিষ্ট সময় ও কাজের পরিসমাপ্তি: কতক চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে উভয়ের সম্মতিতে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে। অথবা যে কাজের উদ্দেশ্যে চুক্তি সংঘটিত হয়েছিল তা সমাপ্তির পর চুক্তিরও পরিসমাপ্তি হয়। সুতরাং নির্দিষ্ট মেয়াদের ইজারা-চুক্তি মেয়াদ শেষ হলে সমাপ্ত হয়ে যাবে।

টিকাঃ
২০৬. হাশিয়া কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৯৫ ও ২৮০
২০৭ আল-বাহরুর রায়েক, খ. ৬, পৃ. ১১০; আল-খিরাশী 'আলা মুখতাসার খালীল, খ. ৫, পৃ. ১৬৯; ইমাম শাফে'ঈ, আল-উম্মু, খ. ৩, পৃ. ৬৭; ইবনে কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১৩৫
২০৮. আল-মাবসূত, খ. ২৯, পৃ. ৫৫; আল-ইনায়া আলাল হিদায়া, খ. ৬, পৃ. ৪৯২; আল মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ৮৩; মুখতাসারুল মুযানী আলাল উম্ম, খ. ২, পৃ. ২৮; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৪৩৩; কাশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ২২৫
২০৯. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৪, পৃ. ৪১৪; আশ শীরাজী, আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪১০; ইবনে কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৬৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00