📄 স্থগিত চুক্তির বিধান
স্থগিত চুক্তি জায়েষের প্রবক্তাদের মতে এর বিধান হলো, তা একটি বিশুদ্ধ চুক্তি। কারণ, তা মৌলিক ও গুণগতভাবে শরীয়তসম্মত। সুতরাং তা বৈধ বেচাকেনা বলে গণ্য হবে, তবে স্থগিতের ভিত্তিতে। অর্থাৎ তার শরীয়তসম্মত মালিকের অনুমতির ওপর তা নির্ভরশীল থাকবে। যেমন অনধিকার চর্চাকারীর চুক্তি, লেনদেনের অনুমতি নেই এমন সুবোধ বালকের চুক্তি ইত্যাদি। ফকীহগণ স্থগিত চুক্তির বৈধতা ও শুদ্ধতা সম্পর্কে মতভেদ করেছেন। অধিকাংশ ফকীহ তথা হানাফী ও মালেকী ফকীহদের মত এবং শাফেয়ী মাযহাবের পুরাতন অভিমত ও হাম্বলী মাযহাবের একটি বর্ণনা: স্থগিত চুক্তি শুদ্ধ চুক্তি, তবে তার কার্যকারিতা স্থগিত থাকে। মালিক কিংবা যে অনুমতি প্রদান ও হস্তক্ষেপের অধিকারী সে যদি অনুমতি প্রদান করে তাহলে তা কার্যকর ও বাস্তবায়ন হবে; আর অনুমতি না দিলে হবে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা الْعَقْدُ الْمَوْقُوف পরিভাষায় দ্রষ্টব্য।
টিকাঃ
১৯১. তাবয়ীনুল হাকায়েক, খ. ৪, পৃ. ৪৪; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ১০০; মাজমাউল আনহুর, খ. ২, পৃ. ৪৭; ইবনে জুযাই-এর আল-কাওয়ানীনুল ফিকহিয়্যা, পৃ. ১৬৩; হাশিয়া দুসুকী, আশ শারহুল কাবীর সহ, খ. ৩, পৃ. ১০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৫; সুয়ূতী, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ১৮৫; ইবনে কুদামা, আল মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২৭৪
স্থগিত চুক্তি জায়েষের প্রবক্তাদের মতে এর বিধান হলো, তা একটি বিশুদ্ধ চুক্তি। কারণ, তা মৌলিক ও গুণগতভাবে শরীয়তসম্মত। সুতরাং তা বৈধ বেচাকেনা বলে গণ্য হবে, তবে স্থগিতের ভিত্তিতে। অর্থাৎ তার শরীয়তসম্মত মালিকের অনুমতির ওপর তা নির্ভরশীল থাকবে। যেমন অনধিকার চর্চাকারীর চুক্তি, লেনদেনের অনুমতি নেই এমন সুবোধ বালকের চুক্তি ইত্যাদি। ফকীহগণ স্থগিত চুক্তির বৈধতা ও শুদ্ধতা সম্পর্কে মতভেদ করেছেন। অধিকাংশ ফকীহ তথা হানাফী ও মালেকী ফকীহদের মত এবং শাফেয়ী মাযহাবের পুরাতন অভিমত ও হাম্বলী মাযহাবের একটি বর্ণনা: স্থগিত চুক্তি শুদ্ধ চুক্তি, তবে তার কার্যকারিতা স্থগিত থাকে। মালিক কিংবা যে অনুমতি প্রদান ও হস্তক্ষেপের অধিকারী সে যদি অনুমতি প্রদান করে তাহলে তা কার্যকর ও বাস্তবায়ন হবে; আর অনুমতি না দিলে হবে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা الْعَقْدُ الْمَوْقُوف পরিভাষায় দ্রষ্টব্য।
টিকাঃ
১৯১. তাবয়ীনুল হাকায়েক, খ. ৪, পৃ. ৪৪; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ১০০; মাজমাউল আনহুর, খ. ২, পৃ. ৪৭; ইবনে জুযাই-এর আল-কাওয়ানীনুল ফিকহিয়্যা, পৃ. ১৬৩; হাশিয়া দুসুকী, আশ শারহুল কাবীর সহ, খ. ৩, পৃ. ১০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৫; সুয়ূতী, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ১৮৫; ইবনে কুদামা, আল মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২৭৪
📄 অষ্টম. সাময়িক চুক্তি ও সাধারণ চুক্তি
কতক ফকীহ চুক্তিতে সময় প্রবেশ করা বা না করার ওপর ভিত্তি করে চুক্তিতে দুটি ভাগ করেছেন: ১. সাময়িক চুক্তি/নির্ধারিত সময়ের চুক্তি (الْعُقُودُ الْمُؤَقِّةُ) ২. সাধারণ চুক্তি (الْعُقُودُ غَيْرُ الْمُؤَقِّعَةِ/الْعُقُودُ الْمُطْلَقَةُ)। এ প্রসঙ্গে আল্লামা সুযুতী রহ. বলেন, যে চুক্তিতে সময় প্রধান ভূমিকা পালন করে অর্থাৎ রুকন হয় সেই চুক্তি অবশ্যই সাময়িক চুক্তি। যেমন ইজারা, মুসাকাত, যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি। আর যে চুক্তি এরূপ নয় তা সাধারণ চুক্তি। তবে কখনো তাতে সময় নির্ধারণ করা হয়— যা চুক্তির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়। যেমন মুদারাবা, তাতে সময় উল্লেখ করা হয়, সে সময়ের পর কেনা নিষেধ। কতক চুক্তি সময় নির্ধারণ কবুল করে না, তন্মধ্যে বিশুদ্ধমতে জিযিয়া, বেচাকেনার চুক্তি, বিয়ে, ওয়াকফ। আর কতক চুক্তি সময় নির্ধারণ গ্রহণ করে— আর তা শর্তরূপে বিবেচিত হয়; যেমন ইজারা, মুসাকাত, সঠিক অভিমত অনুযায়ী যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি। আর কতক চুক্তি সময় নির্ধারণ গ্রহণ করে, কিন্তু তা বিশুদ্ধ হওয়ার জন্যে সময় শর্ত নয়; যেমন ওকালত, অসীয়ত।
সকল ফকীহ উল্লেখ করেছেন, ইজারা-চুক্তি সাময়িক চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। ওকালাতের চুক্তির ক্ষেত্রে তারা বলেছেন, তাতে সময় নির্ধারণ করা যাবে। তেমনি একটি চুক্তি হচ্ছে মুসাকাত-চুক্তি। যদি তাতে সময় নির্ধারণ না করা হয় তাহলে হানাফী, মালেকী ও শাফেয়ী তথা অধিকাংশ ফকীহের মতে প্রথম ফলের ওপর চুক্তিটি সংঘটিত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। হাম্বলীগণ বলেন, মুসাকাতে সময় নির্ধারণ করা বিশুদ্ধ। যেসব চুক্তি সময় নির্ধারণকে গ্রহণ করে না তন্মধ্যে বন্ধকী-চুক্তিও একটি। তদ্রূপ হেবাচুক্তি। কাফালাত-চুক্তি সময় নির্ধারণকে গ্রহণ করে কিনা, এ বিষয়ে ফকীহগণ মতানৈক্য করেছেন।
টিকাঃ
১৯২. সুয়ূতী, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ২৮২-২৮৩
১৯৩. ইবনে নুজাইম, পৃ. ৩৩৬; আল-মুগনী মা'আশ শারহিল কাবীর, খ. ৬, পৃ. ৪
১৯৪. আল-খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ২৮৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২২৩; আল-মুগনী মাআশ শারহিল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ২১০
১৯৫. ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ২৪৯; আশ শারহুস সগীর, খ. ২, পৃ. ২ ২৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩২৭
১৯৬. কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৫৩৮
১৯৭. আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ২৩৬; আল-খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ১৭৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২. পৃ. ৩২৭; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৩৫০
১৯৮. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ১১৮; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৯৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩৯৮; আল-মুগনী মা'আশ শারহিল কাবীর, খ. ৬, পৃ. ২৫৬
১৯৯. ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ২৬৬; হাশিয়া দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৩১৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২. ঈ. ২০৭; আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৪১
কতক ফকীহ চুক্তিতে সময় প্রবেশ করা বা না করার ওপর ভিত্তি করে চুক্তিতে দুটি ভাগ করেছেন: ১. সাময়িক চুক্তি/নির্ধারিত সময়ের চুক্তি (الْعُقُودُ الْمُؤَقِّةُ) ২. সাধারণ চুক্তি (الْعُقُودُ غَيْرُ الْمُؤَقِّعَةِ/الْعُقُودُ الْمُطْلَقَةُ)। এ প্রসঙ্গে আল্লামা সুযুতী রহ. বলেন, যে চুক্তিতে সময় প্রধান ভূমিকা পালন করে অর্থাৎ রুকন হয় সেই চুক্তি অবশ্যই সাময়িক চুক্তি। যেমন ইজারা, মুসাকাত, যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি। আর যে চুক্তি এরূপ নয় তা সাধারণ চুক্তি। তবে কখনো তাতে সময় নির্ধারণ করা হয়— যা চুক্তির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়। যেমন মুদারাবা, তাতে সময় উল্লেখ করা হয়, সে সময়ের পর কেনা নিষেধ। কতক চুক্তি সময় নির্ধারণ কবুল করে না, তন্মধ্যে বিশুদ্ধমতে জিযিয়া, বেচাকেনার চুক্তি, বিয়ে, ওয়াকফ। আর কতক চুক্তি সময় নির্ধারণ গ্রহণ করে— আর তা শর্তরূপে বিবেচিত হয়; যেমন ইজারা, মুসাকাত, সঠিক অভিমত অনুযায়ী যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি। আর কতক চুক্তি সময় নির্ধারণ গ্রহণ করে, কিন্তু তা বিশুদ্ধ হওয়ার জন্যে সময় শর্ত নয়; যেমন ওকালত, অসীয়ত।
সকল ফকীহ উল্লেখ করেছেন, ইজারা-চুক্তি সাময়িক চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। ওকালাতের চুক্তির ক্ষেত্রে তারা বলেছেন, তাতে সময় নির্ধারণ করা যাবে। তেমনি একটি চুক্তি হচ্ছে মুসাকাত-চুক্তি। যদি তাতে সময় নির্ধারণ না করা হয় তাহলে হানাফী, মালেকী ও শাফেয়ী তথা অধিকাংশ ফকীহের মতে প্রথম ফলের ওপর চুক্তিটি সংঘটিত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। হাম্বলীগণ বলেন, মুসাকাতে সময় নির্ধারণ করা বিশুদ্ধ। যেসব চুক্তি সময় নির্ধারণকে গ্রহণ করে না তন্মধ্যে বন্ধকী-চুক্তিও একটি। তদ্রূপ হেবাচুক্তি। কাফালাত-চুক্তি সময় নির্ধারণকে গ্রহণ করে কিনা, এ বিষয়ে ফকীহগণ মতানৈক্য করেছেন।
টিকাঃ
১৯২. সুয়ূতী, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ২৮২-২৮৩
১৯৩. ইবনে নুজাইম, পৃ. ৩৩৬; আল-মুগনী মা'আশ শারহিল কাবীর, খ. ৬, পৃ. ৪
১৯৪. আল-খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ২৮৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২২৩; আল-মুগনী মাআশ শারহিল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ২১০
১৯৫. ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ২৪৯; আশ শারহুস সগীর, খ. ২, পৃ. ২ ২৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩২৭
১৯৬. কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৫৩৮
১৯৭. আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ২৩৬; আল-খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ১৭৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২. পৃ. ৩২৭; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৩৫০
১৯৮. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ১১৮; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৯৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩৯৮; আল-মুগনী মা'আশ শারহিল কাবীর, খ. ৬, পৃ. ২৫৬
১৯৯. ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ২৬৬; হাশিয়া দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৩১৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২. ঈ. ২০৭; আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৪১
📄 চুক্তির সাথে সম্পৃক্ত শর্তাবলি
‘চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত’ বলার দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের মাঝে যে সকল কথা আলোচিত হয়। তখন চুক্তির ফলাফল এ সকল শর্তে শর্তযুক্ত হয় অথবা চুক্তির মৌলিক বিষয়ের অতিরিক্ত ভবিষ্যতের কোনো বিষয়ের সঙ্গে চুক্তিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। অধিকাংশ ফকীহ চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত ও সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী দু ভাগে ভাগ করেছেন: ১. সহীহ ও বিশুদ্ধ শর্ত (شرط صحيح); ২. অশুদ্ধ শর্ত (شَرْطَ غَيْر صحيح)। হানাফী ফকীহগণ চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত শর্তাবলি তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: ১. বিশুদ্ধ শর্ত (الشرط الصحيহُ), ২. ফাসিদ শর্ত (الشَّرْطُ الْفَاسِد), ৩. বাতিল শর্ত (الشَّرْطُ الْبَاطِل)।
বিশুদ্ধ শর্তের নিয়ম হচ্ছে, চুক্তি সংঘটিত হওয়ার সময় তা চুক্তির সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকবে; অথবা শর্তটিকে চুক্তি কামনা করবে কিংবা শর্তটি চুক্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে। এর উদাহরণ হচ্ছে, বেচাকেনার চুক্তিতে কব্জা করার শর্ত, বাকি মূল্যের ক্ষেত্রে বন্ধক বা কাফালাতের শর্ত করা। বিশুদ্ধ শর্তগুলো এবং এ ধরনের যে কোনো বিশুদ্ধ শর্ত চুক্তিতে আরোপ করা যাবে। বাতিল বা ফাসিদ শর্ত হচ্ছে, এমন শর্ত যা চুক্তি কামনা করে না অথবা তা চুক্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় অথবা তার কারণে ধোঁকা সৃষ্টি হবে কিংবা শরীয়তে বর্ণিত হয়নি এমন শর্ত জুড়ে দেওয়া। এ ধরনের শর্তের মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা চুক্তিকে বাতিল করে দেয়। যেমন গর্ভবতী হওয়ার শর্তে জন্তু বিক্রি করা। এ প্রকারের উদাহরণ এমন শর্ত, যে শর্তের সাথে কৃত চুক্তি বৈধ; কিন্তু স্বয়ং শর্তটি অকার্যকর হয়ে যায়।
টিকাঃ
২০০. হাশিয়াতুল হামুয়ী, ইবনে নুজাইম-এর আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, খ. ২, পৃ. ২২৫; আয যারকাশী, আদ দুররুল মানছুর, খ. ১, পৃ. ৩৭০
২০১. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৭১; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ২৬৫; আন নববী, আল মাজমূ'উ, খ. ৯, পৃ. ৩৬৪; কাশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ১৮৯
২০২. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৮৬; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৫৮
২০৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৬৮-১৭১; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৩০৭-৩১০; শীরাজী, আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৭৫; কাশাফুল কিনা, খ. ৫, পৃ. ৯৭
২০৪. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৭০
‘চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত’ বলার দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের মাঝে যে সকল কথা আলোচিত হয়। তখন চুক্তির ফলাফল এ সকল শর্তে শর্তযুক্ত হয় অথবা চুক্তির মৌলিক বিষয়ের অতিরিক্ত ভবিষ্যতের কোনো বিষয়ের সঙ্গে চুক্তিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। অধিকাংশ ফকীহ চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত ও সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী দু ভাগে ভাগ করেছেন: ১. সহীহ ও বিশুদ্ধ শর্ত (شرط صحيح); ২. অশুদ্ধ শর্ত (شَرْطَ غَيْر صحيح)। হানাফী ফকীহগণ চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত শর্তাবলি তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: ১. বিশুদ্ধ শর্ত (الشرط الصحيহُ), ২. ফাসিদ শর্ত (الشَّرْطُ الْفَاسِد), ৩. বাতিল শর্ত (الشَّرْطُ الْبَاطِل)।
বিশুদ্ধ শর্তের নিয়ম হচ্ছে, চুক্তি সংঘটিত হওয়ার সময় তা চুক্তির সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকবে; অথবা শর্তটিকে চুক্তি কামনা করবে কিংবা শর্তটি চুক্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে। এর উদাহরণ হচ্ছে, বেচাকেনার চুক্তিতে কব্জা করার শর্ত, বাকি মূল্যের ক্ষেত্রে বন্ধক বা কাফালাতের শর্ত করা। বিশুদ্ধ শর্তগুলো এবং এ ধরনের যে কোনো বিশুদ্ধ শর্ত চুক্তিতে আরোপ করা যাবে। বাতিল বা ফাসিদ শর্ত হচ্ছে, এমন শর্ত যা চুক্তি কামনা করে না অথবা তা চুক্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় অথবা তার কারণে ধোঁকা সৃষ্টি হবে কিংবা শরীয়তে বর্ণিত হয়নি এমন শর্ত জুড়ে দেওয়া। এ ধরনের শর্তের মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা চুক্তিকে বাতিল করে দেয়। যেমন গর্ভবতী হওয়ার শর্তে জন্তু বিক্রি করা। এ প্রকারের উদাহরণ এমন শর্ত, যে শর্তের সাথে কৃত চুক্তি বৈধ; কিন্তু স্বয়ং শর্তটি অকার্যকর হয়ে যায়।
টিকাঃ
২০০. হাশিয়াতুল হামুয়ী, ইবনে নুজাইম-এর আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, খ. ২, পৃ. ২২৫; আয যারকাশী, আদ দুররুল মানছুর, খ. ১, পৃ. ৩৭০
২০১. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৭১; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ২৬৫; আন নববী, আল মাজমূ'উ, খ. ৯, পৃ. ৩৬৪; কাশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ১৮৯
২০২. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৮৬; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৫৮
২০৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৬৮-১৭১; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৩০৭-৩১০; শীরাজী, আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৭৫; কাশাফুল কিনা, খ. ৫, পৃ. ৯৭
২০৪. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৭০
📄 চুক্তির প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব
চুক্তির প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব হলো, চুক্তির পর যেসব বিষয় প্রকাশিত হয় বা দেখা দেয় এবং যা চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের লক্ষ্য হয়। আর এটাই হচ্ছে উভয়ের মাঝে চুক্তি সংঘটনের মূল উদ্দেশ্য। চুক্তির ভিন্নতার কারণে চুক্তির ফলাফল ও প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন হয়ে থাকে। মালিকানা অর্জনের উদ্দেশ্যে সংঘটিত চুক্তি; যেমন বেচাকেনা, হেবা, ঋণ—এসব চুক্তি চুক্তির রুকন ও শর্তসহ বিশুদ্ধভাবে সংঘটিত হলে চুক্তিসম্পাদনকারী এক জন থেকে অপর জনে মালিকানা স্থানান্তরের ফলাফল প্রকাশ করে। মুনাফা ও উপকারিতার চুক্তির ক্ষেত্রে চুক্তির ফলাফল হচ্ছে, চুক্তিবদ্ধ বস্তু হতে উপকারিতা স্থানান্তর করা অথবা উপকারিতা গ্রহণ বৈধ করা। আর নিশ্চয়তা বা নির্ভরতার জন্যে চুক্তি, যেমন কাফালা ও বন্ধকের চুক্তির ফলাফল হচ্ছে, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির দায়িত্বের সঙ্গে নতুন দায়িত্ব সংযোগের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধে নিশ্চয়তা প্রদান করে। কাজের চুক্তির ক্ষেত্রে ফলাফল হচ্ছে, চুক্তিবদ্ধ বিষয়ে কাজের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জন করা। আমানত চুক্তির ফলাফল হলো, আমানত গ্রহীতার হাতে আমানতের বস্তু সংরক্ষণে থাকা। বিয়ের চুক্তির ক্ষেত্রে, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরে উপভোগ করার বৈধতা পাওয়া।
চুক্তির প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব হলো, চুক্তির পর যেসব বিষয় প্রকাশিত হয় বা দেখা দেয় এবং যা চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের লক্ষ্য হয়। আর এটাই হচ্ছে উভয়ের মাঝে চুক্তি সংঘটনের মূল উদ্দেশ্য। চুক্তির ভিন্নতার কারণে চুক্তির ফলাফল ও প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন হয়ে থাকে। মালিকানা অর্জনের উদ্দেশ্যে সংঘটিত চুক্তি; যেমন বেচাকেনা, হেবা, ঋণ—এসব চুক্তি চুক্তির রুকন ও শর্তসহ বিশুদ্ধভাবে সংঘটিত হলে চুক্তিসম্পাদনকারী এক জন থেকে অপর জনে মালিকানা স্থানান্তরের ফলাফল প্রকাশ করে। মুনাফা ও উপকারিতার চুক্তির ক্ষেত্রে চুক্তির ফলাফল হচ্ছে, চুক্তিবদ্ধ বস্তু হতে উপকারিতা স্থানান্তর করা অথবা উপকারিতা গ্রহণ বৈধ করা। আর নিশ্চয়তা বা নির্ভরতার জন্যে চুক্তি, যেমন কাফালা ও বন্ধকের চুক্তির ফলাফল হচ্ছে, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির দায়িত্বের সঙ্গে নতুন দায়িত্ব সংযোগের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধে নিশ্চয়তা প্রদান করে। কাজের চুক্তির ক্ষেত্রে ফলাফল হচ্ছে, চুক্তিবদ্ধ বিষয়ে কাজের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জন করা। আমানত চুক্তির ফলাফল হলো, আমানত গ্রহীতার হাতে আমানতের বস্তু সংরক্ষণে থাকা। বিয়ের চুক্তির ক্ষেত্রে, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরে উপভোগ করার বৈধতা পাওয়া।