📄 ষষ্ঠ : শুদ্ধ, বাতিল ও ফাসিদ চুক্তি
শরীয়ত কোনো চুক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং এর ফলাফল প্রকাশিত হওয়া কিংবা কোনোটাই না হওয়ার বিচারে ফকীহগণ চুক্তিকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: ১. বিশুদ্ধ চুক্তি (الْعَقْدُ الصَّحِيحُ), ২. অবিশুদ্ধ চুক্তি (الْعَقْدُ غَيْرُ الصَّحِيحُ)।
📄 বিশুদ্ধ চুক্তি
বিশুদ্ধ চুক্তি হলো : وَ مَا كَانَ مَشْرُوعًا بِأَصْلِهِ وَوَصْفِهِ مَعًا ، بِحَيْثُ يَكُونُ مُسْتَجْمِعًا لِأَرْكَانِهِ وَأَوْصَافِهِ ، فَيَتَرَتَّبُ عَلَيْهِ أَثَرُهُ الْمَقْصُودُ مِنْهُ 'এমন চুক্তি যার মূল ও গুণ উভয়টি শরীয়তসম্মত, চুক্তিটা এমন যে, তাতে এর মূল ও গুণের সমাবেশ ঘটে। অতঃপর এর দ্বারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রকাশিত হয়।' যেমন প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি কর্তৃক মূল্যমানসম্পন্ন ও হস্তান্তরযোগ্য জিনিস শরীয়তে গ্রহণযোগ্য ঈজাব ও কবুলের মাধ্যমে বিক্রি করা। এর দ্বারা বেচাকেনার ফলাফল প্রকাশিত হবে; যেমন ক্রেতা পণ্যের মালিক এবং বিক্রেতা মূল্যের মালিক হবে।
টিকাঃ
১৮৭. মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যা, ধারা ১০৯ ও ১১০; আয যারকাশী, আদ দুররুল মানছুর, খ. ২, পৃ. ৪০৯
📄 অশুদ্ধ চুক্তি
অশুদ্ধ চুক্তি হলো : এমন চুক্তি শরীয়তে যার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং এর কোনো ফলাফলও প্রকাশিত হয় না। অথবা বলা যায়, তা এমন চুক্তি যা মূল ও গুণ কোনো ভাবে শরীয়তসম্মত নয়। বা যা মূল হিসেবে শরীয়তসম্মত হলেও গুণগতভাবে শরয়ীতসম্মত নয়। প্রথমটির উদাহরণ হচ্ছে পাগল এবং নির্বোধ বালকের চুক্তি। দ্বিতীয়টির উদাহরণ, জবরদস্তিমূলক চুক্তি এবং বিনিময়মূলক লেনদেনের ক্ষেত্রে অজানা জিনিসের চুক্তি করা। অশুদ্ধ চুক্তিকে হানাফীগণ দুভাগে ভাগ করেছেন: ১. বাতিল চুক্তি (عقد باطل), ২. ফাসিদ চুক্তি (عقد فاسদ)। বিস্তারিত দেখা যেতে পারে; শিরোনাম: بُطْلَان، فَسَاد
টিকাঃ
১৮৮. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ৩০৫; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ১০০; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ১৬৩; সুয়ূতী, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ৩১০; রওজাতুন নাযের, পৃ. ৩১
📄 সপ্তম. কার্যকরী চুক্তি ও স্থগিত চুক্তি
অধিকাংশ ফকীহ চুক্তির প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল প্রকাশ ও অপ্রকাশের দিক বিবেচনা করে সমুদয় চুক্তি দু ভাগে ভাগ করেছেন:
অধিকাংশ ফকীহ চুক্তির প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল প্রকাশ ও অপ্রকাশের দিক বিবেচনা করে সমুদয় চুক্তি দু ভাগে ভাগ করেছেন: