📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 যে সকল চুক্তি আবশ্যক হওয়ার জন্যে কজা করা শর্ত

📄 যে সকল চুক্তি আবশ্যক হওয়ার জন্যে কজা করা শর্ত


কিছু চুক্তি এমন রয়েছে যেগুলো আবশ্যক হওয়ার জন্যে কব্জা করা শর্ত। যেমন হেবা ও বন্ধক। হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহদের অভিমত হলো, কব্জা করার পূর্বে কেবল ঈজাব ও কবুল দ্বারা হেবা-চুক্তি আবশ্যক হয়ে যায় না। সুতরাং হেবাকৃত বস্তু হেবাগ্রহণকারী কব্জা না করা পর্যন্ত হেবাকারী তার হেবা প্রত্যাহার করার সুযোগ পাবে। মালেকীগণ বলেন, কয়েকটি বিশেষ অবস্থা ব্যতীত সর্বাবস্থায় কব্জা করার দ্বারা হেবা আবশ্যক হয়ে যায়।

বন্ধকের ক্ষেত্রে দখল বা কজা করাকে সকল ফকীহ শর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং বন্ধকদাতার প্রত্যাহারমূলক কথায় বন্ধকচুক্তি রহিত হয়ে যায়; তদ্রূপ এমন কাজ দ্বারাও রহিত হয়ে যায় যা বন্ধকদাতার মালিকানা দূর করে দেয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন পরিভাষা : رَهْن

টিকাঃ
১৭৮. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৪০১; কাশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ২৫৩; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ১২৩-১২৭
১৭৯. আদ দুসুকী, মা'আশ শারহিল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ১০১
১৮০. ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩০৮; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১২৮; ইবনে কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 পঞ্চম. বিনিময়পূর্ণ ও অনুদানমূলক চুক্তিসমূহ

📄 পঞ্চম. বিনিময়পূর্ণ ও অনুদানমূলক চুক্তিসমূহ


কিছুসংখ্যক ফকীহ চুক্তিতে বিনিময় বিদ্যমান ও অবিদ্যমান—এ দৃষ্টিকোণ থেকে সমুদয় চুক্তি দুভাগে ভাগ করেছেন: ১. বিনিময়পূর্ণ চুক্তি (عُقُودُ الْمُعَاوَضَةِ); এবং ২. অনুদানমূলক চুক্তি (عُقُودُ التبرع)।

প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, বেচাকেনার সকল প্রকার, যেমন পণ্যের বিনিময়ে পণ্য বিক্রি, সালাম, সরফ, ইজারা, অর্ডার, সন্ধি, বিয়ে, খুলা, মুদারাবা, মুযারাআ, মুসাকাত, অংশীদারী চুক্তি ইত্যাদি এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হচ্ছে : হেবা, আরিয়াত বা ধার, ওদীয়ত, ওকালাত, ঋণগ্রহীতার অনুমতি ব্যতীত কাফালত গ্রহণ, বন্ধক, অসীয়ত ইত্যাদি।

বিনিময়পূর্ণ চুক্তি এবং অনুদানমূলক চুক্তির বিধানে পার্থক্য রয়েছে, চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় পক্ষের দায়িত্ব কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে। বিনিময়মূলক চুক্তি যেমন বেচাকেনা ও ইজারা ইত্যাদিতে চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের কৃত অঙ্গীকার পূরণ করা ওয়াজিব—যদি তা শর্তসহকারে সঠিকভাবে সংঘটিত হয়ে থাকে। কিন্তু অনুদানমূলক চুক্তি, যেমন, হেবা, আরিয়াত, কর্জ, অসীয়ত ইত্যাদি এর বিপরীত। এসব চুক্তিতে অনুদান প্রদানকারীর অঙ্গীকার পূরণ করা ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়। কারণ, সে অনুগ্রহকারী ও স্বেচ্ছাদানকারী।

মালেকীগণের মতে অনুদানমূলক হলেও কিছু চুক্তিতে চুক্তি পূরণ করা আবশ্যক। যেমন নির্দিষ্ট মেয়াদের আরিয়াত সময় অতিবাহিত হতেই ফেরত দেওয়া তাদের মতে ওয়াজিব। যেমনিভাবে তাদের মতে হেবা কবুল করা আবশ্যক। সুতরাং যদি হেবাকারী তা অর্পণ করতে অসম্মত হয় তাহলে তাকে বাধ্য করা যাবে।

টিকাঃ
১৮১. আয যারকাশী, আদ দুররুল মানছুর, খ. ২, পৃ. ৪০৩; ইবনে রাজাব, আল-কাওয়ায়িদ, পৃ. ৭৪
১৮২. আল-কারাফী, আল ফুরূক, খ. ১, পৃ. ১৫১
১৮৩. সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ১
১৮৪. সূরা আল-মায়িদা, আয়াত-২
১৮৫. হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৪০৯-৪৪২
১৮৬. জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ২৬২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ষষ্ঠ : শুদ্ধ, বাতিল ও ফাসিদ চুক্তি

📄 ষষ্ঠ : শুদ্ধ, বাতিল ও ফাসিদ চুক্তি


শরীয়ত কোনো চুক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং এর ফলাফল প্রকাশিত হওয়া কিংবা কোনোটাই না হওয়ার বিচারে ফকীহগণ চুক্তিকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: ১. বিশুদ্ধ চুক্তি (الْعَقْدُ الصَّحِيحُ), ২. অবিশুদ্ধ চুক্তি (الْعَقْدُ غَيْرُ الصَّحِيحُ)।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 বিশুদ্ধ চুক্তি

📄 বিশুদ্ধ চুক্তি


বিশুদ্ধ চুক্তি হলো : وَ مَا كَانَ مَشْرُوعًا بِأَصْلِهِ وَوَصْفِهِ مَعًا ، بِحَيْثُ يَكُونُ مُسْتَجْمِعًا لِأَرْكَانِهِ وَأَوْصَافِهِ ، فَيَتَرَتَّبُ عَلَيْهِ أَثَرُهُ الْمَقْصُودُ مِنْهُ 'এমন চুক্তি যার মূল ও গুণ উভয়টি শরীয়তসম্মত, চুক্তিটা এমন যে, তাতে এর মূল ও গুণের সমাবেশ ঘটে। অতঃপর এর দ্বারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রকাশিত হয়।' যেমন প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি কর্তৃক মূল্যমানসম্পন্ন ও হস্তান্তরযোগ্য জিনিস শরীয়তে গ্রহণযোগ্য ঈজাব ও কবুলের মাধ্যমে বিক্রি করা। এর দ্বারা বেচাকেনার ফলাফল প্রকাশিত হবে; যেমন ক্রেতা পণ্যের মালিক এবং বিক্রেতা মূল্যের মালিক হবে।

টিকাঃ
১৮৭. মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়‍্যা, ধারা ১০৯ ও ১১০; আয যারকাশী, আদ দুররুল মানছুর, খ. ২, পৃ. ৪০৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00