📄 চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ে কিংবা তাদের একজনের
চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ে কিংবা তাদের একজনের চুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া:
চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ে কিংবা তাদের একজনের চুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া:
📄 চুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া
চুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া: ঈজাব ও কবুলের সংযোগ বাস্তবায়নের শর্ত হচ্ছে, ঈজাবকারী অথবা অপরপক্ষ (কবুলকারী) অথবা তাদের উভয়ের পক্ষ থেকে চুক্তি সংঘটিত হওয়ায় উপেক্ষা বা অনাগ্রহ প্রকাশ না পায়। আল বাহরুর রায়েক নামক গ্রন্থ থেকে ইবনে আবিদীন রহ. বলেন: ঈজাব যে কোনো ধরনের অনাগ্রহ প্রকাশের মাধ্যমে বাতিল হবে। আর ইমাম হাত্তাব রহ. বলেন: যদি কোনো প্রতিবন্ধক বা বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টিকারী কথা বলা কাজ তাদের কথাবার্তার মাঝে পরিলক্ষিত হয়, যার দরুন কারো পরবর্তী কথা পূর্বের কথার জবাব বলে সমাজে ধর্তব্য হয় না, তবে ক্রয় বিক্রয় সংঘটিত হবে না। শাফেয়ী আলেমগণ কঠোরতা অবলম্বন করে বলেন: চুক্তি বাস্তবায়নের শর্ত হলো, ঈজাব ও কবুলের মাঝে এমন কোনো শব্দ থাকতে পারবে না যা উক্ত চুক্তি সম্পর্কিত নয়। হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন: সামাজিক প্রচলনে চুক্তি কর্তন করে এমন কোনো কাজে তারা রত হবে না। হলে কোনো চুক্তি সম্পাদন হবে না। যেহেতু এর দ্বারা অনাগ্রহ প্রকাশিত হয়, তাই তা হবে সুস্পষ্ট প্রত্যাখ্যানতুল্য।
চুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া: ঈজাব ও কবুলের সংযোগ বাস্তবায়নের শর্ত হচ্ছে, ঈজাবকারী অথবা অপরপক্ষ (কবুলকারী) অথবা তাদের উভয়ের পক্ষ থেকে চুক্তি সংঘটিত হওয়ায় উপেক্ষা বা অনাগ্রহ প্রকাশ না পায়। আল বাহরুর রায়েক নামক গ্রন্থ থেকে ইবনে আবিদীন রহ. বলেন: ঈজাব যে কোনো ধরনের অনাগ্রহ প্রকাশের মাধ্যমে বাতিল হবে। আর ইমাম হাত্তাব রহ. বলেন: যদি কোনো প্রতিবন্ধক বা বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টিকারী কথা বলা কাজ তাদের কথাবার্তার মাঝে পরিলক্ষিত হয়, যার দরুন কারো পরবর্তী কথা পূর্বের কথার জবাব বলে সমাজে ধর্তব্য হয় না, তবে ক্রয় বিক্রয় সংঘটিত হবে না। শাফেয়ী আলেমগণ কঠোরতা অবলম্বন করে বলেন: চুক্তি বাস্তবায়নের শর্ত হলো, ঈজাব ও কবুলের মাঝে এমন কোনো শব্দ থাকতে পারবে না যা উক্ত চুক্তি সম্পর্কিত নয়। হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন: সামাজিক প্রচলনে চুক্তি কর্তন করে এমন কোনো কাজে তারা রত হবে না। হলে কোনো চুক্তি সম্পাদন হবে না। যেহেতু এর দ্বারা অনাগ্রহ প্রকাশিত হয়, তাই তা হবে সুস্পষ্ট প্রত্যাখ্যানতুল্য।
📄 ২. অসীয়তের চুক্তি
অসীয়তকারী ব্যক্তি নিজ সম্পদের এক অংশ বা নির্ধারিত অংশ অসিয়ত করতে পারবে—যদিও তা অনির্দিষ্ট হয়; যেমনটি হানাফীগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন। তবে এ অবস্থায় বিষয়টি ওয়ারিসদের কাছে বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, তার অসিয়তটি অজ্ঞাত; যা কম বেশিকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। অবশ্য মূলনীতি হচ্ছে, অজ্ঞতা থাকলেও অসিয়ত বাধাপ্রাপ্ত হয় না।
হাম্বলী ফকীহদের মতে, গর্ভের বাচ্চা যদি অসীয়তকারীর মালিকানাধীন হয়, তাহলে এর অসীয়ত করা জায়েয। তাদের মতে ধোঁকা-প্রতারণা বা ক্ষতির ঝুঁকির কারণে অসীয়ত কার্যকর হওয়া বাধাপ্রাপ্ত হবে না।
এমনিভাবে অজ্ঞাত বা অজানা বিষয়ে অসীয়ত করা শাফেয়ী মাযহাবে বৈধ। যেমন গর্ভের বাচ্চা—মা বাদে বা মায়ের সাথে। স্তনের বা ওলানের দুধের অসীয়ত করা, বকরির গায়ে থাকা অবস্থায় পশমের অসীয়ত করা ইত্যাদি। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা وصية শিরোনামে রয়েছে।
টিকাঃ
১৩৭. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২০০
১৩৮. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ১৯
১৩৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৪৪
📄 হস্তান্তরের ক্ষমতা
চুক্তির ক্ষেত্র সম্পর্কিত আরো একটি শর্ত হলো তা হস্তান্তর করা সম্ভব হতে হবে। আর্থিক বিনিময়যুক্ত লেনদেনের চুক্তিতে সবাই মোটামুটি এ শর্তের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। সুতরাং হারানো বা পালিয়ে থাকা জন্তু বা এ ধরনের কোনো বস্তু কেনাবেচা, ইজারা, সন্ধি বা এ ধরনের কোনো চুক্তির ক্ষেত্র হতে পারবে না। তদ্রূপ ছিনতাইকারী ব্যতীত অন্যের কাছে ছিনতাইকৃত বাড়ি কিংবা জমিন বা অন্য কোনো জিনিস শত্রুর হাতে রেখে বিক্রি করা জায়েয হবে না।
আল্লামা কাসানী বলেছেন: পণ্যের সাথে সম্পর্কিত শর্তসমূহের একটি হলো, চুক্তির সময় পণ্য হস্তান্তর করা সম্ভব হওয়া। তাই চুক্তিকালে পণ্য হস্তান্তর করা সম্ভব না হলে চুক্তিই সংঘটিত হবে না—যদিও পণ্যটি বিক্রেতার মালিকানার থাকে। যেমন পলাতক গোলাম। এমনকি পণ্যটি চুক্তির পরে হস্তান্তরযোগ্য হলে নতুনভাবে ঈজাব ও কবুলের প্রয়োজন পড়বে। তবে উভয় পক্ষ যদি সম্মত থাকে তাহলে পরস্পরে নিছক আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিক্রি সম্পন্ন হবে—তখন আর নতুন ঈজাব-কবুলের দরকার পড়বে না।
ভাড়ায় প্রদানকৃত বস্তুর শর্ত প্রসঙ্গে ইমাম কাসানী বলেন, ইজারার বস্তুটি বাস্তবে ও শরীয়তসম্মতভাবে হস্তান্তরযোগ্য হতে হবে। কারণ, চুক্তিকৃত বস্তুর অনুপস্থিতিতে চুক্তি সংঘটিত হতে পারে না। সুতরাং পলাতক গোলামকে ভাড়া দেওয়া জায়েয হবে না। তদ্রূপ ছিনতাইকারী ব্যতীত অন্যের কাছে ছিনতাইকৃত জন্তু ভাড়া দেওয়া হবে অবৈধ।
আল্লামা যারকাশী রহ. তাঁর আল-মানছুর কিতাবে লিখেছেন: আবশ্যকীয় চুক্তির বিধান হচ্ছে, চুক্তিবদ্ধ বিষয় পরিজ্ঞাত এবং তাৎক্ষণিক হস্তান্তরযোগ্য হতে হবে। তবে যে চুক্তি আবশ্যকীয় নয় তাতে কখনো এমন শর্তের দরকার পড়ে না। যেমন পলাতক গোলাম ফিরিয়ে আনার পুরস্কার চুক্তি।
পণ্যের শর্তাবলি আলোচনায় ইমাম নববী রহ. বলেন: তৃতীয়ত পণ্য হস্তান্তরযোগ্য হওয়া। সুতরাং হারানো, পলাতক এবং ছিনতাইকৃত বস্তু/জন্তু বিক্রি করা জায়েয হবে না। শারবীনী আল-খতীব এর কারণ বর্ণনা করে বলেন, তাৎক্ষণিক ওই বস্তুসমূহ হস্তান্তর করা সম্ভব না হওয়ার কারণে নাজায়েয হয়েছে। অন্যান্য মাযহাবের কিতাবসমূহতেও অনুরূপ বিধান রয়েছে।
তবে স্বেচ্ছাসেবা ও অনুদানমূলক চুক্তিসমূহের ক্ষেত্রে মালেকীগণ পলাতক গোলাম এবং হারানো জন্তু হেবা করাকে জায়েয বলেন। অথচ চুক্তির সময় তা হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। জায়েযের কারণ, তা নিছক অনুদান ও অনুগ্রহ; প্রচলিত অর্থে কোনো চুক্তি নয়। সুতরাং ওই ব্যক্তি যখন তা পেয়ে হস্তগত করতে পারবে তখন এর দ্বারা উপকৃত হবে। আর না পেলেও তো সে কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হবে না—যেমনটি ইমাম কারাফী বলেছেন। হস্তান্তর করা সম্ভব নয় এমন বস্তুতে শাফেয়ীগণ অসীয়ত জায়েয বলেছেন। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রহ. স্বেচ্ছাসেবামূলক লেনদেনের ক্ষেত্রে বলেছেন: উপস্থিত, অনুপস্থিত বস্তু এবং হস্তান্তর করা সম্ভব কিংবা সম্ভব নয় যে কোনো বস্তু হলেও এ ক্ষেত্রে ধোঁকা ও প্রতারণার কোনো আশস্কা নেই।
টিকাঃ
১৪৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৪৭
144. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৭
১৪৫. আয যারকাশী, আদ দুররুল মানছুর, খ. ২, পৃ. ৪০০
১৪৬. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১২
১৪৭. আল-হাত্তাব এবং হাশিয়া মাওওয়াক, খ. ৪, পৃ. ২৬৮; কাশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ১৬২
১৪৮. আল-ফুরূক, খ. ১, পৃ. ১৫০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২ পৃ. ৪৪