📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 লেখা অথবা চিঠির মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন

📄 লেখা অথবা চিঠির মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন


সাধারণভাবে সকল ফকীহ লিখনি বা কোনো দূত প্রেরণের মাধ্যমে ঈজাব ও কবুলের দ্বারা চুক্তি সংঘটিত হওয়ার বিশুদ্ধতায় ঐকমত্য ব্যক্ত করেছেন। তবে এটি বিবাহের চুক্তি ব্যতীত অন্য সকল চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অতঃপর তারা কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করে কিছু কিছু শর্তের ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লামা মারগিনানী রহ. বলেন: কোনো কিছু লেখা হলো কোনো বিষয়ে বক্তব্য রাখার ন্যায়। এমনিভাবে কোনো দূত মারফত যখন চিঠি এবং লেখা নির্দিষ্ট মজলিসে পৌঁছবে। ইমাম দুসূকী রহ. ব্যবসায় অধ্যায়ে এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন: এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের কথা অথবা উভয় পক্ষের লেখা দ্বারা কিংবা একজনের কথা অন্য জনের লেখার দ্বারা ক্রয়-বিক্রয় বিশুদ্ধভাবে সংঘটিত হবে। কিন্তু বিবাহের চুক্তি কোনো লেখনীর দ্বারা সংঘটিত হবে না। এটি অধিকাংশ ফকীহ মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলীদের অভিমত। পাত্র-পাত্রী উভয়েই উপস্থিত থাকুক অথবা অনুপস্থিত থাকুক। এ প্রসঙ্গে আল্লামা দারদীর রহ. বলেন: বোবা ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও ক্ষেত্রে ইশারা অথবা লেখনী দ্বারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথাযথ হবে না। তিনি অপর এক স্থানে বলেছেন: যদি অভিভাবকের জন্য নির্ধারিত শর্ত অথবা স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের অথবা তাদের যে কোনো একজনের শর্ত কিংবা বিবাহের কোনো রুকন বিনষ্ট হয়, যেমন কোনো মেয়ে যদি অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করে বা মৌখিক বক্তব্য দ্বারা যদি বিবাহ সম্পাদিত না হয়, বরং কোনো লেখা অথবা অন্য কোনো ইঙ্গিত বা ইশারা দ্বারা অথবা শরয়ী গ্রাহ্য নয় এমন কোনো কথার দ্বারা সংঘটিত হয়, তবে সহবাসের পূর্বে অথবা পরে, তা যত পরেই হোক না কেন, উক্ত বিবাহ সাধারণভাবে বাতিল হবে। হানাফী মাযহাবের বক্তব্যে এ বিষয়টির বৈধতা পাওয়া যায়। তাদের বক্তব্য হলো: উপস্থিত ব্যক্তির লেখার মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হবে না। তবে যদি মজলিসে অনুপস্থিত ব্যক্তি কর্তৃক লিখিত বিবাহের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কনে কবুল বলে, তবে নির্দিষ্ট শর্ত ও অবস্থা সাপেক্ষে বিবাহ সংঘটিত হতে পারে। যেমনটি ইবনে 'আবিদীন রহ. তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: লেখার মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হবে যেমনিভাবে মৌখিক প্রস্তাবের মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হয়। তবে তার ধরন হলো, প্রস্তাব সম্বলিত একটি লেখা যখন কনের কাছে পৌঁছবে, তখন সে সাক্ষীদের উপস্থিত করবে এবং উক্ত লেখা তাদের সামনে পাঠ করবে এবং বলবে: 'আমি তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম' অথবা বলবে: 'অমুক ব্যক্তি আমাকে বিবাহের প্রস্তাব লিখে পাঠিয়েছে, এ ব্যাপারে তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তার সাথে আমাকে বিবাহ দিলাম, তাহলে (এ বিবাহ) সহীহ হবে। আর যদি সে তাদের উপস্থিতিতে শুধু এ কথা বলে যে, 'আমি অমুকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম,' তবে উক্ত বিবাহ সংঘটিত হবে না, যেহেতু বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের কথা শ্রবণ করা শর্ত। এ অবস্থায় তাদেরকে যদি পাত্রী লিখিত প্রস্তাব শোনায় এবং সে কবুল করে, তবে দু'পক্ষের কথা শ্রবণের কারণে উক্ত বিবাহ সংঘটিত ও সহীহ হবে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী লেখার দ্বারা কোনো চুক্তি সংঘটিত হতে হলে তা যে কোনো একজনের ভাষায় লিপিবদ্ধ করতে হবে। এটাই ফকীহগণের সর্বসম্মত বক্তব্য। বরং ঐ লেখাটি কখনো শাব্দিক উচ্চারণের চেয়েও বেশি মজবুত এবং অধিক গ্রহণযোগ্য। আর এ জন্যই আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর মু'মিন বান্দাদের তাদের ঋণ আদান-প্রদানের সময় তা লিপিবদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: 'হে মু'মিনগণ! তোমরা যখন একে অন্যের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণের লেনদেন কর তখন তা লিখে রেখ; ... আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে অবহিত। '

সাধারণভাবে সকল ফকীহ লিখনি বা কোনো দূত প্রেরণের মাধ্যমে ঈজাব ও কবুলের দ্বারা চুক্তি সংঘটিত হওয়ার বিশুদ্ধতায় ঐকমত্য ব্যক্ত করেছেন। তবে এটি বিবাহের চুক্তি ব্যতীত অন্য সকল চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অতঃপর তারা কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করে কিছু কিছু শর্তের ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লামা মারগিনানী রহ. বলেন: কোনো কিছু লেখা হলো কোনো বিষয়ে বক্তব্য রাখার ন্যায়। এমনিভাবে কোনো দূত মারফত যখন চিঠি এবং লেখা নির্দিষ্ট মজলিসে পৌঁছবে। ইমাম দুসূকী রহ. ব্যবসায় অধ্যায়ে এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন: এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের কথা অথবা উভয় পক্ষের লেখা দ্বারা কিংবা একজনের কথা অন্য জনের লেখার দ্বারা ক্রয়-বিক্রয় বিশুদ্ধভাবে সংঘটিত হবে। কিন্তু বিবাহের চুক্তি কোনো লেখনীর দ্বারা সংঘটিত হবে না। এটি অধিকাংশ ফকীহ মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলীদের অভিমত। পাত্র-পাত্রী উভয়েই উপস্থিত থাকুক অথবা অনুপস্থিত থাকুক। এ প্রসঙ্গে আল্লামা দারদীর রহ. বলেন: বোবা ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও ক্ষেত্রে ইশারা অথবা লেখনী দ্বারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথাযথ হবে না। তিনি অপর এক স্থানে বলেছেন: যদি অভিভাবকের জন্য নির্ধারিত শর্ত অথবা স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের অথবা তাদের যে কোনো একজনের শর্ত কিংবা বিবাহের কোনো রুকন বিনষ্ট হয়, যেমন কোনো মেয়ে যদি অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করে বা মৌখিক বক্তব্য দ্বারা যদি বিবাহ সম্পাদিত না হয়, বরং কোনো লেখা অথবা অন্য কোনো ইঙ্গিত বা ইশারা দ্বারা অথবা শরয়ী গ্রাহ্য নয় এমন কোনো কথার দ্বারা সংঘটিত হয়, তবে সহবাসের পূর্বে অথবা পরে, তা যত পরেই হোক না কেন, উক্ত বিবাহ সাধারণভাবে বাতিল হবে। হানাফী মাযহাবের বক্তব্যে এ বিষয়টির বৈধতা পাওয়া যায়। তাদের বক্তব্য হলো: উপস্থিত ব্যক্তির লেখার মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হবে না। তবে যদি মজলিসে অনুপস্থিত ব্যক্তি কর্তৃক লিখিত বিবাহের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কনে কবুল বলে, তবে নির্দিষ্ট শর্ত ও অবস্থা সাপেক্ষে বিবাহ সংঘটিত হতে পারে। যেমনটি ইবনে 'আবিদীন রহ. তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: লেখার মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হবে যেমনিভাবে মৌখিক প্রস্তাবের মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হয়। তবে তার ধরন হলো, প্রস্তাব সম্বলিত একটি লেখা যখন কনের কাছে পৌঁছবে, তখন সে সাক্ষীদের উপস্থিত করবে এবং উক্ত লেখা তাদের সামনে পাঠ করবে এবং বলবে: 'আমি তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম' অথবা বলবে: 'অমুক ব্যক্তি আমাকে বিবাহের প্রস্তাব লিখে পাঠিয়েছে, এ ব্যাপারে তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তার সাথে আমাকে বিবাহ দিলাম, তাহলে (এ বিবাহ) সহীহ হবে। আর যদি সে তাদের উপস্থিতিতে শুধু এ কথা বলে যে, 'আমি অমুকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম,' তবে উক্ত বিবাহ সংঘটিত হবে না, যেহেতু বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের কথা শ্রবণ করা শর্ত। এ অবস্থায় তাদেরকে যদি পাত্রী লিখিত প্রস্তাব শোনায় এবং সে কবুল করে, তবে দু'পক্ষের কথা শ্রবণের কারণে উক্ত বিবাহ সংঘটিত ও সহীহ হবে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী লেখার দ্বারা কোনো চুক্তি সংঘটিত হতে হলে তা যে কোনো একজনের ভাষায় লিপিবদ্ধ করতে হবে। এটাই ফকীহগণের সর্বসম্মত বক্তব্য। বরং ঐ লেখাটি কখনো শাব্দিক উচ্চারণের চেয়েও বেশি মজবুত এবং অধিক গ্রহণযোগ্য। আর এ জন্যই আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর মু'মিন বান্দাদের তাদের ঋণ আদান-প্রদানের সময় তা লিপিবদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: 'হে মু'মিনগণ! তোমরা যখন একে অন্যের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণের লেনদেন কর তখন তা লিখে রেখ; ... আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে অবহিত। '

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ইঙ্গিতের দ্বারা চুক্তি

📄 ইঙ্গিতের দ্বারা চুক্তি


সকল ফকীহ একমত যে, বোবা ব্যক্তির বোধগম্য সর্বজনবিদিত ইশারা শরীয়তের দৃষ্টিতে বিবেচ্য, তা দ্বারা সকল ধরনের চুক্তি সম্পাদিত হতে পারবে। যেমন, ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা তথা ভাড়া প্রদান, বন্ধক দেওয়া, বিবাহ ইত্যাদি। ইবনে নুজাইম রহ. এ প্রসঙ্গে বলেন: বোবা ব্যক্তির ইশারা গ্রহণযোগ্য, ইশারা দ্বারা সকল কিছুই শরী'য়াত সম্মত ভাবে প্রতিষ্ঠিত। এ প্রসঙ্গে নাফরাভী রহ. বলেন: বোবার ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে সকল চুক্তি সংগঠিত হয়। তার কারণ হলো: ক্রয়-বিক্রয় কথার দ্বারা এবং কথা ব্যতীত অন্য যে কোনো কিছু যা সম্মতি প্রকাশ করে তা দ্বারা সংঘটিত হয়। আল্লামা খতীব বাগদাদী রহ. বলেন: বোবা ব্যক্তির যে কোনো চুক্তি সম্পর্কে ইশারা-ইঙ্গিত বা তার কোনো লেখা অন্যদের মুখে উচ্চারণের ন্যায় (গ্রহণযোগ্য)। এ সম্পর্কে হাম্বলী মাযহাবেও একই মত ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে বোবা ব্যতীত অন্যদের ইশারা ইঙ্গিতে কোনো চুক্তি সংঘটিত হওয়া নিয়ে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। এ প্রসঙ্গে অধিকাংশ ফকীহ বলেছেন: যদি ব্যক্তি কথা বলতে সক্ষম হয় তবে তার ইশারা-ইঙ্গিত দ্বারা চুক্তি সম্পাদিত হবে না। তবে মালেকী মাযহাবে এর বিপরীত মত পোষণ করা হয়েছে। তারা বলেন: কথা বলতে সক্ষম ব্যক্তির কোনো চুক্তি ইশারা-ইঙ্গিত দ্বারাও সংঘটিত হয়। ইশারা-ইঙ্গিত অনুযায়ী আমলের জন্য লিখতে অক্ষমতা শর্ত কি-না এ বিষয়ে মতভেদ বিদ্যমান। বিস্তারিত اشارة নামক পরিভাষায় দ্রষ্টব্য।

সকল ফকীহ একমত যে, বোবা ব্যক্তির বোধগম্য সর্বজনবিদিত ইশারা শরীয়তের দৃষ্টিতে বিবেচ্য, তা দ্বারা সকল ধরনের চুক্তি সম্পাদিত হতে পারবে। যেমন, ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা তথা ভাড়া প্রদান, বন্ধক দেওয়া, বিবাহ ইত্যাদি। ইবনে নুজাইম রহ. এ প্রসঙ্গে বলেন: বোবা ব্যক্তির ইশারা গ্রহণযোগ্য, ইশারা দ্বারা সকল কিছুই শরী'য়াত সম্মত ভাবে প্রতিষ্ঠিত। এ প্রসঙ্গে নাফরাভী রহ. বলেন: বোবার ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে সকল চুক্তি সংগঠিত হয়। তার কারণ হলো: ক্রয়-বিক্রয় কথার দ্বারা এবং কথা ব্যতীত অন্য যে কোনো কিছু যা সম্মতি প্রকাশ করে তা দ্বারা সংঘটিত হয়। আল্লামা খতীব বাগদাদী রহ. বলেন: বোবা ব্যক্তির যে কোনো চুক্তি সম্পর্কে ইশারা-ইঙ্গিত বা তার কোনো লেখা অন্যদের মুখে উচ্চারণের ন্যায় (গ্রহণযোগ্য)। এ সম্পর্কে হাম্বলী মাযহাবেও একই মত ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে বোবা ব্যতীত অন্যদের ইশারা ইঙ্গিতে কোনো চুক্তি সংঘটিত হওয়া নিয়ে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। এ প্রসঙ্গে অধিকাংশ ফকীহ বলেছেন: যদি ব্যক্তি কথা বলতে সক্ষম হয় তবে তার ইশারা-ইঙ্গিত দ্বারা চুক্তি সম্পাদিত হবে না। তবে মালেকী মাযহাবে এর বিপরীত মত পোষণ করা হয়েছে। তারা বলেন: কথা বলতে সক্ষম ব্যক্তির কোনো চুক্তি ইশারা-ইঙ্গিত দ্বারাও সংঘটিত হয়। ইশারা-ইঙ্গিত অনুযায়ী আমলের জন্য লিখতে অক্ষমতা শর্ত কি-না এ বিষয়ে মতভেদ বিদ্যমান। বিস্তারিত اشارة নামক পরিভাষায় দ্রষ্টব্য।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 আদান-প্রদানের চুক্তি

📄 আদান-প্রদানের চুক্তি


আত-তাআতী শব্দটি তাআতা শব্দটির মাসদার, যা আল-আতু থেকে নির্গত হয়েছে। যার অর্থ নাগাল পাওয়া বা গ্রহণ করা। ব্যবসায়র ক্ষেত্রে এর ধরন হলো: ক্রেতা বিক্রীত বস্তু গ্রহণ করার বিপরীতে বিক্রেতাকে উক্ত বস্তুর দাম পরিশোধ করবে। অথবা বিক্রেতা পণ্য প্রদান করলে ক্রেতা মূল্য প্রদান করবে, কোনো কথা বার্তা ব্যতীত কিংবা কোনো ইশারা-ইঙ্গিত ছাড়া উক্ত কার্যটি সংঘটিত হবে। আত-তাআতী যেমনিভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে হয় তেমনি লেনদেন ও বিনিময় জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও হতে পারে। তবে বিবাহ বন্ধন এ পদ্ধতিতে সংঘটিত হবে না। সকল চুক্তিরই মূল হচ্ছে, তা কথার দ্বারা সংঘটিত হবে। কিন্তু আত-তাআতী তথা আদান-প্রদান প্রচলন ও অভ্যাস অনুযায়ী হলে তা শাব্দিক নির্দেশনার সমতুল্য বলে বিবেচিত হয়। আর এ জন্য অধিকাংশ ফকীহ এ মত প্রকাশ করেছেন যে, আত-তাআতী দ্বারা চুক্তি সংঘটিত হয়, যখন তাতে এমন চিহ্ন ও নিদর্শন পাওয়া যাবে যা উভয়ের খুশি ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করবে। এটি হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের মত। আর শাফেয়ীদের মতে আত-তাআতী দ্বারা চুক্তি সংঘটিত হওয়া বৈধ নয়। তবে কতক শাফেয়ী ফকীহ আত-তাআতী কেবল গুরুত্বহীন বস্তুতে বৈধ বলেছেন। ইমাম নববী রহ. বলেন: তুচ্ছ বস্তুতে আত-তাআতী বৈধ, মানুষ যেগুলোকে ক্রয়-বিক্রয় হিসেবে গণনা করে।

আত-তাআতী শব্দটি তাআতা শব্দটির মাসদার, যা আল-আতু থেকে নির্গত হয়েছে। যার অর্থ নাগাল পাওয়া বা গ্রহণ করা। ব্যবসায়র ক্ষেত্রে এর ধরন হলো: ক্রেতা বিক্রীত বস্তু গ্রহণ করার বিপরীতে বিক্রেতাকে উক্ত বস্তুর দাম পরিশোধ করবে। অথবা বিক্রেতা পণ্য প্রদান করলে ক্রেতা মূল্য প্রদান করবে, কোনো কথা বার্তা ব্যতীত কিংবা কোনো ইশারা-ইঙ্গিত ছাড়া উক্ত কার্যটি সংঘটিত হবে। আত-তাআতী যেমনিভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে হয় তেমনি লেনদেন ও বিনিময় জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও হতে পারে। তবে বিবাহ বন্ধন এ পদ্ধতিতে সংঘটিত হবে না। সকল চুক্তিরই মূল হচ্ছে, তা কথার দ্বারা সংঘটিত হবে। কিন্তু আত-তাআতী তথা আদান-প্রদান প্রচলন ও অভ্যাস অনুযায়ী হলে তা শাব্দিক নির্দেশনার সমতুল্য বলে বিবেচিত হয়। আর এ জন্য অধিকাংশ ফকীহ এ মত প্রকাশ করেছেন যে, আত-তাআতী দ্বারা চুক্তি সংঘটিত হয়, যখন তাতে এমন চিহ্ন ও নিদর্শন পাওয়া যাবে যা উভয়ের খুশি ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করবে। এটি হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের মত। আর শাফেয়ীদের মতে আত-তাআতী দ্বারা চুক্তি সংঘটিত হওয়া বৈধ নয়। তবে কতক শাফেয়ী ফকীহ আত-তাআতী কেবল গুরুত্বহীন বস্তুতে বৈধ বলেছেন। ইমাম নববী রহ. বলেন: তুচ্ছ বস্তুতে আত-তাআতী বৈধ, মানুষ যেগুলোকে ক্রয়-বিক্রয় হিসেবে গণনা করে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঈজাব ও প্রস্তাবের সাথে ‘কবুল’-এর সামঞ্জস্য

📄 ঈজাব ও প্রস্তাবের সাথে ‘কবুল’-এর সামঞ্জস্য


সকল ফকীহ এ কথায় একমত যে, ঈজাব ও কবুল সামঞ্জস্যপূর্ণ বা একটি অপরটির অনুরূপ হলেই কেবল মাত্র চুক্তি সংঘটিত হবে। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো, বিক্রেতা যে সমস্ত কথা বলবে ক্রেতা সেগুলো কবুল করবে। কিন্তু যদি এর বিপরীত হয়, অর্থাৎ ক্রেতা ঐ সকল শর্ত বা তার কতক শর্তের বাইরে অন্য কিছু গ্রহণ করল, অথবা কিছু প্রস্তাব মানল কিছু মানল না। তবে উক্ত চুক্তি সংঘটিত হবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লামা বুহূতী রহ. বলেন: ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হতে হলে কবুলটি ঈজাব-এর সাথে পরিমাণে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। যদি এর বিপরীত হয়, যেমন: বিক্রেতা বলল: আমি তোমার কাছে (এ বস্তুটি) দশ দিরহামে বিক্রয় করলাম, এরপর যদি ক্রেতা বলে আমি তা আট দিরহামে কবুল করলাম। (তবে উক্ত ক্রয়-বিক্রয়) সংঘটিত হবে না। এক্ষেত্রে আরো একটি শর্ত হলো, সেটা হতে হবে নগদ বা মুদ্রা এবং তার বৈশিষ্ট্য নগদ বাকি ইত্যাদিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং যদি বিক্রেতা বলে, আমি তোমার নিকটে এক হাজার দিরহামে বিক্রয় করলাম। এটি শুনে ক্রেতা বলল আমি একশত দিনারে ক্রয় করলাম অথবা যদি বলে যে, আমি তোমার নিকটে এক হাজার নিখুঁত দিরহামে বিক্রয় করলাম। ক্রেতা বলল: আমি এক হাজার খুঁতপূর্ণ দিরহামে ক্রয় করলাম, এ জাতীয় ঈজাব ও কবুল দ্বারা কোনো ধরনের ক্রয় বিক্রয় সংঘটিত হবে না। ফকীহগণ চুক্তি সংঘটিত হওয়ার শর্ত হিসেবে ঈজাব ও কবুলে অর্থগত সামঞ্জস্য থাকার কথা বর্ণনা করেছেন। এ জন্য তারা উল্লেখ করেছেন, যদি বিক্রেতা বলে: আমি এ বস্তুটি তোমার নিকটে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করলাম। তখন ক্রেতা বলল: আমি তা দুই হাজার দিরহামে ক্রয় করলাম। তবে তা বৈধ হবে। কেননা যে অধিক বস্তু কবুল করে সে কম বস্তুও কবুল করে। এ অবস্থায় যদি বিক্রেতা মূল্যের অতিরিক্ত হওয়াটা গ্রহণ করে সে পরিমাণে পণ্য বাড়িয়ে দেয়, তবে উক্ত চুক্তি দুই হাজারের বিনিময়েই সংঘটিত হবে। আর যদি না গ্রহণ করে তবে এক হাজারেই উক্ত ক্রয় বিক্রয় শুদ্ধ হবে। কেননা বিক্রেতার মালিকানায় অধিক পরিমাণ প্রবেশ করানোর কর্তৃত্ব ক্রেতার নেই, বিক্রেতার সন্তুষ্টি ব্যতীত।

সকল ফকীহ এ কথায় একমত যে, ঈজাব ও কবুল সামঞ্জস্যপূর্ণ বা একটি অপরটির অনুরূপ হলেই কেবল মাত্র চুক্তি সংঘটিত হবে। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো, বিক্রেতা যে সমস্ত কথা বলবে ক্রেতা সেগুলো কবুল করবে। কিন্তু যদি এর বিপরীত হয়, অর্থাৎ ক্রেতা ঐ সকল শর্ত বা তার কতক শর্তের বাইরে অন্য কিছু গ্রহণ করল, অথবা কিছু প্রস্তাব মানল কিছু মানল না। তবে উক্ত চুক্তি সংঘটিত হবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লামা বুহূতী রহ. বলেন: ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হতে হলে কবুলটি ঈজাব-এর সাথে পরিমাণে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। যদি এর বিপরীত হয়, যেমন: বিক্রেতা বলল: আমি তোমার কাছে (এ বস্তুটি) দশ দিরহামে বিক্রয় করলাম, এরপর যদি ক্রেতা বলে আমি তা আট দিরহামে কবুল করলাম। (তবে উক্ত ক্রয়-বিক্রয়) সংঘটিত হবে না। এক্ষেত্রে আরো একটি শর্ত হলো, সেটা হতে হবে নগদ বা মুদ্রা এবং তার বৈশিষ্ট্য নগদ বাকি ইত্যাদিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং যদি বিক্রেতা বলে, আমি তোমার নিকটে এক হাজার দিরহামে বিক্রয় করলাম। এটি শুনে ক্রেতা বলল আমি একশত দিনারে ক্রয় করলাম অথবা যদি বলে যে, আমি তোমার নিকটে এক হাজার নিখুঁত দিরহামে বিক্রয় করলাম। ক্রেতা বলল: আমি এক হাজার খুঁতপূর্ণ দিরহামে ক্রয় করলাম, এ জাতীয় ঈজাব ও কবুল দ্বারা কোনো ধরনের ক্রয় বিক্রয় সংঘটিত হবে না। ফকীহগণ চুক্তি সংঘটিত হওয়ার শর্ত হিসেবে ঈজাব ও কবুলে অর্থগত সামঞ্জস্য থাকার কথা বর্ণনা করেছেন। এ জন্য তারা উল্লেখ করেছেন, যদি বিক্রেতা বলে: আমি এ বস্তুটি তোমার নিকটে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করলাম। তখন ক্রেতা বলল: আমি তা দুই হাজার দিরহামে ক্রয় করলাম। তবে তা বৈধ হবে। কেননা যে অধিক বস্তু কবুল করে সে কম বস্তুও কবুল করে। এ অবস্থায় যদি বিক্রেতা মূল্যের অতিরিক্ত হওয়াটা গ্রহণ করে সে পরিমাণে পণ্য বাড়িয়ে দেয়, তবে উক্ত চুক্তি দুই হাজারের বিনিময়েই সংঘটিত হবে। আর যদি না গ্রহণ করে তবে এক হাজারেই উক্ত ক্রয় বিক্রয় শুদ্ধ হবে। কেননা বিক্রেতার মালিকানায় অধিক পরিমাণ প্রবেশ করানোর কর্তৃত্ব ক্রেতার নেই, বিক্রেতার সন্তুষ্টি ব্যতীত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00