📄 ঈজাব ও কবুলের মাধ্যমসমূহ
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, ঈজাব ও কবুল যেমনিভাবে শব্দের মাধ্যমে অর্জিত হয়, এমনিভাবে লেখা, ইশারা ইঙ্গিত এবং চিঠিপত্রের মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে। এটি কোনো কিছু আদান প্রদানের মাধ্যমেও হতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো চুক্তিতে কিছু মাধ্যমের বিধানের ক্ষেত্রে তারা মতবিরোধ করেছেন। বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, ঈজাব ও কবুল যেমনিভাবে শব্দের মাধ্যমে অর্জিত হয়, এমনিভাবে লেখা, ইশারা ইঙ্গিত এবং চিঠিপত্রের মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে। এটি কোনো কিছু আদান প্রদানের মাধ্যমেও হতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো চুক্তিতে কিছু মাধ্যমের বিধানের ক্ষেত্রে তারা মতবিরোধ করেছেন। বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
📄 ঈজাব ও কবুল- দু’টি শব্দের দ্বারা চুক্তি সংঘটন
সকল ফকীহ একমত, ঈজাব ও কবুল কিছু শব্দের দ্বারা সংঘটিত হয়, চুক্তি সম্পাদনে এটিই হলো মূল। আর এ কথায় ফকীহদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই: যখন অতীতকালীন শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ঈজাব ও কবুল করা হয় তখন চুক্তি সংঘটিত হয়। যেমন বিক্রেতা বলল: বি'তু (আমি বিক্রয় করলাম) আর ক্রেতা বলল : ইশতারাইতু (আমি ক্রয় করলাম।) আর এক্ষেত্রে (এ প্রকাশ্য ঘোষণার মধ্যে) নিয়তের কোনো প্রয়োজন হবে না। কারণ এ সীগাগুলো যদিও অতীতকালীন শব্দ তথাপি ভাষাভাষী ও শরয়ী পারিভাষিক সংজ্ঞাবিদদের প্রচলনে এগুলোকে বর্তমানকালের জন্যে গ্রহণ করা হয়েছে। আর প্রচলনই হচ্ছে শব্দ গঠনের বিপরীতে ফয়সালাকারী। ইমাম কাসানী রহ. একেই কারণ দেখিয়েছেন। তা ছাড়া বেচাকেনা সংঘটিত হওয়ার জন্য এ শব্দগুলো প্রকাশ্য, তাই এগুলো আবশ্যক করে নেওয়া হয়েছে। এটি ইমাম হাত্তাব রহ. বলেছেন। ভবিষ্যতের কোনো শব্দ দ্বারা সংঘটিত হবে না। তাই প্রশ্নবোধক শব্দ; আর মুযারে - যা ভবিষ্যতকাল নির্দেশ করে, এর দ্বারা ঈজাব ও কবুল সংঘটিত হবে না। তবে বর্তমানের অর্থে মুযারে-এর যে সীগা-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সে সম্পর্কে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। যেমন: আমরের (আদেশসূচক) সীগা। যথা: কাউকে বলা হলো : বি'নী (আমার নিকট বিক্রয় করো)। অতঃপর যখন অপর পক্ষ থেকে এ কথার জবাব দেবে এবং বলবে: বি'তু (আমি তোমার নিকট বিক্রি করলাম।) হানাফীগণ বলেন: এ দ্বিতীয় কথাটি ঈজাব হলো, যা প্রথম পক্ষের কবুলের মুখাপেক্ষী। আর এটি হাম্বলীদের একটি মত এবং শাফেয়ী মাযহাবের অগৃহীত বক্তব্যও। মালেকীদের মত, এটি শাফেয়ীদের গৃহীত মত এবং হাম্বলীদের এক মত : এ শব্দগুলোর দ্বারাই ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হবে। তাই এরপর প্রথম পক্ষের কবুলের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। অপরদিকে মুযারে-এর সীগা যদি বর্তমান কাল নির্দেশ করে তাহলে চুক্তি সংঘটিত হবে। অন্যথায় হবে না। ফাতাওয়া হিন্দিয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, যখন বিক্রেতা বলবে: আমি তোমার নিকট এ বস্তুটি একহাজার দীনারের বিনিময়ে বিক্রয় করলাম অথবা আমি তা ব্যয় করলাম অথবা আমি তোমাকে তা প্রদান করলাম। আর ক্রেতা বলল: আমি তোমার নিকট থেকে এটি ক্রয় করলাম অথবা গ্রহণ করলাম; এ অবস্থায় দুজনেই প্রথম কথাটিতে বর্তমান কালের নিয়ত করলে ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন হবে। যদি তাদের একজন অতীতকালের শব্দ এবং অপরজন ভবিষ্যতের শব্দ ব্যবহার করে এবং ঈজাবে বর্তমান কালের নিয়ত করে, তাহলে ও ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হবে। যদি তা নিয়ত না করে, তাহলে ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদিত হবে না। উদাহরণস্বরূপ, ইবনে আব্দুস সালামের নিকট থেকে হাত্তাব যা বর্ণনা করেছেন, তা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বলেন: যদি কেউ অতীতকালীন সীগা/শব্দ ব্যবহার করে, তাহলে গ্রহণ করা থেকে ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা ঠিক হবে না। আর যদি মুযারে তথা ভবিষ্যতকালীন শব্দ ব্যবহার করে, তাহলে তা সম্ভাব্য হওয়ার দিকে নির্দেশ করবে এবং এরপর সে শপথ করবে যে বিষয়ের দিকে সে ইঙ্গিত করেছে সেদিকে। বিস্তারিত দেখুন : صيفة
সকল ফকীহ একমত, ঈজাব ও কবুল কিছু শব্দের দ্বারা সংঘটিত হয়, চুক্তি সম্পাদনে এটিই হলো মূল। আর এ কথায় ফকীহদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই: যখন অতীতকালীন শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ঈজাব ও কবুল করা হয় তখন চুক্তি সংঘটিত হয়। যেমন বিক্রেতা বলল: বি'তু (আমি বিক্রয় করলাম) আর ক্রেতা বলল : ইশতারাইতু (আমি ক্রয় করলাম।) আর এক্ষেত্রে (এ প্রকাশ্য ঘোষণার মধ্যে) নিয়তের কোনো প্রয়োজন হবে না। কারণ এ সীগাগুলো যদিও অতীতকালীন শব্দ তথাপি ভাষাভাষী ও শরয়ী পারিভাষিক সংজ্ঞাবিদদের প্রচলনে এগুলোকে বর্তমানকালের জন্যে গ্রহণ করা হয়েছে। আর প্রচলনই হচ্ছে শব্দ গঠনের বিপরীতে ফয়সালাকারী। ইমাম কাসানী রহ. একেই কারণ দেখিয়েছেন। তা ছাড়া বেচাকেনা সংঘটিত হওয়ার জন্য এ শব্দগুলো প্রকাশ্য, তাই এগুলো আবশ্যক করে নেওয়া হয়েছে। এটি ইমাম হাত্তাব রহ. বলেছেন। ভবিষ্যতের কোনো শব্দ দ্বারা সংঘটিত হবে না। তাই প্রশ্নবোধক শব্দ; আর মুযারে - যা ভবিষ্যতকাল নির্দেশ করে, এর দ্বারা ঈজাব ও কবুল সংঘটিত হবে না। তবে বর্তমানের অর্থে মুযারে-এর যে সীগা-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সে সম্পর্কে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। যেমন: আমরের (আদেশসূচক) সীগা। যথা: কাউকে বলা হলো : বি'নী (আমার নিকট বিক্রয় করো)। অতঃপর যখন অপর পক্ষ থেকে এ কথার জবাব দেবে এবং বলবে: বি'তু (আমি তোমার নিকট বিক্রি করলাম।) হানাফীগণ বলেন: এ দ্বিতীয় কথাটি ঈজাব হলো, যা প্রথম পক্ষের কবুলের মুখাপেক্ষী। আর এটি হাম্বলীদের একটি মত এবং শাফেয়ী মাযহাবের অগৃহীত বক্তব্যও। মালেকীদের মত, এটি শাফেয়ীদের গৃহীত মত এবং হাম্বলীদের এক মত : এ শব্দগুলোর দ্বারাই ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হবে। তাই এরপর প্রথম পক্ষের কবুলের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। অপরদিকে মুযারে-এর সীগা যদি বর্তমান কাল নির্দেশ করে তাহলে চুক্তি সংঘটিত হবে। অন্যথায় হবে না। ফাতাওয়া হিন্দিয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, যখন বিক্রেতা বলবে: আমি তোমার নিকট এ বস্তুটি একহাজার দীনারের বিনিময়ে বিক্রয় করলাম অথবা আমি তা ব্যয় করলাম অথবা আমি তোমাকে তা প্রদান করলাম। আর ক্রেতা বলল: আমি তোমার নিকট থেকে এটি ক্রয় করলাম অথবা গ্রহণ করলাম; এ অবস্থায় দুজনেই প্রথম কথাটিতে বর্তমান কালের নিয়ত করলে ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন হবে। যদি তাদের একজন অতীতকালের শব্দ এবং অপরজন ভবিষ্যতের শব্দ ব্যবহার করে এবং ঈজাবে বর্তমান কালের নিয়ত করে, তাহলে ও ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হবে। যদি তা নিয়ত না করে, তাহলে ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদিত হবে না। উদাহরণস্বরূপ, ইবনে আব্দুস সালামের নিকট থেকে হাত্তাব যা বর্ণনা করেছেন, তা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বলেন: যদি কেউ অতীতকালীন সীগা/শব্দ ব্যবহার করে, তাহলে গ্রহণ করা থেকে ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা ঠিক হবে না। আর যদি মুযারে তথা ভবিষ্যতকালীন শব্দ ব্যবহার করে, তাহলে তা সম্ভাব্য হওয়ার দিকে নির্দেশ করবে এবং এরপর সে শপথ করবে যে বিষয়ের দিকে সে ইঙ্গিত করেছে সেদিকে। বিস্তারিত দেখুন : صيفة
📄 চুক্তির মধ্যে শব্দ বা অর্থের মূল্যায়ন
কিছু সংখ্যক ফকীহের মতে ফিকহী নিয়মানুযায়ী চুক্তির মূল লক্ষণীয় বিষয় হলো কাঙ্ক্ষিত ও উদ্দিষ্ট অর্থ এবং উদ্দেশ্য। শব্দ ও বাক্য মূল উদ্দেশ্য নয়। এ নিয়মটির অর্থ হলো : যেমনটি আদ্দুরার গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে- চুক্তি সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদনকারী ব্যক্তিদ্বয়ের নিজেদের মধ্যে ব্যবহৃত শব্দের দিকে নজর দেওয়া হয় না, বরং চুক্তির সময় বাক্যের মধ্যে যে শব্দগুলো ব্যবহৃত হয় তার মূল লক্ষ্যের ও অর্থের প্রতিই নজর করা হয়। কারণ, প্রকৃত লক্ষ্য হলো বাক্যের অর্থ, শব্দ নয়, অথবা ব্যবহৃত সীগাও নয়। কারণ অর্থের জন্যেই শব্দের গঠন। তবে বিভিন্ন চুক্তিতে ফকীহগণ এ মূলনীতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মতবিরোধ করেছেন। তাদের এক শ্রেণী কোথাও এটিকে ব্যবহার করেছেন, আর অপর এক শ্রেণী এটি ব্যবহার করেননি। আর এটা এ চুক্তিগুলোর প্রকৃতিতে বিরোধের দরুন ঘটেছে। প্রকাশ থাকে যে, হানাফী মাযহাবের ফকীহদের মতে, এটি অধিকাংশ চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর এর অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইবনে নুজাইম রহ. বলেন: মূল্যায়ন ও বিবেচনা অর্থের, শব্দের নয়। অনেক স্থানে হানাফী ফকীহগণ তা স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। যেমন : কাফালাহ - যে মূল ব্যক্তিকে দায়মুক্ত রাখার শর্ত করা হলে তা হবে হাওয়ালা আর দায়মুক্ত না রাখার শর্ত করা হলে তা হবে কাফালাহ। ঋণ প্রদানকারী যদি ঋণের টাকা দান করে দেয়, তাহলে অর্থ হিসাবে এটি ঋণ গ্রহীতাকে দায়মুক্তি প্রদান বলে বিবেচিত হবে। তাই সহীহ মতানুযায়ী এই হিবা ও দান কবুলের ও কজা করার ওপর নির্ভর করবে না। এমনিভাবে যদি কেউ তালাক থেকে রাজআত করে নিকাহের শব্দ দ্বারা, তাহলে সে রাজআত সহীহ হবে অর্থের দিক লক্ষ করে। আর ব্যবসায় সম্পন্ন হবে কারো এ কথার দ্বারা : এটি ধরো এতো টাকায়। অতঃপর অপর পক্ষ বলবে, আমি ধরলাম। এ ক্ষেত্রে হিবার শব্দ দ্বারাও বিক্রয় সংঘটিত হবে যদি বদলের উল্লেখসহ তা বলা হয়। এমনি ভাবে : আল-ই'তা ও আল-ইশতিরা শব্দ দ্বারাও বিক্রি সম্পন্ন হবে। আর ইজারা সম্পাদিত হবে তামলীক ও আল-হিবা শব্দসমূহ দ্বারা। তদ্রূপ ইজারা সংঘটিত হবে উপকারিতার সন্ধি (আস-সুলহু 'অনিল মানাফি'); এবং আরিয়াত শব্দ দ্বারা। যে সব শব্দ তাৎক্ষণিকভাবে মূল বস্তুর মালিকানা বুঝায় সে সব শব্দ দ্বারা বিবাহ সংঘটিত হয়। যেমন : আল-বাই', আল-শারা, আল-হিবা ও আত-তামলীক। আর সালাম সংঘটিত হবে বাই' শব্দ দ্বারা, যেমন বেচাকেনা সংঘটিত হবে সালাম শব্দ দ্বারা। মুদারাবাতে পুঁজির মালিক যদি পূর্ণ লাভ মুদারিবের, এ শর্ত মেনে নেয়, তাহলে মুদারাবা শব্দ ব্যবহার করলেও তা হবে ঋণ প্রদান। যদি পূর্ণ লাভ মালিকের জন্য হয় তাহলে তা হবে ইবযা; মুদারাবা নয়। অতঃপর ইবনে নুজাইম বলেন, উপরিউক্ত মূলনীতির আলোকে অনেকগুলো মাসআলা বের হতে পারে। যেমন: মূল্য গ্রহণ ব্যতীত বিক্রির দ্বারা কখনও হিবা সংঘটিত হবে না। আর ভাড়া দিয়ে ভাড়া না নিলে তা আরিয়াত বা ধার বলে গণ্য হবে না। আর নিকাহ ও তাযবীজ শব্দ দ্বারা বিক্রয় সম্পন্ন হবে না। এমনিভাবে তালাকের শব্দাবলি দ্বারা দাসমুক্তি হবে না, যদি তার নিয়ত করাও হয়। কারণ, তালাক ও দাসমুক্তি এ দুটোতে শব্দের প্রতিও লক্ষ রাখা হয়; শুধু অর্থের প্রতি নয়। হানাফীগণ এ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে যে সকল মাসআলা বের করেছেন সেগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য মাসআলা হলো: বাই'উল ওয়াফা সম্পাদন করার চুক্তি। সুতরাং যখন বিক্রেতা বলবে : বি'তু হাদিহিদ দারা বাই'আল ওয়াফা বিকাযা 'এতো টাকার বিপরীতে এ ঘরটি বাইউল ওয়াফা পদ্ধতিতে বিক্রি করলাম'। আর এ প্রস্তাবের পর অপরপক্ষ এটি কবুল করে। এ কথার দ্বারা মূল ঘরের মালিকানা প্রদানের কোনো ফায়দা অর্জিত হবে না, যদিও ব্যবসায়ের শব্দ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে ফায়দা অর্জন করা আবশ্যক করে। এখানে তা হয় না, যেহেতু দু'পক্ষের মালিকানা প্রদান উদ্দেশ্য থাকে না। বরং বাইউল ওয়াফার উদ্দেশ্য হলো বিক্রেতার জিম্মাতে থাকা ক্রয়কারীর ঋণ সুশৃঙ্খলভাবে নিরাপদ রাখা। এই ঋণ পরিপূর্ণ ভাবে আদায় করা পর্যন্ত পণ্যটা ক্রেতার হাতে থাকবে। তাই এখানে বন্ধকের বিধান কার্যকর হবে, বিক্রির নয়; যেহেতু মর্ম ও অর্থের মূল্যায়ন হবে, শব্দ ও বাক্যের নয়। এর ভিত্তিতে বায়উল ওয়াফাতে বিক্রেতা মূল্য ফিরিয়ে দিয়ে পণ্যটা ফেরত নেবে, যেমন ক্রেতা পণ্যটা ফেরত দিয়ে মূল্যটা ফেরত নেবে। এ সময় ক্রেতার জন্য জায়েয হবে না, বায়উল ওয়াফাতে বিক্রীত বস্তু বিক্রেতা ব্যতীত আর কারো কাছে সে বিক্রি করবে। কারণ, সেটি হলো বন্ধকের মতো। যেমন ক্রেতার বায়য়ে ওফা-এর মধ্যে শুফআ-এর অধিকার থাকে না। বরং শুফআ-এর অধিকার বাকী থাকে বিক্রেতার জন্য। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা বায়উল ওয়াফা পরিচ্ছেদে দ্রষ্টব্য। মালেকী মাযহাবের আলেমগণ বিবাহের ক্ষেত্রে কিছু কঠিনতা করেন। কিন্তু তারা নিকাহ বা বিবাহ সূচক শব্দ হওয়ার শর্ত করেন না। বরং বলেন, স্থায়ী মালিকানা প্রকাশক যে কোন শব্দে বিবাহ সংঘটিত হয়। আর তা হলো তাযবীজ, তামলীক, হিবা ও বাই' ইত্যাদি শব্দ। তারা আরো বলেন, এ সকল শব্দের উদ্দেশ্যই বিবাহ হলে তা হবে সহীহ। চুক্তির ক্ষেত্রে শব্দের তুলনায় অর্থকে অগ্রাধিকার বা প্রাধান্য দেওয়াকে সকল শাফেয়ী সর্বসম্মত নীতির ন্যায় গ্রহণ করেনি। বরং তারা এ নীতিগ্রহণের ক্ষেত্রে মতবিরোধ উল্লেখ করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লামা সুয়ূতী রহ. বলেন: চুক্তির সীগা গুরুত্ব ও মূল্য পাবে নাকি শব্দের অর্থ, এটা নিয়ে মতবিরোধ হয়েছে। ফলে শাখা মাসআলায় ও প্রাধান্যে বিরোধ হয়েছে। ইমাম যারকাশী রহ. বলেন: কায়েদা বা রীতি হলো, যদি শব্দ অর্থ প্রকাশে দুর্বল হয়, তাহলে প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী এটির হুকুম বাতিল হয়ে যাবে। যেমন: (বি'তুকা বিলা ছামান) 'আমি তোমার কাছে এটি বিক্রয় করলাম কোনো মূল্য ব্যতীত।' এক্ষেত্রে বিক্রি হবে না। আর যদি শব্দের মধ্যে কোনো প্রকার দুর্বলতা না দেখা যায়, তাহলে হয়তো সীগাটি প্রসিদ্ধ হবে, তাহলে শব্দটি হয়তো তার মর্ম বোঝাবে নয়তো তার অর্থ। যদি মর্ম প্রকাশে সীগাটি প্রসিদ্ধ হয়, যেমন: আসলামতু ইলাইকা 'আমি তোমার প্রতি এ গোলামের বিপরীতে কাপড় সপে দিলাম।' ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ সীগা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মর্মগ্রহণই অধিক শুদ্ধ। এক্ষেত্রে কেউ কেউ বলেন, ব্যবসায় সম্পাদিত হবে। আর যদি সীগাটি প্রসিদ্ধ না হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে অর্থের প্রতি বিবেচনা করে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। যেমন বলা হয়ে থাকে: বিকাযা ওয়াহাবতুকা 'আমি তোমাকে এতো টাকার বিনিময়ে দান বা হিবা করলাম' বলা। তাহলে ব্যবসা বা কেনা-বেচা হওয়াই অধিক সহীহ হবে। আর যদি এ দু'টি অবস্থাই সমানভাবে বিরাজ করে, তাহলে সীগার দিকটাই ধরে নেওয়া হবে অধিক সহীহ। কারণ এ ক্ষেত্রে সীগাটিই হলো আসল, আর অর্থ হলো তার অনুগামী।
কিছু সংখ্যক ফকীহের মতে ফিকহী নিয়মানুযায়ী চুক্তির মূল লক্ষণীয় বিষয় হলো কাঙ্ক্ষিত ও উদ্দিষ্ট অর্থ এবং উদ্দেশ্য। শব্দ ও বাক্য মূল উদ্দেশ্য নয়। এ নিয়মটির অর্থ হলো : যেমনটি আদ্দুরার গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে- চুক্তি সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদনকারী ব্যক্তিদ্বয়ের নিজেদের মধ্যে ব্যবহৃত শব্দের দিকে নজর দেওয়া হয় না, বরং চুক্তির সময় বাক্যের মধ্যে যে শব্দগুলো ব্যবহৃত হয় তার মূল লক্ষ্যের ও অর্থের প্রতিই নজর করা হয়। কারণ, প্রকৃত লক্ষ্য হলো বাক্যের অর্থ, শব্দ নয়, অথবা ব্যবহৃত সীগাও নয়। কারণ অর্থের জন্যেই শব্দের গঠন। তবে বিভিন্ন চুক্তিতে ফকীহগণ এ মূলনীতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মতবিরোধ করেছেন। তাদের এক শ্রেণী কোথাও এটিকে ব্যবহার করেছেন, আর অপর এক শ্রেণী এটি ব্যবহার করেননি। আর এটা এ চুক্তিগুলোর প্রকৃতিতে বিরোধের দরুন ঘটেছে। প্রকাশ থাকে যে, হানাফী মাযহাবের ফকীহদের মতে, এটি অধিকাংশ চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর এর অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইবনে নুজাইম রহ. বলেন: মূল্যায়ন ও বিবেচনা অর্থের, শব্দের নয়। অনেক স্থানে হানাফী ফকীহগণ তা স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। যেমন : কাফালাহ - যে মূল ব্যক্তিকে দায়মুক্ত রাখার শর্ত করা হলে তা হবে হাওয়ালা আর দায়মুক্ত না রাখার শর্ত করা হলে তা হবে কাফালাহ। ঋণ প্রদানকারী যদি ঋণের টাকা দান করে দেয়, তাহলে অর্থ হিসাবে এটি ঋণ গ্রহীতাকে দায়মুক্তি প্রদান বলে বিবেচিত হবে। তাই সহীহ মতানুযায়ী এই হিবা ও দান কবুলের ও কজা করার ওপর নির্ভর করবে না। এমনিভাবে যদি কেউ তালাক থেকে রাজআত করে নিকাহের শব্দ দ্বারা, তাহলে সে রাজআত সহীহ হবে অর্থের দিক লক্ষ করে। আর ব্যবসায় সম্পন্ন হবে কারো এ কথার দ্বারা : এটি ধরো এতো টাকায়। অতঃপর অপর পক্ষ বলবে, আমি ধরলাম। এ ক্ষেত্রে হিবার শব্দ দ্বারাও বিক্রয় সংঘটিত হবে যদি বদলের উল্লেখসহ তা বলা হয়। এমনি ভাবে : আল-ই'তা ও আল-ইশতিরা শব্দ দ্বারাও বিক্রি সম্পন্ন হবে। আর ইজারা সম্পাদিত হবে তামলীক ও আল-হিবা শব্দসমূহ দ্বারা। তদ্রূপ ইজারা সংঘটিত হবে উপকারিতার সন্ধি (আস-সুলহু 'অনিল মানাফি'); এবং আরিয়াত শব্দ দ্বারা। যে সব শব্দ তাৎক্ষণিকভাবে মূল বস্তুর মালিকানা বুঝায় সে সব শব্দ দ্বারা বিবাহ সংঘটিত হয়। যেমন : আল-বাই', আল-শারা, আল-হিবা ও আত-তামলীক। আর সালাম সংঘটিত হবে বাই' শব্দ দ্বারা, যেমন বেচাকেনা সংঘটিত হবে সালাম শব্দ দ্বারা। মুদারাবাতে পুঁজির মালিক যদি পূর্ণ লাভ মুদারিবের, এ শর্ত মেনে নেয়, তাহলে মুদারাবা শব্দ ব্যবহার করলেও তা হবে ঋণ প্রদান। যদি পূর্ণ লাভ মালিকের জন্য হয় তাহলে তা হবে ইবযা; মুদারাবা নয়। অতঃপর ইবনে নুজাইম বলেন, উপরিউক্ত মূলনীতির আলোকে অনেকগুলো মাসআলা বের হতে পারে। যেমন: মূল্য গ্রহণ ব্যতীত বিক্রির দ্বারা কখনও হিবা সংঘটিত হবে না। আর ভাড়া দিয়ে ভাড়া না নিলে তা আরিয়াত বা ধার বলে গণ্য হবে না। আর নিকাহ ও তাযবীজ শব্দ দ্বারা বিক্রয় সম্পন্ন হবে না। এমনিভাবে তালাকের শব্দাবলি দ্বারা দাসমুক্তি হবে না, যদি তার নিয়ত করাও হয়। কারণ, তালাক ও দাসমুক্তি এ দুটোতে শব্দের প্রতিও লক্ষ রাখা হয়; শুধু অর্থের প্রতি নয়। হানাফীগণ এ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে যে সকল মাসআলা বের করেছেন সেগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য মাসআলা হলো: বাই'উল ওয়াফা সম্পাদন করার চুক্তি। সুতরাং যখন বিক্রেতা বলবে : বি'তু হাদিহিদ দারা বাই'আল ওয়াফা বিকাযা 'এতো টাকার বিপরীতে এ ঘরটি বাইউল ওয়াফা পদ্ধতিতে বিক্রি করলাম'। আর এ প্রস্তাবের পর অপরপক্ষ এটি কবুল করে। এ কথার দ্বারা মূল ঘরের মালিকানা প্রদানের কোনো ফায়দা অর্জিত হবে না, যদিও ব্যবসায়ের শব্দ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে ফায়দা অর্জন করা আবশ্যক করে। এখানে তা হয় না, যেহেতু দু'পক্ষের মালিকানা প্রদান উদ্দেশ্য থাকে না। বরং বাইউল ওয়াফার উদ্দেশ্য হলো বিক্রেতার জিম্মাতে থাকা ক্রয়কারীর ঋণ সুশৃঙ্খলভাবে নিরাপদ রাখা। এই ঋণ পরিপূর্ণ ভাবে আদায় করা পর্যন্ত পণ্যটা ক্রেতার হাতে থাকবে। তাই এখানে বন্ধকের বিধান কার্যকর হবে, বিক্রির নয়; যেহেতু মর্ম ও অর্থের মূল্যায়ন হবে, শব্দ ও বাক্যের নয়। এর ভিত্তিতে বায়উল ওয়াফাতে বিক্রেতা মূল্য ফিরিয়ে দিয়ে পণ্যটা ফেরত নেবে, যেমন ক্রেতা পণ্যটা ফেরত দিয়ে মূল্যটা ফেরত নেবে। এ সময় ক্রেতার জন্য জায়েয হবে না, বায়উল ওয়াফাতে বিক্রীত বস্তু বিক্রেতা ব্যতীত আর কারো কাছে সে বিক্রি করবে। কারণ, সেটি হলো বন্ধকের মতো। যেমন ক্রেতার বায়য়ে ওফা-এর মধ্যে শুফআ-এর অধিকার থাকে না। বরং শুফআ-এর অধিকার বাকী থাকে বিক্রেতার জন্য। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা বায়উল ওয়াফা পরিচ্ছেদে দ্রষ্টব্য। মালেকী মাযহাবের আলেমগণ বিবাহের ক্ষেত্রে কিছু কঠিনতা করেন। কিন্তু তারা নিকাহ বা বিবাহ সূচক শব্দ হওয়ার শর্ত করেন না। বরং বলেন, স্থায়ী মালিকানা প্রকাশক যে কোন শব্দে বিবাহ সংঘটিত হয়। আর তা হলো তাযবীজ, তামলীক, হিবা ও বাই' ইত্যাদি শব্দ। তারা আরো বলেন, এ সকল শব্দের উদ্দেশ্যই বিবাহ হলে তা হবে সহীহ। চুক্তির ক্ষেত্রে শব্দের তুলনায় অর্থকে অগ্রাধিকার বা প্রাধান্য দেওয়াকে সকল শাফেয়ী সর্বসম্মত নীতির ন্যায় গ্রহণ করেনি। বরং তারা এ নীতিগ্রহণের ক্ষেত্রে মতবিরোধ উল্লেখ করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লামা সুয়ূতী রহ. বলেন: চুক্তির সীগা গুরুত্ব ও মূল্য পাবে নাকি শব্দের অর্থ, এটা নিয়ে মতবিরোধ হয়েছে। ফলে শাখা মাসআলায় ও প্রাধান্যে বিরোধ হয়েছে। ইমাম যারকাশী রহ. বলেন: কায়েদা বা রীতি হলো, যদি শব্দ অর্থ প্রকাশে দুর্বল হয়, তাহলে প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী এটির হুকুম বাতিল হয়ে যাবে। যেমন: (বি'তুকা বিলা ছামান) 'আমি তোমার কাছে এটি বিক্রয় করলাম কোনো মূল্য ব্যতীত।' এক্ষেত্রে বিক্রি হবে না। আর যদি শব্দের মধ্যে কোনো প্রকার দুর্বলতা না দেখা যায়, তাহলে হয়তো সীগাটি প্রসিদ্ধ হবে, তাহলে শব্দটি হয়তো তার মর্ম বোঝাবে নয়তো তার অর্থ। যদি মর্ম প্রকাশে সীগাটি প্রসিদ্ধ হয়, যেমন: আসলামতু ইলাইকা 'আমি তোমার প্রতি এ গোলামের বিপরীতে কাপড় সপে দিলাম।' ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ সীগা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মর্মগ্রহণই অধিক শুদ্ধ। এক্ষেত্রে কেউ কেউ বলেন, ব্যবসায় সম্পাদিত হবে। আর যদি সীগাটি প্রসিদ্ধ না হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে অর্থের প্রতি বিবেচনা করে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। যেমন বলা হয়ে থাকে: বিকাযা ওয়াহাবতুকা 'আমি তোমাকে এতো টাকার বিনিময়ে দান বা হিবা করলাম' বলা। তাহলে ব্যবসা বা কেনা-বেচা হওয়াই অধিক সহীহ হবে। আর যদি এ দু'টি অবস্থাই সমানভাবে বিরাজ করে, তাহলে সীগার দিকটাই ধরে নেওয়া হবে অধিক সহীহ। কারণ এ ক্ষেত্রে সীগাটিই হলো আসল, আর অর্থ হলো তার অনুগামী।
📄 লেখা অথবা চিঠির মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন
সাধারণভাবে সকল ফকীহ লিখনি বা কোনো দূত প্রেরণের মাধ্যমে ঈজাব ও কবুলের দ্বারা চুক্তি সংঘটিত হওয়ার বিশুদ্ধতায় ঐকমত্য ব্যক্ত করেছেন। তবে এটি বিবাহের চুক্তি ব্যতীত অন্য সকল চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অতঃপর তারা কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করে কিছু কিছু শর্তের ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লামা মারগিনানী রহ. বলেন: কোনো কিছু লেখা হলো কোনো বিষয়ে বক্তব্য রাখার ন্যায়। এমনিভাবে কোনো দূত মারফত যখন চিঠি এবং লেখা নির্দিষ্ট মজলিসে পৌঁছবে। ইমাম দুসূকী রহ. ব্যবসায় অধ্যায়ে এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন: এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের কথা অথবা উভয় পক্ষের লেখা দ্বারা কিংবা একজনের কথা অন্য জনের লেখার দ্বারা ক্রয়-বিক্রয় বিশুদ্ধভাবে সংঘটিত হবে। কিন্তু বিবাহের চুক্তি কোনো লেখনীর দ্বারা সংঘটিত হবে না। এটি অধিকাংশ ফকীহ মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলীদের অভিমত। পাত্র-পাত্রী উভয়েই উপস্থিত থাকুক অথবা অনুপস্থিত থাকুক। এ প্রসঙ্গে আল্লামা দারদীর রহ. বলেন: বোবা ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও ক্ষেত্রে ইশারা অথবা লেখনী দ্বারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথাযথ হবে না। তিনি অপর এক স্থানে বলেছেন: যদি অভিভাবকের জন্য নির্ধারিত শর্ত অথবা স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের অথবা তাদের যে কোনো একজনের শর্ত কিংবা বিবাহের কোনো রুকন বিনষ্ট হয়, যেমন কোনো মেয়ে যদি অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করে বা মৌখিক বক্তব্য দ্বারা যদি বিবাহ সম্পাদিত না হয়, বরং কোনো লেখা অথবা অন্য কোনো ইঙ্গিত বা ইশারা দ্বারা অথবা শরয়ী গ্রাহ্য নয় এমন কোনো কথার দ্বারা সংঘটিত হয়, তবে সহবাসের পূর্বে অথবা পরে, তা যত পরেই হোক না কেন, উক্ত বিবাহ সাধারণভাবে বাতিল হবে। হানাফী মাযহাবের বক্তব্যে এ বিষয়টির বৈধতা পাওয়া যায়। তাদের বক্তব্য হলো: উপস্থিত ব্যক্তির লেখার মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হবে না। তবে যদি মজলিসে অনুপস্থিত ব্যক্তি কর্তৃক লিখিত বিবাহের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কনে কবুল বলে, তবে নির্দিষ্ট শর্ত ও অবস্থা সাপেক্ষে বিবাহ সংঘটিত হতে পারে। যেমনটি ইবনে 'আবিদীন রহ. তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: লেখার মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হবে যেমনিভাবে মৌখিক প্রস্তাবের মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হয়। তবে তার ধরন হলো, প্রস্তাব সম্বলিত একটি লেখা যখন কনের কাছে পৌঁছবে, তখন সে সাক্ষীদের উপস্থিত করবে এবং উক্ত লেখা তাদের সামনে পাঠ করবে এবং বলবে: 'আমি তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম' অথবা বলবে: 'অমুক ব্যক্তি আমাকে বিবাহের প্রস্তাব লিখে পাঠিয়েছে, এ ব্যাপারে তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তার সাথে আমাকে বিবাহ দিলাম, তাহলে (এ বিবাহ) সহীহ হবে। আর যদি সে তাদের উপস্থিতিতে শুধু এ কথা বলে যে, 'আমি অমুকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম,' তবে উক্ত বিবাহ সংঘটিত হবে না, যেহেতু বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের কথা শ্রবণ করা শর্ত। এ অবস্থায় তাদেরকে যদি পাত্রী লিখিত প্রস্তাব শোনায় এবং সে কবুল করে, তবে দু'পক্ষের কথা শ্রবণের কারণে উক্ত বিবাহ সংঘটিত ও সহীহ হবে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী লেখার দ্বারা কোনো চুক্তি সংঘটিত হতে হলে তা যে কোনো একজনের ভাষায় লিপিবদ্ধ করতে হবে। এটাই ফকীহগণের সর্বসম্মত বক্তব্য। বরং ঐ লেখাটি কখনো শাব্দিক উচ্চারণের চেয়েও বেশি মজবুত এবং অধিক গ্রহণযোগ্য। আর এ জন্যই আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর মু'মিন বান্দাদের তাদের ঋণ আদান-প্রদানের সময় তা লিপিবদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: 'হে মু'মিনগণ! তোমরা যখন একে অন্যের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণের লেনদেন কর তখন তা লিখে রেখ; ... আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে অবহিত। '
সাধারণভাবে সকল ফকীহ লিখনি বা কোনো দূত প্রেরণের মাধ্যমে ঈজাব ও কবুলের দ্বারা চুক্তি সংঘটিত হওয়ার বিশুদ্ধতায় ঐকমত্য ব্যক্ত করেছেন। তবে এটি বিবাহের চুক্তি ব্যতীত অন্য সকল চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অতঃপর তারা কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করে কিছু কিছু শর্তের ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লামা মারগিনানী রহ. বলেন: কোনো কিছু লেখা হলো কোনো বিষয়ে বক্তব্য রাখার ন্যায়। এমনিভাবে কোনো দূত মারফত যখন চিঠি এবং লেখা নির্দিষ্ট মজলিসে পৌঁছবে। ইমাম দুসূকী রহ. ব্যবসায় অধ্যায়ে এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন: এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের কথা অথবা উভয় পক্ষের লেখা দ্বারা কিংবা একজনের কথা অন্য জনের লেখার দ্বারা ক্রয়-বিক্রয় বিশুদ্ধভাবে সংঘটিত হবে। কিন্তু বিবাহের চুক্তি কোনো লেখনীর দ্বারা সংঘটিত হবে না। এটি অধিকাংশ ফকীহ মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলীদের অভিমত। পাত্র-পাত্রী উভয়েই উপস্থিত থাকুক অথবা অনুপস্থিত থাকুক। এ প্রসঙ্গে আল্লামা দারদীর রহ. বলেন: বোবা ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও ক্ষেত্রে ইশারা অথবা লেখনী দ্বারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথাযথ হবে না। তিনি অপর এক স্থানে বলেছেন: যদি অভিভাবকের জন্য নির্ধারিত শর্ত অথবা স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের অথবা তাদের যে কোনো একজনের শর্ত কিংবা বিবাহের কোনো রুকন বিনষ্ট হয়, যেমন কোনো মেয়ে যদি অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করে বা মৌখিক বক্তব্য দ্বারা যদি বিবাহ সম্পাদিত না হয়, বরং কোনো লেখা অথবা অন্য কোনো ইঙ্গিত বা ইশারা দ্বারা অথবা শরয়ী গ্রাহ্য নয় এমন কোনো কথার দ্বারা সংঘটিত হয়, তবে সহবাসের পূর্বে অথবা পরে, তা যত পরেই হোক না কেন, উক্ত বিবাহ সাধারণভাবে বাতিল হবে। হানাফী মাযহাবের বক্তব্যে এ বিষয়টির বৈধতা পাওয়া যায়। তাদের বক্তব্য হলো: উপস্থিত ব্যক্তির লেখার মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হবে না। তবে যদি মজলিসে অনুপস্থিত ব্যক্তি কর্তৃক লিখিত বিবাহের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কনে কবুল বলে, তবে নির্দিষ্ট শর্ত ও অবস্থা সাপেক্ষে বিবাহ সংঘটিত হতে পারে। যেমনটি ইবনে 'আবিদীন রহ. তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: লেখার মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হবে যেমনিভাবে মৌখিক প্রস্তাবের মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হয়। তবে তার ধরন হলো, প্রস্তাব সম্বলিত একটি লেখা যখন কনের কাছে পৌঁছবে, তখন সে সাক্ষীদের উপস্থিত করবে এবং উক্ত লেখা তাদের সামনে পাঠ করবে এবং বলবে: 'আমি তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম' অথবা বলবে: 'অমুক ব্যক্তি আমাকে বিবাহের প্রস্তাব লিখে পাঠিয়েছে, এ ব্যাপারে তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তার সাথে আমাকে বিবাহ দিলাম, তাহলে (এ বিবাহ) সহীহ হবে। আর যদি সে তাদের উপস্থিতিতে শুধু এ কথা বলে যে, 'আমি অমুকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম,' তবে উক্ত বিবাহ সংঘটিত হবে না, যেহেতু বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের কথা শ্রবণ করা শর্ত। এ অবস্থায় তাদেরকে যদি পাত্রী লিখিত প্রস্তাব শোনায় এবং সে কবুল করে, তবে দু'পক্ষের কথা শ্রবণের কারণে উক্ত বিবাহ সংঘটিত ও সহীহ হবে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী লেখার দ্বারা কোনো চুক্তি সংঘটিত হতে হলে তা যে কোনো একজনের ভাষায় লিপিবদ্ধ করতে হবে। এটাই ফকীহগণের সর্বসম্মত বক্তব্য। বরং ঐ লেখাটি কখনো শাব্দিক উচ্চারণের চেয়েও বেশি মজবুত এবং অধিক গ্রহণযোগ্য। আর এ জন্যই আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর মু'মিন বান্দাদের তাদের ঋণ আদান-প্রদানের সময় তা লিপিবদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: 'হে মু'মিনগণ! তোমরা যখন একে অন্যের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণের লেনদেন কর তখন তা লিখে রেখ; ... আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে অবহিত। '