📄 প্রথম : চুক্তির শব্দ
চুক্তিসম্পাদনকারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন কোনো কথা বা কাজ প্রকাশিত হওয়া যা চুক্তিতে তার সন্তুষ্টি প্রমাণ করে, একে ফকীহগণ ঈজাব ও কবুল বলে ব্যক্ত করেছেন। তবে চুক্তির ভিন্নতার কারণে চুক্তির শব্দের মধ্যেও ভিন্নতা প্রকাশিত হবে:
১. বেচাকেনার চুক্তিতে এ ক্ষেত্রে এমন কথা বা কাজ যথেষ্ট যা তার সন্তুষ্টি এবং বিনিময়ের মাধ্যমে মালিক বানানোর প্রমাণ বহন করে। যেমন বিক্রেতা বলল: আমি তোমার নিকট বিক্রি করলাম অথবা আমি তোমাকে প্রদান করলাম অথবা আমি তোমাকে মালিক বানিয়ে দিলাম ইত্যাদি। আর ক্রেতা বলবে: আমি ক্রয় করলাম অথবা আমি মালিক হলাম অথবা আমি গ্রহণ করলাম, এমনি বিভিন্ন শব্দ।
২. হাওয়ালা চুক্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের সবকিছুই যথেষ্ট যা মালিকানা স্থানান্তরে ও ঋণের দায়িত্ব পরিবর্তনে রাজি খুশি থাকা প্রকাশ করে। যেমন মালিকানা বা ঋণের দায়িত্ব স্থানান্তরকারী বলল: আমি তোমার নিকট দায়িত্ব অর্পণ করলাম, আমি তোমার দায়িত্বে এটি যুক্ত করলাম। আর (এর জবাবে) মালিকানা বা দায়িত্ব গ্রহণকারী বলল আমি সম্মত আছি, আমি (এটি) গ্রহণ করলাম ইত্যাদি।
৩. ঋণ বন্ধকের চুক্তি: যা বন্ধকদাতা (ঋণগ্রহীতার) কথার দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে। যেমন, সে বলল আমি তোমার নিকট এ ঘরটি বন্ধক দিলাম অথবা আমি তোমাকে তা বন্ধক হিসেবে প্রদান করলাম। (জাবাবে) বন্ধক গ্রহীতা (ঋণদাতা) বলল আমি সম্মত বা রাজি আছি অথবা আমি গ্রহণ করলাম।
মূলকথা হলো, ঈজাব ও কবুলের পরিচায়ক যে কোনো শব্দ বা রীতির ওপর ভিত্তি করেই চুক্তি সংঘটিত হয়। যেহেতু চুক্তি সংঘটিত হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট শব্দও নেই এবং কোনো নির্দিষ্ট সীগাও নেই।
চুক্তিসম্পাদনকারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন কোনো কথা বা কাজ প্রকাশিত হওয়া যা চুক্তিতে তার সন্তুষ্টি প্রমাণ করে, একে ফকীহগণ ঈজাব ও কবুল বলে ব্যক্ত করেছেন। তবে চুক্তির ভিন্নতার কারণে চুক্তির শব্দের মধ্যেও ভিন্নতা প্রকাশিত হবে:
১. বেচাকেনার চুক্তিতে এ ক্ষেত্রে এমন কথা বা কাজ যথেষ্ট যা তার সন্তুষ্টি এবং বিনিময়ের মাধ্যমে মালিক বানানোর প্রমাণ বহন করে। যেমন বিক্রেতা বলল: আমি তোমার নিকট বিক্রি করলাম অথবা আমি তোমাকে প্রদান করলাম অথবা আমি তোমাকে মালিক বানিয়ে দিলাম ইত্যাদি। আর ক্রেতা বলবে: আমি ক্রয় করলাম অথবা আমি মালিক হলাম অথবা আমি গ্রহণ করলাম, এমনি বিভিন্ন শব্দ।
২. হাওয়ালা চুক্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের সবকিছুই যথেষ্ট যা মালিকানা স্থানান্তরে ও ঋণের দায়িত্ব পরিবর্তনে রাজি খুশি থাকা প্রকাশ করে। যেমন মালিকানা বা ঋণের দায়িত্ব স্থানান্তরকারী বলল: আমি তোমার নিকট দায়িত্ব অর্পণ করলাম, আমি তোমার দায়িত্বে এটি যুক্ত করলাম। আর (এর জবাবে) মালিকানা বা দায়িত্ব গ্রহণকারী বলল আমি সম্মত আছি, আমি (এটি) গ্রহণ করলাম ইত্যাদি।
৩. ঋণ বন্ধকের চুক্তি: যা বন্ধকদাতা (ঋণগ্রহীতার) কথার দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে। যেমন, সে বলল আমি তোমার নিকট এ ঘরটি বন্ধক দিলাম অথবা আমি তোমাকে তা বন্ধক হিসেবে প্রদান করলাম। (জাবাবে) বন্ধক গ্রহীতা (ঋণদাতা) বলল আমি সম্মত বা রাজি আছি অথবা আমি গ্রহণ করলাম।
মূলকথা হলো, ঈজাব ও কবুলের পরিচায়ক যে কোনো শব্দ বা রীতির ওপর ভিত্তি করেই চুক্তি সংঘটিত হয়। যেহেতু চুক্তি সংঘটিত হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট শব্দও নেই এবং কোনো নির্দিষ্ট সীগাও নেই।
📄 ঈজাব ও কবুল দ্বারা উদ্দেশ্য
হানাফী ফকীহগণের মতে চুক্তির ক্ষেত্রে ঈজাব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: চুক্তি সম্পাদনকারী দু'জনের একজনের প্রাথমিক কথাবার্তা; অথবা কথাবার্তার স্থলবর্তী কোনো বিষয়, তা যে ব্যক্তি কাউকে পণ্যের মালিক বানাতে চায় তার পক্ষ থেকে হোক কিংবা মালিক হতে ইচ্ছুক (ক্রেতা) এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হোক। আর কবুল হলো অপর পক্ষ প্রথম পক্ষের কোনো কথার ওপর একমত থেকে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেওয়া দ্বিতীয় কথা। সুতরাং ফকীহদের মতে, উল্লিখিত দু'টি কথার প্রথমটি হলো ঈজাব আর দ্বিতীয়টি হলো কবুল- প্রথম বা দ্বিতীয় কথা যে অন্যকে পণ্যের মালিক বানাতে চায় (বিক্রেতা) বা যে মালিক হতে চায় (ক্রেতা) যে-ই বলুক তাতেই ইজাব-কবুল সাব্যস্ত হবে। হানাফী মাযহাবের আলেমগণ ব্যতীত অন্য আলেমদের মতে, ঈজাব হলো যে মালিক বানাতে চাচ্ছে তার বক্তব্য। যেমন: বিক্রেতা, ইজারাদার, স্ত্রী অথবা তার অভিভাবক। তাদের বক্তব্য প্রথমে ও শেষে যখনই বলা হোক উভয়ই সমান। আর কবুল হলো যে মালিকানা লাভ করে তার বক্তব্য, যদিও তা প্রথম বলা হোক না কেন। সুতরাং তাদের কাছে মোটকথা হলো, যে মালিক বানাবে সে হলো প্রস্তাবকারী (মুজিব)। আর যে ব্যক্তি মালিক হতে চাচ্ছে সে হলো গ্রহণকারী (কবিল)। এক্ষেত্রে ঈজাব ও কবুল অর্থাৎ প্রস্তাব ও গ্রহণ, কোনটি আগে কোনটি পরে তা দেখার বিষয় নয়।
হানাফী ফকীহগণের মতে চুক্তির ক্ষেত্রে ঈজাব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: চুক্তি সম্পাদনকারী দু'জনের একজনের প্রাথমিক কথাবার্তা; অথবা কথাবার্তার স্থলবর্তী কোনো বিষয়, তা যে ব্যক্তি কাউকে পণ্যের মালিক বানাতে চায় তার পক্ষ থেকে হোক কিংবা মালিক হতে ইচ্ছুক (ক্রেতা) এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হোক। আর কবুল হলো অপর পক্ষ প্রথম পক্ষের কোনো কথার ওপর একমত থেকে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেওয়া দ্বিতীয় কথা। সুতরাং ফকীহদের মতে, উল্লিখিত দু'টি কথার প্রথমটি হলো ঈজাব আর দ্বিতীয়টি হলো কবুল- প্রথম বা দ্বিতীয় কথা যে অন্যকে পণ্যের মালিক বানাতে চায় (বিক্রেতা) বা যে মালিক হতে চায় (ক্রেতা) যে-ই বলুক তাতেই ইজাব-কবুল সাব্যস্ত হবে। হানাফী মাযহাবের আলেমগণ ব্যতীত অন্য আলেমদের মতে, ঈজাব হলো যে মালিক বানাতে চাচ্ছে তার বক্তব্য। যেমন: বিক্রেতা, ইজারাদার, স্ত্রী অথবা তার অভিভাবক। তাদের বক্তব্য প্রথমে ও শেষে যখনই বলা হোক উভয়ই সমান। আর কবুল হলো যে মালিকানা লাভ করে তার বক্তব্য, যদিও তা প্রথম বলা হোক না কেন। সুতরাং তাদের কাছে মোটকথা হলো, যে মালিক বানাবে সে হলো প্রস্তাবকারী (মুজিব)। আর যে ব্যক্তি মালিক হতে চাচ্ছে সে হলো গ্রহণকারী (কবিল)। এক্ষেত্রে ঈজাব ও কবুল অর্থাৎ প্রস্তাব ও গ্রহণ, কোনটি আগে কোনটি পরে তা দেখার বিষয় নয়।
📄 ঈজাব ও কবুলের মাধ্যমসমূহ
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, ঈজাব ও কবুল যেমনিভাবে শব্দের মাধ্যমে অর্জিত হয়, এমনিভাবে লেখা, ইশারা ইঙ্গিত এবং চিঠিপত্রের মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে। এটি কোনো কিছু আদান প্রদানের মাধ্যমেও হতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো চুক্তিতে কিছু মাধ্যমের বিধানের ক্ষেত্রে তারা মতবিরোধ করেছেন। বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, ঈজাব ও কবুল যেমনিভাবে শব্দের মাধ্যমে অর্জিত হয়, এমনিভাবে লেখা, ইশারা ইঙ্গিত এবং চিঠিপত্রের মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে। এটি কোনো কিছু আদান প্রদানের মাধ্যমেও হতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো চুক্তিতে কিছু মাধ্যমের বিধানের ক্ষেত্রে তারা মতবিরোধ করেছেন। বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
📄 ঈজাব ও কবুল- দু’টি শব্দের দ্বারা চুক্তি সংঘটন
সকল ফকীহ একমত, ঈজাব ও কবুল কিছু শব্দের দ্বারা সংঘটিত হয়, চুক্তি সম্পাদনে এটিই হলো মূল। আর এ কথায় ফকীহদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই: যখন অতীতকালীন শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ঈজাব ও কবুল করা হয় তখন চুক্তি সংঘটিত হয়। যেমন বিক্রেতা বলল: বি'তু (আমি বিক্রয় করলাম) আর ক্রেতা বলল : ইশতারাইতু (আমি ক্রয় করলাম।) আর এক্ষেত্রে (এ প্রকাশ্য ঘোষণার মধ্যে) নিয়তের কোনো প্রয়োজন হবে না। কারণ এ সীগাগুলো যদিও অতীতকালীন শব্দ তথাপি ভাষাভাষী ও শরয়ী পারিভাষিক সংজ্ঞাবিদদের প্রচলনে এগুলোকে বর্তমানকালের জন্যে গ্রহণ করা হয়েছে। আর প্রচলনই হচ্ছে শব্দ গঠনের বিপরীতে ফয়সালাকারী। ইমাম কাসানী রহ. একেই কারণ দেখিয়েছেন। তা ছাড়া বেচাকেনা সংঘটিত হওয়ার জন্য এ শব্দগুলো প্রকাশ্য, তাই এগুলো আবশ্যক করে নেওয়া হয়েছে। এটি ইমাম হাত্তাব রহ. বলেছেন। ভবিষ্যতের কোনো শব্দ দ্বারা সংঘটিত হবে না। তাই প্রশ্নবোধক শব্দ; আর মুযারে - যা ভবিষ্যতকাল নির্দেশ করে, এর দ্বারা ঈজাব ও কবুল সংঘটিত হবে না। তবে বর্তমানের অর্থে মুযারে-এর যে সীগা-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সে সম্পর্কে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। যেমন: আমরের (আদেশসূচক) সীগা। যথা: কাউকে বলা হলো : বি'নী (আমার নিকট বিক্রয় করো)। অতঃপর যখন অপর পক্ষ থেকে এ কথার জবাব দেবে এবং বলবে: বি'তু (আমি তোমার নিকট বিক্রি করলাম।) হানাফীগণ বলেন: এ দ্বিতীয় কথাটি ঈজাব হলো, যা প্রথম পক্ষের কবুলের মুখাপেক্ষী। আর এটি হাম্বলীদের একটি মত এবং শাফেয়ী মাযহাবের অগৃহীত বক্তব্যও। মালেকীদের মত, এটি শাফেয়ীদের গৃহীত মত এবং হাম্বলীদের এক মত : এ শব্দগুলোর দ্বারাই ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হবে। তাই এরপর প্রথম পক্ষের কবুলের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। অপরদিকে মুযারে-এর সীগা যদি বর্তমান কাল নির্দেশ করে তাহলে চুক্তি সংঘটিত হবে। অন্যথায় হবে না। ফাতাওয়া হিন্দিয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, যখন বিক্রেতা বলবে: আমি তোমার নিকট এ বস্তুটি একহাজার দীনারের বিনিময়ে বিক্রয় করলাম অথবা আমি তা ব্যয় করলাম অথবা আমি তোমাকে তা প্রদান করলাম। আর ক্রেতা বলল: আমি তোমার নিকট থেকে এটি ক্রয় করলাম অথবা গ্রহণ করলাম; এ অবস্থায় দুজনেই প্রথম কথাটিতে বর্তমান কালের নিয়ত করলে ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন হবে। যদি তাদের একজন অতীতকালের শব্দ এবং অপরজন ভবিষ্যতের শব্দ ব্যবহার করে এবং ঈজাবে বর্তমান কালের নিয়ত করে, তাহলে ও ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হবে। যদি তা নিয়ত না করে, তাহলে ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদিত হবে না। উদাহরণস্বরূপ, ইবনে আব্দুস সালামের নিকট থেকে হাত্তাব যা বর্ণনা করেছেন, তা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বলেন: যদি কেউ অতীতকালীন সীগা/শব্দ ব্যবহার করে, তাহলে গ্রহণ করা থেকে ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা ঠিক হবে না। আর যদি মুযারে তথা ভবিষ্যতকালীন শব্দ ব্যবহার করে, তাহলে তা সম্ভাব্য হওয়ার দিকে নির্দেশ করবে এবং এরপর সে শপথ করবে যে বিষয়ের দিকে সে ইঙ্গিত করেছে সেদিকে। বিস্তারিত দেখুন : صيفة
সকল ফকীহ একমত, ঈজাব ও কবুল কিছু শব্দের দ্বারা সংঘটিত হয়, চুক্তি সম্পাদনে এটিই হলো মূল। আর এ কথায় ফকীহদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই: যখন অতীতকালীন শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ঈজাব ও কবুল করা হয় তখন চুক্তি সংঘটিত হয়। যেমন বিক্রেতা বলল: বি'তু (আমি বিক্রয় করলাম) আর ক্রেতা বলল : ইশতারাইতু (আমি ক্রয় করলাম।) আর এক্ষেত্রে (এ প্রকাশ্য ঘোষণার মধ্যে) নিয়তের কোনো প্রয়োজন হবে না। কারণ এ সীগাগুলো যদিও অতীতকালীন শব্দ তথাপি ভাষাভাষী ও শরয়ী পারিভাষিক সংজ্ঞাবিদদের প্রচলনে এগুলোকে বর্তমানকালের জন্যে গ্রহণ করা হয়েছে। আর প্রচলনই হচ্ছে শব্দ গঠনের বিপরীতে ফয়সালাকারী। ইমাম কাসানী রহ. একেই কারণ দেখিয়েছেন। তা ছাড়া বেচাকেনা সংঘটিত হওয়ার জন্য এ শব্দগুলো প্রকাশ্য, তাই এগুলো আবশ্যক করে নেওয়া হয়েছে। এটি ইমাম হাত্তাব রহ. বলেছেন। ভবিষ্যতের কোনো শব্দ দ্বারা সংঘটিত হবে না। তাই প্রশ্নবোধক শব্দ; আর মুযারে - যা ভবিষ্যতকাল নির্দেশ করে, এর দ্বারা ঈজাব ও কবুল সংঘটিত হবে না। তবে বর্তমানের অর্থে মুযারে-এর যে সীগা-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সে সম্পর্কে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। যেমন: আমরের (আদেশসূচক) সীগা। যথা: কাউকে বলা হলো : বি'নী (আমার নিকট বিক্রয় করো)। অতঃপর যখন অপর পক্ষ থেকে এ কথার জবাব দেবে এবং বলবে: বি'তু (আমি তোমার নিকট বিক্রি করলাম।) হানাফীগণ বলেন: এ দ্বিতীয় কথাটি ঈজাব হলো, যা প্রথম পক্ষের কবুলের মুখাপেক্ষী। আর এটি হাম্বলীদের একটি মত এবং শাফেয়ী মাযহাবের অগৃহীত বক্তব্যও। মালেকীদের মত, এটি শাফেয়ীদের গৃহীত মত এবং হাম্বলীদের এক মত : এ শব্দগুলোর দ্বারাই ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হবে। তাই এরপর প্রথম পক্ষের কবুলের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। অপরদিকে মুযারে-এর সীগা যদি বর্তমান কাল নির্দেশ করে তাহলে চুক্তি সংঘটিত হবে। অন্যথায় হবে না। ফাতাওয়া হিন্দিয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, যখন বিক্রেতা বলবে: আমি তোমার নিকট এ বস্তুটি একহাজার দীনারের বিনিময়ে বিক্রয় করলাম অথবা আমি তা ব্যয় করলাম অথবা আমি তোমাকে তা প্রদান করলাম। আর ক্রেতা বলল: আমি তোমার নিকট থেকে এটি ক্রয় করলাম অথবা গ্রহণ করলাম; এ অবস্থায় দুজনেই প্রথম কথাটিতে বর্তমান কালের নিয়ত করলে ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন হবে। যদি তাদের একজন অতীতকালের শব্দ এবং অপরজন ভবিষ্যতের শব্দ ব্যবহার করে এবং ঈজাবে বর্তমান কালের নিয়ত করে, তাহলে ও ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হবে। যদি তা নিয়ত না করে, তাহলে ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদিত হবে না। উদাহরণস্বরূপ, ইবনে আব্দুস সালামের নিকট থেকে হাত্তাব যা বর্ণনা করেছেন, তা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বলেন: যদি কেউ অতীতকালীন সীগা/শব্দ ব্যবহার করে, তাহলে গ্রহণ করা থেকে ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা ঠিক হবে না। আর যদি মুযারে তথা ভবিষ্যতকালীন শব্দ ব্যবহার করে, তাহলে তা সম্ভাব্য হওয়ার দিকে নির্দেশ করবে এবং এরপর সে শপথ করবে যে বিষয়ের দিকে সে ইঙ্গিত করেছে সেদিকে। বিস্তারিত দেখুন : صيفة