📄 চুক্তির রুকনসমূহ
কোনো বিষয়ের রুকন বা উপাদানসমূহ : মৌলিক ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি। যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় তার প্রতিটি অংশকেই এ বিষয়ের রুকন বা উপাদান বলে। পরিভাষায় রুকন বলা হয় : কোনো জিনিসের সত্তাগত অংশকে, যার সাথে এ ধরনের আরো অংশ যুক্ত হয়ে জিনিসটি গঠিত হয়। এ অংশগুলোর দ্বারাই বিষয়টির মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হাসিল হয়, এ অংশগুলো ব্যতীত কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যপানে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। চুক্তির উপাদান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সকল ফকীহ একমত যে, ততক্ষণ পর্যন্ত চুক্তি পূর্ণতা পাবে না যতক্ষণ তার মধ্যে চুক্তি সম্পাদনকারী, ঈজাব ও কবুল এবং ঈজাব-কবুল আবর্তিত হওয়ার স্থান (الْمَعْقُودُ عَلَيْهِ) পাওয়া না যাবে। অধিকাংশ ফকীহ বলেছেন, উপরিউক্ত তিনটি বিষয়ের প্রত্যেকটিই চুক্তির রুকন বা মৌলিক উপাদান। হানাফী মাযহাবের ফকীহদের মতে, চুক্তির রুকন হলো শুধু সীগা তথা ঈজাব ও কবুল। আর চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় ব্যক্তি বা পক্ষ এবং চুক্তির বিষয়- এগুলো চুক্তির শব্দ-ঈজাব ও কবুল আবশ্যক করে। তবে সেগুলো রুকনের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি এ জন্য যে, সীগা ব্যতীত চুক্তির প্রকৃত বিষয় সংঘটিত হয় না। যেহেতু অন্য অংশগুলো চুক্তির প্রকৃত অংশ নয়, যদিও অন্য বিষয়গুলোর ওপর চুক্তির অস্তিত্ব নির্ভরশীল। চুক্তির সীগা বা শব্দ, চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় ব্যক্তি বা পক্ষ এবং চুক্তির বিষয়- প্রত্যেকটির জন্য পৃথক শর্ত রয়েছে। শরয়ী আকদ বা চুক্তির অস্তিত্বের জন্যে যেগুলোর পর্যাপ্ত উপস্থিতি আবশ্যক। এখন আমরা নিম্নে সেগুলোর প্রতি আলোকপাত করব :
কোনো বিষয়ের রুকন বা উপাদানসমূহ : মৌলিক ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি। যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় তার প্রতিটি অংশকেই এ বিষয়ের রুকন বা উপাদান বলে। পরিভাষায় রুকন বলা হয় : কোনো জিনিসের সত্তাগত অংশকে, যার সাথে এ ধরনের আরো অংশ যুক্ত হয়ে জিনিসটি গঠিত হয়। এ অংশগুলোর দ্বারাই বিষয়টির মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হাসিল হয়, এ অংশগুলো ব্যতীত কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যপানে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। চুক্তির উপাদান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সকল ফকীহ একমত যে, ততক্ষণ পর্যন্ত চুক্তি পূর্ণতা পাবে না যতক্ষণ তার মধ্যে চুক্তি সম্পাদনকারী, ঈজাব ও কবুল এবং ঈজাব-কবুল আবর্তিত হওয়ার স্থান (الْمَعْقُودُ عَلَيْهِ) পাওয়া না যাবে। অধিকাংশ ফকীহ বলেছেন, উপরিউক্ত তিনটি বিষয়ের প্রত্যেকটিই চুক্তির রুকন বা মৌলিক উপাদান। হানাফী মাযহাবের ফকীহদের মতে, চুক্তির রুকন হলো শুধু সীগা তথা ঈজাব ও কবুল। আর চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় ব্যক্তি বা পক্ষ এবং চুক্তির বিষয়- এগুলো চুক্তির শব্দ-ঈজাব ও কবুল আবশ্যক করে। তবে সেগুলো রুকনের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি এ জন্য যে, সীগা ব্যতীত চুক্তির প্রকৃত বিষয় সংঘটিত হয় না। যেহেতু অন্য অংশগুলো চুক্তির প্রকৃত অংশ নয়, যদিও অন্য বিষয়গুলোর ওপর চুক্তির অস্তিত্ব নির্ভরশীল। চুক্তির সীগা বা শব্দ, চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় ব্যক্তি বা পক্ষ এবং চুক্তির বিষয়- প্রত্যেকটির জন্য পৃথক শর্ত রয়েছে। শরয়ী আকদ বা চুক্তির অস্তিত্বের জন্যে যেগুলোর পর্যাপ্ত উপস্থিতি আবশ্যক। এখন আমরা নিম্নে সেগুলোর প্রতি আলোকপাত করব :
📄 প্রথম : চুক্তির শব্দ
চুক্তিসম্পাদনকারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন কোনো কথা বা কাজ প্রকাশিত হওয়া যা চুক্তিতে তার সন্তুষ্টি প্রমাণ করে, একে ফকীহগণ ঈজাব ও কবুল বলে ব্যক্ত করেছেন। তবে চুক্তির ভিন্নতার কারণে চুক্তির শব্দের মধ্যেও ভিন্নতা প্রকাশিত হবে:
১. বেচাকেনার চুক্তিতে এ ক্ষেত্রে এমন কথা বা কাজ যথেষ্ট যা তার সন্তুষ্টি এবং বিনিময়ের মাধ্যমে মালিক বানানোর প্রমাণ বহন করে। যেমন বিক্রেতা বলল: আমি তোমার নিকট বিক্রি করলাম অথবা আমি তোমাকে প্রদান করলাম অথবা আমি তোমাকে মালিক বানিয়ে দিলাম ইত্যাদি। আর ক্রেতা বলবে: আমি ক্রয় করলাম অথবা আমি মালিক হলাম অথবা আমি গ্রহণ করলাম, এমনি বিভিন্ন শব্দ।
২. হাওয়ালা চুক্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের সবকিছুই যথেষ্ট যা মালিকানা স্থানান্তরে ও ঋণের দায়িত্ব পরিবর্তনে রাজি খুশি থাকা প্রকাশ করে। যেমন মালিকানা বা ঋণের দায়িত্ব স্থানান্তরকারী বলল: আমি তোমার নিকট দায়িত্ব অর্পণ করলাম, আমি তোমার দায়িত্বে এটি যুক্ত করলাম। আর (এর জবাবে) মালিকানা বা দায়িত্ব গ্রহণকারী বলল আমি সম্মত আছি, আমি (এটি) গ্রহণ করলাম ইত্যাদি।
৩. ঋণ বন্ধকের চুক্তি: যা বন্ধকদাতা (ঋণগ্রহীতার) কথার দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে। যেমন, সে বলল আমি তোমার নিকট এ ঘরটি বন্ধক দিলাম অথবা আমি তোমাকে তা বন্ধক হিসেবে প্রদান করলাম। (জাবাবে) বন্ধক গ্রহীতা (ঋণদাতা) বলল আমি সম্মত বা রাজি আছি অথবা আমি গ্রহণ করলাম।
মূলকথা হলো, ঈজাব ও কবুলের পরিচায়ক যে কোনো শব্দ বা রীতির ওপর ভিত্তি করেই চুক্তি সংঘটিত হয়। যেহেতু চুক্তি সংঘটিত হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট শব্দও নেই এবং কোনো নির্দিষ্ট সীগাও নেই।
চুক্তিসম্পাদনকারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন কোনো কথা বা কাজ প্রকাশিত হওয়া যা চুক্তিতে তার সন্তুষ্টি প্রমাণ করে, একে ফকীহগণ ঈজাব ও কবুল বলে ব্যক্ত করেছেন। তবে চুক্তির ভিন্নতার কারণে চুক্তির শব্দের মধ্যেও ভিন্নতা প্রকাশিত হবে:
১. বেচাকেনার চুক্তিতে এ ক্ষেত্রে এমন কথা বা কাজ যথেষ্ট যা তার সন্তুষ্টি এবং বিনিময়ের মাধ্যমে মালিক বানানোর প্রমাণ বহন করে। যেমন বিক্রেতা বলল: আমি তোমার নিকট বিক্রি করলাম অথবা আমি তোমাকে প্রদান করলাম অথবা আমি তোমাকে মালিক বানিয়ে দিলাম ইত্যাদি। আর ক্রেতা বলবে: আমি ক্রয় করলাম অথবা আমি মালিক হলাম অথবা আমি গ্রহণ করলাম, এমনি বিভিন্ন শব্দ।
২. হাওয়ালা চুক্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের সবকিছুই যথেষ্ট যা মালিকানা স্থানান্তরে ও ঋণের দায়িত্ব পরিবর্তনে রাজি খুশি থাকা প্রকাশ করে। যেমন মালিকানা বা ঋণের দায়িত্ব স্থানান্তরকারী বলল: আমি তোমার নিকট দায়িত্ব অর্পণ করলাম, আমি তোমার দায়িত্বে এটি যুক্ত করলাম। আর (এর জবাবে) মালিকানা বা দায়িত্ব গ্রহণকারী বলল আমি সম্মত আছি, আমি (এটি) গ্রহণ করলাম ইত্যাদি।
৩. ঋণ বন্ধকের চুক্তি: যা বন্ধকদাতা (ঋণগ্রহীতার) কথার দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে। যেমন, সে বলল আমি তোমার নিকট এ ঘরটি বন্ধক দিলাম অথবা আমি তোমাকে তা বন্ধক হিসেবে প্রদান করলাম। (জাবাবে) বন্ধক গ্রহীতা (ঋণদাতা) বলল আমি সম্মত বা রাজি আছি অথবা আমি গ্রহণ করলাম।
মূলকথা হলো, ঈজাব ও কবুলের পরিচায়ক যে কোনো শব্দ বা রীতির ওপর ভিত্তি করেই চুক্তি সংঘটিত হয়। যেহেতু চুক্তি সংঘটিত হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট শব্দও নেই এবং কোনো নির্দিষ্ট সীগাও নেই।
📄 ঈজাব ও কবুল দ্বারা উদ্দেশ্য
হানাফী ফকীহগণের মতে চুক্তির ক্ষেত্রে ঈজাব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: চুক্তি সম্পাদনকারী দু'জনের একজনের প্রাথমিক কথাবার্তা; অথবা কথাবার্তার স্থলবর্তী কোনো বিষয়, তা যে ব্যক্তি কাউকে পণ্যের মালিক বানাতে চায় তার পক্ষ থেকে হোক কিংবা মালিক হতে ইচ্ছুক (ক্রেতা) এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হোক। আর কবুল হলো অপর পক্ষ প্রথম পক্ষের কোনো কথার ওপর একমত থেকে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেওয়া দ্বিতীয় কথা। সুতরাং ফকীহদের মতে, উল্লিখিত দু'টি কথার প্রথমটি হলো ঈজাব আর দ্বিতীয়টি হলো কবুল- প্রথম বা দ্বিতীয় কথা যে অন্যকে পণ্যের মালিক বানাতে চায় (বিক্রেতা) বা যে মালিক হতে চায় (ক্রেতা) যে-ই বলুক তাতেই ইজাব-কবুল সাব্যস্ত হবে। হানাফী মাযহাবের আলেমগণ ব্যতীত অন্য আলেমদের মতে, ঈজাব হলো যে মালিক বানাতে চাচ্ছে তার বক্তব্য। যেমন: বিক্রেতা, ইজারাদার, স্ত্রী অথবা তার অভিভাবক। তাদের বক্তব্য প্রথমে ও শেষে যখনই বলা হোক উভয়ই সমান। আর কবুল হলো যে মালিকানা লাভ করে তার বক্তব্য, যদিও তা প্রথম বলা হোক না কেন। সুতরাং তাদের কাছে মোটকথা হলো, যে মালিক বানাবে সে হলো প্রস্তাবকারী (মুজিব)। আর যে ব্যক্তি মালিক হতে চাচ্ছে সে হলো গ্রহণকারী (কবিল)। এক্ষেত্রে ঈজাব ও কবুল অর্থাৎ প্রস্তাব ও গ্রহণ, কোনটি আগে কোনটি পরে তা দেখার বিষয় নয়।
হানাফী ফকীহগণের মতে চুক্তির ক্ষেত্রে ঈজাব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: চুক্তি সম্পাদনকারী দু'জনের একজনের প্রাথমিক কথাবার্তা; অথবা কথাবার্তার স্থলবর্তী কোনো বিষয়, তা যে ব্যক্তি কাউকে পণ্যের মালিক বানাতে চায় তার পক্ষ থেকে হোক কিংবা মালিক হতে ইচ্ছুক (ক্রেতা) এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হোক। আর কবুল হলো অপর পক্ষ প্রথম পক্ষের কোনো কথার ওপর একমত থেকে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেওয়া দ্বিতীয় কথা। সুতরাং ফকীহদের মতে, উল্লিখিত দু'টি কথার প্রথমটি হলো ঈজাব আর দ্বিতীয়টি হলো কবুল- প্রথম বা দ্বিতীয় কথা যে অন্যকে পণ্যের মালিক বানাতে চায় (বিক্রেতা) বা যে মালিক হতে চায় (ক্রেতা) যে-ই বলুক তাতেই ইজাব-কবুল সাব্যস্ত হবে। হানাফী মাযহাবের আলেমগণ ব্যতীত অন্য আলেমদের মতে, ঈজাব হলো যে মালিক বানাতে চাচ্ছে তার বক্তব্য। যেমন: বিক্রেতা, ইজারাদার, স্ত্রী অথবা তার অভিভাবক। তাদের বক্তব্য প্রথমে ও শেষে যখনই বলা হোক উভয়ই সমান। আর কবুল হলো যে মালিকানা লাভ করে তার বক্তব্য, যদিও তা প্রথম বলা হোক না কেন। সুতরাং তাদের কাছে মোটকথা হলো, যে মালিক বানাবে সে হলো প্রস্তাবকারী (মুজিব)। আর যে ব্যক্তি মালিক হতে চাচ্ছে সে হলো গ্রহণকারী (কবিল)। এক্ষেত্রে ঈজাব ও কবুল অর্থাৎ প্রস্তাব ও গ্রহণ, কোনটি আগে কোনটি পরে তা দেখার বিষয় নয়।
📄 ঈজাব ও কবুলের মাধ্যমসমূহ
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, ঈজাব ও কবুল যেমনিভাবে শব্দের মাধ্যমে অর্জিত হয়, এমনিভাবে লেখা, ইশারা ইঙ্গিত এবং চিঠিপত্রের মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে। এটি কোনো কিছু আদান প্রদানের মাধ্যমেও হতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো চুক্তিতে কিছু মাধ্যমের বিধানের ক্ষেত্রে তারা মতবিরোধ করেছেন। বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, ঈজাব ও কবুল যেমনিভাবে শব্দের মাধ্যমে অর্জিত হয়, এমনিভাবে লেখা, ইশারা ইঙ্গিত এবং চিঠিপত্রের মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে। এটি কোনো কিছু আদান প্রদানের মাধ্যমেও হতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো চুক্তিতে কিছু মাধ্যমের বিধানের ক্ষেত্রে তারা মতবিরোধ করেছেন। বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো: