📄 পরিভাষায় : عَقْدٌ (আকদ)-এর দুটি অর্থ রয়েছে
পরিভাষায়: عقد (আকদ)-এর দুটি অর্থ রয়েছে:
ক. সাধারণ অর্থ: وَهُوَ كُلِّ مَا يَعْقِدُهُ ( يَعْزِمُهُ ( الشَّخصُ أَنْ يَفْعَلَهُ হওয়াই هُوَ ، أَوْ يَعْقِدَ عَلَى غَيْرِهِ ফি'লহু ফে'লু عَلَى وَجْهِ ইমাজাহু ইরিমেহ ইলিযামিহি ইইয়াহু। প্রত্যেক ওই সঙ্কল্প, যা মানুষ করবে বলে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেয়, অথবা অন্যের ওপর তা করার জন্যে আবশ্যিকরূপে আরোপ করে থাকে। ইমাম জাস্সাস রহ. এ সংজ্ঞা বর্ণনা করেছেন। আর এ কারণেই ব্যবসায়, বিবাহ ও অন্য সকল বিনিময়ের চুক্তিকে 'আকদ' বলা হয়েছে। কেননা, দুই পক্ষের প্রত্যেক পক্ষই এ চুক্তি টিকিয়ে রাখা নিজের ওপর আবশ্যিক করে নিয়েছে। আর ভবিষ্যতের কসম বা শপথকেও 'আকদ' বলা হয়। কেননা, শপথকারী তার ওপর সে কাজ করা বা পরিত্যাগ করা আবশ্যক করে নিয়েছে। তদ্রূপ ওয়াদা-অঙ্গীকার ও আমানত রক্ষা করা কেও আকদ বলে। কারণ, অঙ্গীকার প্রদানকারী ও আমানত রক্ষাকারী তা পূরণ করা নিজের ওপর বাধ্যতামূলক করে নিয়েছে। এমনিভাবে মানুষ ভবিষ্যতে করবে বলে নিজের উপর যে শর্ত আরোপ করে তাকে ও 'আকদ' বা চুক্তি বলা হয়। মানত ও মানতের স্থলাভিষিক্ত বিষয়গুলোও এমন। এরই ধারাবাহিকতায় আল্লামা আলুসী রহ. আল্লাহ তাআলার বাণী: أَوْفُوا بالعُقُود (তোমরা তোমাদের চুক্তিসমূহ পূরণ করো।)-কে ব্যাপক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদের প্রতি যেসব দীনি বিধান ও হুকুম-আহকাম আরোপ করেছেন এবং বান্দারা নিজেদের মধ্যে আমানত, লেনদেন ইত্যাদি বিষয়ে যেসব আবশ্যকীয় চুক্তি করে- সবই এই আয়াতে বর্ণিত উকুদের অন্তর্ভুক্ত।
খ. নির্দিষ্ট অর্থ: এ অর্থ হিসেবে দু'টি ইচ্ছার সংযোগ থেকে উৎসারিত বিষয়ের ওপর 'আকদ' শব্দ প্রয়োগ করা হয়, যেন যথাস্থানে তার শরয়ী প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লামা জুরজানী রহ. বলেন : اَلْعَقْدُ رَبِّطُ أَجْزَاءِ التَّصَرُّفِ بِالْإِيجَابِ وَالْقَبُولِ অর্থাৎ চুক্তি হলো ঈজাব (প্রস্তাব প্রদান) ও কবুলের মাধ্যমে একাধিক পক্ষের স্বাধীন ইচ্ছা ও পরিপূর্ণ ক্ষমতার সংযোগ ও বন্ধন। আল্লামা যারকাশীও প্রায় অনুরূপ সংজ্ঞা প্রদান করে বলেন : اِرْتِبَاطُ الْإِيجَابِ بِالْقَبُولِ الالْتِزَامِي كَعَقْدِ الْبَيْعِ وَالنِّكَاحِ وَغَيْرِهِمَا বাধ্যবাধকতা পূর্ণ কবুলের সাথে ঈজাবের সংযোগ ও বন্ধন, যেমন ব্যবসায়ের চুক্তি ও বিবাহের চুক্তি ইত্যাদি।
পরিভাষায়: عقد (আকদ)-এর দুটি অর্থ রয়েছে:
ক. সাধারণ অর্থ: وَهُوَ كُلِّ مَا يَعْقِدُهُ ( يَعْزِمُهُ ( الشَّخصُ أَنْ يَفْعَلَهُ হওয়াই هُوَ ، أَوْ يَعْقِدَ عَلَى غَيْرِهِ ফি'লহু ফে'লু عَلَى وَجْهِ ইমাজাহু ইরিমেহ ইলিযামিহি ইইয়াহু। প্রত্যেক ওই সঙ্কল্প, যা মানুষ করবে বলে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেয়, অথবা অন্যের ওপর তা করার জন্যে আবশ্যিকরূপে আরোপ করে থাকে। ইমাম জাস্সাস রহ. এ সংজ্ঞা বর্ণনা করেছেন। আর এ কারণেই ব্যবসায়, বিবাহ ও অন্য সকল বিনিময়ের চুক্তিকে 'আকদ' বলা হয়েছে। কেননা, দুই পক্ষের প্রত্যেক পক্ষই এ চুক্তি টিকিয়ে রাখা নিজের ওপর আবশ্যিক করে নিয়েছে। আর ভবিষ্যতের কসম বা শপথকেও 'আকদ' বলা হয়। কেননা, শপথকারী তার ওপর সে কাজ করা বা পরিত্যাগ করা আবশ্যক করে নিয়েছে। তদ্রূপ ওয়াদা-অঙ্গীকার ও আমানত রক্ষা করা কেও আকদ বলে। কারণ, অঙ্গীকার প্রদানকারী ও আমানত রক্ষাকারী তা পূরণ করা নিজের ওপর বাধ্যতামূলক করে নিয়েছে। এমনিভাবে মানুষ ভবিষ্যতে করবে বলে নিজের উপর যে শর্ত আরোপ করে তাকে ও 'আকদ' বা চুক্তি বলা হয়। মানত ও মানতের স্থলাভিষিক্ত বিষয়গুলোও এমন। এরই ধারাবাহিকতায় আল্লামা আলুসী রহ. আল্লাহ তাআলার বাণী: أَوْفُوا بالعُقُود (তোমরা তোমাদের চুক্তিসমূহ পূরণ করো।)-কে ব্যাপক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদের প্রতি যেসব দীনি বিধান ও হুকুম-আহকাম আরোপ করেছেন এবং বান্দারা নিজেদের মধ্যে আমানত, লেনদেন ইত্যাদি বিষয়ে যেসব আবশ্যকীয় চুক্তি করে- সবই এই আয়াতে বর্ণিত উকুদের অন্তর্ভুক্ত।
খ. নির্দিষ্ট অর্থ: এ অর্থ হিসেবে দু'টি ইচ্ছার সংযোগ থেকে উৎসারিত বিষয়ের ওপর 'আকদ' শব্দ প্রয়োগ করা হয়, যেন যথাস্থানে তার শরয়ী প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লামা জুরজানী রহ. বলেন : اَلْعَقْدُ رَبِّطُ أَجْزَاءِ التَّصَرُّفِ بِالْإِيجَابِ وَالْقَبُولِ অর্থাৎ চুক্তি হলো ঈজাব (প্রস্তাব প্রদান) ও কবুলের মাধ্যমে একাধিক পক্ষের স্বাধীন ইচ্ছা ও পরিপূর্ণ ক্ষমতার সংযোগ ও বন্ধন। আল্লামা যারকাশীও প্রায় অনুরূপ সংজ্ঞা প্রদান করে বলেন : اِرْتِبَاطُ الْإِيجَابِ بِالْقَبُولِ الالْتِزَامِي كَعَقْدِ الْبَيْعِ وَالنِّكَاحِ وَغَيْرِهِمَا বাধ্যবাধকতা পূর্ণ কবুলের সাথে ঈজাবের সংযোগ ও বন্ধন, যেমন ব্যবসায়ের চুক্তি ও বিবাহের চুক্তি ইত্যাদি।
📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা
ক. اَلْإِلْزَامُ (কর্তব্যরূপে গ্রহণ, বাধ্যবাধকতা) : اَلْإِلْزَامُ শব্দটি শাব্দিকভাবে لَزِمَ যাল্লামা يَلْزَمُ ইয়াল্লামু لُزُومًا লুযূমান থেকে উৎকলিত। যার আভিধানিক অর্থ হলো- ثَبَتَ সাবাতা وَدَامَ ওয়ামাদামা প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া, আবশ্যক হওয়া, দৃঢ় ও স্থায়ী হওয়া। বলা হয় : لَزِمَهُ লাযিমানহু الْمالُ আল-মালু অর্থাৎ وَجَبَ ওয়াজাবা عَلَيْهِ 'আলাইহি তার সম্পদ প্রদান আবশ্যক হয়েছে। আরো বলা হয় : لَزِمَهُ লাহিমাহু الطَّلاقُ আত-ত্বলাকু অর্থাৎ وَجَبَ ওয়াজাবা عَلَيْهِ 'আলাইহি حُكْمُهُ হুকমুহু “তালাকের হুকুম মেনে চলা তার আবশ্যক হয়ে গেছে।” আরো বলা হয় : অালিমুতাহু আল্যামতাহু আল-মালা অল্যাম আলা-আমালি ফালত্যাহাম্মা। আমি তার ওপর সম্পদ ও কাজ আবশ্যক করেছি, ফলে তা আবশ্যক হয়ে গেছে। اَلْإِلْتِزَامُ-এর অর্থ اَلْإِلْغَاءُ অর্থাৎ নিজের স্কন্ধে কিংবা দায়িত্বে কোনো বিষয় আরোপ ও আবশ্যক করে নেওয়া। اَلْإِلْتِزَامُ-এর পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইলযামুস শখসি নাফসাহু মা লাম ইয়াকুন লাযিমান 'আলাইহি মিন ক্বাবল। নিজের ওপর কিছু কাজ আবশ্যক করে নেওয়া যা তার ওপর ইতোপূর্বে বাধ্যতামূলক ছিল না। ইমাম আল হাত্তাব রহ. বলেন : ইন্নাহু ইলযামুস শখসি নাফসাহু শাইয়ান মিনাল মা'রুফি মুতলাক্বান আও মু'আল্লাক্বান 'আলা শাই। সাধারণভাবে বা কোনো বিষয়ের শর্ত করে কোনো নেক কাজ নিজের ওপর আবশ্যক করে নেওয়া। ব্যবহার ও প্রচলনে الإলزام শব্দটি এ অর্থের তুলনায় সীমিত ও নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়। তা হচ্ছে, ভালো কাজ নিজের উপর আবশ্যক করে নেওয়া। আর এ الإلتزام শব্দটি তার সীমিত অর্থ হিসাবেই عقد তথা চুক্তি থেকে ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ।
খ. التَّصَرُّفُ (কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ) : আভিধানিক অর্থ: আত্তাক্বাল্লুবু ফিল উমুরি অল সা'ইয়ি ফী ত্বলবিল কাসবি। বিভিন্ন কাজে লেগে থাকা, কাজ পরিচালনা করা এবং কোনো জিনিস উপার্জন বা সংগ্রহের চেষ্টা করা। ফকীহ সমাজের কথা দ্বারা বোঝা যায়, তারা التصرف-এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন: 'ব্যক্তির নিজের ইচ্ছায় কোনো কাজ সংঘটন কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ। আর এর ওপর শরীয়ত বিভিন্ন বিধান আরোপ করে। তা কথা ও কাজ উভয়টাকে অন্তর্ভুক্ত করে।' ফলে التصرف হলো عقد থেকে ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ।
গ. الْعَهْدُ وَالْوَعْدُ (প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতি) : الْعَهْدُ শব্দটির আভিধানিক অর্থ: অসিয়ত করা, উপদেশ বা পরামর্শ দেওয়া। যেমন বলা হয়: আ'হিদা ইলাইহি ইয়াহাদু অর্থাৎ সে অসিয়ত করেছে। আল-'আহদু শব্দটির আরো অর্থ নিরাপত্তা, শান্তি, আশ্রয়, হেফাজত, রক্ষা, চুক্তি, দায়-দায়িত্ব, ঋণ, প্রতিজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি, সম্মান, দৃঢ়, প্রতিজ্ঞা, চুক্তি, চুক্তিনামা। তবে الْعَهْدُ শব্দটি সাধারণত আল্লাহর ওয়াদাকৃত বিষয়ে ব্যবহৃত হয়। তা ছাড়া বান্দার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, চুক্তি ও চুক্তিনামার ক্ষেত্রেও এ শব্দ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ অর্থ হিসেবে সাধারণ ব্যবহারে الْعَهْدُ শব্দটি عقد-এর নিকটবর্তী; আর নির্দিষ্ট ব্যবহারের বিচারে عقد থেকেও ব্যাপক। الْوَعْدُ শব্দটির আভিধানিক অর্থ ওয়াদা, প্রতিশ্রুতি, প্রতিজ্ঞা, অঙ্গীকার। তা মৌখিক আশাব্যঞ্জক বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে। এবং তা কল্যাণের ক্ষেত্রে প্রকৃত আর অকল্যাণের ক্ষেত্রে রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পরিভাষায় الْوَعْدُ-এর সংজ্ঞা প্রদানে বলা হয়েছে: ইখবারুন 'আন ইনশায়িল মুখবার মা'রুফান ফিল মুস্তাক্ববাল। অন্যের উপকার করার অভিপ্রায়ে ভবিষ্যৎ হতে কোনো উত্তম কর্মসৃষ্টির সংবাদ প্রদান।
ক. اَلْإِلْزَامُ (কর্তব্যরূপে গ্রহণ, বাধ্যবাধকতা) : اَلْإِلْزَامُ শব্দটি শাব্দিকভাবে لَزِمَ যাল্লামা يَلْزَمُ ইয়াল্লামু لُزُومًا লুযূমান থেকে উৎকলিত। যার আভিধানিক অর্থ হলো- ثَبَتَ সাবাতা وَدَامَ ওয়ামাদামা প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া, আবশ্যক হওয়া, দৃঢ় ও স্থায়ী হওয়া। বলা হয় : لَزِمَهُ লাযিমানহু الْمالُ আল-মালু অর্থাৎ وَجَبَ ওয়াজাবা عَلَيْهِ 'আলাইহি তার সম্পদ প্রদান আবশ্যক হয়েছে। আরো বলা হয় : لَزِمَهُ লাহিমাহু الطَّلاقُ আত-ত্বলাকু অর্থাৎ وَجَبَ ওয়াজাবা عَلَيْهِ 'আলাইহি حُكْمُهُ হুকমুহু “তালাকের হুকুম মেনে চলা তার আবশ্যক হয়ে গেছে।” আরো বলা হয় : অালিমুতাহু আল্যামতাহু আল-মালা অল্যাম আলা-আমালি ফালত্যাহাম্মা। আমি তার ওপর সম্পদ ও কাজ আবশ্যক করেছি, ফলে তা আবশ্যক হয়ে গেছে। اَلْإِلْتِزَامُ-এর অর্থ اَلْإِلْغَاءُ অর্থাৎ নিজের স্কন্ধে কিংবা দায়িত্বে কোনো বিষয় আরোপ ও আবশ্যক করে নেওয়া। اَلْإِلْتِزَامُ-এর পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইলযামুস শখসি নাফসাহু মা লাম ইয়াকুন লাযিমান 'আলাইহি মিন ক্বাবল। নিজের ওপর কিছু কাজ আবশ্যক করে নেওয়া যা তার ওপর ইতোপূর্বে বাধ্যতামূলক ছিল না। ইমাম আল হাত্তাব রহ. বলেন : ইন্নাহু ইলযামুস শখসি নাফসাহু শাইয়ান মিনাল মা'রুফি মুতলাক্বান আও মু'আল্লাক্বান 'আলা শাই। সাধারণভাবে বা কোনো বিষয়ের শর্ত করে কোনো নেক কাজ নিজের ওপর আবশ্যক করে নেওয়া। ব্যবহার ও প্রচলনে الإলزام শব্দটি এ অর্থের তুলনায় সীমিত ও নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়। তা হচ্ছে, ভালো কাজ নিজের উপর আবশ্যক করে নেওয়া। আর এ الإلتزام শব্দটি তার সীমিত অর্থ হিসাবেই عقد তথা চুক্তি থেকে ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ।
খ. التَّصَرُّفُ (কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ) : আভিধানিক অর্থ: আত্তাক্বাল্লুবু ফিল উমুরি অল সা'ইয়ি ফী ত্বলবিল কাসবি। বিভিন্ন কাজে লেগে থাকা, কাজ পরিচালনা করা এবং কোনো জিনিস উপার্জন বা সংগ্রহের চেষ্টা করা। ফকীহ সমাজের কথা দ্বারা বোঝা যায়, তারা التصرف-এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন: 'ব্যক্তির নিজের ইচ্ছায় কোনো কাজ সংঘটন কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ। আর এর ওপর শরীয়ত বিভিন্ন বিধান আরোপ করে। তা কথা ও কাজ উভয়টাকে অন্তর্ভুক্ত করে।' ফলে التصرف হলো عقد থেকে ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ।
গ. الْعَهْدُ وَالْوَعْدُ (প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতি) : الْعَهْدُ শব্দটির আভিধানিক অর্থ: অসিয়ত করা, উপদেশ বা পরামর্শ দেওয়া। যেমন বলা হয়: আ'হিদা ইলাইহি ইয়াহাদু অর্থাৎ সে অসিয়ত করেছে। আল-'আহদু শব্দটির আরো অর্থ নিরাপত্তা, শান্তি, আশ্রয়, হেফাজত, রক্ষা, চুক্তি, দায়-দায়িত্ব, ঋণ, প্রতিজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি, সম্মান, দৃঢ়, প্রতিজ্ঞা, চুক্তি, চুক্তিনামা। তবে الْعَهْدُ শব্দটি সাধারণত আল্লাহর ওয়াদাকৃত বিষয়ে ব্যবহৃত হয়। তা ছাড়া বান্দার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, চুক্তি ও চুক্তিনামার ক্ষেত্রেও এ শব্দ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ অর্থ হিসেবে সাধারণ ব্যবহারে الْعَهْدُ শব্দটি عقد-এর নিকটবর্তী; আর নির্দিষ্ট ব্যবহারের বিচারে عقد থেকেও ব্যাপক। الْوَعْدُ শব্দটির আভিধানিক অর্থ ওয়াদা, প্রতিশ্রুতি, প্রতিজ্ঞা, অঙ্গীকার। তা মৌখিক আশাব্যঞ্জক বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে। এবং তা কল্যাণের ক্ষেত্রে প্রকৃত আর অকল্যাণের ক্ষেত্রে রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পরিভাষায় الْوَعْدُ-এর সংজ্ঞা প্রদানে বলা হয়েছে: ইখবারুন 'আন ইনশায়িল মুখবার মা'রুফান ফিল মুস্তাক্ববাল। অন্যের উপকার করার অভিপ্রায়ে ভবিষ্যৎ হতে কোনো উত্তম কর্মসৃষ্টির সংবাদ প্রদান।
📄 চুক্তির রুকনসমূহ
কোনো বিষয়ের রুকন বা উপাদানসমূহ : মৌলিক ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি। যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় তার প্রতিটি অংশকেই এ বিষয়ের রুকন বা উপাদান বলে। পরিভাষায় রুকন বলা হয় : কোনো জিনিসের সত্তাগত অংশকে, যার সাথে এ ধরনের আরো অংশ যুক্ত হয়ে জিনিসটি গঠিত হয়। এ অংশগুলোর দ্বারাই বিষয়টির মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হাসিল হয়, এ অংশগুলো ব্যতীত কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যপানে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। চুক্তির উপাদান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সকল ফকীহ একমত যে, ততক্ষণ পর্যন্ত চুক্তি পূর্ণতা পাবে না যতক্ষণ তার মধ্যে চুক্তি সম্পাদনকারী, ঈজাব ও কবুল এবং ঈজাব-কবুল আবর্তিত হওয়ার স্থান (الْمَعْقُودُ عَلَيْهِ) পাওয়া না যাবে। অধিকাংশ ফকীহ বলেছেন, উপরিউক্ত তিনটি বিষয়ের প্রত্যেকটিই চুক্তির রুকন বা মৌলিক উপাদান। হানাফী মাযহাবের ফকীহদের মতে, চুক্তির রুকন হলো শুধু সীগা তথা ঈজাব ও কবুল। আর চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় ব্যক্তি বা পক্ষ এবং চুক্তির বিষয়- এগুলো চুক্তির শব্দ-ঈজাব ও কবুল আবশ্যক করে। তবে সেগুলো রুকনের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি এ জন্য যে, সীগা ব্যতীত চুক্তির প্রকৃত বিষয় সংঘটিত হয় না। যেহেতু অন্য অংশগুলো চুক্তির প্রকৃত অংশ নয়, যদিও অন্য বিষয়গুলোর ওপর চুক্তির অস্তিত্ব নির্ভরশীল। চুক্তির সীগা বা শব্দ, চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় ব্যক্তি বা পক্ষ এবং চুক্তির বিষয়- প্রত্যেকটির জন্য পৃথক শর্ত রয়েছে। শরয়ী আকদ বা চুক্তির অস্তিত্বের জন্যে যেগুলোর পর্যাপ্ত উপস্থিতি আবশ্যক। এখন আমরা নিম্নে সেগুলোর প্রতি আলোকপাত করব :
কোনো বিষয়ের রুকন বা উপাদানসমূহ : মৌলিক ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি। যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় তার প্রতিটি অংশকেই এ বিষয়ের রুকন বা উপাদান বলে। পরিভাষায় রুকন বলা হয় : কোনো জিনিসের সত্তাগত অংশকে, যার সাথে এ ধরনের আরো অংশ যুক্ত হয়ে জিনিসটি গঠিত হয়। এ অংশগুলোর দ্বারাই বিষয়টির মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হাসিল হয়, এ অংশগুলো ব্যতীত কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যপানে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। চুক্তির উপাদান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সকল ফকীহ একমত যে, ততক্ষণ পর্যন্ত চুক্তি পূর্ণতা পাবে না যতক্ষণ তার মধ্যে চুক্তি সম্পাদনকারী, ঈজাব ও কবুল এবং ঈজাব-কবুল আবর্তিত হওয়ার স্থান (الْمَعْقُودُ عَلَيْهِ) পাওয়া না যাবে। অধিকাংশ ফকীহ বলেছেন, উপরিউক্ত তিনটি বিষয়ের প্রত্যেকটিই চুক্তির রুকন বা মৌলিক উপাদান। হানাফী মাযহাবের ফকীহদের মতে, চুক্তির রুকন হলো শুধু সীগা তথা ঈজাব ও কবুল। আর চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় ব্যক্তি বা পক্ষ এবং চুক্তির বিষয়- এগুলো চুক্তির শব্দ-ঈজাব ও কবুল আবশ্যক করে। তবে সেগুলো রুকনের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি এ জন্য যে, সীগা ব্যতীত চুক্তির প্রকৃত বিষয় সংঘটিত হয় না। যেহেতু অন্য অংশগুলো চুক্তির প্রকৃত অংশ নয়, যদিও অন্য বিষয়গুলোর ওপর চুক্তির অস্তিত্ব নির্ভরশীল। চুক্তির সীগা বা শব্দ, চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় ব্যক্তি বা পক্ষ এবং চুক্তির বিষয়- প্রত্যেকটির জন্য পৃথক শর্ত রয়েছে। শরয়ী আকদ বা চুক্তির অস্তিত্বের জন্যে যেগুলোর পর্যাপ্ত উপস্থিতি আবশ্যক। এখন আমরা নিম্নে সেগুলোর প্রতি আলোকপাত করব :
📄 প্রথম : চুক্তির শব্দ
চুক্তিসম্পাদনকারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন কোনো কথা বা কাজ প্রকাশিত হওয়া যা চুক্তিতে তার সন্তুষ্টি প্রমাণ করে, একে ফকীহগণ ঈজাব ও কবুল বলে ব্যক্ত করেছেন। তবে চুক্তির ভিন্নতার কারণে চুক্তির শব্দের মধ্যেও ভিন্নতা প্রকাশিত হবে:
১. বেচাকেনার চুক্তিতে এ ক্ষেত্রে এমন কথা বা কাজ যথেষ্ট যা তার সন্তুষ্টি এবং বিনিময়ের মাধ্যমে মালিক বানানোর প্রমাণ বহন করে। যেমন বিক্রেতা বলল: আমি তোমার নিকট বিক্রি করলাম অথবা আমি তোমাকে প্রদান করলাম অথবা আমি তোমাকে মালিক বানিয়ে দিলাম ইত্যাদি। আর ক্রেতা বলবে: আমি ক্রয় করলাম অথবা আমি মালিক হলাম অথবা আমি গ্রহণ করলাম, এমনি বিভিন্ন শব্দ।
২. হাওয়ালা চুক্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের সবকিছুই যথেষ্ট যা মালিকানা স্থানান্তরে ও ঋণের দায়িত্ব পরিবর্তনে রাজি খুশি থাকা প্রকাশ করে। যেমন মালিকানা বা ঋণের দায়িত্ব স্থানান্তরকারী বলল: আমি তোমার নিকট দায়িত্ব অর্পণ করলাম, আমি তোমার দায়িত্বে এটি যুক্ত করলাম। আর (এর জবাবে) মালিকানা বা দায়িত্ব গ্রহণকারী বলল আমি সম্মত আছি, আমি (এটি) গ্রহণ করলাম ইত্যাদি।
৩. ঋণ বন্ধকের চুক্তি: যা বন্ধকদাতা (ঋণগ্রহীতার) কথার দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে। যেমন, সে বলল আমি তোমার নিকট এ ঘরটি বন্ধক দিলাম অথবা আমি তোমাকে তা বন্ধক হিসেবে প্রদান করলাম। (জাবাবে) বন্ধক গ্রহীতা (ঋণদাতা) বলল আমি সম্মত বা রাজি আছি অথবা আমি গ্রহণ করলাম।
মূলকথা হলো, ঈজাব ও কবুলের পরিচায়ক যে কোনো শব্দ বা রীতির ওপর ভিত্তি করেই চুক্তি সংঘটিত হয়। যেহেতু চুক্তি সংঘটিত হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট শব্দও নেই এবং কোনো নির্দিষ্ট সীগাও নেই।
চুক্তিসম্পাদনকারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন কোনো কথা বা কাজ প্রকাশিত হওয়া যা চুক্তিতে তার সন্তুষ্টি প্রমাণ করে, একে ফকীহগণ ঈজাব ও কবুল বলে ব্যক্ত করেছেন। তবে চুক্তির ভিন্নতার কারণে চুক্তির শব্দের মধ্যেও ভিন্নতা প্রকাশিত হবে:
১. বেচাকেনার চুক্তিতে এ ক্ষেত্রে এমন কথা বা কাজ যথেষ্ট যা তার সন্তুষ্টি এবং বিনিময়ের মাধ্যমে মালিক বানানোর প্রমাণ বহন করে। যেমন বিক্রেতা বলল: আমি তোমার নিকট বিক্রি করলাম অথবা আমি তোমাকে প্রদান করলাম অথবা আমি তোমাকে মালিক বানিয়ে দিলাম ইত্যাদি। আর ক্রেতা বলবে: আমি ক্রয় করলাম অথবা আমি মালিক হলাম অথবা আমি গ্রহণ করলাম, এমনি বিভিন্ন শব্দ।
২. হাওয়ালা চুক্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের সবকিছুই যথেষ্ট যা মালিকানা স্থানান্তরে ও ঋণের দায়িত্ব পরিবর্তনে রাজি খুশি থাকা প্রকাশ করে। যেমন মালিকানা বা ঋণের দায়িত্ব স্থানান্তরকারী বলল: আমি তোমার নিকট দায়িত্ব অর্পণ করলাম, আমি তোমার দায়িত্বে এটি যুক্ত করলাম। আর (এর জবাবে) মালিকানা বা দায়িত্ব গ্রহণকারী বলল আমি সম্মত আছি, আমি (এটি) গ্রহণ করলাম ইত্যাদি।
৩. ঋণ বন্ধকের চুক্তি: যা বন্ধকদাতা (ঋণগ্রহীতার) কথার দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে। যেমন, সে বলল আমি তোমার নিকট এ ঘরটি বন্ধক দিলাম অথবা আমি তোমাকে তা বন্ধক হিসেবে প্রদান করলাম। (জাবাবে) বন্ধক গ্রহীতা (ঋণদাতা) বলল আমি সম্মত বা রাজি আছি অথবা আমি গ্রহণ করলাম।
মূলকথা হলো, ঈজাব ও কবুলের পরিচায়ক যে কোনো শব্দ বা রীতির ওপর ভিত্তি করেই চুক্তি সংঘটিত হয়। যেহেতু চুক্তি সংঘটিত হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট শব্দও নেই এবং কোনো নির্দিষ্ট সীগাও নেই।