📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 রাখালের ইজারা

📄 রাখালের ইজারা


রাখাল বা পশুচারক স্বাধীন শ্রমিক হতে পারে, একান্ত কর্মচারীও হতে পারে। রাখালকে যদি পশুর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় তবে এর বেশি পশু চারণে সে বাধ্য নয়। কিন্তু গবাদি পশুর প্রসবজনিত কারণে যদি পশুর সংখ্যা বেড়ে যায় তবে হানাফীগণ ইসতিহসান বা সূক্ষ্ম কিয়াস হিসাবে বর্ধিত পশুচারণকেও রাখালের জন্যে অপরিহার্য মনে করেন। পশুর বাচ্চাগুলো এক্ষেত্রে অনুবর্তী হিসাবে যুক্ত হবে। রাখালের যদি এমন আশঙ্কা হয়, কোনো পশু আঘাত জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করতে পারে, তাই সেটিকে সে মালিকের অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষা না করে জবাই করে ফেলে তবে ইসতিহসান হিসাবে রাখালের উপর এর জরিমানা আসবে না। এক্ষেত্রে মালিক ও রাখালের মধ্যে যদি মতভেদ দেখা দেয় তবে রাখালের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 তাত্ত্বিকজ্ঞান শিক্ষাদান এবং শিল্প ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান

📄 তাত্ত্বিকজ্ঞান শিক্ষাদান এবং শিল্প ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান


মৌলিক দীনি শিক্ষা ছাড়া অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক বা সম্মানী গ্রহণের বৈধতায় কোনো মতপার্থক্য নেই। যদিও এই জ্ঞান ও বিদ্যা শরয়ী জ্ঞানের মাধ্যম, সহায়ক ও সম্পূরকের পর্যায়ভুক্ত হয়। যেমন আরবী ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র, উসূলে ফিকহ ইত্যাদি। অন্যান্য প্রায়োগিক পেশাগত বিদ্যা ও শিল্প বিদ্যার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। শিক্ষা-প্রশিক্ষণের ব্যাপারটি যদি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হয়, তবে প্রশিক্ষণদাতা মেয়াদান্তে তার পারিশ্রমিকের অধিকারী হবে। এ ধরনের চুক্তি সহীহ হওয়ার ব্যাপারে সকল ফকীহ একমত। তবে অধিকাংশ ফকীহ উত্তম বিবেচনায় ইসতিহসান হিসাবে এমন চুক্তিকে জায়েয হওয়ার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। হানাফী ফকীহদের মতে, কোনো বিষয়ে পারদর্শী করে তোলার শর্তে কোনো শিক্ষার্থীকে যদি কোনো শিক্ষক পড়ানোর কাজ সমাপ্ত করেন, তবে অন্যান্য ফাসিদ চুক্তির সাথে তুলনা করে এক্ষেত্রেও শিক্ষক প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সম্মানী পাবেন।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 আধুনিক যোগাযোগ ও পরিবহন সরঞ্জামের ইজারা

📄 আধুনিক যোগাযোগ ও পরিবহন সরঞ্জামের ইজারা


পূর্ববর্তী ফকীহগণ প্রাচীন গ্রন্থাদিতে এই যুগের পরিবহণ খাত ও যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কে সঙ্গত কারণেই কোনো আলোচনা করেননি। যেমন আধুনিক যুগের মোটরযান, উড়োজাহাজ, সামুদ্রিক জাহাজ ইত্যাদির ভাড়া ও চাকরি নিয়ে প্রাচীন গ্রন্থ সমূহে কোনো আলোচনা নেই। তাদের আলোচনা জীবজন্তু, মানুষ ও নৌকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আধুনিক যুগের সকল ইজারার ক্ষেত্রে ইজারার মূল শর্তগুলোর ভিত্তিতে প্রাচীন বিধানগুলো প্রয়োগযোগ্য। হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফকীহগণের মতভিন্নতাও হতে পারে। যেমন ভ্রমণে ইজারার ক্ষেত্রে যানবাহন নির্দিষ্টকরণ। গণ পরিবহণ কিংবা মাল পরিবহণের ইজারার বিষয়টিও স্থানীয় রীতি ও প্রচলনের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। আজীরে খাস, আজীরে মুশতরাক কিংবা কোনো নির্দিষ্ট পণ্য, কোনো নৌকা সম্পর্কে জরিমানার যেসব বিধান বর্ণিত হয়েছে সেগুলো আধুনিক যুগের গাড়ি, বাস, ট্রাক, বাড়ি, ফ্যাক্টরি, কার্গো, জাহাজ, ভেসেল ইত্যাদি ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ইজারার মধ্যে অন্য কারো মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া

📄 ইজারার মধ্যে অন্য কারো মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া


একটি জিনিস যদি ইজারা দেওয়া হয়, অতঃপর সেটিতে ইজারাদাতা বাদে অন্য কারো মালিকানা সাব্যস্ত হয়, তবে কোনো কোনো ফকীহের মতে ইজারাচুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। কোনো কোনো ফকীহ বলেন, পরিবর্তিত মালিকের অনুমতির উপর ইজারা নির্ভরশীল হবে। এক্ষেত্রে ইজারার মূল্য কে পাবে ফকীহগণের মধ্যে তা নিয়েও মতভিন্নতা দেখা যায়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দ্রষ্টব্য استحقاق স্বত্বাধিকার সম্পর্কিত আলোচনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00