📄 শিঙ্গা প্রয়োগকারীর উপর জরিমানা
শিংগা প্রয়োগকারী যদি শিংগা প্রয়োগে সীমালঙ্ঘন না করে তবে তার উপর কোনো জরিমানা ধার্য হবে না। কেননা শিংগা ব্যবহারের ক্ষয়ক্ষতি প্রয়োগকৃত ব্যক্তির দৈহিক সামর্থ্য ও শারীরিক সুস্থতার উপর অনেকটাই নির্ভর করে। পেশাগত দক্ষতা থাকার পরও তাদের কেউ যদি সীমালঙ্ঘন করে কিংবা পেশাগত দক্ষতা ছাড়াই যদি কেউ কাজ করে তবে তাদের ওপর জরিমানা ধার্য হবে। কেননা পেশাগত দক্ষতা ছাড়া এমন কাজ সুস্পষ্ট ক্ষতিসাধন। আর ক্ষতিসাধনের ক্ষেত্রে ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক জরিমানা ধার্য হয়। শিংগা প্রয়োগের কারণে সৃষ্ট ক্ষত যদি শরীরে ছড়িয়ে যায় তবে শিংগা প্রয়োগকারীর উপর এর দায় বর্তাবে। এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন ইমাম শাফেয়ী ও যুক্তিবাদীগণ। শিংগা প্রয়োগকারীকে যদি অন্য কোনো কাজ যেমন চুল কাটা, মাথা কামানো, খতনা করা, শরীরের কোনো অংশ কাটা ইত্যাদি প্রয়োজনে নিয়োগ করা হয় তবে এই নিয়োগ সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয।
📄 কূপ খননের জন্যে ইজারা
কূপ খননের মধ্যে পণ্যদ্রব্যে এক ধরনের অজ্ঞতা রয়েছে। কেননা খননকারী জানে না খনন কাজে তাকে কোন প্রকার জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে। ফলে খননকাজের চুক্তির ক্ষেত্রে খননকারী খননক্ষেত্র দেখে নেওয়াকে চুক্তি সহীহ হওয়ার জন্যে জরুরি মনে করেন মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ। হানাফীগণ বলেন, খননকাজে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা ও জায়গা নির্দিষ্ট হওয়া জরুরি। শ্রমিককে যদি খননকাজের জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় এবং কাঙ্ক্ষিত পরিমাপও উল্লেখ করা হয়, কিন্তু খননকাজ শুরু করার পর খননকারী বুঝতে পারে খননক্ষেত্রের ভূমি অত্যন্ত শক্ত এবং এ খননকাজে তাকে আরো উন্নতমানের সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে, যার দরুন খননকাজের ব্যয় বেড়ে যাবে, এ অবস্থায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কারণে তাকে কাজ সমাপ্ত করতে বাধ্য করা যাবে না; খননকারী ইচ্ছা করলে চুক্তি বাতিল করার অধিকার পাবে। নিজস্ব জমি হওয়ার কারণে যতটুকু খননকাজ হবে ততটুকু মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধরা হবে। নিজস্ব জমিতে খননাদেশ দানকারীর খননকাজ চলাকালে যদি ভূমি ধসের কারণে কূপ নষ্ট হয়ে যায়, তবুও এ সকল অবস্থায়ও খননকারীর পারিশ্রমিকের কোনো প্রভাব পড়বে না।
📄 রাখালের ইজারা
রাখাল বা পশুচারক স্বাধীন শ্রমিক হতে পারে, একান্ত কর্মচারীও হতে পারে। রাখালকে যদি পশুর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় তবে এর বেশি পশু চারণে সে বাধ্য নয়। কিন্তু গবাদি পশুর প্রসবজনিত কারণে যদি পশুর সংখ্যা বেড়ে যায় তবে হানাফীগণ ইসতিহসান বা সূক্ষ্ম কিয়াস হিসাবে বর্ধিত পশুচারণকেও রাখালের জন্যে অপরিহার্য মনে করেন। পশুর বাচ্চাগুলো এক্ষেত্রে অনুবর্তী হিসাবে যুক্ত হবে। রাখালের যদি এমন আশঙ্কা হয়, কোনো পশু আঘাত জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করতে পারে, তাই সেটিকে সে মালিকের অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষা না করে জবাই করে ফেলে তবে ইসতিহসান হিসাবে রাখালের উপর এর জরিমানা আসবে না। এক্ষেত্রে মালিক ও রাখালের মধ্যে যদি মতভেদ দেখা দেয় তবে রাখালের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে।
📄 তাত্ত্বিকজ্ঞান শিক্ষাদান এবং শিল্প ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান
মৌলিক দীনি শিক্ষা ছাড়া অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক বা সম্মানী গ্রহণের বৈধতায় কোনো মতপার্থক্য নেই। যদিও এই জ্ঞান ও বিদ্যা শরয়ী জ্ঞানের মাধ্যম, সহায়ক ও সম্পূরকের পর্যায়ভুক্ত হয়। যেমন আরবী ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র, উসূলে ফিকহ ইত্যাদি। অন্যান্য প্রায়োগিক পেশাগত বিদ্যা ও শিল্প বিদ্যার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। শিক্ষা-প্রশিক্ষণের ব্যাপারটি যদি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হয়, তবে প্রশিক্ষণদাতা মেয়াদান্তে তার পারিশ্রমিকের অধিকারী হবে। এ ধরনের চুক্তি সহীহ হওয়ার ব্যাপারে সকল ফকীহ একমত। তবে অধিকাংশ ফকীহ উত্তম বিবেচনায় ইসতিহসান হিসাবে এমন চুক্তিকে জায়েয হওয়ার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। হানাফী ফকীহদের মতে, কোনো বিষয়ে পারদর্শী করে তোলার শর্তে কোনো শিক্ষার্থীকে যদি কোনো শিক্ষক পড়ানোর কাজ সমাপ্ত করেন, তবে অন্যান্য ফাসিদ চুক্তির সাথে তুলনা করে এক্ষেত্রেও শিক্ষক প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সম্মানী পাবেন।