📄 হাজ্জাম ও ডাক্তারদের পারিশ্রমিক এবং তাদের ভর্তুকী
শিংগা লাগানো সকল ফকীহের মতে জায়েয। শিংগা প্রয়োগকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া সম্পর্কিত হাদীসগুলোর মধ্যে বিধানগত বৈপরিত্য থাকার কারণে ফকীহগণের এ বিষয়ে তিনটি মত বর্ণিত হয়েছে। কোনো ফকীহ বলেছেন, শিংগা প্রয়োগকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া জায়েয। কেননা রাসূলে কারীম (সা.) শিংগা লাগিয়েছেন এবং শিংগা প্রয়োগকারীকে পারিশ্রমিক দিয়েছেন। শিংগা লাগানো যদি জায়েয না হতো তাহলে তিনি তা করতেন না। কোনো ফকীহ শিংগা লাগানোকে মাকরূহ বলেছেন। হানাফী ফকীহগণ শিংগা প্রয়োগ প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং এ কাজের চাকরি নেওয়া মাকরূহ মনে করেন। কেননা এই কাজের মধ্যে অসম্মান রয়েছে।
চিকিৎসার জন্যে টাকার বিনিময়ে ডাক্তার নিয়োগ করা এবং চিকিৎসা করে ডাক্তার হিসেবে ফি নেওয়া জায়েয মোবাহ। অবশ্য এক্ষেত্রে শর্ত হলো, চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার মাত্রা কম হতে হবে। শাফেয়ী মতাবলম্বী ফকীহগণের বক্তব্য থেকে একথাই বোঝা যায়। ফকীহগণ লিখেছেন, নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে চিকিৎসার জন্য চিকিৎসককে নিয়োগ করা জায়েয নয়। কেননা এই চুক্তিতে কাজ ও সময় উভয়টিকে একত্র করা হয়েছে। হাম্বলীদের মতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চিকিৎসার জন্যে ডাক্তার নিয়োগ জায়েয। কিন্তু সুস্থতার শর্তে ডাক্তার নিয়োগ জায়েয নেই। যেহেতু রোগী যে সুস্থ হবেই, এ ব্যাপারে কেউ নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
📄 শিঙ্গা প্রয়োগকারীর উপর জরিমানা
শিংগা প্রয়োগকারী যদি শিংগা প্রয়োগে সীমালঙ্ঘন না করে তবে তার উপর কোনো জরিমানা ধার্য হবে না। কেননা শিংগা ব্যবহারের ক্ষয়ক্ষতি প্রয়োগকৃত ব্যক্তির দৈহিক সামর্থ্য ও শারীরিক সুস্থতার উপর অনেকটাই নির্ভর করে। পেশাগত দক্ষতা থাকার পরও তাদের কেউ যদি সীমালঙ্ঘন করে কিংবা পেশাগত দক্ষতা ছাড়াই যদি কেউ কাজ করে তবে তাদের ওপর জরিমানা ধার্য হবে। কেননা পেশাগত দক্ষতা ছাড়া এমন কাজ সুস্পষ্ট ক্ষতিসাধন। আর ক্ষতিসাধনের ক্ষেত্রে ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক জরিমানা ধার্য হয়। শিংগা প্রয়োগের কারণে সৃষ্ট ক্ষত যদি শরীরে ছড়িয়ে যায় তবে শিংগা প্রয়োগকারীর উপর এর দায় বর্তাবে। এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন ইমাম শাফেয়ী ও যুক্তিবাদীগণ। শিংগা প্রয়োগকারীকে যদি অন্য কোনো কাজ যেমন চুল কাটা, মাথা কামানো, খতনা করা, শরীরের কোনো অংশ কাটা ইত্যাদি প্রয়োজনে নিয়োগ করা হয় তবে এই নিয়োগ সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয।
📄 কূপ খননের জন্যে ইজারা
কূপ খননের মধ্যে পণ্যদ্রব্যে এক ধরনের অজ্ঞতা রয়েছে। কেননা খননকারী জানে না খনন কাজে তাকে কোন প্রকার জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে। ফলে খননকাজের চুক্তির ক্ষেত্রে খননকারী খননক্ষেত্র দেখে নেওয়াকে চুক্তি সহীহ হওয়ার জন্যে জরুরি মনে করেন মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ। হানাফীগণ বলেন, খননকাজে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা ও জায়গা নির্দিষ্ট হওয়া জরুরি। শ্রমিককে যদি খননকাজের জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় এবং কাঙ্ক্ষিত পরিমাপও উল্লেখ করা হয়, কিন্তু খননকাজ শুরু করার পর খননকারী বুঝতে পারে খননক্ষেত্রের ভূমি অত্যন্ত শক্ত এবং এ খননকাজে তাকে আরো উন্নতমানের সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে, যার দরুন খননকাজের ব্যয় বেড়ে যাবে, এ অবস্থায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কারণে তাকে কাজ সমাপ্ত করতে বাধ্য করা যাবে না; খননকারী ইচ্ছা করলে চুক্তি বাতিল করার অধিকার পাবে। নিজস্ব জমি হওয়ার কারণে যতটুকু খননকাজ হবে ততটুকু মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধরা হবে। নিজস্ব জমিতে খননাদেশ দানকারীর খননকাজ চলাকালে যদি ভূমি ধসের কারণে কূপ নষ্ট হয়ে যায়, তবুও এ সকল অবস্থায়ও খননকারীর পারিশ্রমিকের কোনো প্রভাব পড়বে না।
📄 রাখালের ইজারা
রাখাল বা পশুচারক স্বাধীন শ্রমিক হতে পারে, একান্ত কর্মচারীও হতে পারে। রাখালকে যদি পশুর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় তবে এর বেশি পশু চারণে সে বাধ্য নয়। কিন্তু গবাদি পশুর প্রসবজনিত কারণে যদি পশুর সংখ্যা বেড়ে যায় তবে হানাফীগণ ইসতিহসান বা সূক্ষ্ম কিয়াস হিসাবে বর্ধিত পশুচারণকেও রাখালের জন্যে অপরিহার্য মনে করেন। পশুর বাচ্চাগুলো এক্ষেত্রে অনুবর্তী হিসাবে যুক্ত হবে। রাখালের যদি এমন আশঙ্কা হয়, কোনো পশু আঘাত জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করতে পারে, তাই সেটিকে সে মালিকের অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষা না করে জবাই করে ফেলে তবে ইসতিহসান হিসাবে রাখালের উপর এর জরিমানা আসবে না। এক্ষেত্রে মালিক ও রাখালের মধ্যে যদি মতভেদ দেখা দেয় তবে রাখালের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে।