📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 জরিমানা নির্ধারণের উপযুক্ত সময়

📄 জরিমানা নির্ধারণের উপযুক্ত সময়


আজীরে মুশতাক-এর উপর যখন জরিমানা ধার্য হবে, তখন অবস্থা যদি এমন হয় যে, কার্যাদেশপ্রাপ্ত কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর বস্তুটি নষ্ট হয়েছে, তবে মালিক কাজ যেহেতু সম্পন্ন হয়ে গেছে, তাই জিনিসটির মূল্য নির্ধারণ করে সেই মূল্য জরিমানা স্বরূপ শ্রমিকের পারিশ্রমিক থেকে কেটে নেবে। শ্রমিকের কাজ শুরুর আগেই যদি দ্রব্যসামগ্রীর ক্ষতি সাধিত হয়, তাহলে কাজের মূল্যায়ন ছাড়াই জরিমানা নির্ধারিত হবে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 أجير مشترك-এর বিপরীতে নিয়োগকর্তা/কার্যাদেশ দাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য

📄 أجير مشترك-এর বিপরীতে নিয়োগকর্তা/কার্যাদেশ দাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য


নিয়োগকর্তার দায়িত্ব হলো যখন সে শ্রমিকের সাথে কোনো জিনিসের ইজারা চুক্তি করবে তখন তার ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কাজ শেষে তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করা। কোনো জিনিসের পরিবহনের জন্যে যদি কাউকে নিযুক্ত করা হয় আর কাজ সমাপনের আগেই যদি সেই জিনিসটি বিনষ্ট হয় তবে বাহক কোনো ভাড়ার অধিকারী হবে না। কেননা সে তার দায়িত্ব পালন করতে পারেনি।

টিকাঃ
২১২. হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ২৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 أجير مشترك-এর প্রকার

📄 أجير مشترك-এর প্রকার


সাধারণ শ্রমদাতা বা আজীরে মুশতাক-এর কাজের ধরন অনুযায়ী একে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি কোনো এজেন্টের মাধ্যমে কোনো জিনিস কেনার কিংবা বিক্রির ইচ্ছা করা হয়, কাজ সম্পন্নের আগেই জিনিসটি ধ্বংস হয়ে যায় তবে বহনকারী ও এজেন্ট তাদের প্রাপ্য ঠিকই পাবে। অবশ্য শ্রমিককে যদি এমন কাজ দেয়া হয় যে কাজের প্রভাব বস্তুর সাথে সম্পর্কিত থাকে, যেমন কোনো কাপড়ে রং করে দেয়ার কাজ দেয়া হলো, এক্ষেত্রে রং এর কাজ শেষ করে বুঝিয়ে না দিলে কোনো পারিশ্রমিক প্রাপ্য হবে না, যদি এর বিপরীত কোনো শর্তারোপ না হয়ে থাকে। মালিককে রং করা কাপড় বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই যদি কোনো কারণে কাপড় ধ্বংস হয়ে যায় তবে রং মিস্ত্রি রং-এর পারিশ্রমিক পাবে না। অবশ্য এই বিধান তখনই প্রযোজ্য হবে যখন কার্যাদেশদাতা থেকে শ্রমিক দূরের অবস্থানে থেকে রং-এর কাজ করবে।

শ্রমিক যদি নিয়োগকর্তার নিকটে বা তার নিয়ন্ত্রণেই কাজ করে, যেমন নিয়োগকর্তার ঘরে কিংবা কারখানায় কাজ করে, তবে কারো মতে, যতটুকু কাজ হবে সেই পরিমাণ পারিশ্রমিক প্রাপ্য হবে। আর অনেকের মতে কাজ সম্পন্ন করার পরই কেবল পারিশ্রমিক প্রাপ্য হবে, অন্যথায় নয়।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 হাজ্জাম ও ডাক্তারদের পারিশ্রমিক এবং তাদের ভর্তুকী

📄 হাজ্জাম ও ডাক্তারদের পারিশ্রমিক এবং তাদের ভর্তুকী


শিংগা লাগানো সকল ফকীহের মতে জায়েয। শিংগা প্রয়োগকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া সম্পর্কিত হাদীসগুলোর মধ্যে বিধানগত বৈপরিত্য থাকার কারণে ফকীহগণের এ বিষয়ে তিনটি মত বর্ণিত হয়েছে। কোনো ফকীহ বলেছেন, শিংগা প্রয়োগকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া জায়েয। কেননা রাসূলে কারীম (সা.) শিংগা লাগিয়েছেন এবং শিংগা প্রয়োগকারীকে পারিশ্রমিক দিয়েছেন। শিংগা লাগানো যদি জায়েয না হতো তাহলে তিনি তা করতেন না। কোনো ফকীহ শিংগা লাগানোকে মাকরূহ বলেছেন। হানাফী ফকীহগণ শিংগা প্রয়োগ প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং এ কাজের চাকরি নেওয়া মাকরূহ মনে করেন। কেননা এই কাজের মধ্যে অসম্মান রয়েছে।

চিকিৎসার জন্যে টাকার বিনিময়ে ডাক্তার নিয়োগ করা এবং চিকিৎসা করে ডাক্তার হিসেবে ফি নেওয়া জায়েয মোবাহ। অবশ্য এক্ষেত্রে শর্ত হলো, চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার মাত্রা কম হতে হবে। শাফেয়ী মতাবলম্বী ফকীহগণের বক্তব্য থেকে একথাই বোঝা যায়। ফকীহগণ লিখেছেন, নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে চিকিৎসার জন্য চিকিৎসককে নিয়োগ করা জায়েয নয়। কেননা এই চুক্তিতে কাজ ও সময় উভয়টিকে একত্র করা হয়েছে। হাম্বলীদের মতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চিকিৎসার জন্যে ডাক্তার নিয়োগ জায়েয। কিন্তু সুস্থতার শর্তে ডাক্তার নিয়োগ জায়েয নেই। যেহেতু রোগী যে সুস্থ হবেই, এ ব্যাপারে কেউ নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00