📄 সাধারণ শ্রমদাতার ওপর জরিমানা/ক্ষতিপূরণ
ফকীহগণ এ ব্যাপারে একমত, সাধারণ শ্রমদাতা মজদুরের ত্রুটি কিংবা অবহেলার কারণে যদি কার্যাদেশ দাতার কোনো সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায় কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে এই ক্ষয়ক্ষতির জরিমানা তাকে দিতে হবে। ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ ও হাম্বলীদের মতে, আজীরে মুশতাক-এর হাতে কোনো জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে এই জিনিসের জরিমানা দিতে হবে, ক্ষয়ক্ষতি তার ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক।
ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে, শ্রমিক কিংবা তার শিষ্যের কাজের ফলে যদি কোনো জিনিস নষ্ট হয়, তবে সেই ক্ষয়ক্ষতি তাদের ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, সর্বাবস্থায়ই জরিমানা দিতে হবে। কেননা এই ক্ষয়ক্ষতি শ্রমিকের কাজের সাথেই সম্পর্কিত।
টিকাঃ
২০৭. কাশফুল হাকায়েক, খ. ২, পৃ. ১৫৭; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৪-১৯১; আল-ইখতিয়ার, খ. ১, পৃ. ১৯৪; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ১৩৮
📄 জরিমানা নির্ধারণের উপযুক্ত সময়
আজীরে মুশতাক-এর উপর যখন জরিমানা ধার্য হবে, তখন অবস্থা যদি এমন হয় যে, কার্যাদেশপ্রাপ্ত কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর বস্তুটি নষ্ট হয়েছে, তবে মালিক কাজ যেহেতু সম্পন্ন হয়ে গেছে, তাই জিনিসটির মূল্য নির্ধারণ করে সেই মূল্য জরিমানা স্বরূপ শ্রমিকের পারিশ্রমিক থেকে কেটে নেবে। শ্রমিকের কাজ শুরুর আগেই যদি দ্রব্যসামগ্রীর ক্ষতি সাধিত হয়, তাহলে কাজের মূল্যায়ন ছাড়াই জরিমানা নির্ধারিত হবে।
📄 أجير مشترك-এর বিপরীতে নিয়োগকর্তা/কার্যাদেশ দাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য
নিয়োগকর্তার দায়িত্ব হলো যখন সে শ্রমিকের সাথে কোনো জিনিসের ইজারা চুক্তি করবে তখন তার ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কাজ শেষে তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করা। কোনো জিনিসের পরিবহনের জন্যে যদি কাউকে নিযুক্ত করা হয় আর কাজ সমাপনের আগেই যদি সেই জিনিসটি বিনষ্ট হয় তবে বাহক কোনো ভাড়ার অধিকারী হবে না। কেননা সে তার দায়িত্ব পালন করতে পারেনি।
টিকাঃ
২১২. হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ২৮
📄 أجير مشترك-এর প্রকার
সাধারণ শ্রমদাতা বা আজীরে মুশতাক-এর কাজের ধরন অনুযায়ী একে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি কোনো এজেন্টের মাধ্যমে কোনো জিনিস কেনার কিংবা বিক্রির ইচ্ছা করা হয়, কাজ সম্পন্নের আগেই জিনিসটি ধ্বংস হয়ে যায় তবে বহনকারী ও এজেন্ট তাদের প্রাপ্য ঠিকই পাবে। অবশ্য শ্রমিককে যদি এমন কাজ দেয়া হয় যে কাজের প্রভাব বস্তুর সাথে সম্পর্কিত থাকে, যেমন কোনো কাপড়ে রং করে দেয়ার কাজ দেয়া হলো, এক্ষেত্রে রং এর কাজ শেষ করে বুঝিয়ে না দিলে কোনো পারিশ্রমিক প্রাপ্য হবে না, যদি এর বিপরীত কোনো শর্তারোপ না হয়ে থাকে। মালিককে রং করা কাপড় বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই যদি কোনো কারণে কাপড় ধ্বংস হয়ে যায় তবে রং মিস্ত্রি রং-এর পারিশ্রমিক পাবে না। অবশ্য এই বিধান তখনই প্রযোজ্য হবে যখন কার্যাদেশদাতা থেকে শ্রমিক দূরের অবস্থানে থেকে রং-এর কাজ করবে।
শ্রমিক যদি নিয়োগকর্তার নিকটে বা তার নিয়ন্ত্রণেই কাজ করে, যেমন নিয়োগকর্তার ঘরে কিংবা কারখানায় কাজ করে, তবে কারো মতে, যতটুকু কাজ হবে সেই পরিমাণ পারিশ্রমিক প্রাপ্য হবে। আর অনেকের মতে কাজ সম্পন্ন করার পরই কেবল পারিশ্রমিক প্রাপ্য হবে, অন্যথায় নয়।