📄 সরকারি কর্মচারীদের শ্রমবিনিয়োগ
ফকীহগণ অনেক আগেই সরকারি কাজে শ্রমবিনিয়োগের শরয়ী সমাধান দিয়েছেন। যেসব কাজের সাথে ইবাদাতের সংশ্লেষ নেই এবং যেগুলোতে নিয়তের বাধকতা নেই সেসব ক্ষেত্রে শ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকে জায়েয বলেছেন। যেমন দণ্ডাদেশ কার্যকর করা, তথ্য রেজিস্ট্রিভুক্ত করা, সরকারি ট্যাক্স ও খাজনা আদায় করা। অধিকাংশ ফকীহের মতে সরকারি কর্মচারীকে একান্ত কর্মচারী বা নির্দিষ্ট কাজে শ্রমবিনিয়োগকারীর পর্যায়ভুক্ত গণ্য করা হবে।
টিকাঃ
১৯৬. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৪১; কাশফুল হাকায়েক, খ. ২, পৃ. ১৫৯; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১৯২
📄 যৌথ কর্মচারী বা একাধিক মালিকের কাছে শ্রমবিনিয়োগ
সাধারণ শ্রমদাতা বা যৌথ কর্মচারী সেই ব্যক্তিকে বলা হবে যে একজনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেও শুধু সেই ব্যক্তির কাজেই সীমাবদ্ধ থাকে না, অন্য লোকের কাজও করে। যেমন নির্মাণ শ্রমিক, দর্জি, ধোপা বা পরিবহণ শ্রমিক। ফকীহগণ এমন শ্রমিককেই ‘আজীরে মুশতাক’ বলে অভিহিত করেছেন।
আজীরে মুশতাক-এর সাথে কাজের ব্যাপারেই চুক্তি হয়ে থাকে, একথায় ফকীহদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই। নিয়োগকর্তা যদি এমন শর্ত করে যে, এই একমাস তুমি আমার কাজ ছাড়া আর কারো কাজ করতে পারবে না, তবে সেই কর্মচারী আর আজীরে মুশতাক থাকবে না, আজীরে খাস-এ পরিণত হবে।
টিকাঃ
১৯৭. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৪১-২৪২; হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ১৩-১৪; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২৯২
১৯৮. আল মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৭৫-৭৭
📄 أجير مشترك বা সাধারণ শ্রমদাতার কর্তব্য
আজীরে মুশতাক-এর কর্তব্য হলো চুক্তি নির্দেশিত কাজ সম্পন্ন করা এবং সেই কাজের সাথে যেসব আসবাব ও উপাদান আবশ্যিক ভাবে জড়িত সমাজের রীতি ও প্রচলন অনুযায়ী সেগুলোর ব্যবস্থা করাও তার কাজে অন্তর্ভুক্ত। যেমন কেউ যদি দর্জির সাথে কোনো কাপড় সেলাইয়ের চুক্তি করে, তবে সেলাইয়ের সুতা, বোতাম ইত্যাদি দর্জিকেই দিতে হবে।
কাজের অর্ডার দাতা যদি শর্ত করে, শ্রমিক নিজেই কাজ সম্পন্ন করবে, তাহলে তার এ শর্ত মেনে নিজেই কাজ করা আবশ্যক হবে। যদি অর্ডারদাতা শ্রমিকের প্রতি এ শর্তারোপ না করে তবে শ্রমিক ইচ্ছা করলে এই কাজটি অন্য কোনো শ্রমিককে দিয়েও করিয়ে নিতে পারে।
টিকাঃ
২০৪. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৫; মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা: ৫০৫
২০৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৫; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৬
২০৬. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৯-১৯১; আশ শারহুস সগীর, খ. ৪, পৃ. ১০; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২৯০
📄 সাধারণ শ্রমদাতার ওপর জরিমানা/ক্ষতিপূরণ
ফকীহগণ এ ব্যাপারে একমত, সাধারণ শ্রমদাতা মজদুরের ত্রুটি কিংবা অবহেলার কারণে যদি কার্যাদেশ দাতার কোনো সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায় কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে এই ক্ষয়ক্ষতির জরিমানা তাকে দিতে হবে। ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ ও হাম্বলীদের মতে, আজীরে মুশতাক-এর হাতে কোনো জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে এই জিনিসের জরিমানা দিতে হবে, ক্ষয়ক্ষতি তার ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক।
ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে, শ্রমিক কিংবা তার শিষ্যের কাজের ফলে যদি কোনো জিনিস নষ্ট হয়, তবে সেই ক্ষয়ক্ষতি তাদের ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, সর্বাবস্থায়ই জরিমানা দিতে হবে। কেননা এই ক্ষয়ক্ষতি শ্রমিকের কাজের সাথেই সম্পর্কিত।
টিকাঃ
২০৭. কাশফুল হাকায়েক, খ. ২, পৃ. ১৫৭; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৪-১৯১; আল-ইখতিয়ার, খ. ১, পৃ. ১৯৪; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ১৩৮