📄 গোনাহ ও ইবাদতের চাকরি
অন্যায়-অপরাধমূলক কাজ; যেমন যিনা, ব্যভিচার, মৃতের জন্য কান্না, অশ্লীল গানবাজনার জন্য কাউকে চাকরি দেওয়া কিংবা চাকরি নেওয়া হারাম ও চুক্তি বাতিলযোগ্য। এ ধরনের কাজে কেউ চুক্তিবদ্ধ হলেও সে পারিশ্রমিকের অধিকারী হবে না। টাকার বিনিময়ে মদ পরিবেশন করা, মদ পরিবহণ করা কিবা শূকর পরিবহণ করা নাজায়েয।
মূলনীতি হলো, যে কাজ বা ইবাদত মুসলমানদের পালন করা আবশ্যিক সে কাজের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েয নয়। যেমন ইমামতি, আযান, হজ, কুরআন শিক্ষা ও জিহাদ। হানাফীগণের সুস্পষ্ট অভিমত, কুরআন পড়ার বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয নয়। তবে পরবর্তী ফকীহগণ, যেসব বিষয়ের উপর ইসলামের ভিত্তি নির্ভর করে, যেমন ইমামতি, আযান ইত্যাদি অতি প্রয়োজনীয় বিধায় এসব কাজের বিপরীতে পারিশ্রমিক গ্রহণকে জায়েয বলে ফতোয়া দিয়েছেন।
ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী রহ. কুরআন তিলাওয়াত ও কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকে জায়েয মনে করেন। তাদের দলিল হলো: রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থের বিনিময়ে বিবাহ দিয়েছিলেন। এক সহীহ মানের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম (সা.) বলেন: ‘তোমরা পারিশ্রমিক গ্রহণ করো তন্মধ্যে আল্লাহর কিতাব হচ্ছে সবচেয়ে বেশি উপযোগী যে তোমরা এর বিনিময় গ্রহণ করবে।’
টিকাঃ
১৭০. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৪৬; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ২১১; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩০৮; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ২৫; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ১০৮
১৭৪. আশ শারহুস সগীর, খ. ৪, পৃ. ৪২
১৭৫. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৮
১৭৯. ফয়জুল কাদীর, খ. ২, পৃ. ৬৪
১৮০. হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
১৮১. হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩৪
📄 একক শ্রমচুক্তির পরিসমাপ্তি
পূর্বে বর্ণিত কারণসমূহের কোনো একটি পাওয়া গেলে একান্ত কর্মচারীর শ্রমচুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটবে। শ্রমিক যদি স্বেচ্ছায় শ্রমচুক্তিতে সম্মত হয়, এরপর কাজ না করে পালিয়ে যায়, তবে কাজ না করার কারণে তার সম্পদ থেকে এর বিকল্প শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে। যদি শ্রমিকের কোনো সম্পদ না থাকে তবে চাকরিদাতা ইচ্ছা করলে চুক্তির সমাপ্তি ঘটাতে পারে।
টিকাঃ
১৯১. সূরা তালাক, আয়াত: ৬
📄 দুগ্ধদানকারিণী নারীর ইজারা
ইজারা (দুগ্ধদানকারিণী নারীর ইজারা : إِجَارَةُ الظَّر : ( الْمُرْضِعِ )। ইসলামী শরীয়ত দুগ্ধপায়ী শিশুকে দুধপান করানোর জন্যে টাকার বিনিময়ে কোনো নারীকে নিয়োগ বৈধ ঘোষণা করেছে। এর বৈধতা কুরআনের আয়াত দ্বারাও প্রমাণিত হয়। ফকীহগণ বলেন, এক্ষেত্রে পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করা আবশ্যিক।
দুগ্ধদানকারিণী মহিলাকে খাবার ও কাপড়ের বিনিময়ে নিয়োগ করাও সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয। খাতাওয়া সগীর গ্রন্থে বলা হয়েছে, খাবারের মান ও প্রকার যদি উল্লেখ করা হয় এবং কতদিন তাকে খাবার ও কাপড় দেওয়া হবে তা যদি উল্লেখ করা হয় তবে তা বৈধ।
হানাফী, হাম্বলী ও কোনো কোনো শাফেয়ী ফকীহ বলেন, দুগ্ধপোষ্য শিশুর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, তার পরিধেয় নোংরা কাপড় ধৌত করা ইত্যাকার কাজও দুগ্ধদানকারিণীর দায়িত্বের অংশ। শাফেয়ীদের মতে, যে শিশুকে দুধপান করানোর জন্যে চুক্তি করা হবে, সেই শিশু নির্দিষ্টকরণ ছাড়া চুক্তি সহীহ হবে না।
টিকাঃ
১৮৬. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২৮৭; হাশিয়াতু কালয়ূবী, খ. ৩, পৃ. ৭৬
১৮৭. রদ্দুল মুহতার, খ. ২, পৃ. ২৯৭; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৯; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ১০৭
১৮৮. মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা: ৫৬৪-৫৬৫
১৮৯. ইবনে মাজা, খ. ২, পৃ. ৮১৮
১৯২. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৯৩
১৯৩. কাশফুল হাকায়েক, খ. ২, পৃ. ১৫৯
১৯৪. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৬৮
১৯৫. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৬; আল মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৯৬
📄 সরকারি কর্মচারীদের শ্রমবিনিয়োগ
ফকীহগণ অনেক আগেই সরকারি কাজে শ্রমবিনিয়োগের শরয়ী সমাধান দিয়েছেন। যেসব কাজের সাথে ইবাদাতের সংশ্লেষ নেই এবং যেগুলোতে নিয়তের বাধকতা নেই সেসব ক্ষেত্রে শ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকে জায়েয বলেছেন। যেমন দণ্ডাদেশ কার্যকর করা, তথ্য রেজিস্ট্রিভুক্ত করা, সরকারি ট্যাক্স ও খাজনা আদায় করা। অধিকাংশ ফকীহের মতে সরকারি কর্মচারীকে একান্ত কর্মচারী বা নির্দিষ্ট কাজে শ্রমবিনিয়োগকারীর পর্যায়ভুক্ত গণ্য করা হবে।
টিকাঃ
১৯৬. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৪১; কাশফুল হাকায়েক, খ. ২, পৃ. ১৫৯; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ১৯২