📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 তৃতীয় প্রকার

📄 তৃতীয় প্রকার


ইজারার তৃতীয় প্রকার হলো মানুষের ইজারা।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মানুষের ইজারা

📄 মানুষের ইজারা


দুভাবে মানুষের মধ্যেও ইজারা পদ্ধতি কার্যকর হয়। একটি হলো: اجير خاص ব্যক্তিগত কাজের জন্য কোনো ব্যক্তিকে ইজারা করা। কোনো কোনো ফকীহ এটিকে ‘আযীরুল ওয়াহিদ’ বলে অভিহিত করেন। দ্বিতীয়ত: اجير مشترك : সাধারণ শ্রমদাতা। যে বিভিন্ন মানুষের কাজ করে; নির্দিষ্ট একজনের ব্যক্তিগত কাজের জন্যে নির্দিষ্ট নয়। যেমন চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা আইনজীবী।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ব্যক্তিগত কর্মচারী

📄 ব্যক্তিগত কর্মচারী


ব্যক্তিগত কর্মচারী (الأجير الخاص) বলা হয় এমন ব্যক্তিকে যে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির কাজে চুক্তিবদ্ধ হয়। তার কাজ হয় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত, সেই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কর্মচারী যখন তার নিয়োগকর্তার কাজে নিজেকে সোপর্দ করে তখন সে পারিশ্রমিক লাভের অধিকারী হয়।

হানাফী ফকীহগণ ব্যক্তিগত সেবামূলক কাজে মহিলা কর্মচারী নিয়োগকে মাকরূহ মনে করেন। কেননা ব্যক্তিগত নারী কর্মচারী রাখলে তার প্রতি কুদৃষ্টি দেওয়া কিংবা কোনো গোনাহর কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। ইমাম আহমদ রহ. ব্যক্তিগত সেবার জন্য নারী কর্মচারী রাখা বৈধ মনে করেন, কিন্তু এমন ব্যবস্থা করতে হবে যেন পরনারীর যেসব অঙ্গ দেখা জায়েয নয় তা দেখা না যায়।

কোনো মুসলিম কর্মচারী যদি ব্যক্তিগত কাজের জন্য অমুসলিমের চাকরি গ্রহণ করে অধিকাংশের মতে তাও জায়েয। তবে এ ক্ষেত্রে তারা একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন— কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের অধীনে যে কাজটি করবে তা মুসলিম হিসেবে তার জন্য করা বৈধ হতে হবে। যেমন— সেলাই কাজ, ঘরবাড়ি তৈরির কাজ ইত্যাদি।

টিকাঃ
১৫৯. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৫৪; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৪; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৪৭১
১৬০. বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ২৪৫; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৪
১৬১. মিনহাজুত তালিবীন, খ. ৩, পৃ. ৬৮
১৬২. রদ্দুল মুহতার, খ. ২, পৃ. ১৯৭; আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৪৫; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 গোনাহ ও ইবাদতের চাকরি

📄 গোনাহ ও ইবাদতের চাকরি


অন্যায়-অপরাধমূলক কাজ; যেমন যিনা, ব্যভিচার, মৃতের জন্য কান্না, অশ্লীল গানবাজনার জন্য কাউকে চাকরি দেওয়া কিংবা চাকরি নেওয়া হারাম ও চুক্তি বাতিলযোগ্য। এ ধরনের কাজে কেউ চুক্তিবদ্ধ হলেও সে পারিশ্রমিকের অধিকারী হবে না। টাকার বিনিময়ে মদ পরিবেশন করা, মদ পরিবহণ করা কিবা শূকর পরিবহণ করা নাজায়েয।

মূলনীতি হলো, যে কাজ বা ইবাদত মুসলমানদের পালন করা আবশ্যিক সে কাজের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েয নয়। যেমন ইমামতি, আযান, হজ, কুরআন শিক্ষা ও জিহাদ। হানাফীগণের সুস্পষ্ট অভিমত, কুরআন পড়ার বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয নয়। তবে পরবর্তী ফকীহগণ, যেসব বিষয়ের উপর ইসলামের ভিত্তি নির্ভর করে, যেমন ইমামতি, আযান ইত্যাদি অতি প্রয়োজনীয় বিধায় এসব কাজের বিপরীতে পারিশ্রমিক গ্রহণকে জায়েয বলে ফতোয়া দিয়েছেন।

ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী রহ. কুরআন তিলাওয়াত ও কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকে জায়েয মনে করেন। তাদের দলিল হলো: রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থের বিনিময়ে বিবাহ দিয়েছিলেন। এক সহীহ মানের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম (সা.) বলেন: ‘তোমরা পারিশ্রমিক গ্রহণ করো তন্মধ্যে আল্লাহর কিতাব হচ্ছে সবচেয়ে বেশি উপযোগী যে তোমরা এর বিনিময় গ্রহণ করবে।’

টিকাঃ
১৭০. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৪৬; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ২১১; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩০৮; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ২৫; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ১০৮
১৭৪. আশ শারহুস সগীর, খ. ৪, পৃ. ৪২
১৭৫. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৮
১৭৯. ফয়জুল কাদীর, খ. ২, পৃ. ৬৪
১৮০. হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
১৮১. হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00