📄 দ্বিতীয় প্রকার
ইজারার দ্বিতীয় প্রকার হলো জীবজন্তুর ইজারা।
📄 জীবজন্তুর ইজারা
জীবজন্তুর ইজারার ক্ষেত্রেও পূর্বোল্লিখিত বিধানাবলি কার্যকর হবে। অবশ্য কোনো কোনো জীবজন্তুর ভাড়ার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ ব্যবস্থা ও নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। যেমন কুকুর, ঘোড়া কিংবা এমন জীবজন্তু নিরাপত্তা কাজের জন্য ইজারা গ্রহণ করা। হানাফীগণের মতে নিরাপত্তা কাজে জীবজন্তুর ইজারা নিষিদ্ধ। কেননা দাঙ্গাহাঙ্গামা ও হামলা-আক্রমণ ইত্যাকার কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তা বিধানের কাজে জীবজন্তুর সফল ব্যবহারের বিষয়টি মানুষের পক্ষে নিশ্চিত নয়।
অধিকাংশ ফকীহ এবং হানাফী ও শাফেয়ীদের জাহেরী মাযহাব এবং হাম্বলীদের মূল মাযহাব হচ্ছে, মাদী জন্তুর গর্ভধারণের জন্যে নরজন্তু ইজারা করা জায়েয নয়। এর কারণ, নবী করীম (সা.) এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু হাম্বলীগণ বলেন, মানুষ যদি জীবজন্তুর গর্ভধারণের জন্যে নরপশু ইজারা করার প্রয়োজন অনুভব করে এবং ভাড়া করা ছাড়া তাদের প্রয়োজন পূরণের কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে প্রয়োজনের তাগিদে প্রত্যাশী ব্যক্তির ইজারার মূল্য পরিশোধ জায়েয; কিন্তু নরপশুর মালিকের গর্ভসঞ্চার কাজের বিনিময়ে ভাড়া নেওয়া জায়েয নয়।
অধিকাংশ ফকীহের দৃষ্টিতে জীবজন্তুর ইজারা ফলশ্রুতিতে যদি কোনো দ্রব্য বিক্রির সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, যেমন কোনো ছাগল ভাড়া নিয়ে সেটির দুধ গ্রহণ করা হয়, তাহলে এই ইজারা বৈধ হবে না। কেননা ইজারার মূল হলো কোনো বস্তুর উপকার লাভ করা, কোনো বস্তু ভোগ করা নয়।
টিকাঃ
১৫৬. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৮১; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০০; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ১৫
১৫৭. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৮১; হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৩৪
১৫৮. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪১৫
📄 তৃতীয় প্রকার
ইজারার তৃতীয় প্রকার হলো মানুষের ইজারা।
📄 মানুষের ইজারা
দুভাবে মানুষের মধ্যেও ইজারা পদ্ধতি কার্যকর হয়। একটি হলো: اجير خاص ব্যক্তিগত কাজের জন্য কোনো ব্যক্তিকে ইজারা করা। কোনো কোনো ফকীহ এটিকে ‘আযীরুল ওয়াহিদ’ বলে অভিহিত করেন। দ্বিতীয়ত: اجير مشترك : সাধারণ শ্রমদাতা। যে বিভিন্ন মানুষের কাজ করে; নির্দিষ্ট একজনের ব্যক্তিগত কাজের জন্যে নির্দিষ্ট নয়। যেমন চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা আইনজীবী।