📄 ঘরবাড়ির ইজারা ও ভাড়ার ক্ষেত্রে মালিক ও ভাড়াটের দায়িত্ব ও কর্তব্য
বাড়ি বা ঘরের মালিকের দায়িত্ব হলো, ঘরটিকে ভাড়াটিয়ার বসবাসের উপযোগী করে দেওয়া। ঘর বা বাড়ি যখন থেকে ব্যবহারের উপযোগী হবে, চুক্তি অনুযায়ী ভাড়াটিয়া যদি সেই সময় থেকে ঘর বা বাড়ি ব্যবহার নাও করে তবুও তাকে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও যদি বাড়ির মালিক ব্যবহারের উপযোগী করে দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে ভাড়ার অধিকারী হবে না।
ভাড়াটিয়ার জন্য এক্ষেত্রে অবকাশ আছে যে, সে ইচ্ছা করলে ভাড়াকৃত বাড়িতে নিজে বসবাস করতে পারে, কিংবা অন্য কাউকে বসবাস করতে দিতে পারে কিংবা ইচ্ছা করলে সে ভাড়াকৃত বাড়ি অন্য কারো কাছে ভাড়াও দিতে পারে। তবে উভয় ভাড়া যদি একই জিনিস বা মুদ্রায় আদায় করা হয়, ভাড়াটিয়া ভাড়াকৃত বাড়িতে কোনো সংস্কার সংযোজন না করে, তবে তার এই পরিমাণ ভাড়া নেওয়া জায়েয হবে যে পরিমাণ ভাড়ায় সে মালিকের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছে।
বাড়ির মালিকের কর্তব্য হলো, বাড়িতে বসবাস করার ক্ষেত্রে অসুবিধা ও বিঘ্ন সৃষ্টিকারী সকল জিনিস থেকে বাড়িটিকে মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামত করে দেওয়া। বাড়ির মালিক যদি এসব অসুবিধা দূর করতে অস্বীকার করে তবে ভাড়াটিয়া চুক্তি বাতিল করার অধিকার পাবে।
হানাফীদের একটি অভিমত এবং মালেকীদিগের দৃষ্টিতে ভাড়াটিয়া কোনো অবস্থাতেই ঘরের মালিককে মেরামত ও সংস্কারের জন্য বাধ্য করতে পারবে না। ভাড়াটিয়া ইচ্ছা করলে পূর্ণ ভাড়ার বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ বাড়িতেই থাকবে, নয়তো সে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার অধিকার পাবে। মালিকের ইচ্ছা ও অনুমতি ছাড়াই যদি ভাড়াটিয়া নিজ খরচে বাড়ি মেরামত করে কিংবা প্রয়োজনীয় সংস্কার করে তবে সেটি হবে বাড়ির মালিকের প্রতি তার অনুগ্রহ।
টিকাঃ
১৪৭. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৬; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৬
১৪৮. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৭; আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ৩২৯
১৪৯. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৭৬-১৮৯; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ১৩৬
১৫০. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৩২; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৭
📄 দ্বিতীয় প্রকার
ইজারার দ্বিতীয় প্রকার হলো জীবজন্তুর ইজারা।
📄 জীবজন্তুর ইজারা
জীবজন্তুর ইজারার ক্ষেত্রেও পূর্বোল্লিখিত বিধানাবলি কার্যকর হবে। অবশ্য কোনো কোনো জীবজন্তুর ভাড়ার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ ব্যবস্থা ও নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। যেমন কুকুর, ঘোড়া কিংবা এমন জীবজন্তু নিরাপত্তা কাজের জন্য ইজারা গ্রহণ করা। হানাফীগণের মতে নিরাপত্তা কাজে জীবজন্তুর ইজারা নিষিদ্ধ। কেননা দাঙ্গাহাঙ্গামা ও হামলা-আক্রমণ ইত্যাকার কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তা বিধানের কাজে জীবজন্তুর সফল ব্যবহারের বিষয়টি মানুষের পক্ষে নিশ্চিত নয়।
অধিকাংশ ফকীহ এবং হানাফী ও শাফেয়ীদের জাহেরী মাযহাব এবং হাম্বলীদের মূল মাযহাব হচ্ছে, মাদী জন্তুর গর্ভধারণের জন্যে নরজন্তু ইজারা করা জায়েয নয়। এর কারণ, নবী করীম (সা.) এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু হাম্বলীগণ বলেন, মানুষ যদি জীবজন্তুর গর্ভধারণের জন্যে নরপশু ইজারা করার প্রয়োজন অনুভব করে এবং ভাড়া করা ছাড়া তাদের প্রয়োজন পূরণের কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে প্রয়োজনের তাগিদে প্রত্যাশী ব্যক্তির ইজারার মূল্য পরিশোধ জায়েয; কিন্তু নরপশুর মালিকের গর্ভসঞ্চার কাজের বিনিময়ে ভাড়া নেওয়া জায়েয নয়।
অধিকাংশ ফকীহের দৃষ্টিতে জীবজন্তুর ইজারা ফলশ্রুতিতে যদি কোনো দ্রব্য বিক্রির সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, যেমন কোনো ছাগল ভাড়া নিয়ে সেটির দুধ গ্রহণ করা হয়, তাহলে এই ইজারা বৈধ হবে না। কেননা ইজারার মূল হলো কোনো বস্তুর উপকার লাভ করা, কোনো বস্তু ভোগ করা নয়।
টিকাঃ
১৫৬. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৮১; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০০; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ১৫
১৫৭. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৮১; হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৩৪
১৫৮. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪১৫
📄 তৃতীয় প্রকার
ইজারার তৃতীয় প্রকার হলো মানুষের ইজারা।