📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঘর-বাড়ি ও ইমারতের ইজারা বা ভাড়া প্রদান

📄 ঘর-বাড়ি ও ইমারতের ইজারা বা ভাড়া প্রদান


ঘর-বাড়ি ও ইমারতের ইজারা বা ভাড়া প্রদান সংক্রান্ত বিধি-বিধান নিচে আলোচনা করা হলো।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঘর-বাড়িতে কিসের ভিত্তিতে উপকারভোগ নির্ধারণ করা হবে?

📄 ঘর-বাড়িতে কিসের ভিত্তিতে উপকারভোগ নির্ধারণ করা হবে?


ঘর-বাড়িতে কিসের ভিত্তিতে উপকারভোগ নির্ধারণ করা হবে? ঘর ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে তা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে, এ বিষয়ে ফকীহদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই। কোনো ভাড়াটেকে যে ঘর দেখানো হয়েছে, পরবর্তী সময়ে সেই ঘর বুঝিয়ে দেওয়ার বেলায় যদি সে এমন পরিবর্তন দেখতে পায়, যা তার বসবাস করার ক্ষেত্রে কষ্টদায়ক হয়— তবে ভাড়াটে সেই চুক্তি বাতিল করতে পারবে— ত্রুটিজনিত প্রত্যাখ্যানের অধিকার বলে। কেউ যদি ঘর দেখা ছাড়া, যা সে চুক্তি বন্ধ হওয়ার আগেও দেখেনি এবং চুক্তির সময়ও দেখেনি, শুধু গুণ ও বৈশিষ্ট্যের কথা বিশ্বাস করে ইজারাচুক্তি করে, এক্ষেত্রে যেসব ফকীহ ক্রেতার জন্যে পণ্য দেখার অধিকারকে ইজারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য মনে করেন তাদের মতে, ইজারাগ্রহীতার দেখার অধিকার বলবৎ হবে।

আবাসিক ঘরবাড়ির ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণত তেমন তারতম্য ঘটে না, সবাই বসবাস কাজেই ব্যবহার করে। ফলে দোকান হোক কিংবা বসত ঘর হোক, ইজারাদার কী কাজে ব্যবহার করবে তা উল্লেখ ছাড়াও ইজারাচুক্তি হতে পারে। আবাসিক ঘরবাড়ি ইজারা নেওয়ার সময় ইজারাগ্রহীতার তা নির্দিষ্ট করা জরুরি নয়। ঘরবাড়ির সাথে আবশ্যিকভাবে যেসব জিনিস থাকা জরুরি, এগুলো উল্লেখ করা ছাড়াই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কেননা আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ছাড়া ঘর বা বাড়ি যাই বলা হোক, সেগুলো ব্যবহারযোগ্য থাকে না, সেগুলোর পূর্ণ উপকার লাভ সম্ভব হয় না।

টিকাঃ
১৩৪. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৬৪-৬৮
১৩৫. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৪, পৃ. ৪২৬
১৩৭. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৫২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঘরবাড়ির ইজারা ও ভাড়ার ক্ষেত্রে মালিক ও ভাড়াটের দায়িত্ব ও কর্তব্য

📄 ঘরবাড়ির ইজারা ও ভাড়ার ক্ষেত্রে মালিক ও ভাড়াটের দায়িত্ব ও কর্তব্য


বাড়ি বা ঘরের মালিকের দায়িত্ব হলো, ঘরটিকে ভাড়াটিয়ার বসবাসের উপযোগী করে দেওয়া। ঘর বা বাড়ি যখন থেকে ব্যবহারের উপযোগী হবে, চুক্তি অনুযায়ী ভাড়াটিয়া যদি সেই সময় থেকে ঘর বা বাড়ি ব্যবহার নাও করে তবুও তাকে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও যদি বাড়ির মালিক ব্যবহারের উপযোগী করে দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে ভাড়ার অধিকারী হবে না।

ভাড়াটিয়ার জন্য এক্ষেত্রে অবকাশ আছে যে, সে ইচ্ছা করলে ভাড়াকৃত বাড়িতে নিজে বসবাস করতে পারে, কিংবা অন্য কাউকে বসবাস করতে দিতে পারে কিংবা ইচ্ছা করলে সে ভাড়াকৃত বাড়ি অন্য কারো কাছে ভাড়াও দিতে পারে। তবে উভয় ভাড়া যদি একই জিনিস বা মুদ্রায় আদায় করা হয়, ভাড়াটিয়া ভাড়াকৃত বাড়িতে কোনো সংস্কার সংযোজন না করে, তবে তার এই পরিমাণ ভাড়া নেওয়া জায়েয হবে যে পরিমাণ ভাড়ায় সে মালিকের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছে।

বাড়ির মালিকের কর্তব্য হলো, বাড়িতে বসবাস করার ক্ষেত্রে অসুবিধা ও বিঘ্ন সৃষ্টিকারী সকল জিনিস থেকে বাড়িটিকে মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামত করে দেওয়া। বাড়ির মালিক যদি এসব অসুবিধা দূর করতে অস্বীকার করে তবে ভাড়াটিয়া চুক্তি বাতিল করার অধিকার পাবে।

হানাফীদের একটি অভিমত এবং মালেকীদিগের দৃষ্টিতে ভাড়াটিয়া কোনো অবস্থাতেই ঘরের মালিককে মেরামত ও সংস্কারের জন্য বাধ্য করতে পারবে না। ভাড়াটিয়া ইচ্ছা করলে পূর্ণ ভাড়ার বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ বাড়িতেই থাকবে, নয়তো সে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার অধিকার পাবে। মালিকের ইচ্ছা ও অনুমতি ছাড়াই যদি ভাড়াটিয়া নিজ খরচে বাড়ি মেরামত করে কিংবা প্রয়োজনীয় সংস্কার করে তবে সেটি হবে বাড়ির মালিকের প্রতি তার অনুগ্রহ।

টিকাঃ
১৪৭. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৬; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৬
১৪৮. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৭; আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ৩২৯
১৪৯. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৭৬-১৮৯; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ১৩৬
১৫০. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৩২; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৭

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 দ্বিতীয় প্রকার

📄 দ্বিতীয় প্রকার


ইজারার দ্বিতীয় প্রকার হলো জীবজন্তুর ইজারা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00