📄 ইজারাগ্রহীতার দায়িত্ব ও কর্তব্য
ইজারাগ্রহীতার দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো, চুক্তিবদ্ধ হিসেব অনুযায়ী ইজারার মূল্য পরিশোধ করা। হানাফীগণ বলেন, যে জমিতে নদীর পানি কিংবা বৃষ্টির পানি দ্বারা সেচ দেওয়া হতো তাতে যদি কোন কারণে পানি আসা বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা ভাড়া পরিশোধকে রহিত করে দেবে। মালেকীদের মতে, ইজারার জমিতে যদি সেচ দেওয়ার পানি না পাওয়া যায় কিংবা আবাদ করার আগেই পানিতে তলিয়ে যায় এবং ইজারার মেয়াদ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে থাকে, তাহলে ভাড়া আবশ্যিক হবে না। শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ বলেন, কেউ যদি চাষাবাদ করার জন্য জমি ইজারা নেয় আর আবাদ করার জন্য সেচ দেয়ার পানি নিঃশেষ হয়ে যায়, তাহলে ইজারাগ্রহীতা ইজারা রহিত করার অধিকার পাবে।
ইজারাগ্রহীতার কর্তব্য হলো, চুক্তির শর্তাদি মেনে প্রচলিত রীতিনীতির মধ্যে থেকে জমি ব্যবহার করে উপকৃত হওয়া। ইজারাগ্রহীতা এমন পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারবে না যার দ্বারা জমির বেশি ক্ষতি হয়। অধিকাংশ ফকীহ বলেন, জমির মালিক ও ইজারাগ্রহীতা উভয়ে সমঝোতা করে যে কোনো ফসল আবাদ করতে পারবে। হানাফীগণ বলেন, গম চাষ করার কথা বলে কেউ যদি ইজারাকৃত জমিতে তুলা চাষ করে তবে তা জায়েয হবে না।
টিকাঃ
১২৩. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৪২-২৪৩; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৩; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৪০
১২৪. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৬৮; হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৪৭; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৬-৪০৭; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৪৭২
১২৫. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৬১
১২৬. হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৫০
১২৭. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৫-৪০৫; আশ শারহুস কবীর, খ. ৬, পৃ. ৮০-৮১; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ২২
📄 ফসলী জমি ইজারা সমাপ্তি
ইজারা যদি নির্দিষ্ট মেয়াদে হয় আর মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যায়, তবে সকল ফকীহের মতেই ইজারাচুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটবে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি কাটার সময় না হওয়ায় জমিতে ফসল থেকে যায় তবে জমিতে ইজারাচুক্তি অক্ষুণ্ণ থাকবে। নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য গ্রহীতা নির্দিষ্ট ভাড়া দেবে আর অতিরিক্ত সময়ের জন্য তাকে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
হানাফীগণ বলেন, কেউ যদি বৃক্ষরোপণের জন্য জমি ইজারা নিয়ে থাকে আর নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে বৃক্ষ কেটে বা উপড়ে জমির মালিককে খালি জমি ফেরত দিতে হবে। শাফেয়ীগণ বলেন, কেউ যদি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এমন ফসল চাষের জন্য জমি ইজারা নেয় যা উল্লিখিত মেয়াদের মধ্যে কাটা মোটেও সম্ভব নয়, তবে ইজারা বাতিল হয়ে যাবে। হাম্বলীদের মতে ক্ষেত প্রস্তুতকরণে যদি গ্রহীতার কোনো ত্রুটি থাকে এবং এই ত্রুটির কারণে ফসল তুলতে বিলম্ব ঘটে, তবে তারা এই ইজারাগ্রহীতাকে জমি জবরদখলকারীর সঙ্গে তুলনা করেন।
চাষাবাদের জন্য এক ফসলের মেয়াদে জমি ইজারা নেয়ার পর মালিক কিংবা গ্রহীতার মৃত্যু হলে, কিন্তু তখনো ক্ষেতের ফসল কাটা হয়নি, এ অবস্থায় গ্রহীতার কিংবা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য ফসল কাটা পর্যন্ত চুক্তি বহাল রাখার অধিকার থাকবে।
টিকাঃ
১২৮. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৩৮
১২৯. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০২-৪০৩; আশ শারহুল কাবীর ওয়া হাশিয়াতুদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৪৮; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৫৩, ৫৯
১৩০. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪২৯; আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৩৫-২৩৬; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৬৭
১৩১. হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৪৭
১৩২. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৩; রওযাতুত তালিবীন, খ. ৫, পৃ. ২১৪
১৩৩. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৩
📄 ঘর-বাড়ি ও ইমারতের ইজারা বা ভাড়া প্রদান
ঘর-বাড়ি ও ইমারতের ইজারা বা ভাড়া প্রদান সংক্রান্ত বিধি-বিধান নিচে আলোচনা করা হলো।
📄 ঘর-বাড়িতে কিসের ভিত্তিতে উপকারভোগ নির্ধারণ করা হবে?
ঘর-বাড়িতে কিসের ভিত্তিতে উপকারভোগ নির্ধারণ করা হবে? ঘর ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে তা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে, এ বিষয়ে ফকীহদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই। কোনো ভাড়াটেকে যে ঘর দেখানো হয়েছে, পরবর্তী সময়ে সেই ঘর বুঝিয়ে দেওয়ার বেলায় যদি সে এমন পরিবর্তন দেখতে পায়, যা তার বসবাস করার ক্ষেত্রে কষ্টদায়ক হয়— তবে ভাড়াটে সেই চুক্তি বাতিল করতে পারবে— ত্রুটিজনিত প্রত্যাখ্যানের অধিকার বলে। কেউ যদি ঘর দেখা ছাড়া, যা সে চুক্তি বন্ধ হওয়ার আগেও দেখেনি এবং চুক্তির সময়ও দেখেনি, শুধু গুণ ও বৈশিষ্ট্যের কথা বিশ্বাস করে ইজারাচুক্তি করে, এক্ষেত্রে যেসব ফকীহ ক্রেতার জন্যে পণ্য দেখার অধিকারকে ইজারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য মনে করেন তাদের মতে, ইজারাগ্রহীতার দেখার অধিকার বলবৎ হবে।
আবাসিক ঘরবাড়ির ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণত তেমন তারতম্য ঘটে না, সবাই বসবাস কাজেই ব্যবহার করে। ফলে দোকান হোক কিংবা বসত ঘর হোক, ইজারাদার কী কাজে ব্যবহার করবে তা উল্লেখ ছাড়াও ইজারাচুক্তি হতে পারে। আবাসিক ঘরবাড়ি ইজারা নেওয়ার সময় ইজারাগ্রহীতার তা নির্দিষ্ট করা জরুরি নয়। ঘরবাড়ির সাথে আবশ্যিকভাবে যেসব জিনিস থাকা জরুরি, এগুলো উল্লেখ করা ছাড়াই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কেননা আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ছাড়া ঘর বা বাড়ি যাই বলা হোক, সেগুলো ব্যবহারযোগ্য থাকে না, সেগুলোর পূর্ণ উপকার লাভ সম্ভব হয় না।
টিকাঃ
১৩৪. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৬৪-৬৮
১৩৫. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪২৬
১৩৭. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৫২