📄 জমির মালিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য
ইজারাগ্রহীতার কাছে জমি খালি অবস্থায় হস্তান্তর করা ভূমি মালিকের কর্তব্য। অন্যের আবাদ করা ফসল জমিতে থাকাবস্থায় যদি জমি ইজারা নেয় বা জমিতে যদি এমন কিছু থাকে যার ফলে জমিতে চাষাবাদ সম্ভব না হয়, তবে ইজারা সহীহ হবে না। হাম্বলীগণ বলেন, ইজারার মেয়াদের মধ্যে যদি জমি অন্য কিছু দ্বারা আবদ্ধ থাকে আর ইজারার মেয়াদের মধ্যেই খালি হয়ে যায় তবে যতটুকু সময় খালি থাকবে মেয়াদের সেই অংশের হিসাব মতে মূল্য দেয়ার মাধ্যমে ইজারা জায়েয হবে।
টিকাঃ
১২২. আল ফাতাওয়া আল হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৬৮; হাশিয়া দুসুকী, খ. ৪, পৃ. ৪৭; আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৬; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৪৭২
📄 ইজারাগ্রহীতার দায়িত্ব ও কর্তব্য
ইজারাগ্রহীতার দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো, চুক্তিবদ্ধ হিসেব অনুযায়ী ইজারার মূল্য পরিশোধ করা। হানাফীগণ বলেন, যে জমিতে নদীর পানি কিংবা বৃষ্টির পানি দ্বারা সেচ দেওয়া হতো তাতে যদি কোন কারণে পানি আসা বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা ভাড়া পরিশোধকে রহিত করে দেবে। মালেকীদের মতে, ইজারার জমিতে যদি সেচ দেওয়ার পানি না পাওয়া যায় কিংবা আবাদ করার আগেই পানিতে তলিয়ে যায় এবং ইজারার মেয়াদ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে থাকে, তাহলে ভাড়া আবশ্যিক হবে না। শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ বলেন, কেউ যদি চাষাবাদ করার জন্য জমি ইজারা নেয় আর আবাদ করার জন্য সেচ দেয়ার পানি নিঃশেষ হয়ে যায়, তাহলে ইজারাগ্রহীতা ইজারা রহিত করার অধিকার পাবে।
ইজারাগ্রহীতার কর্তব্য হলো, চুক্তির শর্তাদি মেনে প্রচলিত রীতিনীতির মধ্যে থেকে জমি ব্যবহার করে উপকৃত হওয়া। ইজারাগ্রহীতা এমন পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারবে না যার দ্বারা জমির বেশি ক্ষতি হয়। অধিকাংশ ফকীহ বলেন, জমির মালিক ও ইজারাগ্রহীতা উভয়ে সমঝোতা করে যে কোনো ফসল আবাদ করতে পারবে। হানাফীগণ বলেন, গম চাষ করার কথা বলে কেউ যদি ইজারাকৃত জমিতে তুলা চাষ করে তবে তা জায়েয হবে না।
টিকাঃ
১২৩. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৪২-২৪৩; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৩; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৪০
১২৪. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৬৮; হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৪৭; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৬-৪০৭; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৪৭২
১২৫. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৬১
১২৬. হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৫০
১২৭. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৫-৪০৫; আশ শারহুস কবীর, খ. ৬, পৃ. ৮০-৮১; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ২২
📄 ফসলী জমি ইজারা সমাপ্তি
ইজারা যদি নির্দিষ্ট মেয়াদে হয় আর মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যায়, তবে সকল ফকীহের মতেই ইজারাচুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটবে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি কাটার সময় না হওয়ায় জমিতে ফসল থেকে যায় তবে জমিতে ইজারাচুক্তি অক্ষুণ্ণ থাকবে। নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য গ্রহীতা নির্দিষ্ট ভাড়া দেবে আর অতিরিক্ত সময়ের জন্য তাকে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
হানাফীগণ বলেন, কেউ যদি বৃক্ষরোপণের জন্য জমি ইজারা নিয়ে থাকে আর নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে বৃক্ষ কেটে বা উপড়ে জমির মালিককে খালি জমি ফেরত দিতে হবে। শাফেয়ীগণ বলেন, কেউ যদি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এমন ফসল চাষের জন্য জমি ইজারা নেয় যা উল্লিখিত মেয়াদের মধ্যে কাটা মোটেও সম্ভব নয়, তবে ইজারা বাতিল হয়ে যাবে। হাম্বলীদের মতে ক্ষেত প্রস্তুতকরণে যদি গ্রহীতার কোনো ত্রুটি থাকে এবং এই ত্রুটির কারণে ফসল তুলতে বিলম্ব ঘটে, তবে তারা এই ইজারাগ্রহীতাকে জমি জবরদখলকারীর সঙ্গে তুলনা করেন।
চাষাবাদের জন্য এক ফসলের মেয়াদে জমি ইজারা নেয়ার পর মালিক কিংবা গ্রহীতার মৃত্যু হলে, কিন্তু তখনো ক্ষেতের ফসল কাটা হয়নি, এ অবস্থায় গ্রহীতার কিংবা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য ফসল কাটা পর্যন্ত চুক্তি বহাল রাখার অধিকার থাকবে।
টিকাঃ
১২৮. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৩৮
১২৯. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০২-৪০৩; আশ শারহুল কাবীর ওয়া হাশিয়াতুদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৪৮; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৫৩, ৫৯
১৩০. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪২৯; আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৩৫-২৩৬; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৬৭
১৩১. হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৪৭
১৩২. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৩; রওযাতুত তালিবীন, খ. ৫, পৃ. ২১৪
১৩৩. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৩
📄 ঘর-বাড়ি ও ইমারতের ইজারা বা ভাড়া প্রদান
ঘর-বাড়ি ও ইমারতের ইজারা বা ভাড়া প্রদান সংক্রান্ত বিধি-বিধান নিচে আলোচনা করা হলো।