📄 উৎপন্ন ফসলের এক অংশের বিনিময়ে ভূমির ইজারা
ভাড়াকৃত জমিনে উৎপাদিত ফসলের এক অংশ দ্বারা সে জমির ভাড়া পরিশোধের ব্যাপারে ফকীহগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। হানাফী ও হাম্বলীগণ জমির উৎপন্ন ফসল থেকে ভাড়া পরিশোধ করা জায়েয মনে করেন। কেননা এটি বহুল প্রচলিত এবং উদ্দিষ্ট লাভ ও মুনাফা। পক্ষান্তরে মালেকী ও শাফেয়ীগণের মতে জমির উৎপন্ন ফসল থেকে জমির ভাড়া পরিশোধ জায়েয না। তারা এটিকে চাকি ঘুরিয়ে আটা উৎপাদনকারীর পারিশ্রমিক উৎপাদিত আটা থেকে দেয়ার সাথে তুলনা করেন, যা জায়েয নয়।
টিকাঃ
১১৬. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৩৬৯; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৫; আল-কালয়ূবী, খ. ৩, পৃ. ৭০; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ১১; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৭
📄 ফসলী জমির ইজারার মেয়াদকাল
যে-কোনো মেয়াদের জন্য ফসলী জমি চাষাবাদের জন্যে ইজারা দেওয়ার কথায় সকল ফকীহ একমত; যেমন এক বছরের জন্যে কিংবা দশ বছরের জন্যে। শাফেয়ীদের মতে, চাষাবাদের জন্যে শত বছর বা আরো অধিক সময়ের জন্যে জমি ভাড়া দেয়া বৈধ। হানাফীগণ বলেন, জমি যদি ওয়াকফ সম্পত্তি হয় আর মোতাওয়াল্লী দীর্ঘ মেয়াদের জন্যে ইজারা দিয়ে দেয়; তন্মধ্যে যদি জিনিসপত্রের মূল্যে হ্রাসবৃদ্ধি না ঘটে, তবে ইজারা জায়েয হবে। তবে যদি ওয়াকফকারীর পক্ষ থেকে একবছরের চেয়ে বেশি সময়ের জন্যে ভাড়া না দেওয়ার শর্তারোপ করা হয় তাহলে ওয়াকফকারীর এমন শর্তারোপ এবং তার ইচ্ছার বরখেলাপ করা যাবে না।
টিকাঃ
১১৭. কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ১১; আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩১৮
📄 ইজারা শব্দের সাথে বিভিন্ন শর্তারোপ
সর্বসম্মতভাবেই ইজারাচুক্তিতে বিভিন্ন ধরনের শর্তারোপ করা যায়; তবে শর্ত যদি এমন হয় যে ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও তার প্রভাব থেকে যায়, এমন শর্তারোপের ক্ষেত্রে ফকীহগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যেমন কেউ যদি শর্তারোপ করে, আমি তোমার কাছে ফসলী জমি ইজারা দিতে পারি তবে শর্ত হলো, অসমতল জমিটাকে সমান করে নিতে হবে কিংবা জমিতে সেচ দেওয়ার শর্তারোপ করে তবে তা জায়েয হবে।
কিন্তু শর্ত যদি এমন হয় যে, ফসল উৎপাদনের পর পুনরায় সে তাতে চাষ করবে কিংবা জমিতে থাকা ড্রেন খনন করে দিতে হবে, যার উপকারিতা ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বজায় থাকে, হানাফীদের মতে এমন শর্তারোপ অগ্রহণযোগ্য। মালেকীগণ এমন শর্তারোপ জায়েয মনে করেন। জমির ইজারাদাতা যদি এমন শর্তারোপ করে যে, ইজারাগ্রহীতা নিজেই চাষাবাদ করবে, কিংবা জমিতে শুধু গমচাষ করতে হবে, তবে এসব শর্ত ইজারাচুক্তির উদ্দেশ্যের পরিপন্থী বলে বিবেচিত হবে, তাই এ সকল শর্ত মানা ইজারাগ্রহীতার জন্যে বাধ্যতামূলক হবে না।
অধিকাংশ ফকীহ তথা শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী ফকীহগণের বিশুদ্ধ মতে, জমি ইজারার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। চাষাবাদ বা শস্য উৎপাদন করা হবে, না বৃক্ষরোপণ, তা উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে। যদি বৃক্ষরোপণ কিংবা ফসল উৎপাদনের বিষয়টি উল্লেখ করা না হয় এবং এ ব্যাপারে সেখানে কোনো প্রচলিত রীতিও না থাকে, তাহলে অস্পষ্টতার কারণে ইজারাচুক্তি জায়েয হবে না। হানাফীদের মতে, কী ফসলের চাষ করবে তা নির্দিষ্ট করাও তাদের দৃষ্টিতে ইজারা সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত।
টিকাঃ
১১৮. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৩৫; আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৬; মাওয়াহিবুস সামাদ, পৃ. ১০২; গায়াতুল বায়ান লিরামলী, খ. ১, পৃ. ২২৭; আত তাওযিহু লিশশাওকী, পৃ. ২০৭
১১৯. আল-ফাতাওয়া আল হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৬১-৪৬২; হাশিয়া আদ দুসুকী, খ. ৪, পৃ. ৪৫-৪৭; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩০২-৩০৩; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ১৬
১২০. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৪৩; হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৪৬; আশ শারহুস সাগীর, খ. ৪, পৃ. ৬২
১২১. কাশফুল হাকায়েক, খ. ৬, পৃ. ১৬০; আশ শারহুস সাগীর, খ. ৪, পৃ. ১৪, ৬৩; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৩-৪০৪; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ১৩; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৬০
📄 ফসলী জমি ইজারার বিধান
ফসলী জমি ইজারার ক্ষেত্রে মালিকের দায়িত্ব হলো জমি খালি করে হস্তান্তর করা এবং ইজারাগ্রহীতার দায়িত্ব হলো ভাড়া পরিশোধ করা ও জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।