📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ১. পানি কিংবা চারণক্ষেত্র সহ জমি ইজারা দেওয়া

📄 ১. পানি কিংবা চারণক্ষেত্র সহ জমি ইজারা দেওয়া


সার্বিকভাবে পানি সহ কিংবা চারণভূমি সহ জমি ইজারা দেওয়া জায়েয। এ সম্পর্কে সকল ফকীহ একমত। কিন্তু হানাফীগণ পুকুর-নদী ইত্যাদি মাছ ধরার জন্যে ভাড়া নেওয়া এবং ঘাসের জন্যে চারণভূমি ভাড়া নেওয়াকে জায়েয মনে করে না; যদি ভূমির ঘাস কিংবা নদীর মাছই ইজারার উদ্দেশ্য হয়। কিন্তু অবস্থা যদি এমন হয়, কোনো পতিত জমি ইজারা নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে জমির মালিক ইজারাগ্রহীতাকে জমিতে ঘাস চাষ করে কিংবা প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ঘাস থেকে উপকৃত হওয়ার অনুমতি প্রদান করে তবে তা জায়েয হবে। হানাফীদের মধ্যেই কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা ইজারা নেওয়া যাবে কিনা এ ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেন, গমনাগমনের পথ ইজারা নেওয়া জায়েয নেই।

টিকাঃ
১১১. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ১২৯-১৩৮; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৪৬৫; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০১; হাশিয়া আদ দুসুকী, খ. ৪, পৃ. ১৭-২৪; আল-খিরাশী, খ. ৭, পৃ. ৩৯; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৩; আল-মাবসূত, খ. ১৬, পৃ. ১৬-২৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ২. ফসলী জমির ইজারা

📄 ২. ফসলী জমির ইজারা


সকল মাযহাবের ফকীহগণই চাষাবাদের জন্যে জমি ইজারা নেওয়াকে বৈধ বলেছেন। অধিকাংশ ফকীহ বলেন, চাষাবাদের জমি ইজারা নিতে হলে জমির পরিমাণ ও জমি উভয়টি সুনির্দিষ্ট করতে হবে। শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ জমি নির্দিষ্ট করতে সরাসরি জমি প্রত্যক্ষ করার শর্তপ্রদান করেছেন। মালেকী ফকীহদের কাছে জমি দেখা শর্ত নয়, জমি না দেখেও যদি কেউ ভাড়া নেয় তা বৈধ হবে।

অধিকাংশ ফকীহ বলেন, জমির ইজারা সহীহ হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সংরক্ষিত পানি কিংবা বন্ধ না হওয়ার ঝুঁকিমুক্ত প্রবহমান পানিপ্রাপ্তির ব্যাপারটি নিশ্চিত হতে হবে। কেননা, যে জিনিস দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় কেবল সেই জিনিসের ক্ষেত্রেই ইজারাচুক্তি বৈধ। মালেকীগণ বৃষ্টি দ্বারা প্লাবিত ভূমিকে একাধারে কয়েক বছরের জন্য ইজারা দেয়ার পক্ষে; তবে তাদের শর্ত হলো ইজারা মুদ্রার বিনিময়ে হবে না। ফসলী জমিতে চাষাবাদের উদ্দেশ্যে যদি চুক্তি হয়, কিন্তু ইজারা মুদ্রায় পরিশোধ করা হবে, না অন্য কোনো মাধ্যমে? এ ব্যাপারটি অনালোচিত থেকে যায়, এ অবস্থায় যদি জমি এমন বৈশিষ্ট্যের হয় যে জমিতে সারা বছর প্রবহমান নদী থেকে সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে সেই জমির ক্ষেত্রে মুদ্রার দ্বারাই ভাড়া পরিশোধের ফয়সালা দেওয়া হবে।

টিকাঃ
১১২. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৪১; আশ শারহুস সগীর, খ. ৪, পৃ. ২৯৫; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ১১; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৬
১১৩. প্রাগুক্ত।
১১৪. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৮৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 উৎপন্ন ফসলের এক অংশের বিনিময়ে ভূমির ইজারা

📄 উৎপন্ন ফসলের এক অংশের বিনিময়ে ভূমির ইজারা


ভাড়াকৃত জমিনে উৎপাদিত ফসলের এক অংশ দ্বারা সে জমির ভাড়া পরিশোধের ব্যাপারে ফকীহগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। হানাফী ও হাম্বলীগণ জমির উৎপন্ন ফসল থেকে ভাড়া পরিশোধ করা জায়েয মনে করেন। কেননা এটি বহুল প্রচলিত এবং উদ্দিষ্ট লাভ ও মুনাফা। পক্ষান্তরে মালেকী ও শাফেয়ীগণের মতে জমির উৎপন্ন ফসল থেকে জমির ভাড়া পরিশোধ জায়েয না। তারা এটিকে চাকি ঘুরিয়ে আটা উৎপাদনকারীর পারিশ্রমিক উৎপাদিত আটা থেকে দেয়ার সাথে তুলনা করেন, যা জায়েয নয়।

টিকাঃ
১১৬. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৩৬৯; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৫; আল-কালয়ূবী, খ. ৩, পৃ. ৭০; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ১১; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৭

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ফসলী জমির ইজারার মেয়াদকাল

📄 ফসলী জমির ইজারার মেয়াদকাল


যে-কোনো মেয়াদের জন্য ফসলী জমি চাষাবাদের জন্যে ইজারা দেওয়ার কথায় সকল ফকীহ একমত; যেমন এক বছরের জন্যে কিংবা দশ বছরের জন্যে। শাফেয়ীদের মতে, চাষাবাদের জন্যে শত বছর বা আরো অধিক সময়ের জন্যে জমি ভাড়া দেয়া বৈধ। হানাফীগণ বলেন, জমি যদি ওয়াকফ সম্পত্তি হয় আর মোতাওয়াল্লী দীর্ঘ মেয়াদের জন্যে ইজারা দিয়ে দেয়; তন্মধ্যে যদি জিনিসপত্রের মূল্যে হ্রাসবৃদ্ধি না ঘটে, তবে ইজারা জায়েয হবে। তবে যদি ওয়াকফকারীর পক্ষ থেকে একবছরের চেয়ে বেশি সময়ের জন্যে ভাড়া না দেওয়ার শর্তারোপ করা হয় তাহলে ওয়াকফকারীর এমন শর্তারোপ এবং তার ইচ্ছার বরখেলাপ করা যাবে না।

টিকাঃ
১১৭. কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ১১; আল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ৩১৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00