📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ইজারার পণ্যের ভিত্তিতে ইজারার প্রকার

📄 ইজারার পণ্যের ভিত্তিতে ইজারার প্রকার


প্রথম প্রকার: নিষ্প্রাণ জিনিসের ইজারা: إِجَارَةُ غَيْرِ الْحَيَوَان। কোন্ জিনিসের ইজারা জায়েয আর কোন্ জিনিসের ইজারা নাজায়েয? যে জিনিসের ক্রয়বিক্রয় জায়েয তা ইজারা দেয়া-নেয়া জায়েয। কেননা ইজারা দ্বারা উপকার ক্রয় করা হয়। কিন্তু শর্ত হলো, উপকার অর্জন করতে গিয়ে ইজারাকৃত জিনিসটি ধ্বংস হয়ে না যায়, তা লক্ষ রাখতে হবে। তবে এমন কিছু জিনিসও রয়েছে যেগুলোতে ক্রয়বিক্রয় হয় না, কিন্তু ইজারা চলে। যেমন স্বাধীন মানুষ, ওয়াকফকৃত সম্পত্তি ইত্যাদি।

টিকাঃ
১১০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৯৬; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৫; আদ দুসুকী আলা শারহুল কবীর, খ. ৪, পৃ. ২৯; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৪, পৃ. ৫২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 জায়গা-জমির ইজারা

📄 জায়গা-জমির ইজারা


জায়গা-জমি ইজারা দেওয়া সর্বতোভাবেই জায়েয। অবশ্য শাফেয়ীগণ জমি ইজারার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করার শর্ত দিয়েছেন। কেননা নানা উদ্দেশ্যে জমি ইজারা নেয়া হয় এবং একেক কাজের প্রতিফলন একেক মাত্রায় ঘটে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ১. পানি কিংবা চারণক্ষেত্র সহ জমি ইজারা দেওয়া

📄 ১. পানি কিংবা চারণক্ষেত্র সহ জমি ইজারা দেওয়া


সার্বিকভাবে পানি সহ কিংবা চারণভূমি সহ জমি ইজারা দেওয়া জায়েয। এ সম্পর্কে সকল ফকীহ একমত। কিন্তু হানাফীগণ পুকুর-নদী ইত্যাদি মাছ ধরার জন্যে ভাড়া নেওয়া এবং ঘাসের জন্যে চারণভূমি ভাড়া নেওয়াকে জায়েয মনে করে না; যদি ভূমির ঘাস কিংবা নদীর মাছই ইজারার উদ্দেশ্য হয়। কিন্তু অবস্থা যদি এমন হয়, কোনো পতিত জমি ইজারা নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে জমির মালিক ইজারাগ্রহীতাকে জমিতে ঘাস চাষ করে কিংবা প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ঘাস থেকে উপকৃত হওয়ার অনুমতি প্রদান করে তবে তা জায়েয হবে। হানাফীদের মধ্যেই কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা ইজারা নেওয়া যাবে কিনা এ ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেন, গমনাগমনের পথ ইজারা নেওয়া জায়েয নেই।

টিকাঃ
১১১. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ১২৯-১৩৮; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৪৬৫; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০১; হাশিয়া আদ দুসুকী, খ. ৪, পৃ. ১৭-২৪; আল-খিরাশী, খ. ৭, পৃ. ৩৯; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৩; আল-মাবসূত, খ. ১৬, পৃ. ১৬-২৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ২. ফসলী জমির ইজারা

📄 ২. ফসলী জমির ইজারা


সকল মাযহাবের ফকীহগণই চাষাবাদের জন্যে জমি ইজারা নেওয়াকে বৈধ বলেছেন। অধিকাংশ ফকীহ বলেন, চাষাবাদের জমি ইজারা নিতে হলে জমির পরিমাণ ও জমি উভয়টি সুনির্দিষ্ট করতে হবে। শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ জমি নির্দিষ্ট করতে সরাসরি জমি প্রত্যক্ষ করার শর্তপ্রদান করেছেন। মালেকী ফকীহদের কাছে জমি দেখা শর্ত নয়, জমি না দেখেও যদি কেউ ভাড়া নেয় তা বৈধ হবে।

অধিকাংশ ফকীহ বলেন, জমির ইজারা সহীহ হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সংরক্ষিত পানি কিংবা বন্ধ না হওয়ার ঝুঁকিমুক্ত প্রবহমান পানিপ্রাপ্তির ব্যাপারটি নিশ্চিত হতে হবে। কেননা, যে জিনিস দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় কেবল সেই জিনিসের ক্ষেত্রেই ইজারাচুক্তি বৈধ। মালেকীগণ বৃষ্টি দ্বারা প্লাবিত ভূমিকে একাধারে কয়েক বছরের জন্য ইজারা দেয়ার পক্ষে; তবে তাদের শর্ত হলো ইজারা মুদ্রার বিনিময়ে হবে না। ফসলী জমিতে চাষাবাদের উদ্দেশ্যে যদি চুক্তি হয়, কিন্তু ইজারা মুদ্রায় পরিশোধ করা হবে, না অন্য কোনো মাধ্যমে? এ ব্যাপারটি অনালোচিত থেকে যায়, এ অবস্থায় যদি জমি এমন বৈশিষ্ট্যের হয় যে জমিতে সারা বছর প্রবহমান নদী থেকে সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে সেই জমির ক্ষেত্রে মুদ্রার দ্বারাই ভাড়া পরিশোধের ফয়সালা দেওয়া হবে।

টিকাঃ
১১২. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৪১; আশ শারহুস সগীর, খ. ৪, পৃ. ২৯৫; কাশশাফুল কিনা, খ. ৪, পৃ. ১১; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৯৬
১১৩. প্রাগুক্ত।
১১৪. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৮৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00