📄 ভাড়াকৃত পণ্য কিভাবে ব্যবহৃত হবে?
কখনো অস্থাবর সম্পত্তি ইজারা দেয়া হয় আবার কখনো স্থাবর সম্পত্তি ইজারা দেয়া হয়। আবার মানুষকে ইজারা তথা শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ইজারার এই প্রকারগুলোর কোনো কোনাটিতে কিছু বিশেষ বিধান কার্যকর হয়। ইজারার সাথে প্রাসঙ্গিক যেসব শাখা-প্রশার বিধান বর্ণিত হয়েছে এবং এগুলোতে ফকীহদের যে মতপার্থক্য বর্ণিত হয়েছে এসবই হয়েছে মূলত উল্লিখিত আলোচনার ভিত্তিতে।
টিকাঃ
১০৯. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৩০
📄 ইজারার পণ্যের ভিত্তিতে ইজারার প্রকার
প্রথম প্রকার: নিষ্প্রাণ জিনিসের ইজারা: إِجَارَةُ غَيْرِ الْحَيَوَان। কোন্ জিনিসের ইজারা জায়েয আর কোন্ জিনিসের ইজারা নাজায়েয? যে জিনিসের ক্রয়বিক্রয় জায়েয তা ইজারা দেয়া-নেয়া জায়েয। কেননা ইজারা দ্বারা উপকার ক্রয় করা হয়। কিন্তু শর্ত হলো, উপকার অর্জন করতে গিয়ে ইজারাকৃত জিনিসটি ধ্বংস হয়ে না যায়, তা লক্ষ রাখতে হবে। তবে এমন কিছু জিনিসও রয়েছে যেগুলোতে ক্রয়বিক্রয় হয় না, কিন্তু ইজারা চলে। যেমন স্বাধীন মানুষ, ওয়াকফকৃত সম্পত্তি ইত্যাদি।
টিকাঃ
১১০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৯৬; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৫; আদ দুসুকী আলা শারহুল কবীর, খ. ৪, পৃ. ২৯; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৪, পৃ. ৫২
📄 জায়গা-জমির ইজারা
জায়গা-জমি ইজারা দেওয়া সর্বতোভাবেই জায়েয। অবশ্য শাফেয়ীগণ জমি ইজারার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করার শর্ত দিয়েছেন। কেননা নানা উদ্দেশ্যে জমি ইজারা নেয়া হয় এবং একেক কাজের প্রতিফলন একেক মাত্রায় ঘটে।
📄 ১. পানি কিংবা চারণক্ষেত্র সহ জমি ইজারা দেওয়া
সার্বিকভাবে পানি সহ কিংবা চারণভূমি সহ জমি ইজারা দেওয়া জায়েয। এ সম্পর্কে সকল ফকীহ একমত। কিন্তু হানাফীগণ পুকুর-নদী ইত্যাদি মাছ ধরার জন্যে ভাড়া নেওয়া এবং ঘাসের জন্যে চারণভূমি ভাড়া নেওয়াকে জায়েয মনে করে না; যদি ভূমির ঘাস কিংবা নদীর মাছই ইজারার উদ্দেশ্য হয়। কিন্তু অবস্থা যদি এমন হয়, কোনো পতিত জমি ইজারা নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে জমির মালিক ইজারাগ্রহীতাকে জমিতে ঘাস চাষ করে কিংবা প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ঘাস থেকে উপকৃত হওয়ার অনুমতি প্রদান করে তবে তা জায়েয হবে। হানাফীদের মধ্যেই কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা ইজারা নেওয়া যাবে কিনা এ ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেন, গমনাগমনের পথ ইজারা নেওয়া জায়েয নেই।
টিকাঃ
১১১. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ১২৯-১৩৮; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৪৬৫; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০১; হাশিয়া আদ দুসুকী, খ. ৪, পৃ. ১৭-২৪; আল-খিরাশী, খ. ৭, পৃ. ৩৯; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৮৩; আল-মাবসূত, খ. ১৬, পৃ. ১৬-২৫