📄 সপ্তম. ত্রুটিজনিত কারণে ইজারাচুক্তি রহিত হওয়া
ফকীহগণের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো মতপার্থক্য নেই যে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি ভাড়া দেওয়া জিনিসের মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, আর সেই ত্রুটির কারণে ভাড়াকৃত পণ্য দ্বারা ভাড়াটে উপকৃত হতে না পারে, তবে ইজারাচুক্তিকে তা প্রভাবিত করবে। এই ত্রুটি বা অসুস্থতার কারণে যে পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার জন্যে চুক্তি বহাল রাখা বাধ্যতামূলক নয়।
ভাড়াটিয়া কব্জা করার পর যদি ভাড়াকৃত পণ্যে কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, তবে ভাড়াটে সেটিকে ফেরত দেওয়ার অধিকার পাবে। কেননা ভাড়ার পণ্য ভাড়াটের কজায় থাকা আর বিক্রীত পণ্য ক্রেতার কজায় থাকার একই বিধান। বিক্রীত পণ্য ত্রুটিযুক্ত হওয়ার কারণে ক্রেতা যেমন ফেরত দেওয়ার অধিকার রাখে, ইজারার পণ্যেও ত্রুটি দেখা দিলে ইজারাগ্রহীতা সেটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অধিকার পাবে। আল-মুগনী গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, কেউ কোনো জিনিস ভাড়া করল, ভাড়া করার পর সেটিতে ত্রুটি দেখতে পেল, এই ত্রুটির কথা তার আগে জানা ছিল না, তাহলে সকল ফকীহের মতেই ভাড়াটিয়া ভাড়াচুক্তি রহিত করতে পারবে।
ইজারা রহিত করার আগেই যদি ত্রুটি দূর হয়ে যায়; যেমন ভাড়াকৃত জন্তুর ল্যাংড়ামি দূর হয়ে যায় কিংবা কোনো বাড়ির ভাড়াদাতা দ্রুত বাড়ির ত্রুটি মেরামত করে দেয়, তাহলে ভাড়াটে পণ্য প্রত্যাখ্যান এবং চুক্তি রহিত করার অধিকার পাবে না।
টিকাঃ
১০২. আশ শারহুস সাগীর, খ. ৪, পৃ. ১৭৯-১৮৩; হাশিয়া আদ দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৩২; আল-কালয়ূবী, খ. ৩, পৃ. ৮৪; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৪৩১
১০৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ২০৭-২০৮; ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৫৩; আদ-দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৩০-৩৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২৫; মুগনিল-মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১২৮; আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৪৬-৪৮; আল-ইনসাফ, খ. ৬, পৃ. ৬৮-৬৯; শারহু মুনতাহাল-ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২৩১
১০৪. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৩০-৩১; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৯৯; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৫
১০৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৯৯; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৪৬১
১০৬. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৫
১০৭. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৩০; আল-ইনসাফ, খ. ৬, পৃ. ৬৬; আশ শারহুস সাগীর, খ. ৪, পৃ. ৪৯-৫২
১০৮. আল-ইনসাফ, খ. ৬, পৃ. ৬৬
📄 ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতার মধ্যকার বিরোধ
ইজারার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়; যেমন ইজারার মেয়াদ, ভাড়া, নির্দিষ্ট মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় ভাড়াকৃত পণ্যের ব্যবহার— ইত্যাকার বিষয় নিয়ে ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। এই মতবিরোধের ব্যাপারটি যদি দলিল দ্বারা প্রমাণিত না হয় তবে কোন্ পক্ষের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে?
ফকীহগণ এ ব্যাপারে নিজেদের বিচার-বিবেচনা ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বিভিন্ন সমাধান দিয়েছেন। তাদের সকলের বক্তব্যের মূল ভিত্তি হচ্ছে, কোন্ পক্ষ বাদী আর কোন্ পক্ষকে বিবাদী নির্ধারণ করা হবে, তার উপর। কেননা বাদী-বিবাদী নির্ধারিত হলে বাদীর কাছে সাক্ষ্য তলব করা হবে, আর বিবাদীর অস্বীকৃতির কসমকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। বস্তুত এই পক্ষ নির্ধারণের বিষয়টি নির্ভর করে উদ্ভূত পরিস্থিতির উপর। বাহ্যিক পরিস্থিতি যার পক্ষে যাবে তাকে বিবাদী সাব্যস্ত করা হবে এবং যে প্রতিপক্ষের উপর তার অধিকার বা স্বার্থহানির অভিযোগ উত্থাপন করবে তাকে বাদী সাব্যস্ত করা হবে।
📄 ভাড়াকৃত পণ্য কিভাবে ব্যবহৃত হবে?
কখনো অস্থাবর সম্পত্তি ইজারা দেয়া হয় আবার কখনো স্থাবর সম্পত্তি ইজারা দেয়া হয়। আবার মানুষকে ইজারা তথা শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ইজারার এই প্রকারগুলোর কোনো কোনাটিতে কিছু বিশেষ বিধান কার্যকর হয়। ইজারার সাথে প্রাসঙ্গিক যেসব শাখা-প্রশার বিধান বর্ণিত হয়েছে এবং এগুলোতে ফকীহদের যে মতপার্থক্য বর্ণিত হয়েছে এসবই হয়েছে মূলত উল্লিখিত আলোচনার ভিত্তিতে।
টিকাঃ
১০৯. আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ৩০
📄 ইজারার পণ্যের ভিত্তিতে ইজারার প্রকার
প্রথম প্রকার: নিষ্প্রাণ জিনিসের ইজারা: إِجَارَةُ غَيْرِ الْحَيَوَان। কোন্ জিনিসের ইজারা জায়েয আর কোন্ জিনিসের ইজারা নাজায়েয? যে জিনিসের ক্রয়বিক্রয় জায়েয তা ইজারা দেয়া-নেয়া জায়েয। কেননা ইজারা দ্বারা উপকার ক্রয় করা হয়। কিন্তু শর্ত হলো, উপকার অর্জন করতে গিয়ে ইজারাকৃত জিনিসটি ধ্বংস হয়ে না যায়, তা লক্ষ রাখতে হবে। তবে এমন কিছু জিনিসও রয়েছে যেগুলোতে ক্রয়বিক্রয় হয় না, কিন্তু ইজারা চলে। যেমন স্বাধীন মানুষ, ওয়াকফকৃত সম্পত্তি ইত্যাদি।
টিকাঃ
১১০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৪, পৃ. ১৯৬; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৪০৫; আদ দুসুকী আলা শারহুল কবীর, খ. ৪, পৃ. ২৯; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৪, পৃ. ৫২