📄 থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবে
কোনো কোনো শাফেয়ী ফকীহ বলেন, ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভাড়াটের দায়িত্ব হলো ভাড়াকৃত পণ্য মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া— মালিক সেটি ফেরত না চাইলেও। কেননা ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভাড়াকৃত বস্তুকে আটকে রাখার কোনো অধিকার তার নেই। ধার-কর্জ দেওয়া বস্তুর ক্ষেত্রে যেমন মেয়াদ শেষে মালিককে ফেরত দেওয়া আবশ্যিক; ইজারার ক্ষেত্রেও একই বিধান।
📄 ইজারার সমাপ্তি
এ কথায় সকল ফকীহ একমত, ইজারার মেয়াদ পূর্তি কিংবা ইজারার পণ্য ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিংবা বাতিলকরণের দ্বারা ইজারাচুক্তির সমাপ্তি ঘটে। ইজারাগ্রহীতা ও ইজারাদাতার মধ্য থেকে কোনো একজনের মৃত্যু কিংবা ইজারাকৃত পণ্যে এমন কোনো বিপত্তি যার কারণে তা থেকে উপকার লাভ অসম্ভব হয়ে ওঠে, তবে হানাফীগণের কাছে ইজারাচুক্তির সমাপ্তি ঘটবে। কেননা তাদের মতে, ভাড়ার মধ্যে এক মুহূর্তের পর এক মুহূর্তে উপকার লাভ করা হয়। তাই ভাড়ার মূল্যের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যুক্ত হয়।
হানাফী ব্যতীত অন্য ফকীহগণের মতে, উল্লিখিত অবস্থাগুলোতে ইজারাচুক্তির সমাপ্তি ঘটে না। নিম্নে ইজারাসমাপ্তির কারণগুলো বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো—
📄 এক. মেয়াদপূর্তি : انْقِضَاءُ الْمُدَّةِ
ইজারা যদি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হয় আর মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে সকল ফকীহের মতেই ইজারাচুক্তির সমাপ্তি ঘটে। তবে যদি এমন কোনো অসুবিধার উদ্ভব ঘটে, যে অসুবিধা নির্দিষ্ট মেয়াদে বৃদ্ধি হওয়া দাবি করে, তাহলে প্রয়োজন পরিমাণ সময় বৃদ্ধি করা হবে। যেমন চাষাবাদের জমি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মেয়াদ শেষ হলেও জমিতে উৎপাদিত ফসল কাটার উপযোগী হয়নি, কিংবা জাহাজ বা বিমান নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ভাড়া নেওয়া হয়েছে, কিন্তু মেয়াদপূর্তি ঘটলেও জাহাজ কূলে পৌঁছাতে পারেনি।
📄 দুই. চুক্তি বাতিলকরণের দ্বারা ইজারার সমাপ্তি
ক্রয়বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যেমন ইকালা (বাতিলকরণ) কিংবা অব্যাহতি প্রদান বৈধ, ইজারার ক্ষেত্রেও অনুরূপ অব্যাহতিপ্রদান কিংবা বাতিলকরণ বৈধ। কেননা রাসূলুল্লাহ সা. বলেন : 'কেউ যদি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এমন কোনো ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেয়, যে চুক্তি সম্পাদনের জন্যে লজ্জিত; তবে লজ্জিত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়ার দরুন আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন অব্যাহতি দানকারীর অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন।' বস্তুত ইজারা যেহেতু মুনাফা ও উপকার কেনাবেচার মতোই, তাই এক্ষেত্রেও অব্যাহতি দান জায়েয।