📄 ইজারাগ্রহীতা ইজারাকৃত পণ্য অপরজনের কাছে ইজারা দেওয়া
জমহুর তথা হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী এবং বিশুদ্ধ বর্ণনামতে হাম্বলী ফকীহগণ এ কথায় একমত যে, কোনো পণ্য দ্রব্য ইজারা নিয়ে কজা করার পর ইজারাগ্রহীতা ওই পণ্য ইজারাদাতা মালিক ব্যতীত অন্য জনের কাছে ইজারা দিতে পারবে। শর্ত হলো, পণ্যটি ব্যবহারকারী পরিবর্তিত হওয়ার দরুন তা নষ্ট কিংবা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কামুক্ত হতে হবে। ইজারাকৃত পণ্য কজা করা মূলত উপকার লাভের উপর কব্জা করার সমতুল্য।
📄 ইজারাগ্রহীতা অন্যকে বেশি ভাড়ায় ইজারা দেওয়া
শাফেয়ী ও মালেকী মাযহাবের ফকীহগণ প্রথম ইজারাগ্রহীতা দ্বিতীয়বার অন্যজনের কাছে কম ভাড়ায় ইজারা দিক বা বেশি ভাড়ায় বা পূর্বের ভাড়ায়, শর্তহীনভাবে এটিকে জায়েয মনে করেন। কারণ তাদের মতে ইজারা ক্রয়বিক্রয়ের মতো, তাতে প্রথম ক্রেতা ইচ্ছা করলে অপরজনের কাছে কম মূল্যে বা বেশি মূল্যে বিক্রি করতে পারে; ইজারায়ও তা-ই পারবে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলও বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে তাদের মতকেই সমর্থন করেছেন।
হানাফীগণ বলেন, দ্বিতীয় ইজারার যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে তা যদি প্রথম ইজারায় প্রদত্ত মুদ্রা ব্যতীত ভিন্ন মুদ্রা দ্বারা পরিশোধ করা হয় তবে শর্তহীনভাবেই তা জায়েয। কিন্তু উভয় চুক্তির মূল্য পরিশোধের মাধ্যম তথা মুদ্রা বা বিনিময় যদি এক জাতীয় বস্তু হয়, সেক্ষেত্রে প্রথম মূল্যের চেয়ে দ্বিতীয়বারে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া বৈধ হবে না। তবে ইজারা সহীহ হবে বটে, কিন্তু দ্বিতীয় ইজারাদাতা অতিরিক্ত যে মূল্য নেবে তা সাদকা করে দেওয়া উচিত হবে। কারণ, যে মূল্য সে অতিরিক্ত নিয়েছে এর মধ্যে সুদের সংশয় রয়েছে। হ্যাঁ, প্রথম ইজারাগ্রহীতা যদি দ্বিতীয় ইজারাগ্রহীতাকে দেওয়ার সময় পণ্যে কোনো জিনিস যোগ করে তবে তার জন্যে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া জায়েয হবে। তখন তার যোগ করা জিনিসের বিপরীতে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি বিবেচিত হবে।
হাম্বলীদের দ্বিতীয় অভিমত হলো, প্রথম ইজারাগ্রহীতা যদি ইজারার পণ্যে কোনো জিনিস যোগ করে তবে তার জন্যে দ্বিতীয় ইজারাগ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় শর্তহীনভাবেই জায়েয হবে। তাতে মূল্য একই জিনিস হোক কিংবা ভিন্ন হোক, প্রথম ইজারাদাতা প্রকৃত মালিক-এর অনুমতি নিক বা না নিক।
ইমাম আহমদ রহ.-এর তৃতীয় একটি মত রয়েছে, পণ্যের প্রকৃত মালিক যদি প্রথম ইজারাগ্রহীতাকে পণ্যের মধ্যে কিছু যোগ করার অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলেই কেবল অতিরিক্ত মূল্য আদায় জায়েয হবে, অন্যথায় নয়। মোদ্দাকথা, উপরিউক্ত মাসআলার ক্ষেত্রে ফকীহগণ ইজারাগ্রহণের মাধ্যমে প্রাপ্ত জিনিস দখলে নেয়ার পর সেটিকে পুনর্বার অপরজনের কাছে ইজারা দেয়ার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন।
📄 প্রাসঙ্গিক বিধান : ইজারাদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের জন্য অপরিহার্য
প্রাসঙ্গিক বিধান: ইজারাদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের জন্য অপরিহার্য। ইজারার পণ্য হস্তান্তর করা, ইজারার পণ্য ছিনতাই হলে এর ক্ষতিপূরণ এবং ইজারা পণ্যের ত্রুটির ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়াবলী নিচে আলোচনা করা হলো।
📄 ইজারার পণ্য হস্তান্তর করা
ইজারাদাতার কর্তব্য হলো, ইজারার পণ্য দ্বারা ইজারাগ্রহীতাকে উপকার গ্রহণের ব্যবস্থা করে দেওয়া এবং তা যেন ইজারার নির্ধারিত মেয়াদ কিংবা নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম পর্যন্ত বহাল থাকে তা নিশ্চিত করা। তদ্রূপ ব্যবসায়িক প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পূর্ণ উপকার লাভের জন্য ইজারার পণ্যের সঙ্গে অপরিহার্য যন্ত্রাংশ/দ্রব্যাদি হস্তান্তর করাও ইজারাদাতার কর্তব্য।
যেহেতু ইজারার উদ্দেশ্য হলো তা থেকে উপকার লাভ করা, তাই মেয়াদের মধ্যে যদি ভাড়াটের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই ইজারাকৃত পণ্যের মধ্যে এমন কোনো ত্রুটি দেখা দেয়— যার ফলে ভাড়াকৃত পণ্য থেকে উপকার লাভ সম্ভব না হয়, তবে সেই ত্রুটি দূর করে দেয়া ইজারাদাতার কর্তব্য। যেমন কোনো বাড়ি ভাড়া দিলে তাতে ভাড়াটের বসবাসে যদি কোনো অসুবিধা ঘটে তবে সেই ত্রুটি দূর করে দেয়া ইজারাদাতা মালিকের দায়িত্ব।
কোনো কাজের ইজারার ক্ষেত্রে ইজারাগ্রহীতা সেবাপ্রাপ্তিকে ভাড়া করে, এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে দেয়াই হলো উপকার হস্তান্তর করা। সেই কাজটি যদি কোনো জিনিস বা যন্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে এবং যে কাজ করবে জিনিসটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়, সে সাধারণ শ্রমদাতা হয়, তবে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর কর্মীর দায়িত্ব হবে সেই জিনিসটি ইজারাগ্রহীতার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।