📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 শরীয়ত নির্ধারিত শর্তগুলোর কোনোটিতে ত্রুটি থাকার প্রভাব

📄 শরীয়ত নির্ধারিত শর্তগুলোর কোনোটিতে ত্রুটি থাকার প্রভাব


ইজারাচুক্তি সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শরীয়তের পক্ষ থেকে যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে এগুলোর কোনোটি যদি পরিপূর্ণভাবে না থাকে, তবে বাহ্যিকভাবে লেনদেন সম্পন্ন হলেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে। কারণ, কোনো লেনদেন যদি সম্পন্নই না হয়- তাহলে প্রভাব প্রতিক্রিয়া হিসাবে তার অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব এক বরাবর। হানাফীগণ এ অবস্থায় নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক প্রাপ্তি যেমন আবশ্যিক মনে করে না, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পারিশ্রমিক পরিশোধও জরুরি মনে করে না, যেমনটি কোনো চুক্তি ফাসিদ হলে ধর্তব্য হয় এবং এমন কোনো শর্তের বর্তমানে ধর্তব্য হয় যা মূল লেনদেনে বিশুদ্ধতায় কোনো প্রভাব ফেলে না। কারণ হানাফীগণ ফাসিদ ও বাতিল লেনদেনের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করেন।

হানাফীদের মতে, মজুরির পরিমাণ, কাজের বৈশিষ্ট্য ও সময়সীমা এবং যে কাজের জন্যে লেনদেন হয়েছে তা যদি অনির্দিষ্ট হয় কিংবা এমন কোনো শর্ত যদি লাগানো হয়, যে শর্ত ইজারাচুক্তির সাথে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়, এ অবস্থায় যদি ইজারাগ্রহীতা উপকার ভোগ করে ফেলে তবে আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর মতে সমকালীন রীতি অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ করতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই তা নির্ধারিত মজুরির বেশি হতে পারবে না। আর যদি ইজারাগ্রহীতা কোনো উপকার ভোগ না করে থাকে, তবে হানাফী ও হাম্বলীদের একটি মতে, কোনো মজুরি পরিশোধই আবশ্যিক হবে না।

অন্য ফকীহগণ বাতিল ও ফাসিদ লেনদেনের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। তাদের মতে শরীয়ত যেসব শর্ত আরোপ করেছে, এর কোনোটি যদি না থাকে তবে সেই চুক্তি শুদ্ধ হবে না। কেননা শরীয়তের দৃষ্টিতে এই লেনদেন নিষিদ্ধ। আর নিষিদ্ধতার দাবি হলো, এমন লেনদেনের অস্তিত্ব অস্বীকার করা। ইজারাগ্রহীতার পক্ষে এমন চুক্তির বলে উপকার ভোগ জায়েয হবে না এবং তার উপর নির্ধারিত মূল্য পরিশোধও আবশ্যিক হবে না। তবে ইজারাকৃত বস্তু যদি ইজারাগ্রহীতা নিজের আয়ত্তে নিয়ে থাকে, কিংবা উপকার ভোগ করে ফেলে, কিংবা সে করায়ত্ত করার পর এতটুকু সময় অতিক্রান্ত হয়ে যায় যে সময়ের মধ্যে অনায়াসেই সে উপকার ভোগ করতে পারত, তবে ইজারাগ্রহীতার উপর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ আবশ্যিক হবে; তা যতই হোক।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ইজারার মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক বিধান

📄 ইজারার মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক বিধান


ইজারাচুক্তি যখন শুদ্ধ হবে, তাতে ইজারার মূল বিধান কার্যকর হবে। আর মূল বিধান হলো, ইজারা দ্বারা ইজারাগ্রহীতা উপকার লাভের অধিকারী হবে এবং ইজারাদাতা বিনিময়ের অধিকারী হবে। তা ছাড়া ইজারার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রাসঙ্গিক বিধানও রয়েছে। সে সব: পণ্যের মালিক ইজারাদাতা ইজারাগ্রহীতাকে তার পণ্য হস্তান্তর করবে এবং সে যেন উপকার ভোগ করতে পারে সে সুযোগ করে দেবে এবং ইজারাগ্রহীতা ইজারাকৃত পণ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেবে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 উপকার ভোগ ও মজুরির মালিকানা এবং এর সময়

📄 উপকার ভোগ ও মজুরির মালিকানা এবং এর সময়


হানাফী ও মালেকী ফকীহগণের মতে শুধু লেনদেন সম্পন্ন হলেই ইজারার মূল্য/মজুরি আবশ্যিক হয় না। ইজারার বিনিময় আবশ্যিক হওয়ার জন্যে অন্তত দুটি অবস্থার যে কোনো একটি হতে হবে। লেনদেনের আগেই অগ্রিম বিনিময় প্রদানের ফয়সালা করে নেওয়া কিংবা যে কাজের বিনিময় নির্ধারণ করা হয়েছে তা ইজারাগ্রহীতা পুরোপুরি অর্জন করা। হানাফী ফকীহগণের দৃষ্টিতে তিন অবস্থার যে-কোনো এক অবস্থায় ইজারাচুক্তির বিনিময় পরিশোধ করা ওয়াজিব। এক. চুক্তি সাব্যস্ত করার সময়ই যদি দ্রুত বিনিময় পরিশোধের শর্তারোপ করা হয়। দুই. শর্ত করা হয়নি, কিন্তু ইজারাকৃত পণ্যের উপকার ভোগের আগেই মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। তিন. যে কাজ বা পণ্যের উপর ইজারাচুক্তি করা হয়েছে, সেই পণ্য বা কাজ বুঝে নেওয়া হয়েছে; এ অবস্থায় মূল্য পরিশোধ ওয়াজিব হবে।

মালেকী ফকীহগণের মতে, ইজারাচুক্তির মূলনীতি হলো, ইজারাচুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিনিময় ও ভাড়া পরিশোধ আবশ্যিক হবে। এটি ক্রয়বিক্রয়ের বিপরীত। অবশ্য চারটি অবস্থা উল্লিখিত মাসআলা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে অবস্থাগুলোতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিনিময় পরিশোধ করা ওয়াজিব। ১. যদি অগ্রিম পরিশোধের শর্তারোপ করা হয়। ২. প্রচলিত রীতি অনুযায়ী। ৩. কোনো নির্দিষ্ট দ্রব্যকে বিনিময় হিসাবে নির্ধারণ করা হয়। ৪. অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করা তখনও আবশ্যক হবে যখন বিনিময় নির্ধারিত না হয়, আর ইজারাগ্রহীতার উপকার ভোগের বিষয়টি ইজারাদাতার দায়িত্বে থাকে।

শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণের অভিমত হলো, চুক্তি যদি শর্তহীন হয় (এবং বিনিময় পরিশোধের কোনো সময় নির্ধারণ করা না হয়), তবে শুধু চুক্তি করার দ্বারাই মূল্য পরিশোধ আবশ্যিক হবে। তবে মূল্য তখন আদায় করতে হবে যখন ইজারার পণ্য ইজারাগ্রহীতার নিকট হস্তান্তর করা হবে এবং পণ্য থেকে উপকার লাভের সুযোগ দেওয়া হবে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ইজারাগ্রহীতা ইজারাকৃত পণ্য অপরজনের কাছে ইজারা দেওয়া

📄 ইজারাগ্রহীতা ইজারাকৃত পণ্য অপরজনের কাছে ইজারা দেওয়া


জমহুর তথা হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী এবং বিশুদ্ধ বর্ণনামতে হাম্বলী ফকীহগণ এ কথায় একমত যে, কোনো পণ্য দ্রব্য ইজারা নিয়ে কজা করার পর ইজারাগ্রহীতা ওই পণ্য ইজারাদাতা মালিক ব্যতীত অন্য জনের কাছে ইজারা দিতে পারবে। শর্ত হলো, পণ্যটি ব্যবহারকারী পরিবর্তিত হওয়ার দরুন তা নষ্ট কিংবা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কামুক্ত হতে হবে। ইজারাকৃত পণ্য কজা করা মূলত উপকার লাভের উপর কব্জা করার সমতুল্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00