📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 দুপক্ষ এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি

📄 দুপক্ষ এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি


ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা : الْعَاقِدَانِ

হানাফী ছাড়া অন্যান্য মাযহাবের ফকীহগণের কাছে ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা উভয়েই ইজারার রুকনের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু হানাফীগণের মতে ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা ইজারাচুক্তির দুটি পক্ষ মাত্র, রুকন নয়।

ইজারাচুক্তি সম্পাদিত হওয়ার জন্য উভয়পক্ষ বোধজ্ঞানসম্পন্ন হওয়া শর্ত। এ শর্তের কারণে দুপক্ষের কোনো একজনও যদি পাগল কিংবা অবোধ শিশু হয়, তবে ইজারাচুক্তি সম্পন্ন হবে না। এর বিপরীতে যে ব্যক্তি কোনো সহায়-সম্পদের তত্ত্বাবধান করতে সক্ষম তার ইজারাচুক্তি সম্পাদনে কোনো ফকীহের মতপার্থক্য নেই।

ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয়পক্ষের সম্মতি থাকা শর্ত। চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে যদি কোনো পক্ষের অসম্মতি কিংবা জোরজবরদস্তির কারণ ঘটে তবে ইজারাচুক্তি অবৈধ গণ্য হবে। শাফেয়ী, হাম্বলী ও তাদের সমমনা ফকীহগণের মতে, ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয়পক্ষের ইজারাচুক্তি কার্যকরী করার সামর্থ্য থাকা শর্ত।

ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে, ইজারাচুক্তি কার্যকরী হওয়ার জন্যে চুক্তির কোনো পক্ষ যদি পুরুষ হয় তবে সে মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগী হতে পারবে না। কারণ তাঁর মতে, মুরতাদের যে-কোনো চুক্তি অকার্যকর থাকে। তবে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ. এবং অন্য ফকীহগণ কোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে এমন শর্তারোপ করেননি। তাদের মতে মুরতাদের লেনদেনও কার্যকরী হয়।

হানাফী ও মালেকী ফকীহগণের মতে ইজারাচুক্তি কার্যকরী হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের তা কার্যকর করার ক্ষমতা থাকার শর্তারোপ করেছেন, পক্ষান্তরে অন্য ফকীহগণ তা ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্যে শর্ত মনে করেন যা উপরে উল্লিখিত হয়েছে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা : الْعَاقِدَانِ

📄 ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা : الْعَاقِدَانِ


হানাফী ছাড়া অন্যান্য মাযহাবের ফকীহগণের কাছে ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা উভয়েই ইজারার রুকনের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু হানাফীগণের মতে ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা ইজারাচুক্তির দুটি পক্ষ মাত্র, রুকন নয়।

ইজারাচুক্তি সম্পাদিত হওয়ার জন্য উভয়পক্ষ বোধজ্ঞানসম্পন্ন হওয়া শর্ত। এ শর্তের কারণে দুপক্ষের কোনো একজনও যদি পাগল কিংবা অবোধ শিশু হয়, তবে ইজারাচুক্তি সম্পন্ন হবে না। এর বিপরীতে যে ব্যক্তি কোনো সহায়-সম্পদের তত্ত্বাবধান করতে সক্ষম তার ইজারাচুক্তি সম্পাদনে কোনো ফকীহের মতপার্থক্য নেই।

ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয়পক্ষের সম্মতি থাকা শর্ত। চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে যদি কোনো পক্ষের অসম্মতি কিংবা জোরজবরদস্তির কারণ ঘটে তবে ইজারাচুক্তি অবৈধ গণ্য হবে। শাফেয়ী, হাম্বলী ও তাদের সমমনা ফকীহগণের মতে, ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয়পক্ষের ইজারাচুক্তি কার্যকরী করার সামর্থ্য থাকা শর্ত। তাদের মতে, কেউ যদি অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির পক্ষে ইজারাচুক্তি সম্পাদন করে তবে তাদের দৃষ্টিতে এমন ইজারাচুক্তি অবৈধ বলে গণ্য হবে।

ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে, ইজারাচুক্তি কার্যকরী হওয়ার জন্যে চুক্তির কোনো পক্ষ যদি পুরুষ হয় তবে সে মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগী হতে পারবে না। কারণ তাঁর মতে, মুরতাদের যে-কোনো চুক্তি অকার্যকর থাকে। তবে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ. এবং অন্য ফকীহগণ কোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে এমন শর্তারোপ করেননি। তাদের মতে মুরতাদের লেনদেনও কার্যকরী হয়।

হানাফী ও মালেকী ফকীহগণের মতে ইজারাচুক্তি কার্যকরী হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের তা কার্যকর করার ক্ষমতা থাকার শর্তারোপ করেছেন, পক্ষান্তরে অন্য ফকীহগণ তা ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্যে শর্ত মনে করেন যা উপরে উল্লিখিত হয়েছে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 শিশুদের ইজারাচুক্তি : إِجَارَةُ الصَّبِيِّ

📄 শিশুদের ইজারাচুক্তি : إِجَارَةُ الصَّبِيِّ


পূর্ণ বোধজ্ঞানসম্পন্ন শিশু যদি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিজের শ্রম বিক্রির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, তাহলে সে অভিভাবকের অনুমতি পেলে এ চুক্তি বিশুদ্ধ হবে, নতুবা নয়। কিন্তু শাফেয়ীগণ এর বিপরীতে সাধারণভাবে নিষেধ করেন। তবে চুক্তি হয়ে থাকলে শিশু পারিশ্রমিকের অধিকারী হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে যে, শিশু তার নির্ধারণকৃত পারিশ্রমিক পাবে, না বাজারে প্রচলিত পারিশ্রমিকের অধিকারী হবে?

চুক্তি সম্পাদনকারী যদি মাহজুর বা লেনদেনে বারণকৃত হয় তবে হানাফী এবং মালেকীদের প্রসিদ্ধ মত এবং ইমাম আহমদ রহ.-এর এক বর্ণনামতে, এই স্থগিত চুক্তি অভিভাবকের অনুমতির উপর নির্ভরশীল হবে। কেননা চুক্তি কার্যকরী করার জন্য কার্যকরী ক্ষমতা থাকার শর্তারোপ করা হয়েছে, চুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য কার্যকরী ক্ষমতা থাকা শর্তযুক্ত নয়। পক্ষান্তরে শাফেয়ীগণের মতে এবং মালেকীদের একটি অভিমত ও ইমাম আহমদ রহ.-এর অপর এক বর্ণনামতে এমন চুক্তি বিশুদ্ধ হবে না। কারণ তাদের মতে, চুক্তি কার্যকরী করার ক্ষমতাবান হওয়া কোনো লেনদেন বিশুদ্ধ হওয়া এবং সম্পাদিত হওয়ার জন্যেও শর্ত; কার্যকরী হওয়ার জন্যেই নয়।

কোনো ব্যক্তি যদি কোনো শিশুর অভিভাবকত্ব লাভ করে, অতঃপর সে ওই শিশুকে কোনো কাজে নিয়োগের চুক্তি করে কিংবা সেই শিশুর সম্পত্তির কোনো অংশ ইজারা দেয়, তবে ওই চুক্তি শুদ্ধ হবে। কেননা, ইসলামী শরীয়তে অভিভাবক আপন সত্তার মতোই শিশুর কর্তৃত্বের অধিকারী। তবে অভিভাবকের সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদের মধ্যেই যদি শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায়, তাহলে শিশুর জন্য সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করা অপরিহার্য কি-না, এ ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে। কেউ বলেছেন, শিশুর এ চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করা আবশ্যক। কেননা, অভিভাবকত্বের অধিকার বলেই তো অভিভাবক চুক্তি সম্পাদনা করেছিল; ফলে বালেগ হওয়ার কারণে চুক্তি শেষ হয়ে যাবে না। যেমন শিশুর নাবালেগ অবস্থায় তার অভিভাবক যদি তার কোনো বাড়ি বিক্রি করে দেয় কিংবা শিশুকে বিবাহ দিয়ে দেয় তা যেমন অক্ষুণ্ণ থাকে, এই ইজারাচুক্তিও তেমন বহাল থাকবে। এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন ইমাম শাফেয়ী রহ, আর ইমাম শিরাজী এটিকে বিশুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন।

হাম্বলীদেরও এই মতের পক্ষে একটি অভিমত রয়েছে। ইবনে কুদামা হাম্বলী ফিকহের মধ্যে এটিকে বিশুদ্ধ মত বলে অভিহিত করেছেন। নাবালেগ শিশুর কোনো সম্পত্তি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে হানাফীগণও এই একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

দ্বিতীয় অভিমতটি হলো, এই চুক্তির আবশ্যকতা আর বহাল থাকবে না। শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর চুক্তি অক্ষুণ্ণ রাখা, না রাখার ব্যাপারে স্বাধীন হবে। সে চুক্তি বহাল রাখতে পারে, আবার চুক্তি ভঙ্গও করতে পারে। কারণ, বালেগ হওয়ার সাথে সাথে তার সম্পদ ও সত্তার ব্যাপারে সে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে, অভিভাবকের অভিভাবকত্ব শেষ হয়ে যায়। উল্লিখিত মতটি মালেকীদের এবং শাফেয়ী ও হাম্বলীদেরও একটি অভিমত এমন রয়েছে। নাবালেগ শিশুকে ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে হানাফীদেরও একই অভিমত। এক্ষেত্রে হানাফীদের বক্তব্য হলো, শিশুর শৈশব অবস্থায় তার শ্রমবিনিয়োগের জন্যে তার অভিভাবক কর্তৃক সম্পাদিত কোনো চুক্তি বালেগ হওয়ার পরও বহাল রাখা তার জন্যে মর্যাদা হানিকর। কেননা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সে অন্যের সেবা করাকে নিজের জন্যে অসম্মানজনক মনে করতেই পারে। তা ছাড়া ইজারার উপকারিতা একটু একটু করে অস্তিত্বে আসে। তাই ইজারাচুক্তিও ধাপে ধাপে সংঘটিত হয়। তাই শিশুর জন্যে অভিভাবকের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার অধিকার থাকবে। যেমন শিশু বালেগ হওয়ার পর যদি সে নতুন করে কোনো চুক্তি সম্পাদন করে তবে তা ভেঙ্গে ফেলার অধিকার থাকে।

হাম্বলীদের আরেকটি অভিমত এমনও রয়েছে যে, শিশুর অভিভাবক যদি এমন সময়সীমার কোনো চুক্তি করে যে সময়ের মধ্যে শিশু বালেগ হয়ে যেতে পারে তবে বালেগ হয়ে যাওয়ার পর শিশুর সে চুক্তি অক্ষুণ্ণ রাখা অপরিহার্য হবে না। কারণ, যদি অভিভাবকের সম্পাদিত চুক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে তবে এমনটি হওয়ার অবকাশ তৈরি হয় যে, অভিভাবক তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করে সারাজীবনের জন্যে চুক্তিবদ্ধ করে শিশুর স্বার্থহানি করেছে। সেই সাথে অভিভাবকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তার হস্তক্ষেপ বহাল রয়েছে। হ্যাঁ, অবস্থা যদি এমন হয় যে, চুক্তির সময়সীমার মধ্যে স্বাভাবিকভাবে শিশুর বালেগ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না; কিন্তু ঘটনাক্রমে তাই ঘটে গেছে। এমতাবস্থায় অভিভাবকের সম্পাদিত চুক্তি বহাল থাকবে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 ইজারার ক্ষেত্র : مَحَلُّ الإِجَارَةِ

📄 ইজারার ক্ষেত্র : مَحَلُّ الإِجَارَةِ


এক্ষেত্রে দু'টি বিষয়ে আলোচনা করা হবে, ইজারা দেওয়া পণ্যের উপকারিতা এবং ইজারার মূল্য তথা ভাড়া।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية