📄 ইজারাচুক্তির তাৎক্ষণিক কার্যকারিতা, এর সম্পর্ক ও শর্তের বিধান
ইজারাচুক্তিতে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে যদি কোনো পরিষ্কার বক্তব্য না থাকে এবং এই চুক্তি কখন থেকে কার্যকর হবে, তাও যদি না থাকে তাহলে এ অবস্থায় তা তাৎক্ষণিক কার্যকর হওয়াকেই বুঝাবে। তবে ভবিষ্যতে কার্যকর হওয়ার শর্তে যদি ইজারাচুক্তি করা হয়, তবে সেটির দুটি অবস্থা হতে পারে। যেমন কোনো নির্দিষ্ট জিনিসের ইজারা কিংবা কারো জিম্মায় থাকাবস্থায় ইজারা।
অধিকাংশ ফকীহ মূল জিনিস ও উপকারিতার ইজারা প্রশ্নে ভবিষ্যতের লেনদেনকে সঠিক মনে করেন এবং এ দুটোতে পার্থক্য করেন না।
শাফেয়ীদের সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতে, যদি মূল বস্তুতে না হয়ে ইজারাদাতার জিম্মায় উপকার নিশ্চিত করার শর্তে ইজারাচুক্তি হয় তবে তা জায়েয। অবশ্য মূল জিনিসের ইজারাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবে তাদের মতে জায়েয, যদি চুক্তি এবং তার মেয়াদে, যার সাথে ইজারার সম্পর্ক করা হচ্ছে অল্প সময়ের ব্যবধান থাকে। যেমন, হজের সফর শুরু হওয়ার আগেই যানবাহন ইজারা করা।
ইজারা যেহেতু একটি কার্যকর চুক্তি, ফলে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর দুপক্ষের কেউ ইচ্ছা করলেই তা বাতিল করতে পারবে না। ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর একটি মতে, যদি ভবিষ্যতে উপকার লাভের ভিত্তিতে ইজারাচুক্তি করা হয় তবে নির্দিষ্ট সময় আসার আগেই দুপক্ষের কেউ যদি চুক্তি বাতিল করতে চায় তবে তা বাতিল করতে পারবে।
ফকীহগণ এ ব্যাপারে একমত যে, ক্রয়বিক্রয়ের মতো ইজারাচুক্তিও শর্তাধীন করা জায়েয নয়। হানাফী ফকীহ কাযীযাদা এটি এ কথায় সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন : ইজারা কোনো শর্ত কবুল করে না। অনেক ক্ষেত্রে ইজারা দৃশ্যত শর্তযুক্ত মনে হয় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা শর্তযুক্ত নয়, ভবিষ্যতের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যেমন কেউ যদি দর্জিকে বলে, তুমি যদি আজ এ কাপড় সেলাই করে দাও তাহলে এক টাকা মজুরি দেব, আর আগামীকাল সেলাই করলে অর্ধেক টাকা দেব।
ইজারাচুক্তি শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইজারার শব্দাবলিতে ইজারাচুক্তির পরিপন্থী কোনো শর্ত থাকতে পারবে না। অথবা ইজারাচুক্তির ক্ষেত্রে যদি এমন কথা বলা হয় যা ইজারাদাতা বা ইজারাগ্রহীতা অথবা তারা ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা করে— যা ইজারাচুক্তিতে প্রত্যাশিত নয়; যেমন ইজারাদাতা শর্ত করল, আমি এই ঘরটি ইজারা দেব বটে, কিন্তু একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত আমি তাতে বসবাস করব কিংবা তার উপকার হাসিল করব; এমন শর্ত করার ক্ষেত্রে ইজারাচুক্তি শুদ্ধ হবে কি-না, এ ব্যাপারে ফকীহগণের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ ও সম্পাদিত হওয়ার শর্তাদি ছাড়াও ইজারাচুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্যে শর্ত হলো, উভয়পক্ষের চুক্তি সম্পাদন করার যোগ্যতা থাকতে হবে। (সেই সাথে শর্ত হলো) কোনো পক্ষের খিয়ারুশ শারত করার অধিকার থাকবে না। এর কারণ, গ্রহণ-বর্জনের অধিকারের শর্তারোপ যে-কোনো লেনদেনের কার্যকারিতাকে শুরুতেই বাধাগ্রস্ত করে।
হানাফী, মালেকী এবং হাম্বলী মাযহাবের ফকীহদের মতে ইজারাচুক্তিতে ইচ্ছাধিকারের শর্তারোপ জায়েয। ইজারাচুক্তি যদি কোনো নির্দিষ্ট জিনিসের ক্ষেত্রে হয় তবে সেক্ষেত্রে শাফেয়ী মতাবলম্বীদের এক বক্তব্য মতেও ইচ্ছাধিকারের শর্তারোপ জায়েয। জিম্মার ইজারার ক্ষেত্রে শাফেয়ীগণ ইচ্ছাধিকারের শর্তারোপ নিষিদ্ধ মনে করেন।
📄 দুপক্ষ এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি
ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা : الْعَاقِدَانِ
হানাফী ছাড়া অন্যান্য মাযহাবের ফকীহগণের কাছে ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা উভয়েই ইজারার রুকনের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু হানাফীগণের মতে ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা ইজারাচুক্তির দুটি পক্ষ মাত্র, রুকন নয়।
ইজারাচুক্তি সম্পাদিত হওয়ার জন্য উভয়পক্ষ বোধজ্ঞানসম্পন্ন হওয়া শর্ত। এ শর্তের কারণে দুপক্ষের কোনো একজনও যদি পাগল কিংবা অবোধ শিশু হয়, তবে ইজারাচুক্তি সম্পন্ন হবে না। এর বিপরীতে যে ব্যক্তি কোনো সহায়-সম্পদের তত্ত্বাবধান করতে সক্ষম তার ইজারাচুক্তি সম্পাদনে কোনো ফকীহের মতপার্থক্য নেই।
ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয়পক্ষের সম্মতি থাকা শর্ত। চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে যদি কোনো পক্ষের অসম্মতি কিংবা জোরজবরদস্তির কারণ ঘটে তবে ইজারাচুক্তি অবৈধ গণ্য হবে। শাফেয়ী, হাম্বলী ও তাদের সমমনা ফকীহগণের মতে, ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয়পক্ষের ইজারাচুক্তি কার্যকরী করার সামর্থ্য থাকা শর্ত।
ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে, ইজারাচুক্তি কার্যকরী হওয়ার জন্যে চুক্তির কোনো পক্ষ যদি পুরুষ হয় তবে সে মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগী হতে পারবে না। কারণ তাঁর মতে, মুরতাদের যে-কোনো চুক্তি অকার্যকর থাকে। তবে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ. এবং অন্য ফকীহগণ কোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে এমন শর্তারোপ করেননি। তাদের মতে মুরতাদের লেনদেনও কার্যকরী হয়।
হানাফী ও মালেকী ফকীহগণের মতে ইজারাচুক্তি কার্যকরী হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের তা কার্যকর করার ক্ষমতা থাকার শর্তারোপ করেছেন, পক্ষান্তরে অন্য ফকীহগণ তা ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্যে শর্ত মনে করেন যা উপরে উল্লিখিত হয়েছে।
📄 ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা : الْعَاقِدَانِ
হানাফী ছাড়া অন্যান্য মাযহাবের ফকীহগণের কাছে ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা উভয়েই ইজারার রুকনের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু হানাফীগণের মতে ইজারাদাতা ও ইজারাগ্রহীতা ইজারাচুক্তির দুটি পক্ষ মাত্র, রুকন নয়।
ইজারাচুক্তি সম্পাদিত হওয়ার জন্য উভয়পক্ষ বোধজ্ঞানসম্পন্ন হওয়া শর্ত। এ শর্তের কারণে দুপক্ষের কোনো একজনও যদি পাগল কিংবা অবোধ শিশু হয়, তবে ইজারাচুক্তি সম্পন্ন হবে না। এর বিপরীতে যে ব্যক্তি কোনো সহায়-সম্পদের তত্ত্বাবধান করতে সক্ষম তার ইজারাচুক্তি সম্পাদনে কোনো ফকীহের মতপার্থক্য নেই।
ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয়পক্ষের সম্মতি থাকা শর্ত। চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে যদি কোনো পক্ষের অসম্মতি কিংবা জোরজবরদস্তির কারণ ঘটে তবে ইজারাচুক্তি অবৈধ গণ্য হবে। শাফেয়ী, হাম্বলী ও তাদের সমমনা ফকীহগণের মতে, ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয়পক্ষের ইজারাচুক্তি কার্যকরী করার সামর্থ্য থাকা শর্ত। তাদের মতে, কেউ যদি অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির পক্ষে ইজারাচুক্তি সম্পাদন করে তবে তাদের দৃষ্টিতে এমন ইজারাচুক্তি অবৈধ বলে গণ্য হবে।
ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে, ইজারাচুক্তি কার্যকরী হওয়ার জন্যে চুক্তির কোনো পক্ষ যদি পুরুষ হয় তবে সে মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগী হতে পারবে না। কারণ তাঁর মতে, মুরতাদের যে-কোনো চুক্তি অকার্যকর থাকে। তবে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ. এবং অন্য ফকীহগণ কোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে এমন শর্তারোপ করেননি। তাদের মতে মুরতাদের লেনদেনও কার্যকরী হয়।
হানাফী ও মালেকী ফকীহগণের মতে ইজারাচুক্তি কার্যকরী হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের তা কার্যকর করার ক্ষমতা থাকার শর্তারোপ করেছেন, পক্ষান্তরে অন্য ফকীহগণ তা ইজারাচুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্যে শর্ত মনে করেন যা উপরে উল্লিখিত হয়েছে।
📄 শিশুদের ইজারাচুক্তি : إِجَارَةُ الصَّبِيِّ
পূর্ণ বোধজ্ঞানসম্পন্ন শিশু যদি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিজের শ্রম বিক্রির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, তাহলে সে অভিভাবকের অনুমতি পেলে এ চুক্তি বিশুদ্ধ হবে, নতুবা নয়। কিন্তু শাফেয়ীগণ এর বিপরীতে সাধারণভাবে নিষেধ করেন। তবে চুক্তি হয়ে থাকলে শিশু পারিশ্রমিকের অধিকারী হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে যে, শিশু তার নির্ধারণকৃত পারিশ্রমিক পাবে, না বাজারে প্রচলিত পারিশ্রমিকের অধিকারী হবে?
চুক্তি সম্পাদনকারী যদি মাহজুর বা লেনদেনে বারণকৃত হয় তবে হানাফী এবং মালেকীদের প্রসিদ্ধ মত এবং ইমাম আহমদ রহ.-এর এক বর্ণনামতে, এই স্থগিত চুক্তি অভিভাবকের অনুমতির উপর নির্ভরশীল হবে। কেননা চুক্তি কার্যকরী করার জন্য কার্যকরী ক্ষমতা থাকার শর্তারোপ করা হয়েছে, চুক্তি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য কার্যকরী ক্ষমতা থাকা শর্তযুক্ত নয়। পক্ষান্তরে শাফেয়ীগণের মতে এবং মালেকীদের একটি অভিমত ও ইমাম আহমদ রহ.-এর অপর এক বর্ণনামতে এমন চুক্তি বিশুদ্ধ হবে না। কারণ তাদের মতে, চুক্তি কার্যকরী করার ক্ষমতাবান হওয়া কোনো লেনদেন বিশুদ্ধ হওয়া এবং সম্পাদিত হওয়ার জন্যেও শর্ত; কার্যকরী হওয়ার জন্যেই নয়।
কোনো ব্যক্তি যদি কোনো শিশুর অভিভাবকত্ব লাভ করে, অতঃপর সে ওই শিশুকে কোনো কাজে নিয়োগের চুক্তি করে কিংবা সেই শিশুর সম্পত্তির কোনো অংশ ইজারা দেয়, তবে ওই চুক্তি শুদ্ধ হবে। কেননা, ইসলামী শরীয়তে অভিভাবক আপন সত্তার মতোই শিশুর কর্তৃত্বের অধিকারী। তবে অভিভাবকের সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদের মধ্যেই যদি শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায়, তাহলে শিশুর জন্য সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করা অপরিহার্য কি-না, এ ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে। কেউ বলেছেন, শিশুর এ চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করা আবশ্যক। কেননা, অভিভাবকত্বের অধিকার বলেই তো অভিভাবক চুক্তি সম্পাদনা করেছিল; ফলে বালেগ হওয়ার কারণে চুক্তি শেষ হয়ে যাবে না। যেমন শিশুর নাবালেগ অবস্থায় তার অভিভাবক যদি তার কোনো বাড়ি বিক্রি করে দেয় কিংবা শিশুকে বিবাহ দিয়ে দেয় তা যেমন অক্ষুণ্ণ থাকে, এই ইজারাচুক্তিও তেমন বহাল থাকবে। এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন ইমাম শাফেয়ী রহ, আর ইমাম শিরাজী এটিকে বিশুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন।
হাম্বলীদেরও এই মতের পক্ষে একটি অভিমত রয়েছে। ইবনে কুদামা হাম্বলী ফিকহের মধ্যে এটিকে বিশুদ্ধ মত বলে অভিহিত করেছেন। নাবালেগ শিশুর কোনো সম্পত্তি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে হানাফীগণও এই একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
দ্বিতীয় অভিমতটি হলো, এই চুক্তির আবশ্যকতা আর বহাল থাকবে না। শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর চুক্তি অক্ষুণ্ণ রাখা, না রাখার ব্যাপারে স্বাধীন হবে। সে চুক্তি বহাল রাখতে পারে, আবার চুক্তি ভঙ্গও করতে পারে। কারণ, বালেগ হওয়ার সাথে সাথে তার সম্পদ ও সত্তার ব্যাপারে সে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে, অভিভাবকের অভিভাবকত্ব শেষ হয়ে যায়। উল্লিখিত মতটি মালেকীদের এবং শাফেয়ী ও হাম্বলীদেরও একটি অভিমত এমন রয়েছে। নাবালেগ শিশুকে ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে হানাফীদেরও একই অভিমত। এক্ষেত্রে হানাফীদের বক্তব্য হলো, শিশুর শৈশব অবস্থায় তার শ্রমবিনিয়োগের জন্যে তার অভিভাবক কর্তৃক সম্পাদিত কোনো চুক্তি বালেগ হওয়ার পরও বহাল রাখা তার জন্যে মর্যাদা হানিকর। কেননা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সে অন্যের সেবা করাকে নিজের জন্যে অসম্মানজনক মনে করতেই পারে। তা ছাড়া ইজারার উপকারিতা একটু একটু করে অস্তিত্বে আসে। তাই ইজারাচুক্তিও ধাপে ধাপে সংঘটিত হয়। তাই শিশুর জন্যে অভিভাবকের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার অধিকার থাকবে। যেমন শিশু বালেগ হওয়ার পর যদি সে নতুন করে কোনো চুক্তি সম্পাদন করে তবে তা ভেঙ্গে ফেলার অধিকার থাকে।
হাম্বলীদের আরেকটি অভিমত এমনও রয়েছে যে, শিশুর অভিভাবক যদি এমন সময়সীমার কোনো চুক্তি করে যে সময়ের মধ্যে শিশু বালেগ হয়ে যেতে পারে তবে বালেগ হয়ে যাওয়ার পর শিশুর সে চুক্তি অক্ষুণ্ণ রাখা অপরিহার্য হবে না। কারণ, যদি অভিভাবকের সম্পাদিত চুক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে তবে এমনটি হওয়ার অবকাশ তৈরি হয় যে, অভিভাবক তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করে সারাজীবনের জন্যে চুক্তিবদ্ধ করে শিশুর স্বার্থহানি করেছে। সেই সাথে অভিভাবকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তার হস্তক্ষেপ বহাল রয়েছে। হ্যাঁ, অবস্থা যদি এমন হয় যে, চুক্তির সময়সীমার মধ্যে স্বাভাবিকভাবে শিশুর বালেগ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না; কিন্তু ঘটনাক্রমে তাই ঘটে গেছে। এমতাবস্থায় অভিভাবকের সম্পাদিত চুক্তি বহাল থাকবে।