📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা
ইজারার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা নিচে দেওয়া হলো:
📄 الْبَيْعُ (আল বায়) : বিক্রয়, কেনাবেচা
বস্তুত ইজারা ক্রয়বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ক্রয়বিক্রয় ও ইজারার মধ্যে পার্থক্য হলো, ইজারায় মূল জিনিসটি বিক্রি করা হয় না, বরং জিনিসের উপকারিতা বিক্রয় করা হয়; আর ক্রয়বিক্রয়ে মূল জিনিসটিই বিক্রি করা হয়। ইজারা তাৎক্ষণিক কার্যকর হয় এবং একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরও ইজারা কার্যকর হয়। পক্ষান্তরে ক্রয়বিক্রয় তাৎক্ষণিক কার্যকর হয়। ইজারার ক্ষেত্রে মূল ক্রয়কৃত উপকারিতা একসঙ্গে হস্তগত হয় না, কিন্তু ক্রয়বিক্রয়ের ক্ষেত্রে গোটা খরিদা পণ্য একসাথেই হস্তগত হতে পারে এবং মালিকানা লাভ করা যায়। এমনটি আবশ্যক নয় যে, যে জিনিসের ইজারা বৈধ এটির ক্রয়বিক্রয়ও বৈধ হবে। যেমন একজন স্বাধীন মানুষকে ইজারা বা ভাড়ায় মজদুর হিসেবে রাখা যায়। কেননা ইজারার ক্ষেত্রে মানুষটি বিক্রি হয় না। বিক্রি হয় তার শ্রম; আর কেনা হয় তার শ্রমের উপকারিতা। কিন্তু কোনো স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করা যায় না। কারণ স্বাধীন মানুষ বিক্রিযোগ্য পণ্য বা সম্পদ নয়।
📄 الإِعَارَةُ (আল ইআরা) : হাওলাত, ধার
ইজারা ও হাওলাতের মধ্যে গুণগত পার্থক্য বিদ্যমান। ইজারায় অন্যকে উপকারিতার মালিকানা প্রদান করা হয়, যার বিপরীতে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু হাওলাতে বিনা মূল্যেই উপকারিতার মালিকানা দেওয়া হয়। কোনো কোনো ফকীহের মতে, যাকে হাওলাত বা ধার দেওয়া হয় তার জন্য উপকারিতা লাভ বৈধ করে দেওয়া হয়। এ সম্পর্কে ফকীহগণের মতপার্থক্যের বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।
📄 الْجَعَالَةُ (আল জিআলা) : নির্দিষ্ট কাজের বিনিময়ে কমিশন বা পুরস্কার
ইজারা আর জিআলা'র মধ্যে পার্থক্য হলো, জিআলা এমন উপকার লাভের জন্য শ্রমিকের সাথে চুক্তি করা যা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইজারাগ্রহীতা শ্রমিকের শ্রমঅংশের দ্বারা উপকার লাভ করতে পারে না, বরং কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর লাভবান হতে পারে। জিআলা এমন একটি চুক্তি যা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চুক্তি পালনকে অপরিহার্য করে না।
বিনিময় জ্ঞাত হওয়া আবশ্যক। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : “مَنِ اسْتَأْجَرَ أَجيرًا فَلْيُعْلِمْهُ أَجْرَهُ কেউ যদি কাউকে কোনো কাজের জন্যে শ্রমদাতা হিসাবে গ্রহণ করে তাহলে তার মজুরি তাকে পরিজ্ঞাত করা আবশ্যক।”
এমন কোনো জিনিস যদি ইজারার বিনিময় নির্ধারণ করা হয়, যা ঋণ গণ্য হতে পারে, যেমন রৌপ্যমুদ্রা, স্বর্ণমুদ্রা, অথবা পরিমাপযোগ্য কিংবা ওজনযোগ্য কোনো জিনিস, কাছাকাছি গড়নের বস্তু তাহলে এগুলোর পরিমাণ, গুণাবলি, প্রকৃতি ও প্রকার উল্লেখ করা আবশ্যক। এসব ক্ষেত্রে যদি কোনো প্রকার অস্পষ্টতা থাকে, যাকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিতে পারে, তাহলে ইজারাচুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। এ অবস্থায় যদি ইজারাগ্রহীতা তার উপকার ভোগ করে ফেলে তবে সমাজে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তথা বাজারমূল্যে প্রতিদান পরিশোধ করা আবশ্যক হবে। বস্তুত সংশ্লিষ্ট কাজের মজুরি সম্পর্কে যারা পূর্ণ অবগত তাদের মতের ভিত্তিতে তখন মজুরি নির্ধারিত হবে।