📄 আবশ্যক ও অনাবশ্যক হওয়ার বিচারে ইজারা
সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকীহের মতে ইজারাচুক্তি সম্পাদিত হয়ে গেলে তা পালন করা আবশ্যক। দু পক্ষের কেউই এককভাবে চুক্তি ভঙ্গের কারণ ছাড়া ইজারাচুক্তি ভাঙ্গতে পারবে না। হ্যাঁ, যে জিনিস ইজারা দেওয়া হয়েছে তাতে যদি কোনো ত্রুটি থাকে কিংবা ওই জিনিসটি উপকার লাভের অনুপযুক্ত হয়, তবে ভঙ্গ করা যাবে।
যারা ইজারাচুক্তি পালন করাকে আবশ্যক বলেন তাদের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: أَوْفُوا بِالْعُقُود “তোমরা সম্পাদিত চুক্তি (প্রতিশ্রুতি) পালন করো”।
ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেন, ইজারাগ্রহীতা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সে এককভাবে চুক্তি বাতিল করতে পারে। যেমন কেউ ব্যবসার উদ্দেশ্যে দোকান ইজারা নিল। কিন্তু আকস্মিক অগ্নিকান্ডে তার সব পণ্য পুড়ে গেল কিংবা চুরি হয়ে গেল, তাহলে এককভাবে সে চুক্তি প্রত্যাহার করতে পারবে। কেননা এ অবস্থায় ব্যবসা করার মতো সামর্থ্য তার নেই। এই সিদ্ধান্তটি ইজারা নেওয়া জিনিস ধ্বংসের মাসআলার উপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে।
অর্থাৎ ইজারা দেওয়া জিনিসটি থেকে উপকার ভোগের সুযোগ যদি না থাকে তাহলে ইজারাগ্রহীতার যেমন প্রত্যাখ্যানের অধিকার থাকে; অনুরূপ ঘটনাক্রমে ইজারাগ্রহীতা যদি ব্যবসার সামর্থ্য হারায় তাহলে এ অবস্থায়ও সে ইজারাচুক্তি বাতিল করার অধিকার পাবে। ইবনে রুশদ রহ. বলেন, ইজারাচুক্তি একটি সাধারণ বৈধ চুক্তি, আবশ্যকীয় নয়।
📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা
ইজারার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা নিচে দেওয়া হলো:
📄 الْبَيْعُ (আল বায়) : বিক্রয়, কেনাবেচা
বস্তুত ইজারা ক্রয়বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ক্রয়বিক্রয় ও ইজারার মধ্যে পার্থক্য হলো, ইজারায় মূল জিনিসটি বিক্রি করা হয় না, বরং জিনিসের উপকারিতা বিক্রয় করা হয়; আর ক্রয়বিক্রয়ে মূল জিনিসটিই বিক্রি করা হয়। ইজারা তাৎক্ষণিক কার্যকর হয় এবং একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরও ইজারা কার্যকর হয়। পক্ষান্তরে ক্রয়বিক্রয় তাৎক্ষণিক কার্যকর হয়। ইজারার ক্ষেত্রে মূল ক্রয়কৃত উপকারিতা একসঙ্গে হস্তগত হয় না, কিন্তু ক্রয়বিক্রয়ের ক্ষেত্রে গোটা খরিদা পণ্য একসাথেই হস্তগত হতে পারে এবং মালিকানা লাভ করা যায়। এমনটি আবশ্যক নয় যে, যে জিনিসের ইজারা বৈধ এটির ক্রয়বিক্রয়ও বৈধ হবে। যেমন একজন স্বাধীন মানুষকে ইজারা বা ভাড়ায় মজদুর হিসেবে রাখা যায়। কেননা ইজারার ক্ষেত্রে মানুষটি বিক্রি হয় না। বিক্রি হয় তার শ্রম; আর কেনা হয় তার শ্রমের উপকারিতা। কিন্তু কোনো স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করা যায় না। কারণ স্বাধীন মানুষ বিক্রিযোগ্য পণ্য বা সম্পদ নয়।
📄 الإِعَارَةُ (আল ইআরা) : হাওলাত, ধার
ইজারা ও হাওলাতের মধ্যে গুণগত পার্থক্য বিদ্যমান। ইজারায় অন্যকে উপকারিতার মালিকানা প্রদান করা হয়, যার বিপরীতে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু হাওলাতে বিনা মূল্যেই উপকারিতার মালিকানা দেওয়া হয়। কোনো কোনো ফকীহের মতে, যাকে হাওলাত বা ধার দেওয়া হয় তার জন্য উপকারিতা লাভ বৈধ করে দেওয়া হয়। এ সম্পর্কে ফকীহগণের মতপার্থক্যের বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।