📄 বন্ধকী চুক্তিতে শর্ত
বন্ধকীচুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত বেচাকেনার যাবতীয় শর্তের অনুরূপ। সুতরাং যদি তাতে চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যশীল কোনো শর্তারোপ করে—যেমন: পাওনাদার অধিক হলে বন্ধকীজিনিসের ক্ষেত্রে ঋণদাতা অগ্রাধিকার পাবে এবং বন্ধকীবস্তু ঋণদাতার হাতে থাকবে, তাহলে চুক্তি সহীহ হবে। আর যদি চুক্তিতে এমন কোনো শর্তারোপ করে যা চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়; যেমন: বিক্রির প্রয়োজনের সময় তা বিক্রি করতে পারবে না, তাহলে বন্ধকের চাহিদা ও উদ্দেশ্যের বিপরীত হওয়ার কারণে শর্ত বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
৬৭. শারহুয যুরক্বানী, খ. ৫, পৃ. ২৪১; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ১৫৩; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩২১-২৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২৩৫
📄 বন্ধকীবস্তু বিক্রির অধিকার
যখন ঋণ পরিশোধের সময় হয়ে যাবে তখন বন্ধকদাতার কাছে বন্ধকগ্রহীতার ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার দাবি জানানো আবশ্যক হবে। যদি সে ঋণ পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধ করতে না পারে, তাহলে বন্ধকগ্রহীতার অনুমতিক্রমে বন্ধকদাতা নিজে বা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে বন্ধকী জিনিস বিক্রি করা ওয়াজিব হবে। শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ এই অভিমত পোষণ করেছেন। মালেকীগণ বলেছেন: তাকে প্রহার করবে না, আটকও করবে না। বিচারক বন্ধক রাখা বস্তু বিক্রি করে তার মূল্য দিয়ে তার ঋণ পরিশোধের উপর তার চাপ সীমাবদ্ধ রাখবেন।
হানাফীগণ বলেন: বন্ধকগ্রহীতার অধিকার আছে সে বন্ধকদাতার কাছে তার দেনা বা ঋণ পরিশোধের দাবি জানাবে। বিচারক বন্ধক রাখা বস্তু বিক্রি করবেন না। তবে বিচারক ঋণ গ্রহীতার জুলুম দূর করার জন্য তাকে আটক রাখতে থাকবেন যতক্ষণ না সে তা বিক্রি করে তার মূল্য দিয়ে ঋণ পরিশোধ করে দেয়।
টিকাঃ
৬৮. আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ১২৮; কাশশাফুল ক্বিনা', খ. ৩, পৃ. ৩৪২; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৪৪৭; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২৭৪; রওযাতুত তালিবীন, খ. ৪, পৃ. ৮৮
৬৯. হাশিয়াতুল বাজীরমী, খ. ২, পৃ. ৩৮০; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২৭৪; আল-ক্বালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ২৭৪; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩৪২; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৪৪৭
৭০. শারহুয যুরক্বানী, খ. ৫, পৃ. ১৫৩
৭১. আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ১২৮, খ. ৩, পৃ. ২৮৫; ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৯৫-৩১০