📄 আবশ্যকীয় খরচ থেকে বিরত থাকা
বন্ধকীবস্তুর খরচাদি প্রদান করা যার অবশ্য কর্তব্য যদি সে তা আদায় করা থেকে বিরত থাকে তবে বিচারক তাকে সে খরচাদি প্রদান করতে বাধ্য করবেন। যদি তারপরও সে বিরত থাকে তাহলে বিচারক ঐ লোকের সম্পদ থেকে প্রয়োজন পরিমাণ খরচ করবেন। যদি বিচারকের অনুমতি ব্যতীত বন্ধকগ্রহীতা খরচ বহন করে তাহলে তা অনুদান বলে গণ্য হবে। কিন্তু যদি বিচারকের অনুমতি সাপেক্ষে খরচ বহন করে তবে সে যা খরচ করেছে তা ঋণীব্যক্তির নিকট থেকে আদায় করতে পারবে। মালেকীগণ বলেন: বন্ধকদাতা কিংবা বিচারক ঋণদাতাকে খরচের অনুমতি না দিলেও সে বন্ধক দাতার নিকট থেকে তার ব্যয়কৃত খরচ নিয়ে নেবে।
টিকাঃ
৬২. হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩১৩; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ১৬৯; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৪৩৮
৬৩. বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১২০
📄 আবশ্যক হওয়ার পূর্বে যে কারণে বন্ধকীচুক্তি বাতিল হয়ে যায়
বন্ধকীচুক্তি বাতিল হয়ে যায় যদি বন্ধকী জিনিস ঋণদাতা হস্তগত করার পূর্বেই বন্ধকদাতা মৌখিকভাবে বলার মাধ্যমে বন্ধকচুক্তি থেকে প্রত্যাবর্তন করে বা এমন কোনো হস্তক্ষেপ করে যা তার মালিকানাকে রহিত করে দেয়, যেমন বিক্রি করে দেওয়া, সদকা করে দেওয়া কিংবা হিবা করা, ওয়াকফ করা। কেননা সে তার মূল্য দিয়ে ঋণ পরিশোধের সম্ভাবনা দূর করে দিয়েছে।
অবশ্য হস্তগত করার পূর্বে দুই চুক্তি সম্পাদনকারীর কেউ মারা গেলে বা পাগল হয়ে গেলে বা চুক্তি আবশ্যক হওয়ার আগে বন্ধকের নির্দিষ্ট জিনিস নষ্ট বা বিকৃত হয়ে গেলে বন্ধকীচুক্তি বাতিল হবে না।
মালেকীগণ বলেন: বন্ধকদাতার মৃত্যুর কারণে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। আর দখল করার পূর্বে তার অক্ষম হওয়া, অসুস্থ হওয়া বা পাগল হওয়া যা মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত, এর কারণেও বন্ধকীচুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
৬৪. ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩০৮; আল-হিদায়া, খ. ২, পৃ. ১২৬; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬৬; রওজাতুত তালিবীন, খ. ৪, পৃ. ৬৯; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ১৫৬
৬৫. শারহুয যুরক্বানী, খ. ৫, পৃ. ২৪২; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১১৩
📄 চুক্তি আবশ্যক হওয়ার পর যে কারণে বন্ধক বাতিল হয়ে যায়
চুক্তি আবশ্যক হওয়ার পর কোনো আসমানী বিপর্যয়ের কারণে বা হারবীর মতো যার উপর ক্ষতিপূরণের বিধান কার্যকর হয় না এমন কারো কোনো কাজের কারণে বন্ধকীজিনিস ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দ্বারা বন্ধকীচুক্তি বাতিল হয়ে যায়। আর বন্ধকগ্রহীতা চুক্তি রহিত করে দিলেও বন্ধকীচুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। আরো যে সকল কারণে বন্ধক বাতিল হয় সেগুলো হচ্ছে ঋণ পরিশোধ করে দায়মুক্ত হয়ে যাওয়া। কিংবা (ঋণদাতার পক্ষ থেকে) দায় মুক্ত করে দেওয়া। কিংবা বন্ধক রাখা বস্তুতে ঋণদাতার অনুমতি নিয়ে ঋণগ্রহীতা এমন কোনো হস্তক্ষেপ করা যা মালিকানা রহিত করে দেয়।
টিকাঃ
৬৬. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২৫৪-২৫৯, ২৬৮-২৬৯; রওযাতুত তালিবীন, খ. ৪, পৃ. ৮২; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬৬; আল-হিদায়া, খ. ২, পৃ. ১৪৭; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১১৩
📄 বন্ধকী চুক্তিতে শর্ত
বন্ধকীচুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত বেচাকেনার যাবতীয় শর্তের অনুরূপ। সুতরাং যদি তাতে চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যশীল কোনো শর্তারোপ করে—যেমন: পাওনাদার অধিক হলে বন্ধকীজিনিসের ক্ষেত্রে ঋণদাতা অগ্রাধিকার পাবে এবং বন্ধকীবস্তু ঋণদাতার হাতে থাকবে, তাহলে চুক্তি সহীহ হবে। আর যদি চুক্তিতে এমন কোনো শর্তারোপ করে যা চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়; যেমন: বিক্রির প্রয়োজনের সময় তা বিক্রি করতে পারবে না, তাহলে বন্ধকের চাহিদা ও উদ্দেশ্যের বিপরীত হওয়ার কারণে শর্ত বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
৬৭. শারহুয যুরক্বানী, খ. ৫, পৃ. ২৪১; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ১৫৩; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩২১-২৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২৩৫