📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 বন্ধকী জিনিসের খরচ

📄 বন্ধকী জিনিসের খরচ


অধিকাংশ ফকীহের অভিমত, বন্ধকীজিনিসের খরচ বন্ধকদাতার উপর বর্তায়। যেমন: প্রাণীর ঘাস-খাদ্য ব্যবস্থা করা, গাছে পানি দেওয়া, ফল-ফসল নিড়ানো ও শুকানো, পাহারাদারী, রাখালের পারিশ্রমিক ইত্যাদি। কেননা এটি তার মালিকানাধীন জিনিস, সুতরাং বন্ধক টিকিয়ে রাখার জন্য যা প্রয়োজন তা সরবরাহ করা তার উপর ওয়াজিব।

হানাফীগণ বলেন: কেবল বন্ধকের প্রয়োজনে যা প্রয়োজন; যেমন প্রাণীর ঘাস-খাদ্য, বাগানে পানি দেওয়া ইত্যাদি এসব বন্ধকদাতার উপর আরোপিত হবে। আর বন্ধকীজিনিস সংরক্ষণের জন্য যা প্রয়োজন যেমন: চতুষ্পদ জন্তু রাখার স্থান, সংরক্ষণের ভাড়া ইত্যাদি এসব আরোপিত হবে ঋণদাতার উপর।

টিকাঃ
৫৯. লা ইয়াল্লাকুর রহনু মিন রাহিনিহি... (হাদীস)।
৬০. কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৩৩৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২৭৯; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ২৭৫; হাশিয়া দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ২৫১; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১২০
৬১. হাশিয়াতুত তাহতাভী, খ. ৪, পৃ. ২৩৮; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩১৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 আবশ্যকীয় খরচ থেকে বিরত থাকা

📄 আবশ্যকীয় খরচ থেকে বিরত থাকা


বন্ধকীবস্তুর খরচাদি প্রদান করা যার অবশ্য কর্তব্য যদি সে তা আদায় করা থেকে বিরত থাকে তবে বিচারক তাকে সে খরচাদি প্রদান করতে বাধ্য করবেন। যদি তারপরও সে বিরত থাকে তাহলে বিচারক ঐ লোকের সম্পদ থেকে প্রয়োজন পরিমাণ খরচ করবেন। যদি বিচারকের অনুমতি ব্যতীত বন্ধকগ্রহীতা খরচ বহন করে তাহলে তা অনুদান বলে গণ্য হবে। কিন্তু যদি বিচারকের অনুমতি সাপেক্ষে খরচ বহন করে তবে সে যা খরচ করেছে তা ঋণীব্যক্তির নিকট থেকে আদায় করতে পারবে। মালেকীগণ বলেন: বন্ধকদাতা কিংবা বিচারক ঋণদাতাকে খরচের অনুমতি না দিলেও সে বন্ধক দাতার নিকট থেকে তার ব্যয়কৃত খরচ নিয়ে নেবে।

টিকাঃ
৬২. হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩১৩; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ১৬৯; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৪৩৮
৬৩. বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১২০

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 আবশ্যক হওয়ার পূর্বে যে কারণে বন্ধকীচুক্তি বাতিল হয়ে যায়

📄 আবশ্যক হওয়ার পূর্বে যে কারণে বন্ধকীচুক্তি বাতিল হয়ে যায়


বন্ধকীচুক্তি বাতিল হয়ে যায় যদি বন্ধকী জিনিস ঋণদাতা হস্তগত করার পূর্বেই বন্ধকদাতা মৌখিকভাবে বলার মাধ্যমে বন্ধকচুক্তি থেকে প্রত্যাবর্তন করে বা এমন কোনো হস্তক্ষেপ করে যা তার মালিকানাকে রহিত করে দেয়, যেমন বিক্রি করে দেওয়া, সদকা করে দেওয়া কিংবা হিবা করা, ওয়াকফ করা। কেননা সে তার মূল্য দিয়ে ঋণ পরিশোধের সম্ভাবনা দূর করে দিয়েছে।

অবশ্য হস্তগত করার পূর্বে দুই চুক্তি সম্পাদনকারীর কেউ মারা গেলে বা পাগল হয়ে গেলে বা চুক্তি আবশ্যক হওয়ার আগে বন্ধকের নির্দিষ্ট জিনিস নষ্ট বা বিকৃত হয়ে গেলে বন্ধকীচুক্তি বাতিল হবে না।

মালেকীগণ বলেন: বন্ধকদাতার মৃত্যুর কারণে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। আর দখল করার পূর্বে তার অক্ষম হওয়া, অসুস্থ হওয়া বা পাগল হওয়া যা মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত, এর কারণেও বন্ধকীচুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।

টিকাঃ
৬৪. ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩০৮; আল-হিদায়া, খ. ২, পৃ. ১২৬; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬৬; রওজাতুত তালিবীন, খ. ৪, পৃ. ৬৯; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ১৫৬
৬৫. শারহুয যুরক্বানী, খ. ৫, পৃ. ২৪২; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১১৩

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 চুক্তি আবশ্যক হওয়ার পর যে কারণে বন্ধক বাতিল হয়ে যায়

📄 চুক্তি আবশ্যক হওয়ার পর যে কারণে বন্ধক বাতিল হয়ে যায়


চুক্তি আবশ্যক হওয়ার পর কোনো আসমানী বিপর্যয়ের কারণে বা হারবীর মতো যার উপর ক্ষতিপূরণের বিধান কার্যকর হয় না এমন কারো কোনো কাজের কারণে বন্ধকীজিনিস ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দ্বারা বন্ধকীচুক্তি বাতিল হয়ে যায়। আর বন্ধকগ্রহীতা চুক্তি রহিত করে দিলেও বন্ধকীচুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। আরো যে সকল কারণে বন্ধক বাতিল হয় সেগুলো হচ্ছে ঋণ পরিশোধ করে দায়মুক্ত হয়ে যাওয়া। কিংবা (ঋণদাতার পক্ষ থেকে) দায় মুক্ত করে দেওয়া। কিংবা বন্ধক রাখা বস্তুতে ঋণদাতার অনুমতি নিয়ে ঋণগ্রহীতা এমন কোনো হস্তক্ষেপ করা যা মালিকানা রহিত করে দেয়।

টিকাঃ
৬৬. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২৫৪-২৫৯, ২৬৮-২৬৯; রওযাতুত তালিবীন, খ. ৪, পৃ. ৮২; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬৬; আল-হিদায়া, খ. ২, পৃ. ১৪৭; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১১৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00