📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 গ. যার বিপরীতে রাহন বা বন্ধক রাখা হয়

📄 গ. যার বিপরীতে রাহন বা বন্ধক রাখা হয়


ফকীহগণ এ কথায় ঐকমত্য পোষণ করেছেন, দায়িত্বে অর্পিত যে কোনো আবশ্যিক কিংবা শীঘ্রই আবশ্যিক হবে- এমন হক ও অধিকারের পরিবর্তে বন্ধক রাখা বৈধ। এরপর তারা বিশদ বিবরণে মতবিরোধ করেছেন। শাফেয়ীগণ বলেন : যে সম্পদের বিপরীতে বন্ধক রাখা জায়েয হবে তাতে তিনটি শর্ত রয়েছে। যথা: ১. সেটি ঋণ হিসেবে থাকতে হবে। ২. ঋণটি প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে। ৩. ঋণটি আবশ্যক বা শীঘ্রই আবশ্যকীয় হতে যাচ্ছে- এমন হতে হবে।
মালেকীগণ বলেন: সকল ক্রয়-বিক্রয়ের মূল্যের বিপরীতে বন্ধক রাখা বৈধ। কেবল বাইয়ে সালামের মূল পুঁজি ও বাইয়ে সারফ এর ব্যতিক্রম। হানাফীগণ বলেন: বন্ধক রাখা জায়েয আছে কর্জের বিপরীতে, তাই যদি কর্জ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই বন্ধক রাখা হয় তবুও তা জায়েয হবে। হানাফীগণ আরও বলেন, স্বয়ং জামানতযোগ্য মূল সম্পদ যেমন ছিনতাইকৃত বস্তু, খুলার বদল বা বিনিময়, মহর, ইচ্ছাকৃত হত্যার রক্তপণের বিনিময়ে সমঝোতার বদল ইত্যাদির বিপরীতে বন্ধক রাখা জায়েয আছে। হাম্বলীগণ বলেন: প্রত্যেক আবশ্যকীয় বা আবশ্যকের কাছাকাছি ঋণের কারণে বন্ধক রাখা জায়েয।

টিকাঃ
২১. হাশিয়াতুত তাহতাভী, খ. ৪, পৃ. ২৪০; আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ১৩৩

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঘ. বন্ধকী বস্তু

📄 ঘ. বন্ধকী বস্তু


এ কথায় কোনো ফকীহের মতভেদ নেই, যে কোনো মূল্যবান বস্তু বন্ধক রাখা যাবে, যা হবে এমন, বন্ধকদাতার পক্ষে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব না হলে তা দিয়ে কিংবা তার মূল্য দিয়ে ঋণ উসুল করে নেওয়া যায়।
শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ বলেছেন, বিক্রয় করা যায় এমন যে কোনো সম্পদ বন্ধক রাখা জায়েয। মালেকীগণ বলেন: যে সম্পদে ক্ষতির/ধোকার ঝুঁকি সামান্য তা বন্ধক দেওয়া জায়েয। হানাফীগণ বন্ধকীবস্তুর ব্যাপারে নিম্নোক্ত শর্তারোপ করেছেন : সম্পদটি বণ্টিত হতে হবে। তা বন্ধকদাতার মালিকানা থেকে মুক্ত করে দিতে হবে। সেটি পৃথক থাকতে হবে।
এ কথায় ফকীহ সমাজে কোনো মতবিরোধ নেই যে, বন্ধকীবস্তুর সত্তাগত বৃদ্ধি- যেমন গাছ মোটা হওয়া বা বড় হওয়া ইত্যাদি- তার মূলের অনুগামী হবে।

টিকাঃ
২৩. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৭৪; আল-মাজমুউ, খ. ১৩, পৃ. ১৯৮; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২৩৭; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১০৯; শারহুস যুরক্বানী, খ. ৫, পৃ. ২৩৭
২৪. হাশিয়াতুত তাহতাভী, খ. ৪, পৃ. ২৩৫; আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ১২৬; ফাতহুল বারী, খ. ৯, পৃ. ৬৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ধারকৃত বস্তু বন্ধক রাখা

📄 ধারকৃত বস্তু বন্ধক রাখা


বন্ধকীবস্তু বন্ধকদাতার মালিকানাধীন হওয়া শর্ত নয়। ফকীহবৃন্দের সর্বসম্মত অভিমত, ধারদাতার অনুমতিক্রমে ধারকৃত বস্তু বন্ধক রাখা জায়েয আছে। আল-মুগনী গ্রন্থকার আল্লামা ইবনুল মুনযির-এর বরাতে উল্লেখ করেছেন, বন্ধকের জন্য ধার চাওয়া বৈধ, এ বিষয়ে আলেম সমাজ ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন। কেননা এটি হলো গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তাপত্র। আর তা বন্ধকদাতার মালিকানাধীন নয় এমন কিছুর দ্বারাও অর্জিত হয়ে যায়, সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও কাফালার ক্ষেত্রে বিষয়টি সহীহ হওয়ার দলিল। তা ছাড়া ধারদাতার জন্য সুযোগ আছে যে, সে অন্যের ঋণের দায়ভার নিজের ওপর চাপিয়ে নেবে। সুতরাং সে নিজের ওপর অন্যের সম্পদের দায়ভার আবশ্যক করার মালিক। যেহেতু উভয়টাই তার নিজের অধিকারস্থল এবং তার হস্তক্ষেপস্থল।

টিকাঃ
২৫. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৮০; রওজাতুত তালিবীন, খ. ৪, পৃ. ৫০; ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩৩০; শারহুয যুরকানী, খ. ৫, পৃ. ২৪০

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 বন্ধকের জন্য ধারকৃত বস্তু বন্ধক রাখা সহীহ হওয়ার শর্তাবলি

📄 বন্ধকের জন্য ধারকৃত বস্তু বন্ধক রাখা সহীহ হওয়ার শর্তাবলি


বন্ধক রাখার জন্য ধারের চুক্তিতে ঋণের পরিমাণ, তার প্রকার, তার গুণাগুণ, তা পরিশোধের সময়, যার কাছে বন্ধক রাখা হবে সেই ব্যক্তি এবং বন্ধকের সময়ের কথা উল্লেখ করতে হবে। কেননা এসব অজ্ঞাত থাকলে বিভিন্ন বিপদ ও ঝুঁকি দেখা দিতে পারে; তাই এগুলো উল্লেখ করা প্রয়োজন। এটি শাফেয়ীদের অভিমত এবং হাম্বলীদের একটি মত।

হানাফী ও হাম্বলীগণ বলেন—যা মালেকীদের বক্তব্যের চাহিদা—পূর্বোক্ত বিষয়ের কোনোটিই চুক্তিতে উল্লেখ করা আবশ্যক নয়। যদি সে সাধারণভাবে চুক্তি করে এবং কোনো শর্ত না করে তাহলেও চুক্তি সহীহ হবে। বন্ধকদাতার জন্য সুযোগ আছে, সে যা ইচ্ছা তাই বন্ধক রাখতে পারবে। কেননা শর্তমুক্ত হওয়ার বিষয়টি এখানে অবশ্যই ধর্তব্য হবে, বিশেষ করে ধারের ক্ষেত্রে। কেননা এ ব্যাপারে অজ্ঞতা ঝগড়া-বিবাদের দিকে ঠেলে দেয় না। যেহেতু এর ভিত্তি হলো উদারতার ওপর। আর মালিক কখনো কখনো ধারগ্রহণকারীর ঋণের বিষয়টি মালিকের নিজের সম্পদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে রাজি থাকে।

এখানে যেগুলো উল্লেখ করা হলো এগুলোর কোনোটি যদি ধারপ্রদানকারী শর্ত হিসাবে উল্লেখ করে, ধারগ্রহণকারী তার বিরোধিতা করে, তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে বন্ধক সহীহ হবে না। এর কারণ তাকে এই বন্ধকের অনুমতি প্রদান করা হয়নি। কিন্তু যদি এর চেয়ে ভালো কোনো বিষয়ে ধারগ্রহণকারী বিরোধিতা করে তাহলে তা বন্ধক রাখা বৈধ হবে। যেমন তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণের অনুমতি দেওয়ার পর সে এর চেয়ে কম পরিমাণ বন্ধক রাখল, তাহলে তা সহীহ হবে।

টিকাঃ
২৬. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২৪৫; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ২৬৫
২৭. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৮০; ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩৩০; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১১১
২৮. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৮০; ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩৩০; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১১১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00