📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 খ. চুক্তি সম্পাদনকারী

📄 খ. চুক্তি সম্পাদনকারী


বন্ধকদাতা ও বন্ধকগ্রহীতা উভয়ের ক্ষেত্রে এ শর্তারোপ করা হয়েছে, তারা সম্পদে স্বাভাবিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে- এমন হতে হবে। যেমন জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। তারা সম্পদে হস্তক্ষেপ করতে বাধাপ্রাপ্ত হবে না। সুতরাং বালক, পাগল, অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্পাদন করতে বাধাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বন্ধক দেওয়া বা বন্ধক রাখা বৈধ হবে না। যেহেতু এটি সম্পদের উপর চুক্তি- তাই এটি তাদের পক্ষ থেকে সম্পাদন বৈধ হবে না।
বন্ধক হলো একপ্রকার স্বেচ্ছাদান বা অনুগ্রহ। কেননা এ হলো অন্যের সম্পত্তি কোনো বিনিময় ব্যতীত আটকে রাখা। সুতরাং তা কেবল সে ব্যক্তিদের পক্ষেই সহীহ হবে যারা দান ও অনুগ্রহ করতে পারে। তাই প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানী, সে তার নিজের সম্পত্তি অথবা সে যার অভিভাবক তার সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে দেখাশোনা করে তার সম্পত্তি বন্ধক রাখা বৈধ হবে এই শর্তে যে, তা প্রকাশ্য খুশি ও সন্তুষ্টির সাথে সম্পাদিত হবে। এর দ্বারা তার অভিভাবকত্বের অধীন ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার সাধারণ হস্তক্ষেপের বিষয়টি সাব্যস্ত হবে। আর তা এভাবে যে, এটি বন্ধক দেওয়ায় যার সম্পদ তার প্রকাশ্য সন্তুষ্টি বা প্রয়োজন পাওয়া যাবে।
হানাফীগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন, (ক্রয়-বিক্রয়ের) অনুমতিপ্রাপ্ত বালকের বন্ধক দেওয়া ও রাখা বৈধ আছে। কেননা বন্ধক ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি আনুষঙ্গিক বিষয়। সুতরাং যে ব্যবসা-বাণিজ্য করার উপযুক্ত সে বন্ধকেরও উপযুক্ত। মালেকীগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন, (ভালো-মন্দের) পার্থক্যকারী বালক এবং নির্বোধ লোকের বন্ধক রাখা বৈধ আছে। তবে তা তাদের অভিভাবকের অনুমতির ওপর স্থগিত থাকবে।

টিকাঃ
১৮. আল-মাজমুউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৯; আল-ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ১৩৯; শারহুয যুরকানী, খ. ৫, পৃ. ২৩৩
১৯. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২৩৬; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬৪; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৩২২
২০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৩৫; আল-খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ২৩৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 গ. যার বিপরীতে রাহন বা বন্ধক রাখা হয়

📄 গ. যার বিপরীতে রাহন বা বন্ধক রাখা হয়


ফকীহগণ এ কথায় ঐকমত্য পোষণ করেছেন, দায়িত্বে অর্পিত যে কোনো আবশ্যিক কিংবা শীঘ্রই আবশ্যিক হবে- এমন হক ও অধিকারের পরিবর্তে বন্ধক রাখা বৈধ। এরপর তারা বিশদ বিবরণে মতবিরোধ করেছেন। শাফেয়ীগণ বলেন : যে সম্পদের বিপরীতে বন্ধক রাখা জায়েয হবে তাতে তিনটি শর্ত রয়েছে। যথা: ১. সেটি ঋণ হিসেবে থাকতে হবে। ২. ঋণটি প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে। ৩. ঋণটি আবশ্যক বা শীঘ্রই আবশ্যকীয় হতে যাচ্ছে- এমন হতে হবে।
মালেকীগণ বলেন: সকল ক্রয়-বিক্রয়ের মূল্যের বিপরীতে বন্ধক রাখা বৈধ। কেবল বাইয়ে সালামের মূল পুঁজি ও বাইয়ে সারফ এর ব্যতিক্রম। হানাফীগণ বলেন: বন্ধক রাখা জায়েয আছে কর্জের বিপরীতে, তাই যদি কর্জ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই বন্ধক রাখা হয় তবুও তা জায়েয হবে। হানাফীগণ আরও বলেন, স্বয়ং জামানতযোগ্য মূল সম্পদ যেমন ছিনতাইকৃত বস্তু, খুলার বদল বা বিনিময়, মহর, ইচ্ছাকৃত হত্যার রক্তপণের বিনিময়ে সমঝোতার বদল ইত্যাদির বিপরীতে বন্ধক রাখা জায়েয আছে। হাম্বলীগণ বলেন: প্রত্যেক আবশ্যকীয় বা আবশ্যকের কাছাকাছি ঋণের কারণে বন্ধক রাখা জায়েয।

টিকাঃ
২১. হাশিয়াতুত তাহতাভী, খ. ৪, পৃ. ২৪০; আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ১৩৩

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঘ. বন্ধকী বস্তু

📄 ঘ. বন্ধকী বস্তু


এ কথায় কোনো ফকীহের মতভেদ নেই, যে কোনো মূল্যবান বস্তু বন্ধক রাখা যাবে, যা হবে এমন, বন্ধকদাতার পক্ষে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব না হলে তা দিয়ে কিংবা তার মূল্য দিয়ে ঋণ উসুল করে নেওয়া যায়।
শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ বলেছেন, বিক্রয় করা যায় এমন যে কোনো সম্পদ বন্ধক রাখা জায়েয। মালেকীগণ বলেন: যে সম্পদে ক্ষতির/ধোকার ঝুঁকি সামান্য তা বন্ধক দেওয়া জায়েয। হানাফীগণ বন্ধকীবস্তুর ব্যাপারে নিম্নোক্ত শর্তারোপ করেছেন : সম্পদটি বণ্টিত হতে হবে। তা বন্ধকদাতার মালিকানা থেকে মুক্ত করে দিতে হবে। সেটি পৃথক থাকতে হবে।
এ কথায় ফকীহ সমাজে কোনো মতবিরোধ নেই যে, বন্ধকীবস্তুর সত্তাগত বৃদ্ধি- যেমন গাছ মোটা হওয়া বা বড় হওয়া ইত্যাদি- তার মূলের অনুগামী হবে।

টিকাঃ
২৩. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৭৪; আল-মাজমুউ, খ. ১৩, পৃ. ১৯৮; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২৩৭; বুলগাতুস সালিক, খ. ২, পৃ. ১০৯; শারহুস যুরক্বানী, খ. ৫, পৃ. ২৩৭
২৪. হাশিয়াতুত তাহতাভী, খ. ৪, পৃ. ২৩৫; আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ১২৬; ফাতহুল বারী, খ. ৯, পৃ. ৬৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ধারকৃত বস্তু বন্ধক রাখা

📄 ধারকৃত বস্তু বন্ধক রাখা


বন্ধকীবস্তু বন্ধকদাতার মালিকানাধীন হওয়া শর্ত নয়। ফকীহবৃন্দের সর্বসম্মত অভিমত, ধারদাতার অনুমতিক্রমে ধারকৃত বস্তু বন্ধক রাখা জায়েয আছে। আল-মুগনী গ্রন্থকার আল্লামা ইবনুল মুনযির-এর বরাতে উল্লেখ করেছেন, বন্ধকের জন্য ধার চাওয়া বৈধ, এ বিষয়ে আলেম সমাজ ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন। কেননা এটি হলো গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তাপত্র। আর তা বন্ধকদাতার মালিকানাধীন নয় এমন কিছুর দ্বারাও অর্জিত হয়ে যায়, সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও কাফালার ক্ষেত্রে বিষয়টি সহীহ হওয়ার দলিল। তা ছাড়া ধারদাতার জন্য সুযোগ আছে যে, সে অন্যের ঋণের দায়ভার নিজের ওপর চাপিয়ে নেবে। সুতরাং সে নিজের ওপর অন্যের সম্পদের দায়ভার আবশ্যক করার মালিক। যেহেতু উভয়টাই তার নিজের অধিকারস্থল এবং তার হস্তক্ষেপস্থল।

টিকাঃ
২৫. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৮০; রওজাতুত তালিবীন, খ. ৪, পৃ. ৫০; ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩৩০; শারহুয যুরকানী, খ. ৫, পৃ. ২৪০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00