📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 লোকালয়ে অবস্থানকালে বন্ধকের বৈধতা

📄 লোকালয়ে অবস্থানকালে বন্ধকের বৈধতা


সফরে বন্ধক রাখা যেরূপ বৈধ; তেমনি লোকালয়ে অবস্থানকালেও বন্ধকের আদান-প্রদান করা বৈধ। আল্লামা ইবনুল মুনযির রহ.-এর অভিমত উল্লেখ করে, আল-মুগনী গ্রন্থকার বলেছেন: বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত মুজাহিদ রহ. ব্যতীত অন্য কেউ এ বিধানের বিপরীত মত ব্যক্ত করেছেন বলে আমরা জানি না। ইমাম কুরতুবী রহ. বলেছেন, যাহহাকও এর বিরোধিতা করেছেন।
অন্য সকলে বন্ধকের পক্ষে একটি হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন: 'রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন তখন এক ইয়াহুদীর কাছে তাঁর বর্ম ত্রিশ সা' যবের বিনিময়ে বন্ধক রাখা ছিল (এটি ছিল মদীনা শহরের ঘটনা)।'
সেই সাথে এটি এমন গ্যারান্টিপত্র যা সফরে বৈধ, সেহেতু তা জামানতের অনুরূপ লোকালয়েও বৈধ হবে। অপারগ হওয়ার বিষয়টি লোকালয়েও উদ্ভূত হয়। তাই সফরের বিধান এখানেও কার্যকর হবে। কুরআনে কারীমের আয়াতে বিষয়টিকে সফরের শর্তযুক্ত করা হয়েছে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সফরেই এর প্রয়োজন হওয়ার প্রেক্ষিতে। সুতরাং এর বিপরীত অর্থ এখানে গৃহীত হবে না, উপরন্তু হাদীস দ্বারা লোকালয়ে ও শহরে বন্ধকের বৈধতা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়। তা ছাড়া সফরে লেখক না পাওয়া যাওয়া স্বাভাবিক। তাই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সফরেই বন্ধক বা রাহনের প্রয়োজন পড়ে বিধায় কুরআনে সফরের উল্লেখ করা হয়েছে।

টিকাঃ
১৩. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬২; আল-মাজমুউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৭; নাইলুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ৩৫২
১৪. ইমাম বুখারী রহ. এই হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন, সূত্র ফাতহুল বারী, খ. ৬, পৃ. ৯৯, আস- সালাফিয়্যা প্রকাশনী।
১৫. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬২; আল-মাজমুউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৭; নাইলুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ৩৫২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 বন্ধকের রুকন বা মূল অংশ

📄 বন্ধকের রুকন বা মূল অংশ


বন্ধকের রুকন বা মূল অংশ।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ক. যা দ্বারা বন্ধক সংঘটিত হয়

📄 ক. যা দ্বারা বন্ধক সংঘটিত হয়


অন্যান্য চুক্তির ন্যায় বন্ধকও সংঘটিত হবে ঈজাব ও কবুল অর্থাৎ প্রস্তাব দান এবং তা গ্রহণের মাধ্যমে। এ কথায় সকল ফকীহ একমত। তবে তারা কোনো কথা বলা ছাড়া কেবল হাতে হাতে অর্পণ ও গ্রহণ দ্বারা বন্ধক সংঘটিত হবে কিনা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। শাফেয়ী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য অভিমত হলো, বন্ধক ক্রয় বিক্রয়ের মতো ঈজাব-কবুলের দুটি কথা ব্যতীত সংঘটিত হবে না। তারা বলেন, যেহেতু এটি একটি আর্থিক চুক্তি, সুতরাং তা ঈজাব-কবুলের মুখাপেক্ষী। তা ছাড়া সন্তুষ্টি একটি অন্তর্নিহিত অবস্থা; এ সম্পর্কে আমাদের কোনো অবগতি নেই। তাই শব্দকে সন্তুষ্টির দলিল বলে গণ্য করা হবে। সুতরাং শব্দ ব্যতীত কেবল হাতে হাতে বা অনুরূপ কোনো উপায়ে বন্ধক সংঘটিত হবে না।
মালেকী ও হাম্বলী ফকীহগণ বলেন: সাধারণ প্রচলনে সন্তুষ্টির প্রমাণ বহন করে এমন প্রত্যেক উপায়েই বন্ধক সংঘটিত হবে। সুতরাং হাতে হাতে আদান প্রদানের মাধ্যমে, সুস্পষ্ট ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে বা লেখার মাধ্যমে করা হলেও বন্ধক সঠিক হবে, অন্যান্য চুক্তির ন্যায় এ সম্পর্কিত দলিলে ব্যাপকতা থাকার কারণে। তা ছাড়া, নবী কারীম সা. বা কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে এ জাতীয় লেনদেনে ঈজাব-কবুলে শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি বর্ণিত হয়নি। যদি তারা তা করতেন তাহলে অবশ্যই তা সুস্পষ্টরূপে আমাদের কাছে পৌঁছত। সেই সাথে মুসলমানগণ তাদের এ জাতীয় চুক্তিসমূহে সদাসর্বদা হাতে হাতে আদান প্রদানের মাধ্যমেও চুক্তি সম্পাদন করছেন। আর বিক্রয় শব্দের জন্য যা শর্ত রাহন বা বন্ধক শব্দের জন্যও তা শর্ত।

টিকাঃ
16. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৩৭৫; খ. ৪, পৃ. ২৩৪; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩০৭
17. শারহুয যুরকানী, খ. ৫, পৃ. ৩-৪, ২৩২; আল-ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ১৩৭; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ১৪৮-৩২২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 খ. চুক্তি সম্পাদনকারী

📄 খ. চুক্তি সম্পাদনকারী


বন্ধকদাতা ও বন্ধকগ্রহীতা উভয়ের ক্ষেত্রে এ শর্তারোপ করা হয়েছে, তারা সম্পদে স্বাভাবিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে- এমন হতে হবে। যেমন জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। তারা সম্পদে হস্তক্ষেপ করতে বাধাপ্রাপ্ত হবে না। সুতরাং বালক, পাগল, অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্পাদন করতে বাধাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বন্ধক দেওয়া বা বন্ধক রাখা বৈধ হবে না। যেহেতু এটি সম্পদের উপর চুক্তি- তাই এটি তাদের পক্ষ থেকে সম্পাদন বৈধ হবে না।
বন্ধক হলো একপ্রকার স্বেচ্ছাদান বা অনুগ্রহ। কেননা এ হলো অন্যের সম্পত্তি কোনো বিনিময় ব্যতীত আটকে রাখা। সুতরাং তা কেবল সে ব্যক্তিদের পক্ষেই সহীহ হবে যারা দান ও অনুগ্রহ করতে পারে। তাই প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানী, সে তার নিজের সম্পত্তি অথবা সে যার অভিভাবক তার সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে দেখাশোনা করে তার সম্পত্তি বন্ধক রাখা বৈধ হবে এই শর্তে যে, তা প্রকাশ্য খুশি ও সন্তুষ্টির সাথে সম্পাদিত হবে। এর দ্বারা তার অভিভাবকত্বের অধীন ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার সাধারণ হস্তক্ষেপের বিষয়টি সাব্যস্ত হবে। আর তা এভাবে যে, এটি বন্ধক দেওয়ায় যার সম্পদ তার প্রকাশ্য সন্তুষ্টি বা প্রয়োজন পাওয়া যাবে।
হানাফীগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন, (ক্রয়-বিক্রয়ের) অনুমতিপ্রাপ্ত বালকের বন্ধক দেওয়া ও রাখা বৈধ আছে। কেননা বন্ধক ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি আনুষঙ্গিক বিষয়। সুতরাং যে ব্যবসা-বাণিজ্য করার উপযুক্ত সে বন্ধকেরও উপযুক্ত। মালেকীগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন, (ভালো-মন্দের) পার্থক্যকারী বালক এবং নির্বোধ লোকের বন্ধক রাখা বৈধ আছে। তবে তা তাদের অভিভাবকের অনুমতির ওপর স্থগিত থাকবে।

টিকাঃ
১৮. আল-মাজমুউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৯; আল-ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ১৩৯; শারহুয যুরকানী, খ. ৫, পৃ. ২৩৩
১৯. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২৩৬; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬৪; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৩২২
২০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৩৫; আল-খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ২৩৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00