📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 রাহন-এর সাথে সম্পর্কিত বিধি-বিধান

📄 রাহন-এর সাথে সম্পর্কিত বিধি-বিধান


বন্ধক আদান-প্রদান জায়েয, ওয়াজিব নয়। আল-মুগনী কিতাবের লেখক বলেন, আমরা এ বিষয়ে কারো মতবিরোধ রয়েছে বলে জানি না। যেহেতু তা ঋণের গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তাপত্র, তাই তা ওয়াজিব ও আবশ্যক হবে না; যেমন জামানত ও কাফালত ওয়াজিব হয় না। এ ব্যাপারে কুরআনে যে নির্দেশ এসেছে তা উপদেশ ও পরামর্শ মূলক, অত্যাবশ্যকীয় নয়। কেননা কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ "তোমাদের একে অপরকে বিশ্বাস করলে, যাকে বিশ্বাস করা হয়, সে যেন আমানত প্রত্যার্পণ করে।"
সেই সাথে লক্ষ্যণীয়, এটি লিপিবদ্ধ করতে অপারগ হওয়ার পরের বিধান। লিপিবদ্ধ করা যেহেতু ওয়াজিব নয়, সুতরাং তার বদল বা স্থলবর্তী বিষয়ের বিধানও অনুরূপ হবে।

টিকাঃ
১১. সূরা: বাকারা, আয়াত- ২৮৩
১২. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬২; আল-মাজমূউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৭; নাইলুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ৩৫২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 লোকালয়ে অবস্থানকালে বন্ধকের বৈধতা

📄 লোকালয়ে অবস্থানকালে বন্ধকের বৈধতা


সফরে বন্ধক রাখা যেরূপ বৈধ; তেমনি লোকালয়ে অবস্থানকালেও বন্ধকের আদান-প্রদান করা বৈধ। আল্লামা ইবনুল মুনযির রহ.-এর অভিমত উল্লেখ করে, আল-মুগনী গ্রন্থকার বলেছেন: বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত মুজাহিদ রহ. ব্যতীত অন্য কেউ এ বিধানের বিপরীত মত ব্যক্ত করেছেন বলে আমরা জানি না। ইমাম কুরতুবী রহ. বলেছেন, যাহহাকও এর বিরোধিতা করেছেন।
অন্য সকলে বন্ধকের পক্ষে একটি হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন: 'রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন তখন এক ইয়াহুদীর কাছে তাঁর বর্ম ত্রিশ সা' যবের বিনিময়ে বন্ধক রাখা ছিল (এটি ছিল মদীনা শহরের ঘটনা)।'
সেই সাথে এটি এমন গ্যারান্টিপত্র যা সফরে বৈধ, সেহেতু তা জামানতের অনুরূপ লোকালয়েও বৈধ হবে। অপারগ হওয়ার বিষয়টি লোকালয়েও উদ্ভূত হয়। তাই সফরের বিধান এখানেও কার্যকর হবে। কুরআনে কারীমের আয়াতে বিষয়টিকে সফরের শর্তযুক্ত করা হয়েছে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সফরেই এর প্রয়োজন হওয়ার প্রেক্ষিতে। সুতরাং এর বিপরীত অর্থ এখানে গৃহীত হবে না, উপরন্তু হাদীস দ্বারা লোকালয়ে ও শহরে বন্ধকের বৈধতা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়। তা ছাড়া সফরে লেখক না পাওয়া যাওয়া স্বাভাবিক। তাই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সফরেই বন্ধক বা রাহনের প্রয়োজন পড়ে বিধায় কুরআনে সফরের উল্লেখ করা হয়েছে।

টিকাঃ
১৩. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬২; আল-মাজমুউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৭; নাইলুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ৩৫২
১৪. ইমাম বুখারী রহ. এই হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন, সূত্র ফাতহুল বারী, খ. ৬, পৃ. ৯৯, আস- সালাফিয়্যা প্রকাশনী।
১৫. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬২; আল-মাজমুউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৭; নাইলুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ৩৫২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 বন্ধকের রুকন বা মূল অংশ

📄 বন্ধকের রুকন বা মূল অংশ


বন্ধকের রুকন বা মূল অংশ।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ক. যা দ্বারা বন্ধক সংঘটিত হয়

📄 ক. যা দ্বারা বন্ধক সংঘটিত হয়


অন্যান্য চুক্তির ন্যায় বন্ধকও সংঘটিত হবে ঈজাব ও কবুল অর্থাৎ প্রস্তাব দান এবং তা গ্রহণের মাধ্যমে। এ কথায় সকল ফকীহ একমত। তবে তারা কোনো কথা বলা ছাড়া কেবল হাতে হাতে অর্পণ ও গ্রহণ দ্বারা বন্ধক সংঘটিত হবে কিনা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। শাফেয়ী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য অভিমত হলো, বন্ধক ক্রয় বিক্রয়ের মতো ঈজাব-কবুলের দুটি কথা ব্যতীত সংঘটিত হবে না। তারা বলেন, যেহেতু এটি একটি আর্থিক চুক্তি, সুতরাং তা ঈজাব-কবুলের মুখাপেক্ষী। তা ছাড়া সন্তুষ্টি একটি অন্তর্নিহিত অবস্থা; এ সম্পর্কে আমাদের কোনো অবগতি নেই। তাই শব্দকে সন্তুষ্টির দলিল বলে গণ্য করা হবে। সুতরাং শব্দ ব্যতীত কেবল হাতে হাতে বা অনুরূপ কোনো উপায়ে বন্ধক সংঘটিত হবে না।
মালেকী ও হাম্বলী ফকীহগণ বলেন: সাধারণ প্রচলনে সন্তুষ্টির প্রমাণ বহন করে এমন প্রত্যেক উপায়েই বন্ধক সংঘটিত হবে। সুতরাং হাতে হাতে আদান প্রদানের মাধ্যমে, সুস্পষ্ট ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে বা লেখার মাধ্যমে করা হলেও বন্ধক সঠিক হবে, অন্যান্য চুক্তির ন্যায় এ সম্পর্কিত দলিলে ব্যাপকতা থাকার কারণে। তা ছাড়া, নবী কারীম সা. বা কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে এ জাতীয় লেনদেনে ঈজাব-কবুলে শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি বর্ণিত হয়নি। যদি তারা তা করতেন তাহলে অবশ্যই তা সুস্পষ্টরূপে আমাদের কাছে পৌঁছত। সেই সাথে মুসলমানগণ তাদের এ জাতীয় চুক্তিসমূহে সদাসর্বদা হাতে হাতে আদান প্রদানের মাধ্যমেও চুক্তি সম্পাদন করছেন। আর বিক্রয় শব্দের জন্য যা শর্ত রাহন বা বন্ধক শব্দের জন্যও তা শর্ত।

টিকাঃ
16. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৩৭৫; খ. ৪, পৃ. ২৩৪; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩০৭
17. শারহুয যুরকানী, খ. ৫, পৃ. ৩-৪, ২৩২; আল-ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ১৩৭; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ১৪৮-৩২২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00