📄 রাহন বা বন্ধকের বৈধতা
রাহন বা বন্ধকের বৈধতার ক্ষেত্রে মূল দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: وَإِنْ كُنتُمْ عَلَى سَفَرٍ وَلَمْ تَجِدُوا كَاتِبًا فَرِهَانٌ مَقْبُوضَةٌ “যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোনো লেখক না পাও তাহলে হস্তান্তরকৃত বন্ধক রাখবে।” এর উদ্দেশ্য হলো, তোমরা রাহন বা বন্ধক রাখো এবং তা কব্জা করো। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী : فَتَحْرِيرُ رَقَبَة “দাস মুক্ত করা (এর উদ্দেশ্য হলো দাস মুক্ত করো)।”
রাহন বা বন্ধকের বৈধতার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রমাণ হলো এ হাদীস: 'রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট মেয়াদে এক ইয়াহুদীর নিকট থেকে খাবার কিনেছিলেন; আর বিনিময়ে তিনি তার কাছে একটি লোহার বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন।'
রাহন বা বন্ধকের বৈধ ও আইনানুগ হওয়ার বিষয়ে উম্মতের ইজমা সংঘটিত হয়েছে। রাসূল সা.-এর যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বন্ধক রাখা চলে আসছে। কেউ একে অস্বীকার করেনি।
টিকাঃ
৭. সূরা: বাকারা, আয়াত- ২৮৩
৮. সূরা: নিসা, আয়াত- ৯২
৯. ইমাম বুখারী রহ. হযরত আয়েশা রা.-এর বর্ণনায় বুখারী শরীফে এই হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন, সূত্র ফাতহুল বারী, খ. ৫, পৃ. ৫৩ আস-সালাফিয়্যা প্রকাশনী।
১০. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬২; আল-মাজমুউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৭; নাইলুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ৩৫২
📄 রাহন-এর সাথে সম্পর্কিত বিধি-বিধান
বন্ধক আদান-প্রদান জায়েয, ওয়াজিব নয়। আল-মুগনী কিতাবের লেখক বলেন, আমরা এ বিষয়ে কারো মতবিরোধ রয়েছে বলে জানি না। যেহেতু তা ঋণের গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তাপত্র, তাই তা ওয়াজিব ও আবশ্যক হবে না; যেমন জামানত ও কাফালত ওয়াজিব হয় না। এ ব্যাপারে কুরআনে যে নির্দেশ এসেছে তা উপদেশ ও পরামর্শ মূলক, অত্যাবশ্যকীয় নয়। কেননা কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ "তোমাদের একে অপরকে বিশ্বাস করলে, যাকে বিশ্বাস করা হয়, সে যেন আমানত প্রত্যার্পণ করে।"
সেই সাথে লক্ষ্যণীয়, এটি লিপিবদ্ধ করতে অপারগ হওয়ার পরের বিধান। লিপিবদ্ধ করা যেহেতু ওয়াজিব নয়, সুতরাং তার বদল বা স্থলবর্তী বিষয়ের বিধানও অনুরূপ হবে।
টিকাঃ
১১. সূরা: বাকারা, আয়াত- ২৮৩
১২. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬২; আল-মাজমূউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৭; নাইলুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ৩৫২
📄 লোকালয়ে অবস্থানকালে বন্ধকের বৈধতা
সফরে বন্ধক রাখা যেরূপ বৈধ; তেমনি লোকালয়ে অবস্থানকালেও বন্ধকের আদান-প্রদান করা বৈধ। আল্লামা ইবনুল মুনযির রহ.-এর অভিমত উল্লেখ করে, আল-মুগনী গ্রন্থকার বলেছেন: বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত মুজাহিদ রহ. ব্যতীত অন্য কেউ এ বিধানের বিপরীত মত ব্যক্ত করেছেন বলে আমরা জানি না। ইমাম কুরতুবী রহ. বলেছেন, যাহহাকও এর বিরোধিতা করেছেন।
অন্য সকলে বন্ধকের পক্ষে একটি হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন: 'রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন তখন এক ইয়াহুদীর কাছে তাঁর বর্ম ত্রিশ সা' যবের বিনিময়ে বন্ধক রাখা ছিল (এটি ছিল মদীনা শহরের ঘটনা)।'
সেই সাথে এটি এমন গ্যারান্টিপত্র যা সফরে বৈধ, সেহেতু তা জামানতের অনুরূপ লোকালয়েও বৈধ হবে। অপারগ হওয়ার বিষয়টি লোকালয়েও উদ্ভূত হয়। তাই সফরের বিধান এখানেও কার্যকর হবে। কুরআনে কারীমের আয়াতে বিষয়টিকে সফরের শর্তযুক্ত করা হয়েছে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সফরেই এর প্রয়োজন হওয়ার প্রেক্ষিতে। সুতরাং এর বিপরীত অর্থ এখানে গৃহীত হবে না, উপরন্তু হাদীস দ্বারা লোকালয়ে ও শহরে বন্ধকের বৈধতা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়। তা ছাড়া সফরে লেখক না পাওয়া যাওয়া স্বাভাবিক। তাই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সফরেই বন্ধক বা রাহনের প্রয়োজন পড়ে বিধায় কুরআনে সফরের উল্লেখ করা হয়েছে।
টিকাঃ
১৩. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬২; আল-মাজমুউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৭; নাইলুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ৩৫২
১৪. ইমাম বুখারী রহ. এই হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন, সূত্র ফাতহুল বারী, খ. ৬, পৃ. ৯৯, আস- সালাফিয়্যা প্রকাশনী।
১৫. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬২; আল-মাজমুউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৭; নাইলুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ৩৫২
📄 বন্ধকের রুকন বা মূল অংশ
বন্ধকের রুকন বা মূল অংশ।