📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা
الضَّمَانُ (আয যামান) : জামিন হওয়া, দায়িত্ব নেওয়া। الضَّمَانُ শব্দের আভিধানিক অর্থ الإলْজَامُ। দায়িত্বরূপে গ্রহণ করা, কোনো কাজ করতে থাকা, লেগে থাকা, বাধ্যতামূলক হওয়া। الضَّمَانُ ও رَهْن-এর মাঝে পার্থক্য হলো, রাহন ও যামান উভয়টি ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তার চুক্তি বুঝায়। কিন্তু যামান হচ্ছে দাবির ক্ষেত্রে একটি দায়িত্ব অন্য আরেকটি দায়িত্বের সঙ্গে মিলানো। আর রহন হচ্ছে, এমন কোনো মূল্যমানসম্পন্ন বস্তু পূর্বে অর্পণ করা, ঋণ পরিশোধ করতে অপারগ হলে যার দ্বারা ঋণের বদল বুঝে নেওয়া যাবে।
📄 الضَّمَانُ শব্দটি পারিভাষিক অর্থ
الضَّمَانُ শব্দটির পারিভাষিক অর্থ: الْتِزَامُ بِحَقِّ ثَابِتِ فِي ذِمَّةِ الْغَيْرِ ، أَوْ بِإِحْضَارِ مَنْ عَلَيْهِ الْحَقُّ ، وَيُسَمَّى الْمُلْتَزِمُ ضَامِنًا ، وَكَفِيلاً
অর্থ: যামান হলো অন্যের দায়িত্বে প্রমাণিত পাওনা ও অধিকার উসুল করে দেওয়া কিংবা যার নিকট কোনো পাওনা বা অধিকার আছে তাকে উপস্থিত করার দায়িত্ব নেওয়া। পরিভাষায় দায়িত্ব গ্রহণকারীকে জামিন বা কাফীল বলা হয়।
إِنَّ الْعُرْفِ جَارِ بِاسْتِعْمَالِ لَفْظِ الضَّمَان في الأموال: সাধারণ প্রচলনে ‘কারো পাওনা আদায়ের দায়িত্বগ্রহণে যামান’ এবং মানুষের দায়িত্বগ্রহণের ক্ষেত্রে কাফালা শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
টিকাঃ
৫. আল-মিসবাহুল মুনীর।
৬. আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ২৩৫
📄 রাহন বা বন্ধকের বৈধতা
রাহন বা বন্ধকের বৈধতার ক্ষেত্রে মূল দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: وَإِنْ كُنتُمْ عَلَى سَفَرٍ وَلَمْ تَجِدُوا كَاتِبًا فَرِهَانٌ مَقْبُوضَةٌ “যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোনো লেখক না পাও তাহলে হস্তান্তরকৃত বন্ধক রাখবে।” এর উদ্দেশ্য হলো, তোমরা রাহন বা বন্ধক রাখো এবং তা কব্জা করো। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী : فَتَحْرِيرُ رَقَبَة “দাস মুক্ত করা (এর উদ্দেশ্য হলো দাস মুক্ত করো)।”
রাহন বা বন্ধকের বৈধতার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রমাণ হলো এ হাদীস: 'রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট মেয়াদে এক ইয়াহুদীর নিকট থেকে খাবার কিনেছিলেন; আর বিনিময়ে তিনি তার কাছে একটি লোহার বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন।'
রাহন বা বন্ধকের বৈধ ও আইনানুগ হওয়ার বিষয়ে উম্মতের ইজমা সংঘটিত হয়েছে। রাসূল সা.-এর যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বন্ধক রাখা চলে আসছে। কেউ একে অস্বীকার করেনি।
টিকাঃ
৭. সূরা: বাকারা, আয়াত- ২৮৩
৮. সূরা: নিসা, আয়াত- ৯২
৯. ইমাম বুখারী রহ. হযরত আয়েশা রা.-এর বর্ণনায় বুখারী শরীফে এই হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন, সূত্র ফাতহুল বারী, খ. ৫, পৃ. ৫৩ আস-সালাফিয়্যা প্রকাশনী।
১০. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬২; আল-মাজমুউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৭; নাইলুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ৩৫২
📄 রাহন-এর সাথে সম্পর্কিত বিধি-বিধান
বন্ধক আদান-প্রদান জায়েয, ওয়াজিব নয়। আল-মুগনী কিতাবের লেখক বলেন, আমরা এ বিষয়ে কারো মতবিরোধ রয়েছে বলে জানি না। যেহেতু তা ঋণের গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তাপত্র, তাই তা ওয়াজিব ও আবশ্যক হবে না; যেমন জামানত ও কাফালত ওয়াজিব হয় না। এ ব্যাপারে কুরআনে যে নির্দেশ এসেছে তা উপদেশ ও পরামর্শ মূলক, অত্যাবশ্যকীয় নয়। কেননা কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ "তোমাদের একে অপরকে বিশ্বাস করলে, যাকে বিশ্বাস করা হয়, সে যেন আমানত প্রত্যার্পণ করে।"
সেই সাথে লক্ষ্যণীয়, এটি লিপিবদ্ধ করতে অপারগ হওয়ার পরের বিধান। লিপিবদ্ধ করা যেহেতু ওয়াজিব নয়, সুতরাং তার বদল বা স্থলবর্তী বিষয়ের বিধানও অনুরূপ হবে।
টিকাঃ
১১. সূরা: বাকারা, আয়াত- ২৮৩
১২. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩৬২; আল-মাজমূউ, খ. ১৩, পৃ. ১৭৭; নাইলুল আওতার, খ. ৫, পৃ. ৩৫২