📄 ছয়. পুঁজিদাতা বা কর্মীর মুরতাদ হওয়া
হানাফী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজির মালিক- আল্লাহ না করুন- ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে, তার মুরতাদ হওয়ার পর কর্মী পণ্য বেচাকেনা করে, তাহলে আবু হানিফা রহ.-এর মত অনুসারে কর্মীর সকল লেনদেন স্থগিত থাকবে। যদি সে পুনরায় ইসলাম ধর্মে ফিরে আসে তবে এ সকল লেনদেন কার্যকর হবে। মুদারাবা চুক্তির সকল কাজে তার মুরতাদ হওয়ার বিষয়টি তখন অস্তিত্বহীন গণ্য করা হবে; যেন সে মাঝে মুরতাদ হয়নি।
যদি পুঁজির মালিক মুরতাদ হওয়ার পর মারা যায় অথবা তাকে শাস্তিস্বরূপ হত্যা করা হয় অথবা সে বিধর্মীদের দেশে চলে যায় এবং তা বিচারক কর্তৃক ঘোষিত হয় তবে তার মুরদাদ হওয়ার দিন থেকে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। এটি আবু হানিফার মত। তিনি বলেন, কোনো লোক ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে তার মালিকানাধীন সকল সম্পদে তার মালিকানা স্থগিত হয়ে যায়।
যেহেতু মুরতাদ হওয়ার পর তার আদেশদানের কোনো সুযোগ থাকে না, তাই তার আদেশ অনুযায়ী কর্মী ব্যবসা করার বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়। পুঁজির মালিক হয়ে যায় তার উত্তরাধিকারীরা। তাই কর্মী এরপর যা বেচাকেনা করে তা উত্তরাধিকারীদের সম্পদ দিয়ে করে। এ সময় পুঁজির অর্থ কর্মীর হাতেই যদি থাকে তাহলে সে তা দিয়ে কোনো কিছু কেনাবেচা করবে না। যদি এ অবস্থায় কর্মী কিছু কেনে, তবে সে পণ্য এবং তা বিক্রি করলে পুঁজিদাতার লাভ থাকবে এককভাবে কর্মীর। যেহেতু মুরতাদ হওয়ার প্রেক্ষিতে এ পুঁজিতে পুঁজিদাতার মালিকানা লুপ্ত হয়ে গেছে।
যদি পুঁজির মালিক মুরতাদ হওয়ার সময় পুঁজি বিভিন্ন পণ্য ও সামগ্রীতে রূপান্তরিত অবস্থায় থাকে, তাহলে কর্মী তা বেচাকেনা করা জায়েয হবে। এভাবে পুঁজি নগদ অর্থে পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত তা বেচাকেনা করা যাবে। যেহেতু পুঁজি পণ্য আকারে আসার পর কর্মীকে প্রত্যাহার করলেও বা তাকে কেনাবেচা করা থেকে নিষেধ করলেও তা কার্যকর হয় না।
যদি কর্মী ব্যবসা করে দীনার হস্তগত করে, অথচ তার পুঁজি ছিল দিরহাম অথবা বিষয়টি বিপরীতভাবে সংঘটিত হতে পারে, কর্মী সংগ্রহ করেছে দিরহাম, কিন্তু পুঁজি ছিল দীনার, তাহলে পুঁজি নগদ অর্থের রূপে হাতে আসায় তাতে কর্মী তার নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করতে পারবে না। এক্ষেত্রে আলেমসমাজ ইসতিহসান (সূক্ষ্ম কিয়াস) করেছেন। তারা বলেছেন, যদি কর্মী তার হাতে থাকা দীনার বা দিরহাম একটিকে অপরটি দ্বারা বেচাকেনা করে সব সে মুদ্রা বানিয়ে নেয় যা তার পুঁজি ছিল, তবে তা সহীহ হবে।
আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ.-এর অনুসৃত মূলনীতি অনুসারে মালিকের মুরতাদ হওয়া তার মালিকানায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। ফলে মুরতাদ হওয়ার পূর্বের ন্যায় পরেও তার মালিকানা এবং তাতে লেনদেন বহাল থাকবে। মুরতাদ নিজের লেনদেন যেহেতু করতে পারবে, তাই তার পক্ষ থেকে কর্মী অবশ্যই তা করতে পারবে।
যদি পুঁজির মালিক নয়, বরং কর্মী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে তাহলে আবু হানিফা আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ. তাদের সকলের মতেই মুদারাবা বহাল থাকবে। এর কারণ, পূর্ববর্তী আলোচনায় মালিকের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছিল তার মালিকানা স্থগিত হওয়ার দরুন। কিন্তু বর্তমান মাসআলায় পুঁজিতে কর্মীর মোটে মালিকানা নেই, তাই তাতে তার নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বেও কোনো নিষেধাজ্ঞা আসবে না। পুঁজিদাতার মালিকানা যেহেতু বহাল আছে তাই মুদারাবা বহাল থাকবে। তবে কর্মীর ব্যবসায়ে কোনো দায় থাকবে না, সার্বিক দায় থাকবে পুঁজির মালিকের কাঁধে।
যদি মুরতাদ অবস্থায় কর্মী মারা যায় বা তাকে এজন্যে হত্যা করা হয়, তাহলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। যেহেতু মুরতাদ হওয়ার পর যেভাবেই তার মৃত্যু হোক, তা মুরতাদ হওয়ার আগে মারা যাওয়ার তুল্য। নিয়ম হচ্ছে, কর্মী মারা গেলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যায়। যদি মুরতাদ হয়ে কর্মী বিধর্মী রাষ্ট্রে চলে যায় এবং তার চলে যাওয়া বিচারক কর্তৃক সত্যায়িত হয়, তাহলেও বিধান এরূপ; মুদারাবা রহিত হয়ে যাবে।
মহিলা মুরতাদ হওয়া বা না হওয়া সকল ইমামের মতে, মুদারাবা বহাল থাকার ক্ষেত্রে বরাবর। মহিলা পুঁজির মালিক হোক বা কর্মী হোক মুদারাবা বহালই থাকবে। কেননা তার যে কোনো অবস্থায় মুরতাদ হওয়া মুদারাবা চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে যদি এ মহিলা মারা যায় তাহলে তা মুরতাদ হওয়ার আগে মারা যাওয়ার তুল্য হবে, মারা যাওয়ার দরুন মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৯৮. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১২-১১৩; আদ দুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪৮৯
হানাফী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজির মালিক- আল্লাহ না করুন- ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে, তার মুরতাদ হওয়ার পর কর্মী পণ্য বেচাকেনা করে, তাহলে আবু হানিফা রহ.-এর মত অনুসারে কর্মীর সকল লেনদেন স্থগিত থাকবে। যদি সে পুনরায় ইসলাম ধর্মে ফিরে আসে তবে এ সকল লেনদেন কার্যকর হবে। মুদারাবা চুক্তির সকল কাজে তার মুরতাদ হওয়ার বিষয়টি তখন অস্তিত্বহীন গণ্য করা হবে; যেন সে মাঝে মুরতাদ হয়নি।
যদি পুঁজির মালিক মুরতাদ হওয়ার পর মারা যায় অথবা তাকে শাস্তিস্বরূপ হত্যা করা হয় অথবা সে বিধর্মীদের দেশে চলে যায় এবং তা বিচারক কর্তৃক ঘোষিত হয় তবে তার মুরদাদ হওয়ার দিন থেকে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। এটি আবু হানিফার মত। তিনি বলেন, কোনো লোক ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে তার মালিকানাধীন সকল সম্পদে তার মালিকানা স্থগিত হয়ে যায়।
যেহেতু মুরতাদ হওয়ার পর তার আদেশদানের কোনো সুযোগ থাকে না, তাই তার আদেশ অনুযায়ী কর্মী ব্যবসা করার বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়। পুঁজির মালিক হয়ে যায় তার উত্তরাধিকারীরা। তাই কর্মী এরপর যা বেচাকেনা করে তা উত্তরাধিকারীদের সম্পদ দিয়ে করে। এ সময় পুঁজির অর্থ কর্মীর হাতেই যদি থাকে তাহলে সে তা দিয়ে কোনো কিছু কেনাবেচা করবে না। যদি এ অবস্থায় কর্মী কিছু কেনে, তবে সে পণ্য এবং তা বিক্রি করলে পুঁজিদাতার লাভ থাকবে এককভাবে কর্মীর। যেহেতু মুরতাদ হওয়ার প্রেক্ষিতে এ পুঁজিতে পুঁজিদাতার মালিকানা লুপ্ত হয়ে গেছে।
যদি পুঁজির মালিক মুরতাদ হওয়ার সময় পুঁজি বিভিন্ন পণ্য ও সামগ্রীতে রূপান্তরিত অবস্থায় থাকে, তাহলে কর্মী তা বেচাকেনা করা জায়েয হবে। এভাবে পুঁজি নগদ অর্থে পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত তা বেচাকেনা করা যাবে। যেহেতু পুঁজি পণ্য আকারে আসার পর কর্মীকে প্রত্যাহার করলেও বা তাকে কেনাবেচা করা থেকে নিষেধ করলেও তা কার্যকর হয় না।
যদি কর্মী ব্যবসা করে দীনার হস্তগত করে, অথচ তার পুঁজি ছিল দিরহাম অথবা বিষয়টি বিপরীতভাবে সংঘটিত হতে পারে, কর্মী সংগ্রহ করেছে দিরহাম, কিন্তু পুঁজি ছিল দীনার, তাহলে পুঁজি নগদ অর্থের রূপে হাতে আসায় তাতে কর্মী তার নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করতে পারবে না। এক্ষেত্রে আলেমসমাজ ইসতিহসান (সূক্ষ্ম কিয়াস) করেছেন। তারা বলেছেন, যদি কর্মী তার হাতে থাকা দীনার বা দিরহাম একটিকে অপরটি দ্বারা বেচাকেনা করে সব সে মুদ্রা বানিয়ে নেয় যা তার পুঁজি ছিল, তবে তা সহীহ হবে।
আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ.-এর অনুসৃত মূলনীতি অনুসারে মালিকের মুরতাদ হওয়া তার মালিকানায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। ফলে মুরতাদ হওয়ার পূর্বের ন্যায় পরেও তার মালিকানা এবং তাতে লেনদেন বহাল থাকবে। মুরতাদ নিজের লেনদেন যেহেতু করতে পারবে, তাই তার পক্ষ থেকে কর্মী অবশ্যই তা করতে পারবে।
যদি পুঁজির মালিক নয়, বরং কর্মী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে তাহলে আবু হানিফা আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ. তাদের সকলের মতেই মুদারাবা বহাল থাকবে। এর কারণ, পূর্ববর্তী আলোচনায় মালিকের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছিল তার মালিকানা স্থগিত হওয়ার দরুন। কিন্তু বর্তমান মাসআলায় পুঁজিতে কর্মীর মোটে মালিকানা নেই, তাই তাতে তার নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বেও কোনো নিষেধাজ্ঞা আসবে না। পুঁজিদাতার মালিকানা যেহেতু বহাল আছে তাই মুদারাবা বহাল থাকবে। তবে কর্মীর ব্যবসায়ে কোনো দায় থাকবে না, সার্বিক দায় থাকবে পুঁজির মালিকের কাঁধে।
যদি মুরতাদ অবস্থায় কর্মী মারা যায় বা তাকে এজন্যে হত্যা করা হয়, তাহলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। যেহেতু মুরতাদ হওয়ার পর যেভাবেই তার মৃত্যু হোক, তা মুরতাদ হওয়ার আগে মারা যাওয়ার তুল্য। নিয়ম হচ্ছে, কর্মী মারা গেলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যায়। যদি মুরতাদ হয়ে কর্মী বিধর্মী রাষ্ট্রে চলে যায় এবং তার চলে যাওয়া বিচারক কর্তৃক সত্যায়িত হয়, তাহলেও বিধান এরূপ; মুদারাবা রহিত হয়ে যাবে।
মহিলা মুরতাদ হওয়া বা না হওয়া সকল ইমামের মতে, মুদারাবা বহাল থাকার ক্ষেত্রে বরাবর। মহিলা পুঁজির মালিক হোক বা কর্মী হোক মুদারাবা বহালই থাকবে। কেননা তার যে কোনো অবস্থায় মুরতাদ হওয়া মুদারাবা চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে যদি এ মহিলা মারা যায় তাহলে তা মুরতাদ হওয়ার আগে মারা যাওয়ার তুল্য হবে, মারা যাওয়ার দরুন মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৯৮. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১২-১১৩; আদ দুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪৮৯