📄 পাঁচ. মালিক কর্তৃক পুঁজি প্রত্যাহার করা
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, যদি পুঁজির মালিক পুঁজি হিসাবে প্রদত্ত সমুদয় অর্থ প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে মুদারাবা চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। যেহেতু কর্মী ব্যবসা করার জন্যে পুঁজির প্রয়োজন, তার উপরেই মুদারাবার ভিত্তি, তাই এর অনুপস্থিতিতে তা বাতিল হয়ে যাবে। যদি পুরোটা না নিয়ে পুঁজির এক অংশ প্রত্যাহার করে, তবে যেটুকু প্রত্যাহার করবে সেটুকুতে মুদারাবা রহিত হয়ে যেটুকু পুঁজি কর্মীর হাতে এখন থাকবে শুধু সেটুকুতেই মুদারাবা কার্যকর হবে।
আল্লামা হাসকাফী বলেন, কর্মীর সাথে যোগাযোগ ছাড়াই মালিক যদি কোনো পণ্য বেচাকেনা করে তাহলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। যদি মূলধন এখনো নগদ অর্থ থাকে, তাহলে মালিকের এ বেচাকেনা নিজের পক্ষ থেকে হওয়া সাব্যস্ত হবে। যদি মালিক এভাবে বেচাকেনা করার সময় সবটা মূলধন দ্রব্যসামগ্রীতে পরিবর্তিত হয় তাহলে মালিকের এ সকল কাজে মুদারাবা বাতিল হবে না। যেহেতু এমন পরিস্থিতি হলে মালিক স্পষ্টভাবে মুদারাবা ভেঙ্গে দেওয়ার কথা বললেও তা কার্যকর হয় না।
আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহ. এ আলোচনা আল বাহরুর রায়েক থেকে উদ্ধৃত করেছেন: যদি পুঁজিদাতা নগদ অর্থের বিনিময়ে মুদারাবার পণ্য বিক্রি করে, এরপর সে নগদ অর্থ দ্বারা পণ্য ক্রয় করে, তাহলে মালিক পূর্বে যে পণ্য বিক্রি করেছে তাতে লাভের অংশী হবে কর্মী; কিন্তু পরে নগদ অর্থব্যয়ে মালিক যে পণ্য ক্রয় করেছে তা বিক্রি করে লাভ করলে তাতে কর্মী কিছু পাবে না। মাসআলা এরূপ হওয়ার কারণ, মালিক যখন প্রথম মুদারাবার পণ্য বিক্রি করে নগদ অর্থ গ্রহণ করেছে মুদারাবা ভেঙ্গে গেছে।
শাফেয়ী আলেমগণ এ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। তারা বলেন, মালিক তার কর্মীর নিকট থেকে পুরো মূলধন যদি ফিরিয়ে নেয় তাহলে মুদারাবা রহিত হয়ে যাবে। পণ্য কেনার পর তাতে লাভ লোকসান প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে মালিক যদি কিছু পণ্য নিয়ে নেয়, তাহলে এটুকু বাদ দিয়ে অবশিষ্টটুকু পণ্য বলে গণ্য হবে। যেহেতু কিছু পণ্য নেওয়ার পর বাকীটুকুই কর্মীর হাতে রয়েছে।
যদি ব্যবসায়ে লাভ হওয়ার পর মালিক আংশিক পুঁজি প্রত্যাহার করে নেয়, তাতে কর্মীর মত না থাকে, তাহলে যা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে তা মূল পুঁজি ও লাভ এ দুটোতেই বিস্তৃতভাবে থাকবে। পুরো মূলধন এবং তার লাভ এ দুটোর সমষ্টির সাথে তুলে নেওয়া পুঁজি তুলনা করে উভয়টিতে তা বণ্টন করা হবে। এমনটি করা হবে এ জন্যে যে, মালিকের মূলধন প্রত্যাহার কোন অংশ থেকে তা তার পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়নি। লাভের যে অংশ মালিক তার কর্মীর জন্যে নির্ধারণ করেছে তাতে কর্মীর মালিকানা বহাল থাকবে। তাই সে অংশে মালিকের নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা কার্যকর হবে না। এরপর ব্যবসায়ে লোকসান হলেও কর্মীর সে অংশ তাতে বাদ পড়বে না।
উদাহরণ: মূলধন হচ্ছে একশ দিরহাম, তাতে লাভ হয়েছে বিশ দিরহাম। ফলে পুঁজি দাঁড়িয়েছে একশ বিশ দিরহামে। লাভ হচ্ছে এভাবে মোট পুঁজির এক ষষ্ঠাংশ। মালিক পুঁজি থেকে বিশ দিরহাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে, তা পুঁজি ও লাভ উভয়টিতে এক ষষ্ঠাংশ হারে বণ্টিত হবে। ফলে লাভের বিশ দিরহাম থেকে প্রত্যাহৃত হবে ৩.৩ দিরহাম। যদি মালিক ও কর্মী উভয়ের মধ্যে লাভ অর্ধেক হারে বণ্টিত হয় তাহলে কর্মীর অংশ ১.৬৬ দিরহাম তার মালিকানায় বহাল থাকবে। অবশিষ্ট প্রত্যাহৃত অংশ মূল পুঁজি থেকে প্রত্যাহৃত হবে। মূল পুঁজি একশ দিরহাম, তার এক ষষ্ঠাংশ হচ্ছে ১৬.৬৬ এটুকু প্রত্যাহার করার পর এখন পুঁজি থাকবে ৮৩.৩৩ দিরহাম। যদি কর্মীর হাতে যা রয়েছে তা (লোকসান হওয়ার দরুন) ৮০ দিরহামে ফিরে আসে তাহলে ও তাতে কর্মীর অংশ বাদ পড়বে না।
যদি ব্যবসায়ে লোকসান প্রকাশিত হওয়ার পর মালিক আংশিক পুঁজি প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে প্রত্যাহৃত পুঁজি এবং ব্যবসায়ে এখনো রেখে দেওয়া পুঁজি উভয়টিতে সে লোকসান বণ্টিত হবে। এরপর যদি ব্যবসায়ে লাভও হয় সে লাভ দিয়ে লোকসানে ক্ষতিপূরণ করা জরুরি নয়। এর উদাহরণ : ব্যবসায়ে পুঁজি ১০০ দিরহাম, তাতে লোকসান হয়েছে ২০ দিরহাম। এরপর মালিক মূলধন থেকে তুলে নিয়েছে ২০ দিরহাম। এ অবস্থায় মোট লোকসান ২০ দিরহাম হওয়ায় পুঁজি হয়ে গেছে ৮০ দিরহাম। তা থেকে মালিক তুলে নিয়েছে ২০ দিরহাম যা মোট পুঁজির ১/৪ অংশ। তাই লোকসানের ১/৪ অংশ অর্থাৎ ৫ দিরহামও ধরা হবে মালিক তুলে নিয়েছে। তাতে তার নেওয়ার পরিমাণ হবে ২৫ দিরহাম এবং পুঁজি ধর্তব্য হবে ৭৫ দিরহাম।
টিকাঃ
১৯৬. আদ দুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪৯০; আল খিরাশী, খ. ৬, পৃ. ২১৫; বুলগাতুস সালিক, খ. ৩, পৃ. ৬৯৭; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩২০-৩২১; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫১৮-৫ ২০১৯
১৯৭. রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪২; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২৩৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩২-৩২১
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, যদি পুঁজির মালিক পুঁজি হিসাবে প্রদত্ত সমুদয় অর্থ প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে মুদারাবা চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। যেহেতু কর্মী ব্যবসা করার জন্যে পুঁজির প্রয়োজন, তার উপরেই মুদারাবার ভিত্তি, তাই এর অনুপস্থিতিতে তা বাতিল হয়ে যাবে। যদি পুরোটা না নিয়ে পুঁজির এক অংশ প্রত্যাহার করে, তবে যেটুকু প্রত্যাহার করবে সেটুকুতে মুদারাবা রহিত হয়ে যেটুকু পুঁজি কর্মীর হাতে এখন থাকবে শুধু সেটুকুতেই মুদারাবা কার্যকর হবে।
আল্লামা হাসকাফী বলেন, কর্মীর সাথে যোগাযোগ ছাড়াই মালিক যদি কোনো পণ্য বেচাকেনা করে তাহলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। যদি মূলধন এখনো নগদ অর্থ থাকে, তাহলে মালিকের এ বেচাকেনা নিজের পক্ষ থেকে হওয়া সাব্যস্ত হবে। যদি মালিক এভাবে বেচাকেনা করার সময় সবটা মূলধন দ্রব্যসামগ্রীতে পরিবর্তিত হয় তাহলে মালিকের এ সকল কাজে মুদারাবা বাতিল হবে না। যেহেতু এমন পরিস্থিতি হলে মালিক স্পষ্টভাবে মুদারাবা ভেঙ্গে দেওয়ার কথা বললেও তা কার্যকর হয় না।
আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহ. এ আলোচনা আল বাহরুর রায়েক থেকে উদ্ধৃত করেছেন: যদি পুঁজিদাতা নগদ অর্থের বিনিময়ে মুদারাবার পণ্য বিক্রি করে, এরপর সে নগদ অর্থ দ্বারা পণ্য ক্রয় করে, তাহলে মালিক পূর্বে যে পণ্য বিক্রি করেছে তাতে লাভের অংশী হবে কর্মী; কিন্তু পরে নগদ অর্থব্যয়ে মালিক যে পণ্য ক্রয় করেছে তা বিক্রি করে লাভ করলে তাতে কর্মী কিছু পাবে না। মাসআলা এরূপ হওয়ার কারণ, মালিক যখন প্রথম মুদারাবার পণ্য বিক্রি করে নগদ অর্থ গ্রহণ করেছে মুদারাবা ভেঙ্গে গেছে।
শাফেয়ী আলেমগণ এ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। তারা বলেন, মালিক তার কর্মীর নিকট থেকে পুরো মূলধন যদি ফিরিয়ে নেয় তাহলে মুদারাবা রহিত হয়ে যাবে। পণ্য কেনার পর তাতে লাভ লোকসান প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে মালিক যদি কিছু পণ্য নিয়ে নেয়, তাহলে এটুকু বাদ দিয়ে অবশিষ্টটুকু পণ্য বলে গণ্য হবে। যেহেতু কিছু পণ্য নেওয়ার পর বাকীটুকুই কর্মীর হাতে রয়েছে।
যদি ব্যবসায়ে লাভ হওয়ার পর মালিক আংশিক পুঁজি প্রত্যাহার করে নেয়, তাতে কর্মীর মত না থাকে, তাহলে যা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে তা মূল পুঁজি ও লাভ এ দুটোতেই বিস্তৃতভাবে থাকবে। পুরো মূলধন এবং তার লাভ এ দুটোর সমষ্টির সাথে তুলে নেওয়া পুঁজি তুলনা করে উভয়টিতে তা বণ্টন করা হবে। এমনটি করা হবে এ জন্যে যে, মালিকের মূলধন প্রত্যাহার কোন অংশ থেকে তা তার পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়নি। লাভের যে অংশ মালিক তার কর্মীর জন্যে নির্ধারণ করেছে তাতে কর্মীর মালিকানা বহাল থাকবে। তাই সে অংশে মালিকের নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা কার্যকর হবে না। এরপর ব্যবসায়ে লোকসান হলেও কর্মীর সে অংশ তাতে বাদ পড়বে না।
উদাহরণ: মূলধন হচ্ছে একশ দিরহাম, তাতে লাভ হয়েছে বিশ দিরহাম। ফলে পুঁজি দাঁড়িয়েছে একশ বিশ দিরহামে। লাভ হচ্ছে এভাবে মোট পুঁজির এক ষষ্ঠাংশ। মালিক পুঁজি থেকে বিশ দিরহাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে, তা পুঁজি ও লাভ উভয়টিতে এক ষষ্ঠাংশ হারে বণ্টিত হবে। ফলে লাভের বিশ দিরহাম থেকে প্রত্যাহৃত হবে ৩.৩ দিরহাম। যদি মালিক ও কর্মী উভয়ের মধ্যে লাভ অর্ধেক হারে বণ্টিত হয় তাহলে কর্মীর অংশ ১.৬৬ দিরহাম তার মালিকানায় বহাল থাকবে। অবশিষ্ট প্রত্যাহৃত অংশ মূল পুঁজি থেকে প্রত্যাহৃত হবে। মূল পুঁজি একশ দিরহাম, তার এক ষষ্ঠাংশ হচ্ছে ১৬.৬৬ এটুকু প্রত্যাহার করার পর এখন পুঁজি থাকবে ৮৩.৩৩ দিরহাম। যদি কর্মীর হাতে যা রয়েছে তা (লোকসান হওয়ার দরুন) ৮০ দিরহামে ফিরে আসে তাহলে ও তাতে কর্মীর অংশ বাদ পড়বে না।
যদি ব্যবসায়ে লোকসান প্রকাশিত হওয়ার পর মালিক আংশিক পুঁজি প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে প্রত্যাহৃত পুঁজি এবং ব্যবসায়ে এখনো রেখে দেওয়া পুঁজি উভয়টিতে সে লোকসান বণ্টিত হবে। এরপর যদি ব্যবসায়ে লাভও হয় সে লাভ দিয়ে লোকসানে ক্ষতিপূরণ করা জরুরি নয়। এর উদাহরণ : ব্যবসায়ে পুঁজি ১০০ দিরহাম, তাতে লোকসান হয়েছে ২০ দিরহাম। এরপর মালিক মূলধন থেকে তুলে নিয়েছে ২০ দিরহাম। এ অবস্থায় মোট লোকসান ২০ দিরহাম হওয়ায় পুঁজি হয়ে গেছে ৮০ দিরহাম। তা থেকে মালিক তুলে নিয়েছে ২০ দিরহাম যা মোট পুঁজির ১/৪ অংশ। তাই লোকসানের ১/৪ অংশ অর্থাৎ ৫ দিরহামও ধরা হবে মালিক তুলে নিয়েছে। তাতে তার নেওয়ার পরিমাণ হবে ২৫ দিরহাম এবং পুঁজি ধর্তব্য হবে ৭৫ দিরহাম।
টিকাঃ
১৯৬. আদ দুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪৯০; আল খিরাশী, খ. ৬, পৃ. ২১৫; বুলগাতুস সালিক, খ. ৩, পৃ. ৬৯৭; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩২০-৩২১; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫১৮-৫ ২০১৯
১৯৭. রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪২; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২৩৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩২-৩২১
📄 ছয়. পুঁজিদাতা বা কর্মীর মুরতাদ হওয়া
হানাফী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজির মালিক- আল্লাহ না করুন- ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে, তার মুরতাদ হওয়ার পর কর্মী পণ্য বেচাকেনা করে, তাহলে আবু হানিফা রহ.-এর মত অনুসারে কর্মীর সকল লেনদেন স্থগিত থাকবে। যদি সে পুনরায় ইসলাম ধর্মে ফিরে আসে তবে এ সকল লেনদেন কার্যকর হবে। মুদারাবা চুক্তির সকল কাজে তার মুরতাদ হওয়ার বিষয়টি তখন অস্তিত্বহীন গণ্য করা হবে; যেন সে মাঝে মুরতাদ হয়নি।
যদি পুঁজির মালিক মুরতাদ হওয়ার পর মারা যায় অথবা তাকে শাস্তিস্বরূপ হত্যা করা হয় অথবা সে বিধর্মীদের দেশে চলে যায় এবং তা বিচারক কর্তৃক ঘোষিত হয় তবে তার মুরদাদ হওয়ার দিন থেকে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। এটি আবু হানিফার মত। তিনি বলেন, কোনো লোক ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে তার মালিকানাধীন সকল সম্পদে তার মালিকানা স্থগিত হয়ে যায়।
যেহেতু মুরতাদ হওয়ার পর তার আদেশদানের কোনো সুযোগ থাকে না, তাই তার আদেশ অনুযায়ী কর্মী ব্যবসা করার বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়। পুঁজির মালিক হয়ে যায় তার উত্তরাধিকারীরা। তাই কর্মী এরপর যা বেচাকেনা করে তা উত্তরাধিকারীদের সম্পদ দিয়ে করে। এ সময় পুঁজির অর্থ কর্মীর হাতেই যদি থাকে তাহলে সে তা দিয়ে কোনো কিছু কেনাবেচা করবে না। যদি এ অবস্থায় কর্মী কিছু কেনে, তবে সে পণ্য এবং তা বিক্রি করলে পুঁজিদাতার লাভ থাকবে এককভাবে কর্মীর। যেহেতু মুরতাদ হওয়ার প্রেক্ষিতে এ পুঁজিতে পুঁজিদাতার মালিকানা লুপ্ত হয়ে গেছে।
যদি পুঁজির মালিক মুরতাদ হওয়ার সময় পুঁজি বিভিন্ন পণ্য ও সামগ্রীতে রূপান্তরিত অবস্থায় থাকে, তাহলে কর্মী তা বেচাকেনা করা জায়েয হবে। এভাবে পুঁজি নগদ অর্থে পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত তা বেচাকেনা করা যাবে। যেহেতু পুঁজি পণ্য আকারে আসার পর কর্মীকে প্রত্যাহার করলেও বা তাকে কেনাবেচা করা থেকে নিষেধ করলেও তা কার্যকর হয় না।
যদি কর্মী ব্যবসা করে দীনার হস্তগত করে, অথচ তার পুঁজি ছিল দিরহাম অথবা বিষয়টি বিপরীতভাবে সংঘটিত হতে পারে, কর্মী সংগ্রহ করেছে দিরহাম, কিন্তু পুঁজি ছিল দীনার, তাহলে পুঁজি নগদ অর্থের রূপে হাতে আসায় তাতে কর্মী তার নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করতে পারবে না। এক্ষেত্রে আলেমসমাজ ইসতিহসান (সূক্ষ্ম কিয়াস) করেছেন। তারা বলেছেন, যদি কর্মী তার হাতে থাকা দীনার বা দিরহাম একটিকে অপরটি দ্বারা বেচাকেনা করে সব সে মুদ্রা বানিয়ে নেয় যা তার পুঁজি ছিল, তবে তা সহীহ হবে।
আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ.-এর অনুসৃত মূলনীতি অনুসারে মালিকের মুরতাদ হওয়া তার মালিকানায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। ফলে মুরতাদ হওয়ার পূর্বের ন্যায় পরেও তার মালিকানা এবং তাতে লেনদেন বহাল থাকবে। মুরতাদ নিজের লেনদেন যেহেতু করতে পারবে, তাই তার পক্ষ থেকে কর্মী অবশ্যই তা করতে পারবে।
যদি পুঁজির মালিক নয়, বরং কর্মী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে তাহলে আবু হানিফা আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ. তাদের সকলের মতেই মুদারাবা বহাল থাকবে। এর কারণ, পূর্ববর্তী আলোচনায় মালিকের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছিল তার মালিকানা স্থগিত হওয়ার দরুন। কিন্তু বর্তমান মাসআলায় পুঁজিতে কর্মীর মোটে মালিকানা নেই, তাই তাতে তার নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বেও কোনো নিষেধাজ্ঞা আসবে না। পুঁজিদাতার মালিকানা যেহেতু বহাল আছে তাই মুদারাবা বহাল থাকবে। তবে কর্মীর ব্যবসায়ে কোনো দায় থাকবে না, সার্বিক দায় থাকবে পুঁজির মালিকের কাঁধে।
যদি মুরতাদ অবস্থায় কর্মী মারা যায় বা তাকে এজন্যে হত্যা করা হয়, তাহলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। যেহেতু মুরতাদ হওয়ার পর যেভাবেই তার মৃত্যু হোক, তা মুরতাদ হওয়ার আগে মারা যাওয়ার তুল্য। নিয়ম হচ্ছে, কর্মী মারা গেলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যায়। যদি মুরতাদ হয়ে কর্মী বিধর্মী রাষ্ট্রে চলে যায় এবং তার চলে যাওয়া বিচারক কর্তৃক সত্যায়িত হয়, তাহলেও বিধান এরূপ; মুদারাবা রহিত হয়ে যাবে।
মহিলা মুরতাদ হওয়া বা না হওয়া সকল ইমামের মতে, মুদারাবা বহাল থাকার ক্ষেত্রে বরাবর। মহিলা পুঁজির মালিক হোক বা কর্মী হোক মুদারাবা বহালই থাকবে। কেননা তার যে কোনো অবস্থায় মুরতাদ হওয়া মুদারাবা চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে যদি এ মহিলা মারা যায় তাহলে তা মুরতাদ হওয়ার আগে মারা যাওয়ার তুল্য হবে, মারা যাওয়ার দরুন মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৯৮. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১২-১১৩; আদ দুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪৮৯
হানাফী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজির মালিক- আল্লাহ না করুন- ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে, তার মুরতাদ হওয়ার পর কর্মী পণ্য বেচাকেনা করে, তাহলে আবু হানিফা রহ.-এর মত অনুসারে কর্মীর সকল লেনদেন স্থগিত থাকবে। যদি সে পুনরায় ইসলাম ধর্মে ফিরে আসে তবে এ সকল লেনদেন কার্যকর হবে। মুদারাবা চুক্তির সকল কাজে তার মুরতাদ হওয়ার বিষয়টি তখন অস্তিত্বহীন গণ্য করা হবে; যেন সে মাঝে মুরতাদ হয়নি।
যদি পুঁজির মালিক মুরতাদ হওয়ার পর মারা যায় অথবা তাকে শাস্তিস্বরূপ হত্যা করা হয় অথবা সে বিধর্মীদের দেশে চলে যায় এবং তা বিচারক কর্তৃক ঘোষিত হয় তবে তার মুরদাদ হওয়ার দিন থেকে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। এটি আবু হানিফার মত। তিনি বলেন, কোনো লোক ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে তার মালিকানাধীন সকল সম্পদে তার মালিকানা স্থগিত হয়ে যায়।
যেহেতু মুরতাদ হওয়ার পর তার আদেশদানের কোনো সুযোগ থাকে না, তাই তার আদেশ অনুযায়ী কর্মী ব্যবসা করার বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়। পুঁজির মালিক হয়ে যায় তার উত্তরাধিকারীরা। তাই কর্মী এরপর যা বেচাকেনা করে তা উত্তরাধিকারীদের সম্পদ দিয়ে করে। এ সময় পুঁজির অর্থ কর্মীর হাতেই যদি থাকে তাহলে সে তা দিয়ে কোনো কিছু কেনাবেচা করবে না। যদি এ অবস্থায় কর্মী কিছু কেনে, তবে সে পণ্য এবং তা বিক্রি করলে পুঁজিদাতার লাভ থাকবে এককভাবে কর্মীর। যেহেতু মুরতাদ হওয়ার প্রেক্ষিতে এ পুঁজিতে পুঁজিদাতার মালিকানা লুপ্ত হয়ে গেছে।
যদি পুঁজির মালিক মুরতাদ হওয়ার সময় পুঁজি বিভিন্ন পণ্য ও সামগ্রীতে রূপান্তরিত অবস্থায় থাকে, তাহলে কর্মী তা বেচাকেনা করা জায়েয হবে। এভাবে পুঁজি নগদ অর্থে পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত তা বেচাকেনা করা যাবে। যেহেতু পুঁজি পণ্য আকারে আসার পর কর্মীকে প্রত্যাহার করলেও বা তাকে কেনাবেচা করা থেকে নিষেধ করলেও তা কার্যকর হয় না।
যদি কর্মী ব্যবসা করে দীনার হস্তগত করে, অথচ তার পুঁজি ছিল দিরহাম অথবা বিষয়টি বিপরীতভাবে সংঘটিত হতে পারে, কর্মী সংগ্রহ করেছে দিরহাম, কিন্তু পুঁজি ছিল দীনার, তাহলে পুঁজি নগদ অর্থের রূপে হাতে আসায় তাতে কর্মী তার নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করতে পারবে না। এক্ষেত্রে আলেমসমাজ ইসতিহসান (সূক্ষ্ম কিয়াস) করেছেন। তারা বলেছেন, যদি কর্মী তার হাতে থাকা দীনার বা দিরহাম একটিকে অপরটি দ্বারা বেচাকেনা করে সব সে মুদ্রা বানিয়ে নেয় যা তার পুঁজি ছিল, তবে তা সহীহ হবে।
আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ.-এর অনুসৃত মূলনীতি অনুসারে মালিকের মুরতাদ হওয়া তার মালিকানায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। ফলে মুরতাদ হওয়ার পূর্বের ন্যায় পরেও তার মালিকানা এবং তাতে লেনদেন বহাল থাকবে। মুরতাদ নিজের লেনদেন যেহেতু করতে পারবে, তাই তার পক্ষ থেকে কর্মী অবশ্যই তা করতে পারবে।
যদি পুঁজির মালিক নয়, বরং কর্মী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে তাহলে আবু হানিফা আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ. তাদের সকলের মতেই মুদারাবা বহাল থাকবে। এর কারণ, পূর্ববর্তী আলোচনায় মালিকের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছিল তার মালিকানা স্থগিত হওয়ার দরুন। কিন্তু বর্তমান মাসআলায় পুঁজিতে কর্মীর মোটে মালিকানা নেই, তাই তাতে তার নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বেও কোনো নিষেধাজ্ঞা আসবে না। পুঁজিদাতার মালিকানা যেহেতু বহাল আছে তাই মুদারাবা বহাল থাকবে। তবে কর্মীর ব্যবসায়ে কোনো দায় থাকবে না, সার্বিক দায় থাকবে পুঁজির মালিকের কাঁধে।
যদি মুরতাদ অবস্থায় কর্মী মারা যায় বা তাকে এজন্যে হত্যা করা হয়, তাহলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। যেহেতু মুরতাদ হওয়ার পর যেভাবেই তার মৃত্যু হোক, তা মুরতাদ হওয়ার আগে মারা যাওয়ার তুল্য। নিয়ম হচ্ছে, কর্মী মারা গেলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যায়। যদি মুরতাদ হয়ে কর্মী বিধর্মী রাষ্ট্রে চলে যায় এবং তার চলে যাওয়া বিচারক কর্তৃক সত্যায়িত হয়, তাহলেও বিধান এরূপ; মুদারাবা রহিত হয়ে যাবে।
মহিলা মুরতাদ হওয়া বা না হওয়া সকল ইমামের মতে, মুদারাবা বহাল থাকার ক্ষেত্রে বরাবর। মহিলা পুঁজির মালিক হোক বা কর্মী হোক মুদারাবা বহালই থাকবে। কেননা তার যে কোনো অবস্থায় মুরতাদ হওয়া মুদারাবা চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে যদি এ মহিলা মারা যায় তাহলে তা মুরতাদ হওয়ার আগে মারা যাওয়ার তুল্য হবে, মারা যাওয়ার দরুন মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৯৮. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১২-১১৩; আদ দুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪৮৯