📄 ক. পাগলামি ও অপ্রকৃতিস্থতা (الْجُنُونُ)
সকল ফকীহ এ কথায় একমত, যদি দুজনের কোনো একজন বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যায় তাহলে তার দরুন মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৮৪. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১২; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২৩৭; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫২২
📄 খ. বেহুঁশ হওয়া (الْإِغْمَاءُ)
শাফেয়ী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, মুদারাবা বাতিল হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে দুপক্ষের কোনো একজন বেহুঁশ হয়ে যাওয়া। তারা বলেন, যেমন পাগল ও অপ্রকৃতিস্থ হলে দুপক্ষের যে-ই হোক, মুদারাবা বাতিল হয় এবং দুপক্ষের কোনো একজন মারা গেলে তা বাতিল হয়, তেমনি কেউ বেহুঁশ হলেও মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৮৫. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৯
📄 গ. কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া (الْحَجْرُ)
হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহগণ বলেন, পুঁজিদাতা ও কর্মী এ দুজনের কোনো একজনের কার্যক্রমে বিচারক কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারি হলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। হাম্বলী আলেমগণ এক্ষেত্রে আরো বলেন, দুজনের কোনো একজনের যদি মনে সন্দেহ জাগে, মুদারাবাতে লেনদেন সুন্দর পরিপাটিভাবে হচ্ছে না, তাহলেও মুদারাবা বাতিল ও রহিত হয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৮৬. আদ দুররুল মুখতার, খ. ৪, পৃ. ৪৮৯; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫২২
📄 তিন. মুদারাবা চুক্তি রহিত করা (فَسْخُ الْمُضَارَبَةِ)
মালিক ও কর্মী উভয়ের ইচ্ছায় অথবা দুজনের কোনো একজনের একক ইচ্ছায় মুদারাবা বাতিল হতে পারে। বাতিল করার জন্যে আগ্রহী দুজন বা একজন বলবে, فَسَحْتُ الْمُضَارَبَةَ أَوْ رَفَعْتُهَا أَوْ أَبْطَلْتُهَا অর্থাৎ আমি মুদারাবা রহিত করলাম, উঠিয়ে দিলাম। অথবা মালিক আগ্রহী হলে কর্মীকে বলবে, لَا تَتَصَرَّفْ بَعْدَ هَذَا অর্থাৎ এরপর পুঁজি দিয়ে আর বেচাকেনা করো না বা এ জাতীয় বাক্য যা বাতিল করা বুঝাবে। কখনো কাজের মাধ্যমেও তা সাব্যস্ত হতে পারে। যেমন, পুঁজির মালিক প্রদত্ত পুঁজির সবটুকু ফেরত নিয়ে নেওয়া।
মুদারাবা চুক্তি হচ্ছে সে সব চুক্তি ও লেনদেনের অন্তর্ভুক্ত যেগুলো স্বেচ্ছাকৃত; আবশ্যিক নয়। তাই পুঁজিদাতা ও কর্মী এ দুজনের যে কেউ একক ইচ্ছাতে যখন ইচ্ছা তা বাতিল করে দিতে পারে। এটুকু কথাতে সকল ফকীহ একমত, তাদের মতপার্থক্য যা হয়েছে তা হলো:
শাফেয়ী ও হাম্বলী আলেমগণ বলেন, দুপক্ষের যে কেউ মুদারাবা বাতিল করতে পারে যখন ইচ্ছা; অন্যের তা অবগত হওয়া বা পুঁজি সে সময় নগদ অর্থ আকারে থাকা শর্ত নয়। হানাফী আলেমগণ বলেন, দুপক্ষের যে কেউ যখন ইচ্ছা মুদারাবা বাতিল করতে পারবে। তবে তাতে শর্ত হলো, অপর পক্ষের সে সম্পর্কে জানা থাকতে হবে এবং পুঁজি নগদ অর্থ আকারে থাকতে হবে। মালেকী আলেমগণ বলেন, পুঁজি দিয়ে পণ্য কেনার পূর্বপর্যন্ত তাদের দুজনের তা বাতিল করার সুযোগ রয়েছে, এরপর নয়। প্রতিটি মাযহাবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
মালেকীগণ বলেন, কর্মী কাজ শুরু করার পূর্বে যদি পুঁজিদাতা তার পুঁজি দিয়ে কিছু করতে কর্মীকে নিষেধ করে মুদারাবা চুক্তি তাহলে বাতিল হয়ে যাবে এবং প্রদত্ত পুঁজি নিছক আমানততুল্য হয়ে যাবে। কর্মী যদি তারপরও সে অর্থ দিয়ে ব্যবসা করে তাহলে লাভও তার একার হবে, লোকসান হলেও তা তার। এ অবস্থায় পুঁজির মালিক কেবল পুঁজিটুকু ফেরত পাবে।
হানাফী আলেমগণ বলেন, পুঁজির মালিক যদি তার কর্মীকে যাবতীয় লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে বলে তখন, যখন তার পুঁজি দিয়ে পণ্য কেনা হয়ে গেছে, তাহলে তার এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না; তাই তার নিষেধাজ্ঞার দরুন কর্মী অপসারিতও হবে না। বরং কর্মী যথারীতি সে পণ্য কেনাবেচা করতে পারবে। লাভ অর্জনের উদ্দেশ্যে সে সব পণ্য দিরহাম দীনারে/নগদ অর্থে বিক্রি করা তার জন্যে আবশ্যক। এ পরিস্থিতিতে তাকে নিষেধ করা এবং মুদারাবা বাতিল করে দেওয়া হলে কর্মীর পুঁজি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে তার অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা হবে। তবে যদি লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা এবং মুদারাবা চুক্তি বাতিল করার সময় পুঁজি দিরহাম দীনারের আকারেই থাকে, তাহলে এ নিষেধাজ্ঞা ও রহিতকরণ যথাযথ ও সহীহ হবে। তবে ইসতিহসান বা সূক্ষ্ম যুক্তি হচ্ছে, সকল মুদ্রা এক ধরনের হওয়া। তাই সবগুলো দিরহাম দীনারে বা সবগুলো দীনার দিরহামে বদলানো হবে। উভয়টি মুদ্রার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ বদলানো বিক্রি বলে অভিহিত হবে না।
শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, মুদারাবা বাতিল করার পরও কর্মী তার হাতে থাকা পণ্য বিক্রি করতে পারবে যদি সে তাতে লাভের আশা করতে পারে, যেমন সে কোনো বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পেল অথবা কোনো আগ্রহী ক্রেতা পেল। তবে মুদারাবা রহিত করার পর কর্মী নতুনভাবে কিছু কিনবে না। যেহেতু চুক্তিও বহাল নেই, তাই নতুন যা কেনা হবে তাতে তার লাভের অংশও থাকবে না।
পুঁজিদাতা ও কর্মী উভয়ে মুদারাবা বাতিল করুক বা দুজনের কোনো একজন অথবা চুক্তি কোনো কারণে বাতিল হয়ে যাক, বাতিল হওয়ার সময় মুদারাবার পণ্যে ক্রেতাদের নিকট যে ঋণ থাকবে তা আদায় করতে হবে, এটি কর্মীর দায়িত্ব। যেহেতু ঋণ হচ্ছে পুঁজির এক অংশ, অপরদিকে মালিকের নিকট থেকে কর্মী পূর্ণ পুঁজিটিই তার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। তাই কর্মীর জন্যে দায়িত্ব হচ্ছে সে যেভাবে পুঁজি গ্রহণ করেছিল সেভাবেই তা পুঁজিদাতার নিকট ফিরিয়ে দেওয়া। পণ্যে লাভ হওয়া বা না হওয়া এক্ষেত্রে লক্ষ করা হবে না। যদি কর্মী অপর কাউকে জিম্মাদার বানানোতে মালিক সম্মত থাকে তবে তা জায়েয হবে।
যদি মুদারাবা বাতিল করার সময় পুঁজির পুরোটা বা এক অংশ পণ্য আকারে থাকে, মালিক পুঁজি ফেরত নিতে চায় নগদ অর্থ আকারে, তাহলে কর্মী সে পণ্যগুলো বিক্রি করে পুঁজি প্রদান করবে, পণ্য বিক্রয়ে লাভ হবে কিনা, তা আর তখন সে লক্ষ করবে না।
হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যখন মুদারাবা বাতিল হয় তখন পুঁজি যদি নগদ মুদ্রা আকারে থাকে, তাতে তখনো কোনো লাভ হয়নি, তবু সে অবস্থাতেই পুঁজিদাতাকে তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে, মালিক তা লাভবিহীন ভাবেই গ্রহণ করবে। যদি ইতোমধ্যে কিছু লাভ হয়ে থাকে তাহলে তারা লাভ বণ্টনের যে শর্ত করেছিল সে শর্ত অনুযায়ীই ভাগ করে নেবে। যদি মুদারাবা বাতিল হওয়ার সময় পুঁজি পণ্য আকারে থাকে তাহলে তারা দুজন যে কথায় একমত হবে তা-ই করা হবে। হয়তো বিক্রি করে তা থেকে পুঁজি ফেরত দেওয়া হবে অথবা মূল্য হিসাব করে পণ্য দিয়ে পুঁজি ফেরত দেওয়া হবে। এ উভয় ক্ষেত্রে লাভ হলে তা শর্ত মতো বণ্টিত হবে। যেহেতু এ সম্পদে কেবল তাদের দুজনের অধিকার, তাই তারাই ফয়সালা করবে পুঁজি ফেরতে কোন পন্থা তারা গ্রহণ করবে।
যদি কর্মী পণ্য বিক্রি করতে চায়, মালিক তাতে অমত করে তাহলে তাতে লাভ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্য হলে পুঁজির মালিককে পণ্য বিক্রয়ের মত ব্যক্ত করতে বাধ্য করা হবে। কেননা, অর্জিত লাভে কর্মীর অধিকার থাকে, পুঁজিতে তার কোনো অধিকার থাকে না। পণ্য বিক্রি না করা পর্যন্ত কর্মীর হাতে লাভ আসে না, তার অধিকারও প্রকাশিত হয় না। যদি লাভ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্য না হয়, তাহলে পুঁজির মালিক বিক্রিতে আপত্তি করলে তাকে বাধ্য করা হবে না।
যদি মুদারাবা বাতিল হওয়ার সময় পণ্য থাকে পাওনা, তাহলে তা তাগাদা দিয়ে হস্তগত করা কর্মীর দায়িত্ব। এক্ষেত্রে এ পণ্যে লাভ হচ্ছে কিনা তা লক্ষ করা হবে না।
টিকাঃ
১৮৭. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১০৯; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৭০৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৯; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৫৮
১৮৮. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৭৯৭
১৮৯. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১০৯-১১২; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৮৯
১৯০. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৯-৩২০
১৯১. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৬৮-৬৫
মালিক ও কর্মী উভয়ের ইচ্ছায় অথবা দুজনের কোনো একজনের একক ইচ্ছায় মুদারাবা বাতিল হতে পারে। বাতিল করার জন্যে আগ্রহী দুজন বা একজন বলবে, فَسَحْتُ الْمُضَارَبَةَ أَوْ رَفَعْتُهَا أَوْ أَبْطَلْتُهَا অর্থাৎ আমি মুদারাবা রহিত করলাম, উঠিয়ে দিলাম। অথবা মালিক আগ্রহী হলে কর্মীকে বলবে, لَا تَتَصَرَّفْ بَعْدَ هَذَا অর্থাৎ এরপর পুঁজি দিয়ে আর বেচাকেনা করো না বা এ জাতীয় বাক্য যা বাতিল করা বুঝাবে। কখনো কাজের মাধ্যমেও তা সাব্যস্ত হতে পারে। যেমন, পুঁজির মালিক প্রদত্ত পুঁজির সবটুকু ফেরত নিয়ে নেওয়া।
মুদারাবা চুক্তি হচ্ছে সে সব চুক্তি ও লেনদেনের অন্তর্ভুক্ত যেগুলো স্বেচ্ছাকৃত; আবশ্যিক নয়। তাই পুঁজিদাতা ও কর্মী এ দুজনের যে কেউ একক ইচ্ছাতে যখন ইচ্ছা তা বাতিল করে দিতে পারে। এটুকু কথাতে সকল ফকীহ একমত, তাদের মতপার্থক্য যা হয়েছে তা হলো:
শাফেয়ী ও হাম্বলী আলেমগণ বলেন, দুপক্ষের যে কেউ মুদারাবা বাতিল করতে পারে যখন ইচ্ছা; অন্যের তা অবগত হওয়া বা পুঁজি সে সময় নগদ অর্থ আকারে থাকা শর্ত নয়। হানাফী আলেমগণ বলেন, দুপক্ষের যে কেউ যখন ইচ্ছা মুদারাবা বাতিল করতে পারবে। তবে তাতে শর্ত হলো, অপর পক্ষের সে সম্পর্কে জানা থাকতে হবে এবং পুঁজি নগদ অর্থ আকারে থাকতে হবে। মালেকী আলেমগণ বলেন, পুঁজি দিয়ে পণ্য কেনার পূর্বপর্যন্ত তাদের দুজনের তা বাতিল করার সুযোগ রয়েছে, এরপর নয়। প্রতিটি মাযহাবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
মালেকীগণ বলেন, কর্মী কাজ শুরু করার পূর্বে যদি পুঁজিদাতা তার পুঁজি দিয়ে কিছু করতে কর্মীকে নিষেধ করে মুদারাবা চুক্তি তাহলে বাতিল হয়ে যাবে এবং প্রদত্ত পুঁজি নিছক আমানততুল্য হয়ে যাবে। কর্মী যদি তারপরও সে অর্থ দিয়ে ব্যবসা করে তাহলে লাভও তার একার হবে, লোকসান হলেও তা তার। এ অবস্থায় পুঁজির মালিক কেবল পুঁজিটুকু ফেরত পাবে।
হানাফী আলেমগণ বলেন, পুঁজির মালিক যদি তার কর্মীকে যাবতীয় লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে বলে তখন, যখন তার পুঁজি দিয়ে পণ্য কেনা হয়ে গেছে, তাহলে তার এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না; তাই তার নিষেধাজ্ঞার দরুন কর্মী অপসারিতও হবে না। বরং কর্মী যথারীতি সে পণ্য কেনাবেচা করতে পারবে। লাভ অর্জনের উদ্দেশ্যে সে সব পণ্য দিরহাম দীনারে/নগদ অর্থে বিক্রি করা তার জন্যে আবশ্যক। এ পরিস্থিতিতে তাকে নিষেধ করা এবং মুদারাবা বাতিল করে দেওয়া হলে কর্মীর পুঁজি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে তার অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা হবে। তবে যদি লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা এবং মুদারাবা চুক্তি বাতিল করার সময় পুঁজি দিরহাম দীনারের আকারেই থাকে, তাহলে এ নিষেধাজ্ঞা ও রহিতকরণ যথাযথ ও সহীহ হবে। তবে ইসতিহসান বা সূক্ষ্ম যুক্তি হচ্ছে, সকল মুদ্রা এক ধরনের হওয়া। তাই সবগুলো দিরহাম দীনারে বা সবগুলো দীনার দিরহামে বদলানো হবে। উভয়টি মুদ্রার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ বদলানো বিক্রি বলে অভিহিত হবে না।
শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, মুদারাবা বাতিল করার পরও কর্মী তার হাতে থাকা পণ্য বিক্রি করতে পারবে যদি সে তাতে লাভের আশা করতে পারে, যেমন সে কোনো বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পেল অথবা কোনো আগ্রহী ক্রেতা পেল। তবে মুদারাবা রহিত করার পর কর্মী নতুনভাবে কিছু কিনবে না। যেহেতু চুক্তিও বহাল নেই, তাই নতুন যা কেনা হবে তাতে তার লাভের অংশও থাকবে না।
পুঁজিদাতা ও কর্মী উভয়ে মুদারাবা বাতিল করুক বা দুজনের কোনো একজন অথবা চুক্তি কোনো কারণে বাতিল হয়ে যাক, বাতিল হওয়ার সময় মুদারাবার পণ্যে ক্রেতাদের নিকট যে ঋণ থাকবে তা আদায় করতে হবে, এটি কর্মীর দায়িত্ব। যেহেতু ঋণ হচ্ছে পুঁজির এক অংশ, অপরদিকে মালিকের নিকট থেকে কর্মী পূর্ণ পুঁজিটিই তার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। তাই কর্মীর জন্যে দায়িত্ব হচ্ছে সে যেভাবে পুঁজি গ্রহণ করেছিল সেভাবেই তা পুঁজিদাতার নিকট ফিরিয়ে দেওয়া। পণ্যে লাভ হওয়া বা না হওয়া এক্ষেত্রে লক্ষ করা হবে না। যদি কর্মী অপর কাউকে জিম্মাদার বানানোতে মালিক সম্মত থাকে তবে তা জায়েয হবে।
যদি মুদারাবা বাতিল করার সময় পুঁজির পুরোটা বা এক অংশ পণ্য আকারে থাকে, মালিক পুঁজি ফেরত নিতে চায় নগদ অর্থ আকারে, তাহলে কর্মী সে পণ্যগুলো বিক্রি করে পুঁজি প্রদান করবে, পণ্য বিক্রয়ে লাভ হবে কিনা, তা আর তখন সে লক্ষ করবে না।
হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যখন মুদারাবা বাতিল হয় তখন পুঁজি যদি নগদ মুদ্রা আকারে থাকে, তাতে তখনো কোনো লাভ হয়নি, তবু সে অবস্থাতেই পুঁজিদাতাকে তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে, মালিক তা লাভবিহীন ভাবেই গ্রহণ করবে। যদি ইতোমধ্যে কিছু লাভ হয়ে থাকে তাহলে তারা লাভ বণ্টনের যে শর্ত করেছিল সে শর্ত অনুযায়ীই ভাগ করে নেবে। যদি মুদারাবা বাতিল হওয়ার সময় পুঁজি পণ্য আকারে থাকে তাহলে তারা দুজন যে কথায় একমত হবে তা-ই করা হবে। হয়তো বিক্রি করে তা থেকে পুঁজি ফেরত দেওয়া হবে অথবা মূল্য হিসাব করে পণ্য দিয়ে পুঁজি ফেরত দেওয়া হবে। এ উভয় ক্ষেত্রে লাভ হলে তা শর্ত মতো বণ্টিত হবে। যেহেতু এ সম্পদে কেবল তাদের দুজনের অধিকার, তাই তারাই ফয়সালা করবে পুঁজি ফেরতে কোন পন্থা তারা গ্রহণ করবে।
যদি কর্মী পণ্য বিক্রি করতে চায়, মালিক তাতে অমত করে তাহলে তাতে লাভ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্য হলে পুঁজির মালিককে পণ্য বিক্রয়ের মত ব্যক্ত করতে বাধ্য করা হবে। কেননা, অর্জিত লাভে কর্মীর অধিকার থাকে, পুঁজিতে তার কোনো অধিকার থাকে না। পণ্য বিক্রি না করা পর্যন্ত কর্মীর হাতে লাভ আসে না, তার অধিকারও প্রকাশিত হয় না। যদি লাভ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্য না হয়, তাহলে পুঁজির মালিক বিক্রিতে আপত্তি করলে তাকে বাধ্য করা হবে না।
যদি মুদারাবা বাতিল হওয়ার সময় পণ্য থাকে পাওনা, তাহলে তা তাগাদা দিয়ে হস্তগত করা কর্মীর দায়িত্ব। এক্ষেত্রে এ পণ্যে লাভ হচ্ছে কিনা তা লক্ষ করা হবে না।
টিকাঃ
১৮৭. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১০৯; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৭০৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৯; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৫৮
১৮৮. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ৩, পৃ. ৭৯৭
১৮৯. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১০৯-১১২; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৮৯
১৯০. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৯-৩২০
১৯১. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৬৮-৬৫