📄 নয়. লাভের শর্তকৃত অংশ নিয়ে বিতর্ক
হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমদের অভিমত, যখন মালিক ও কর্মী কার জন্যে লাভের কত অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে তা নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়, কর্মী হয়তো বলল, অর্ধেক হারে, মালিক বলল : না, তুমি নেবে এক তৃতীয়াংশ; তখন পুঁজির মালিকের কথা গ্রহণ করা হবে। যেহেতু লাভ অর্জনের কথায় মালিক অস্বীকার করলে (অর্থাৎ মালিক লাভ অর্জিত না হওয়ার দাবি করলে) তা যেমন গৃহীত হয়, লাভের পরিমাণের ক্ষেত্রেও মালিক যা বলবে তা কবুল করা হবে।
মালেকী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, কাজ করার পর লাভের অংশ বণ্টন প্রশ্নে যদি পুঁজিদাতা ও কর্মী এ দুজনের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়, তবে কর্মী শপথ করে যা বলবে তা গ্রহণ করা হবে।
শাফেয়ী আলেমগণ বলেছেন, যদি মুদারাবার দুপক্ষ মালিক ও কর্মী কর্মীর লাভের শর্তকৃত অংশ নিয়ে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়ে, কর্মী হয়তো বলল, অর্ধেক, অপরদিকে মালিক বলল, না, এক তৃতীয়াংশ, তাহলে তারা দুজনই শপথ করবে।
টিকাঃ
১৭৭. রওযাতুল কুযাহ, খ. ২, পৃ. ৫৯৪; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৪, পৃ. ৩২৪; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫২৩
১৭৮. আশ-শারহুস কাবীর ও হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৫২০ ও ৫৩৭
১৭৯. রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৫-১৪৬; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৩৯২
📄 দশ. পুঁজি ফেরত দেওয়া নিয়ে বিতর্ক ও বিরোধ
হানাফী আলেমদের মত যা শাফেয়ীদের সর্বাধিক সঠিক মত, এটি হাম্বলীদের একটি মত, যখন পুঁজির সরবরাহকারী ও কর্মীর মাঝে বিরোধ হয় পুঁজি মালিককে ফেরত দেওয়ার বিষয় নিয়ে, তখন কর্মী যা বলে তা-ই গৃহীত হয়। মালেকী আলেমগণ বলেন, কর্মীর কথা গ্রহণীয় হবে যখন সে দাবি করেছে মালিককে সে তার পুঁজি ফেরত দিয়েছে, মালিক তা কব্জা করেছে, যদিও এক্ষেত্রে কোনো দলিল সে উপস্থিত করেনি। যদি তার এই কথা কবুল না করা হয় তাহলে তাকে অবশ্যই দলিল উপস্থাপন করতে হবে।
হাম্বলী আলেমদের অপর মত যা তাদের মূল মাযহাব এবং শাফেয়ীদের নিকট যা সর্বাধিক সঠিক মতের বিপরীত, যদি কর্মী পুঁজি ফেরত দেওয়ার দাবি করে এবং মালিক তা অস্বীকার করে তবে শপথসহ বলা মালিকের কথা কবুল করা হবে।
টিকাঃ
১৮০. রওযাতুল কুযাহ, খ. ২, পৃ. ৫৯৪; আল-মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ১২৮; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৫৩৬
📄 মুদারাবা বাতিল হয়ে যাওয়া
মুদারাবা বাতিল হয় যে সব কারণে সেগুলো আলোচনা করা হচ্ছে:
📄 এক. পুঁজির মালিক বা কর্মীর মৃত্যু
হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী আলেমদের অভিমত, পুঁজির মালিক বা কর্মীর মৃত্যু হলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যায়। কারণ, মুদারাবা হচ্ছে প্রতিনিধি নির্ধারণতুল্য অথবা তাতে প্রতিনিধি নির্ধারণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিনিধি নির্ধারণের (الْوَكَلَةُ) ক্ষেত্রে মূল ব্যক্তি, যে প্রতিনিধি নির্ধারণ করে (الْمُوَكّل) এবং প্রতিনিধি (الوكيل) এ দুজনের কোনো একজন মারা গেলে প্রতিনিধিত্ব বাতিল ও রহিত হয়ে যায়। তবে তারা বলেন, মৃত্যুর সময় যদি নগদ অর্থ আকারে না থেকে পুরো বা আংশিক পুঁজি দ্রব্যসামগ্রী হিসাবে থাকে, তবে তা কর্মী নগদ অর্থে পরিবর্তন করতে বিক্রি করবে।
মালেকী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজি নগদ অর্থে পরিবর্তন করার পূর্বেই কর্মীর মৃত্যু হয়, তাহলে তার আমানতদার উত্তরাধিকারী- অপর কেউ নয়- কর্মীর নির্দেশ মাফিক মুদারাবার কাজ সম্পন্ন করবে। সে হিসাবে সে এখনো মুদারাবার যে মাল অবিক্রীত রয়েছে সেগুলো বিক্রি করবে; এবং তাতে কর্মীর লাভের যে অংশ তা তার উত্তরাধিকারী হিসাবে সে গ্রহণ করবে। তাদের মতে, কর্মী মারা গেলে মুদারাবা রহিত হয়ে যায় না, দুটি ক্ষতির মধ্যে হালকাটি স্বীকার করে নেওয়ার প্রেক্ষিতে তা বহাল থাকে।
টিকাঃ
১৮১. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১২; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৮৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১৯-৩২০
১৮২. হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৫৩৬
১৮৩. আল-মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ১২৮-১৩০