📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 পাঁচ. অনুমতির পর নিষেধ করা নিয়ে বিতর্ক

📄 পাঁচ. অনুমতির পর নিষেধ করা নিয়ে বিতর্ক


সকল ফকীহ এ কথায় একমত, পুঁজির মালিক যদি কর্মীকে বলে, আমি তোমাকে এ পণ্য কিনতে নিষেধ করেছিলাম। শুনে কর্মী বলল, আপনি আমাকে নিষেধ করেননি, তাহলে কর্মীর কথা গ্রহণ করা হবে। এর কারণ, মুদারাবার অনুমতি প্রদানের পর নিষেধ না করাই হচ্ছে স্বাভাবিক অবস্থা। তা ছাড়া মালিক যা বলল তা প্রকারান্তরে কর্মীর দোষ ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ। তাই তার বিপরীতে কর্মী শপথসহ অস্বীকার করলে তা গৃহীত হবে।

টিকাঃ
১৭২. রওযাতুল কুযাহ, খ. ২, পৃ. ৫৯৬; আল-মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ১২৭-১২৮; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৬; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৬৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ছয়. মুদারাবা সঠিক ও যথাযথ হওয়া নিয়ে বিতর্ক

📄 ছয়. মুদারাবা সঠিক ও যথাযথ হওয়া নিয়ে বিতর্ক


হানাফী ও মালেকী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, কর্মী মুদারাবা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার এবং মালিক তা যথাযথ হওয়ার মত ব্যক্ত করলে, এক্ষেত্রে মালিকের বক্তব্যই গৃহীত হবে। যখন বিতর্ক এর বিপরীত হবে অর্থাৎ মালিক ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার এবং কর্মী না হওয়ার মত প্রকাশ করে, তখন কর্মীর কথা গৃহীত হবে। এভাবে এ কথাই সাব্যস্ত হলো সঠিক ও ত্রুটিহীন থাকার কথা যে-ই বলবে তার কথা বহাল থাকবে। মালেকীগণ এখানে আরো যা বলেন তা হচ্ছে, যদি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার দিক প্রবলও হয় তবুও সঠিক থাকার ফয়সালাই দেওয়া হবে।

শাফেয়ী ও হাম্বলী আলেমদের নিকট যে নির্ধারিত নিয়মনীতি ধর্তব্য তা হচ্ছে, মুদারাবা ত্রুটিপূর্ণ হওয়া বা ত্রুটিহীন হওয়া নিয়ে যদি বিতর্ক দেখা দেয় তাহলে যে ব্যক্তি ত্রুটিহীন থাকার কথা বলবে, ফয়সালা তার পক্ষে প্রদান করা হবে। মালেকী আলেমগণ বলেন, যদি ত্রুটিযুক্ত হওয়ার দিক প্রবল হয় তাহলে যে লোক ত্রুটির কথা বলবে তার পক্ষেই ফয়সালা ও সিদ্ধান্ত প্রদান করা হবে।

টিকাঃ
১৭৩. ইবনে নুজাইমের লেখা আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়েব, পৃ. ২৬২; আশ-শারহুস সাগীর ও হাশিয়াতুস সাভী, খ. ৩, পৃ. ৭০৮; আল খিরাশী, খ. ৬, পৃ. ২২৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সাত. পুঁজি ধ্বংস হওয়া নিয়ে বিতর্ক

📄 সাত. পুঁজি ধ্বংস হওয়া নিয়ে বিতর্ক


ফকীহগণ এ কথায় একমত, পুঁজির মালিক ও কর্মী যখন পুঁজি ধ্বংস হওয়ার বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়, কর্মী দাবি করছে তা ধ্বংস হওয়ার, মালিক তা অস্বীকার করছে, তখন কর্মীর কথা অনুযায়ী ফয়সালা হবে। যেহেতু সে আমানতদার এবং আমানতদার খেয়ানত না করাই হচ্ছে স্বাভাবিক।

ইমাম নববী বলেন, কর্মীর শপথসহ বলা কথা কবুল করা হবে। এটি তখন যখন ধ্বংসের কারণ সে বর্ণনা করবে না এবং তা বর্ণনা করতে তাকে বাধ্যও করা হবে না। যদি সে কারণ বর্ণনা করে, যে কারণটি হয় অপ্রকাশ্য, যেমন চুরি হওয়া, তাহলে তার কথা শপথসহ কবুল করে নেওয়া হবে। যদি সে প্রকাশ্য কারণ সংঘটিত হওয়ার দাবি করে, যেমন: অগ্নিকাণ্ড হওয়া, ডাকাতি হওয়া, বন্যা হওয়া ইত্যাদি, তাহলে সে যে কারণ বলছে তা যদি সে এলাকায় ঘটার কথা কেউ না বলে, না জানে; তাহলে কর্মীর এ কথা মোটেও গ্রহণ করা হবে না।

টিকাঃ
১৭৪. রওযাতুল কুযাহ, খ. ২, পৃ. ৫৯৩; আশ-শারহুস সাগীর ও হাশিয়াতুস সাভী, খ. ৩, পৃ. ৭০৬-৭০৭; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 আট. অর্জিত লাভ নিয়ে বিতর্ক

📄 আট. অর্জিত লাভ নিয়ে বিতর্ক


শাফেয়ী ও হাম্বলী আলেমদের মত, যখন মালিক ও কর্মীর মাঝে লাভ হওয়া নিয়ে বিতর্ক হয়, কর্মী বলে, মোটেও লাভ হয়নি অথবা লাভ হয়েছে মাত্র এক হাজার। মালিক বলল, লাভ হয়েছে দু হাজার। তখন কর্মীর কথা গৃহীত হবে। শাফেয়ী আলেমগণ সুস্পষ্টভাষায় বলেছেন, কর্মীর শপথসহ বক্তব্য কবুল করা হবে।

শাফেয়ী ও হানাফী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, কর্মী যখন বলে, এক হাজার দিরহাম লাভ করেছি। এরপর সে দাবি করে, সে ভুল করেছে এবং লাভের পরিমাণ কম করে প্রকাশ করেছে; আর সে এরূপ করেছে মালিক অর্থসম্পদ টেনে নিয়ে যাবে এই আশঙ্কায়, তখন কর্মীর এ সকল কথা কবুল করা হবে না।

টিকাঃ
১৭৫. রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৫; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫২৩
১৭৬. রওযাতুল কুযাহ, খ. ২, পৃ. ৫৯৮; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00