📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঘ. চুক্তি মুদারাবা না প্রতিনিধিত্ব তা নিয়ে বিরোধ

📄 ঘ. চুক্তি মুদারাবা না প্রতিনিধিত্ব তা নিয়ে বিরোধ


শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, যদি পুঁজিদাতা ও কর্মীর মাঝে মুদারাবা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিতর্ক হয়। কর্মী বলে, তুমি আমাকে মুদারাবা পদ্ধতিতে ব্যবসার জন্যে পুঁজি দিয়েছ। পক্ষান্তরে মালিক বলে, আমি তোমাকে প্রতিনিধি হিসাবে টাকা দিয়েছি। এক্ষেত্রে মালিক তার কথা শপথসহ বললে তা সত্যায়ন করা হবে। কারণ মৌলিক অবস্থা হচ্ছে, কাজের বিপরীতে কোনো কিছুই প্রদত্ত হয় না। এক্ষেত্রে কর্মী কাজ করার প্রেক্ষিতে মুদারাবার দাবি করেছে। কিন্তু তার পক্ষে কোনো দলিল না থাকার পরিস্থিতিতে পুঁজির মালিককে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সে তা অস্বীকার করলে পুঁজি ও লাভ সবটাই মালিকের হাতে চলে আসবে। এ সময় ব্যবসার অংশ হিসাবে অপরকে তার কিছু দেওয়া জরুরি নয়। যদি তারা দুজনেই দলিল উপস্থাপন করে তবে আনসারী যা বলেছেন তা-ই প্রকাশ্য অভিমত, তাহলে কর্মীর দলিলটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, যেহেতু তার দলিলটিতে অধিক জ্ঞাতব্য রয়েছে।

শিহাব রামলী বলেন, মালিকের কথা শপথসহ গ্রহণ করা হবে। যেহেতু নিয়ম হচ্ছে, মূল বিষয়ে যার কথা গ্রহণীয় মূল বিষয়ের বৈশিষ্ট্য আলোচনায়ও তার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। সেই সাথে জরিমানার বিধান থেকে রক্ষা করে কারো প্রতি এমন আস্থা না থাকাই স্বাভাবিক।

টিকাঃ
১৬৭. শারহুল খিরাশী, খ. ৬, পৃ. ২২৩-২২৫
১৬৮. আসনাল মাতালিব ও হাশিয়া আর-রামালী, খ. ২, পৃ. ৩৯২; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৭

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ঙ. কর্মী মুদারাবা চুক্তি অস্বীকার করা

📄 ঙ. কর্মী মুদারাবা চুক্তি অস্বীকার করা


হানাফী আলেমগণ বলেন, যদি কর্মী মুদারাবা অস্বীকার করে পুরোপুরিভাবে। অপরদিকে মালিক তাকে মুদারাবা হিসাবে পুঁজি যোগান দেওয়ার দাবি করে, তাহলে কর্মীর কথা গ্রহণীয় হবে। কেননা, পুঁজিদাতা দাবি করছে, সে তাকে পুঁজি দিয়েছে, তা কর্মী কজা করেছে। (কিন্তু যেহেতু পুঁজি দাতার কোনো দলিল নেই তাই যখন) কর্মী তা অস্বীকার করছে তার অস্বীকৃতিই গ্রহণ করা হবে।

যদি প্রথমে অস্বীকার করার পর স্বীকার করে, তাহলে আবু ইউসুফ-এর নিকট ইবনে সামাআ শুনেছেন, এমন লোক সম্পর্কে যে অপর একজনকে মুদারাবা পদ্ধতিতে ব্যবসা করার জন্যে টাকা দেওয়ার পর এখন সে টাকা ফেরত চাইছে। এসময় দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, তুমি আমাকে কিছুই দাওনি। এরপর আবার তওবা ইসতেগফার করে বলল, হাঁ তুমি আমাকে মুদারাবা ব্যবসার পুঁজি হিসাবে এক হাজার দিরহাম দিয়েছ, তাহলে এ লোক হবে সেই পুঁজির জিম্মাদার। যেহেতু আমানতদার হিসাবে তার কাছে পুঁজি রাখা হয়েছিল। যদি আমানতদার ব্যক্তি তার কাছে রাখা আমানত অস্বীকার করে, তখন সে হয়ে যায় জিম্মাদার ও দায়বদ্ধ। এমনিভাবে কর্মীও দায়ী থাকবে, এক্ষেত্রে এই বিধান সাব্যস্ত করার কারণ, মুদারাবা চুক্তি অবশ্যই পালনীয় কোনো চুক্তি নয়। এটি হচ্ছে নিছক বৈধ ও অনুমোদিত চুক্তি, যা যে কোনো সময় ভেঙ্গে ফেলা যায়। তাই কর্মীর অস্বীকৃতিতে মুদারাবা বাতিল করা বা তুলে ফেলা হবে। মুদারাবা বাতিল ও রহিত হওয়ার পর কর্মীর কাছে যে পুঁজি রয়ে গেছে সে তার জন্যে দায়বদ্ধ থাকবে।

টিকাঃ
১৬৯. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১০-১১১

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 চার. কর্মীর কেনা পণ্য মুদারাবার পক্ষ থেকে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক

📄 চার. কর্মীর কেনা পণ্য মুদারাবার পক্ষ থেকে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক


শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, কর্মী যদি বলে : এটি আমি আমার জন্যে কিনেছি। কিন্তু পুঁজিদাতা বলল, তুমি এটি মুদারাবার পণ্য হিসাবে কিনেছ, অথবা কর্মী বলল, এটি আমি মুদারাবার পণ্য হিসাবে কিনেছি, শুনে পুঁজির মালিক বলল, তুমি তা নিজের জন্যেই কিনেছ, তাহলে এ দু অবস্থাতেই কর্মীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে। কেননা এমন তো হতেই পারে, সে কখনো ব্যবসার জন্যে কিছু কেনে, কখনো নিজের জন্যে কেনে। কোন্টা কী জন্যে কিনেছে তার ইচ্ছা দ্বারা ভিন্ন করা ছাড়া এ সব পণ্যে ভিন্ন করার কিছু থাকে না। তাই এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করেই অবগত হতে হবে। তা ছাড়া এখানে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ হচ্ছে ক্রেতার নিয়ত নিয়ে। যে ক্রেতা সে-ই তো তার নিজের মনোবাঞ্ছা ও ইচ্ছা সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত থাকবে এবং অন্য কেউ সে সম্পর্কে মোটেও জানবে না।

হানাফী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, কোনো লোক অপর কাউকে এক হাজার দিরহাম দিয়েছে, অর্ধেক হারে লাভ বণ্টনের শর্তে মুদারাবা পদ্ধতিতে ব্যবসা করার জন্যে। সে এই এক হাজার দিরহাম দিয়ে একটি জন্তু কিনল। কিন্তু কেনার সময় তা মুদারাবার জন্যে কেনা কথাটুকু বলে নাই। জন্তুটি কর্মী বুঝে পাওয়ার সময় যদি সে বলে, আমি এ জন্তুটি কেনার সময় তা মুদারাবার পণ্য হিসাব করেই কিনেছি। মালিক তখন বলল, তুমি মিথ্যা কথা বলছ, তুমি এটি তোমার নিজের জন্যে কিনেছ, তাহলে কর্মীর কথা কি সঠিক বলে ধরা হবে। আলেমগণ বলেন, এ মাসআলাটির চারটি রূপ হতে পারে: এক. মুদারাবার পুঁজি ও প্রাণী উভয়টি কর্মীর এ বক্তব্যের সময় বহাল আছে। দুই. বক্তব্যের সময় পুঁজি ও প্রাণী কোনোটি বহাল নেই; ধ্বংস হয়ে গেছে। তিন, প্রাণীটি বেঁচে আছে, কিন্তু পুঁজি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং চার. পুঁজি বহাল থাকলেও প্রাণীটি ধ্বংস হয়ে গেছে।

টিকাঃ
১৭০. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২৩১; বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১০১
১৭১. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যা, খ. ৪, পৃ. ৩২২-৩২৩; আস-সামনানী প্রণীত রওযাতুত কুযাত, খ. ২, পৃ. ৫৯৫-৫৯৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 পাঁচ. অনুমতির পর নিষেধ করা নিয়ে বিতর্ক

📄 পাঁচ. অনুমতির পর নিষেধ করা নিয়ে বিতর্ক


সকল ফকীহ এ কথায় একমত, পুঁজির মালিক যদি কর্মীকে বলে, আমি তোমাকে এ পণ্য কিনতে নিষেধ করেছিলাম। শুনে কর্মী বলল, আপনি আমাকে নিষেধ করেননি, তাহলে কর্মীর কথা গ্রহণ করা হবে। এর কারণ, মুদারাবার অনুমতি প্রদানের পর নিষেধ না করাই হচ্ছে স্বাভাবিক অবস্থা। তা ছাড়া মালিক যা বলল তা প্রকারান্তরে কর্মীর দোষ ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ। তাই তার বিপরীতে কর্মী শপথসহ অস্বীকার করলে তা গৃহীত হবে।

টিকাঃ
১৭২. রওযাতুল কুযাহ, খ. ২, পৃ. ৫৯৬; আল-মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ১২৭-১২৮; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৫, পৃ. ১৪৬; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৬৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00